কোরান সূরা রহ্মান আয়াত 76 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Rahman ayat 76 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা রহ্মান আয়াত 76 আরবি পাঠে(Rahman).
  
   

﴿مُتَّكِئِينَ عَلَىٰ رَفْرَفٍ خُضْرٍ وَعَبْقَرِيٍّ حِسَانٍ﴾
[ الرحمن: 76]

তারা সবুজ মসনদে এবং উৎকৃষ্ট মূল্যবান বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। [সূরা রহ্মান: 76]

Surah Ar-Rahman in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Rahman ayat 76


তারা হেলান দিয়ে বসে থাকবে সবুজ তাকিয়াতে ও মনোরম গালিচার উপরে।


Tafsir Mokhtasar Bangla


৭৬. তারা সবুজ প্রলেপ ও সুন্দর চাদর দ্বারা বেষ্টিত গদিতে হেলান দিয়ে অবস্থান করবে।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


তারা হেলান দিয়ে বসবে সবুজ বালিশে ও সুন্দর গালিচার উপরে। [১] [১] رَفْرَفٍ মসনদ, বালিশ, গালিচা অথবা এই ধরনের উৎকৃষ্ট বিছানা। عَبْقَرِيٍّ প্রত্যেক উৎকৃষ্ট ও মূল্যবান জিনিসকে বলা হয়। নবী করীম ( সাঃ ) উমার ( রাঃ )-এর ক্ষেত্রে এই শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। ( فَلَمْ أَرَ عَبْقَرِياًّ يَفْرِيْ فَرْيَهُ ) " আমি কোন প্রতিভাশালী ব্যক্তি এমন দেখি নি, যে উমারের মত কাজ করতে পারে। " ( বুখারীঃ মানাক্বিব ) এখানে উদ্দেশ্য, অত্যন্ত সৌন্দর্যময় গালিচা। অর্থাৎ, জান্নাতীরা এমন আসনে হেলান দিয়ে উপবেশন করবে, যার উপর সবুজ রঙের মসনদ, গালিচা এবং কারুকার্য-খচিত উৎকৃষ্টমানের বিছানা বিছানো থাকবে।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


তারা হেলান দিয়ে বসবে সবুজ তাকিয়ায় ও সুন্দর গালিচার উপরে []। [] رفرف এর অর্থ সবুজ রঙের রেশমী বস্ত্র। এর দ্বারা বিছানা, বালিশ ও অন্যান্য বিলাস সামগ্ৰী তৈরি করা হয়। এমনকি এর উপর বৃক্ষ ও ফুলের কারুকার্যও করা হয়। عَبْقَرِيٌّ অর্থ সুশ্ৰী ও উৎকৃষ্ট বস্ত্ৰ। [ কুরতুবী; ইবন কাসীর ]

