কোরান সূরা ক্বামার আয়াত 42 তাফসীর
﴿كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا كُلِّهَا فَأَخَذْنَاهُمْ أَخْذَ عَزِيزٍ مُّقْتَدِرٍ﴾
[ القمر: 42]
তারা আমার সকল নিদর্শনের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। অতঃপর আমি পরাভূতকারী, পরাক্রমশালীর ন্যায় তাদেরকে পাকড়াও করলাম। [সূরা ক্বামার: 42]
Surah Al-Qamar in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Al Qamar ayat 42
তারা আমাদের নিদর্শনসমূহ -- তাদের সবক’টি, প্রত্যাখ্যান করেছিল, সেজন্য আমরা তাদের পাকড়াও করেছিলাম মহাশক্তিশালী পরমক্ষমতাবানের পাকড়ানোর দ্বারা।
Tafsir Mokhtasar Bangla
৪২. তারা আমার পক্ষ থেকে আগত দলীল-প্রমাণাদিকে অবিশ্বাস করলো। ফলে আমি তাদের মিথ্যারোপের দরুন তাদেরকে এমন প্ররাক্রমশালীর শাস্তি প্রদান করলাম যাঁকে ঠেকানোর কেউ নেই। যিনি এমন ক্ষমতাধর যাঁকে কোন কিছুই অপারগ করতে পারে না।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তারা আমার সকল নিদর্শনকে মিথ্যাজ্ঞান করল।[১] অতঃপর পরাক্রমশালী ও সর্বশক্তিমানের পাকড়াও করার মত আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম।[২] [১] সেই সব নিদর্শনাবলী যার মাধ্যমে মূসা ( আঃ ) ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়েছিলেন। এগুলো মোট নয়টি নিদর্শন ছিল; যার আলোচনা পূর্বে করা হয়েছে। [২] অর্থাৎ, তাদেরকে ধ্বংস করে দিলাম। কারণ, সে আযাব এমন পরাক্রমশালীর কঠিন পাকড়াও ছিল, যিনি প্রতিশোধ গ্রহণ করতে সক্ষম। আর তাঁর পাকড়াও থেকে কেউ বাঁচতে পারে না।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
তারা আমাদের সব নিদর্শনে মিথ্যারোপ করল, সুতরাং আমরা মহাপরাক্রমশালী ও সর্বশক্তিমানরূপে তাদেরকে পাকড়াও করলাম।
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৪১-৪৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা ফিরাউন ও তার সম্প্রদায়ের ঘটনা এখানে বর্ণনা করছেন। তাদের কাছে আল্লাহর রাসূল হযরত মূসা ( আঃ ) ও হযরত হারূন ( আঃ ) এই খবর শুনাতে আসলেন যে, তারা ঈমান আনলে তাদের জন্যে ( জান্নাতের ) সুসংবাদ রয়েছে এবং কুফরী করলে ( জাহান্নামের ) ভয় রয়েছে। তাদেরকে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে বড় বড় মু'জিযা ও নিদর্শন প্রদান করা হয়। ওগুলো ছিল তাদের নবুওয়াতের সত্যতার পুরোপুরি দলীল। কিন্তু তারা সবকিছুই অবিশ্বাস করে। ফলে তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি নেমে আসে এবং তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দেয়া হয়।এরপর বলা হচ্ছেঃ হে কুরায়েশ মুশরিকের দল! তোমরা কি ঐ ফিরাউন ও তার সম্প্রদায় অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ? না, বরং তারাই তোমাদের অপেক্ষা বহুগুণে শক্তিশালী ছিল। তাদের দলবলও ছিল তোমাদের চেয়ে বহুগুণে বেশী। তারাও যখন আল্লাহর আযাব হতে পরিত্রাণ পায়নি, তখন তোমরা আবার কি? তোমাদেরকে ধ্বংস করা তাঁর কাছে অতি সহজ। তোমরা কি ধারণা করছে যে, আল্লাহর কিতাবসমূহে তোমাদের মুক্তিদানের কথা লিখিত রয়েছে? কিতাবে কি এটা লিখা আছে যে, তাদের কুফরীর কারণে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে এবং তোমরা কুফরী করতে থাকবে, আর তোমাদেরকে কোনই শাস্তি দেয়া হবে না? তোমরা কি মনে করছে যে, তোমরা দলের দল রয়েছে, সুতরাং তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে তোমাদের কোনই ক্ষতি হবে না?মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বলেনঃ এই দল তো শীঘ্রই পরাজিত হবে প্রদর্শন করবে।হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, বদরের যুদ্ধের দিন নবী ( সঃ ) দু'আ করছিলেনঃ “ হে আল্লাহ! আমি আপনাকে আপনার প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি! হে আল্লাহ! যদি আপনার ইচ্ছা এটাই থাকে যে, আজকের দিনের পর ভূ-পৃষ্ঠে আপনার ইবাদত আর কখনো করা হবে না ।” তিনি এটুকুই বলেছিলেন এমতাবস্থায় হযরত আবু বকর ( রাঃ ) তাঁর হাতখানা ধরে ফেলেন এবং বলেনঃ “ হে আল্লাহর রাসূল ( সঃ )! যথেষ্ট হয়েছে । আপনি আপনার প্রতিপালকের কাছে খুবই অনুনয় বিনয় করেছেন।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) তাঁবু হতে বেরিয়ে আসলেন এবং তাঁর মুখে ( আরবী ) -এ দু’টি আয়াত উচ্চারিত হচ্ছিল। হযরত উমার ( রাঃ ) বলেনঃ “ এ আয়াত অবতীর্ণ হবার সময় এর দ্বারা কোন্ জামাআতকে বুঝানো হয়েছে তা আমি চিন্তা করছিলাম । বদরের যুদ্ধের দিন যখন আমি রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-কে বর্ম পরিহিত হয়ে স্বীয় শিবির হতে বের হতে দেখলাম তখন ঐ আয়াতের তাফসীর আমার বোধগম্য হয়।” ( এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আয়েশা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “ যে সময় আমি অতি অল্প কসের বালিকা ছিলাম এবং আমার সঙ্গীনিদের সাথে খেলা করতাম ঐ সময় ( আরবী )-এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় ।" ( ইমাম বুখারী (রঃ ) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এটা সহীহ বুখারীতে ফাযায়েলুল কুরআনের অধ্যায়ে দীর্ঘভাবে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মুসলিম ( রঃ ) এটা তাখরীজ করেননি)
সূরা ক্বামার আয়াত 42 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- অনন্তর যখন তাদের কাছে আমার আযাব উপস্থিত হয়, তখন তাদের কথা এই ছিল যে, তারা
- এবং যারা আমার ক্ষমতা সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা যেন জানে যে, তাদের কোন পলায়নের জায়গা
- তারা তার পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।
- যারা শয়তানী শক্তির পূজা-অর্চনা থেকে দূরে থাকে এবং আল্লাহ অভিমুখী হয়, তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ।
- নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল,
- এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ?
- অতঃপর তিনি এক উপায় অবলম্বন করলেন।
- বলুন, আমি তো কোন নতুন রসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের সাথে কি
- এই রসূলগণ-আমি তাদের কাউকে কারো উপর মর্যাদা দিয়েছি। তাদের মধ্যে কেউ তো হলো তারা যার
- তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন এবং একে অন্যের উপর মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, যাতে তোমাদের কে
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা ক্বামার ডাউনলোড করুন:
সূরা Al Qamar mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Al Qamar শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