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


৬২-৭৮ নং আয়াতের তাফসীর: এ আয়াতগুলোতে যে দুটি জান্নাতের বর্ণনা রয়েছে এ দুটো জান্নাত ঐ দুটো জান্নাত অপেক্ষা নিম্ন মানের যে দুটোর বর্ণনা পূর্বে গত হলো। ঐ হাদীসের বর্ণনাও গত হয়েছে যাতে রয়েছে যে, দুটো জান্নাত স্বর্ণের ও দুটো জান্নাত রৌপ্যের। প্রথমটি বিশেষ নৈকট্য লাভকারীদের স্থান এবং দ্বিতীয়টি আসহাবে ইয়ামীনের স্থান। মোটকথা, এ দুটোর মান ঐ দুটোর তুলনায় কম। এর বহু প্রমাণ রয়েছে। একটি প্রমাণ এই যে, ঐ দুটির গুণাবলীর বর্ণনা এ দুটির পূর্বে দেয়া হয়েছে। সুতরাং পূর্বে বর্ণনা দেয়াই ঐ দুটির ফযীলতের বড় প্রমাণ। তারপর এখানে ( আরবী ) বলা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করছে যে, এ দুটি ঐ দুটি অপেক্ষা নিম্নমানের। ওখানে ঐ দুটির প্রশংসায় ( আরবী ) বলা হয়েছে অর্থাৎ বহু শাখা-পল্লব বিশিষ্ট বৃক্ষে পূর্ণ। আর এখানে বলা হয়েছে। ( আরবী ) অর্থাৎ ঘন সবুজ এই উদ্যান দু’টি। হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) সবুজ অর্থ করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে কা'ব ( রঃ ) বলেন যে, এর অর্থ হলো সজীতে পরিপূর্ণ। কাতাদা ( রঃ ) বলেন যে, এর অর্থ হলোঃ এতো বেশী পাকা পাকা ফল ধরে রয়েছে যে, সম্পূর্ণ বাগান সবুজ-শ্যামল মনে হচ্ছে। মোটকথা, ওখানে শাখাগুলোর প্রাচুর্যের বর্ণনা রয়েছে এবং এখানে গাছগুলোর আধিক্যের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। সুতরাং এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ঐগুলো ও এগুলোর মধ্যে বহু পার্থক্য রয়েছে। ঐ দুটি উদ্যানের দুটি প্রস্রবণের ব্যাপারে ( আরবী ) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে অর্থাৎ প্রবহমান দুটি প্রস্রবণ। আর এই দুটি উদ্যানের দুটি প্রস্রবণ সম্পর্কে ( আরবী ) ব্যবহার করা হয়েছে অর্থাৎ উচ্ছলিত দুটি প্রস্রবণ। আর এটা প্রকাশ্য ব্যাপার যে, উজ্জ্বলিত হওয়ার চেয়ে প্রবহমান হওয়া উচ্চতর।ঐখানে বলা হয়েছে যে, উভয় উদ্যানে রয়েছে প্রত্যেক ফল দুই প্রকার। আর এখানে বলা হয়েছে যে, উদ্যান দুটিতে রয়েছে ফলমূল-খর্জূর ও আনার। তাহলে এটা স্পষ্ট যে, পূর্বের উদ্যান দুটির শব্দগুলো সাধারণত্বের জন্যে। ওটা প্রকারের দিক দিয়ে এবং পরিমাণ বা সংখ্যার দিক দিয়েও এটার উপর ফযীলত রাখে। কেননা, এখানে শব্দটি নাকেরাহ বটে, কিন্তু হিসাবে ( আরবী )-এর জন্যে। সুতরাং এটা বা সাধারণ হতে পারে না। এজন্যেই তাফসীর হিসেবে পরে ( আরবী )( আরবী ) বলে দিয়েছেন। যেমন ( আরবী )-এর বা ( আরবী ) সংযোগ -এর উপর হয়ে থাকে। ইমাম বুখারী ( রঃ ) প্রমুখ মনীষীদের। ( আরবী ) বা শব্দ বিশ্লেষণও এটাই। খেজুর ও আনারকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ এই যে, অন্যান্য ফলের উপর এ দুটোর মর্যাদা রয়েছে।মুসনাদে আবদ ইবনে হুমাইদীতে হযরত উমার ইবনে খাত্তাব ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, ইয়াহূদীদের কতক লোক রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর নিকট এসে তাকে জিজ্ঞেস করেঃ “ হে মুহাম্মাদ ( সঃ )! জান্নাতে ফল আছে কি?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “হ্যাঁ, তথায় রয়েছে ফলমূল, খর্জুর ও আনার ।” তারা আবার প্রশ্ন করেঃ “ তারা ( অর্থাৎ জান্নাতীরা ) কি তথায় দুনিয়ার মত পানাহার করবে?” জবাবে তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, বরং বহুগুণে বেশী করবে । তারা পুনরায় প্রশ্ন করেঃ “ তারা কি প্রাকৃতিক প্রয়োজন পুরো করবে ( অর্থাৎ তাদের পায়খানা প্রস্রাবের প্রয়োজন হবে কি?” তিনি উত্তর দেনঃ “না, বরং ঘর্ম আসার ফলে সবই হযম হয়ে যাবে ।”হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, জান্নাতের খেজুর গাছের পাতা হবে জান্নাতীদের পোশাক। এটা লাল রঙ এর হবে, এর কাণ্ড হবে সবুজ পান্না। এর ফল হবে মধুর চেয়েও মিষ্ট এবং মাখনের চেয়েও নরম। এতে বিচি মোটেই থাকবে না।” ( এটা ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবু সাঈদ খুদরী ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ আমি জান্নাতের দিকে দৃষ্টিপাত করে দেখি যে, ওর একটি আনার যেন শিবিকাসহ উট ( অর্থাৎ এরূপ উটের মত বিরাট বিরাট )( এ হাদীসটিও ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)( আরবী ) -এর অর্থ হচ্ছে সংখ্যায় অধিক, অত্যন্ত সুন্দরী এবং খুবই চরিত্রবতী সতী-সাধ্বী। অন্য একটি হাদীসে আছে যে, হ্রগুলো যে গান গাইবে তাতে এও থাকবেঃ “ আমরা সুন্দরী, চরিত্রবতী ও সতী-সাধ্বী । আমাদেরকে সম্মানিত স্বামীদের জন্যে সৃষ্টি করা হয়েছে।” এই পূর্ণ হাদীসটি সূরায়ে ওয়াকিয়াহতে সত্বরই আসছে ইনশাআল্লাহ( আরবী ) শব্দটিকে তাশদীদ সহও পড়া হয়েছে। এরপর আল্লাহ তা'আলা পুনরায় প্রশ্ন করছেনঃ সুতরাং হে দানব ও মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?অতঃপর মহান আল্লাহ বলেনঃ তারা তাঁবুতে সুরক্ষিত হুর। এখানেও ঐ পার্থক্যই পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, ওখানে বলা হয়েছিল হরগুলো নিজেরাই তাদের চক্ষু নীচু করে রাখে, আর এখানে বলা হচ্ছে তাদের চক্ষু নীচু করানো হয়েছে। সুতরাং নিজেই কোন কাজ করা এবং অপরের দ্বারা করানো এই দুয়ের মধ্যে কত বড় পার্থক্য রয়েছে তা সহজেই অনুমেয়, যদিও সবাই তাঁবুতে সুরক্ষিত।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ( রঃ ) বলেন যে, প্রত্যেক মুসলমানের জন্যে খায়রাহ অর্থাৎ সতী-সাধ্বী, চরিত্রবতী ও উজ্জ্বল চেহারা বিশিষ্টা হ্র রয়েছে। প্রত্যেক খায়রাহ বা হরের জন্যে তাঁবু রয়েছে। প্রত্যেক তাঁবুর চারটি দরযা আছে, যেগুলো দিয়ে প্রত্যহ উপহার, উপঢৌকন, হাদিয়া এবং ইনআম আসতেই আছে। সেখানে না আছে কোন ঝগড়া-বিবাদ, না আছে কড়াকড়ি, না আছে ময়লা আবর্জনা এবং না আছে দুর্গন্ধ। বরং হরদের সাহচর্য, যারা শুভ্র ও উজ্জ্বল মুক্তার মত, যাদেরকে ইতিপূর্বে কোন মানুষ অথবা জ্বিন স্পর্শ করেনি। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ জান্নাতে একটি তাঁবু রয়েছে যা খাঁটি মুক্তা দ্বারা নির্মিত । ওর প্রস্থ ষাট মাইল। ওর প্রত্যেক কোণায় জান্নাতীরা রয়েছে যারা অন্য কোণার লোকদেরকে দেখতে পায় না। মুমিনরা তাদের কাছে আসা যাওয়া করতে থাকবে। ( এ হাদীসটি সহীহ বুখারীতে বর্ণিত রয়েছে। সহীহ মুসলিমেও হাদীসটি বর্ণনা করা হয়েছে ) অন্য বর্ণনায় তাঁবুটির প্রস্থ তিন মাইলের কথাও রয়েছে। হযরত আবু দারদা ( রাঃ ) বলেন যে, জান্নাতে মণি-মুক্তার তৈরী একটি তাঁবু রয়েছে। যার মোতির তৈরী সত্তরটি দরযা আছে। ( এ হাদীসটি সহীহ বুখারীতে বর্ণিত রয়েছে। সহীহ মুসলিমেও হাদীসটি বর্ণনা করা হয়েছে )হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, জান্নাতে একটি তাঁবু থাকবে যা মুক্তা দ্বারা নির্মিত হবে। ওর চার হাজারটি দরযা হবে এবং সমস্ত চৌকাঠ হবে সোনার তৈরী। একটি মারফু হাদীসে আছে যে, সবচেয়ে নিম্নমানের জান্নাতীর আশি হাজার খাদেম থাকবে এবং বাহাত্তরটি স্ত্রী হবে। আর মণি-মুক্তা ও যবরজদের প্রাসাদ হবে যা জাভিয়াহ হতে সানআ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। ( অর্থাৎ জাভিয়াহ হতে সানআ পর্যন্ত জায়গাদ্বয়ের মধ্যে যতটা ব্যবধান রয়েছে ততদূর পর্যন্ত ঐ প্রাসাদ পৌছে যাবে )।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ এদেরকে ( অর্থাৎ এই হ্রদেরকে ) ইতিপূর্বে কোন মানুষ অথবা জ্বিন স্পর্শ করেনি। এই প্রকারের আয়াতের তাফসীর পূর্বে গত হয়েছে। তবে পূর্ববর্তী জান্নাতীদের হ্রদের গুণাবলী বর্ণনায় এ বাক্যটুকু বেশী আছে যে, তারা যেন প্রবাল ও পদ্মরাগ। এখানে এই হ্রদের ব্যাপারে এটা বলা হয়নি। আল্লাহ তাআলা আবারও বলেনঃ সুতরাং হে দানব ও মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে।এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ তারা হেলান দিয়ে বসবে সবুজ তাকিয়ায় ও সুন্দর গালিচার উপরে। এই তাকিয়া হবে খুবই উন্নতমানের ও নকশাকৃত। এই তখৃত, বিছানা ও বালিশগুলো জান্নাতী বাগীচা ও পুষ্প বীথির উপর থাকবে। এগুলো হবে উচ্চমানের রেখাযুক্ত নকশীদার রেশমের এবং এটাই হবে তাদের বিছানা। কোনটা হবে লাল রঙ এর, কোনটা হবে হলদে রঙ এর এবং কোনটা হবে সবুজ রঙ এর। জান্নাতীদের কাপড় ও পোশাকও এরূপ মূল্যবান। দুনিয়ায় এমন কোন জিনিস নেই যার এগুলোর সাথে তুলনা করা যেতে পারে। ( এটা ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)এটা হবে মখমলের বিছানা ও গদি যা হবে অত্যন্ত নরম ও খাঁটি। তাতে কয়েকটি রঙ মিলিতভাবে থাকবে এবং নকশাকৃত হবে। আবু উবাইদা ( রঃ ) বলেন যে, আবকারী একটি জায়গার নাম যেখানে উন্নত মানের নকশীদার কাপড় বুনানো হয়। খলীল ইবনে আহমাদ ( রঃ ) বলেন যে, প্রত্যেক সুন্দর ও উত্তম জিনিসকে আরবরা আবকারী বলে থাকে। যেমন এক হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) হযরত উমার ইবনে খাত্তাব ( রাঃ ) সম্পর্কে বলেনঃ “ আমি কোন আবকারীকে দেখিনি যে উমার ( রাঃ )-এর মত বড় বড় বালতি টেনে থাকে ।” এখানেও এটা খেয়াল রাখার বিষয় যে, পূর্ববর্ণিত জান্নাতদ্বয়ের বিছানা, গদি ও বালিশের যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে তা এগুলো হতে উন্নততর। ওখানে বর্ণিত হয়েছিল যে, ওর আস্তর অর্থাৎ ভিতরের কাপড় হবে খাঁটি ও পুরু রেশমের এবং উপরের কাপড়ের বর্ণনা দেয়া হয়নি। কারণ যার ভিতরের কাপড় এরূপ উচ্চমানের তার উপরের কাপড় কত উন্নতমানের হতে পারে তা বলাই বাহুল্য। তারপর পূর্বের জান্নাতদ্বয়ের গুণাবলীর সমাপ্তিতে বলেছিলেনঃ উত্তম কাজের জন্যে উত্তম পুরস্কার ব্যতীত কি হতে পারে? তাহলে দেখা যায় যে, ঐ জান্নাতবাসীদের গুণাবলীর বর্ণনায় ইহসানের বর্ণনা দিয়েছেন যা মর্যাদার শেষ সীমা। যেমন হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) যুক্ত হাদীসে রয়েছে, তিনি প্রথমে প্রশ্ন করেন ইসলাম সম্পর্কে, তারপর ঈমান সম্পর্কে এবং এরপর ইহসান সম্পর্কে।সুতরাং বেশ কয়েকটি যুক্তি রয়েছে যেগুলো দ্বারা এটা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হচ্ছে যে, পূর্ববর্তী দু’টি জান্নাতের বড় ফযীলত রয়েছে পরবর্তী দুটি জান্নাতের উপর। পরম দাতা ও দয়ালু আল্লাহর নিকট আমাদের প্রার্থনা যে, তিনি যেন আমাদেরকে ঐ জান্নাতে প্রবিষ্ট করেন যা ঐ জান্নাতদ্বয়ের মধ্যে হবে যেগুলোর গুণাবলী পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আমীন! ‘অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ কত মহান তোমার প্রতিপালকের নাম যিনি মহিমময় ও মহানুভব। তিনি যুল-জালাল বা মহিমান্বিত। অর্থাৎ তিনি এই যোগ্যতা রাখেন যে, তাঁর মহিমাকে মেনে নেয়া হবে এবং তাঁর মহিমা ও গৌরবের প্রতি লক্ষ্য রেখে তার অবাধ্যাচরণ করা হবে না, বরং তার পূর্ণ। আনুগত্য করা হবে। তিনি এই যোগ্যতাও রাখেন যে, তার মর্যাদা রক্ষা করা হবে অর্থাৎ তার ইবাদত করা হবে এবং তার সাথে অন্য কারো ইবাদত করা হবে না। তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে এবং অকৃতজ্ঞ হওয়া চলবে না। তাঁকে স্মরণ করা হবে এবং ভুলে যাওয়া চলবে না। তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও গৌরবের অধিকারী। রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে মর্যাদা প্রদান কর এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নাও ।( এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)অন্য হাদীসে রয়েছেঃ “ পাকা চুল বিশিষ্ট মুসলমানকে, ন্যায় বিচারক বাদশাহকে এবং কুরআন পাঠকারীকে, যে কুরআন পাঠকারী ওর মধ্যে সীমালংঘন করে না ( যথা হরফের মদ, গুনাহ ইত্যদি সীমার অতিরিক্ত করে না বা মাখরাজ পরিবর্তন করে না ইত্যাদি ) এবং সীমা হতে ঘটিয়ে অন্যায় করে না । ( অর্থাৎ নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্যে বা অজ্ঞতা বশতঃ ভুল অর্থ করে না ), এই লোকদেরকে সম্মান করা, আল্লাহকে সম্মান করার শামিল।" হযরত আনাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ ( আরবী ) -এর সাথে ঝুলে পড়।” ( এ হাদীসটি হাফিয আবু ইয়ালা (রঃ ) বর্ণনা করেছেন। জামে তিরমিযীতেও এ হাদীসটি আছে। ইমাম তিরমিযী ( রঃ ) এটাকে অরক্ষিত ও গারীব বলেছেন)হযরত রাবীআহ ইবনে আমির ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-কে বলতে শুনেছেনঃ “ তোমরা ( আরবী ) -এর সাথে লটকে যাও ।( এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)জাওহারী ( রাঃ ) বলেন যে, যখন কেউ কোন কিছুকে শক্ত করে ধরে নেয় তখন ( আরবী ) শব্দ আরবরা ব্যবহার করে থাকে। এই শব্দটিই এ হাদীসে এসেছে। তাহলে অর্থ হবেঃ অনুনয় বিনয়, আন্তরিকতা, অপারগতা এবং দারিদ্রের ভাব দেখিয়ে সদা-সর্বদা আল্লাহর অঞ্চলের সাথে ঝুলে পড়। সহীহ মুসলিমে ও সুনানে আরবাতে হযরত আয়েশা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) নামায হতে সালাম ফিরানোর পর শুধু নিম্নের কালেমাগুলো পাঠ করা পর্যন্ত বসে থাকতেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি, আপনা হতেই শান্তি, হে মহিমময় ও মহানুভব! আপনি কল্যাণময় ।

সূরা রহ্মান আয়াত 76 সূরা

متكئين على رفرف خضر وعبقري حسان

سورة: الرحمن - آية: ( 76 )  - جزء: ( 27 )  -  صفحة: ( 534 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. তদ্দ্বারা মৃত ভূভাগকে সঞ্জীবিত করার জন্যে এবং আমার সৃষ্ট জীবজন্তু ও অনেক মানুষের তৃষ্ণা নিবারণের
  2. তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
  3. হে মুমিনগণ, আল্লাহ তোমাদেরকে এমন কিছু শিকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন, যে শিকার পর্যন্ত তোমাদের হাত
  4. ফেরেশতারা বলবে, আপনি পবিত্র, আমরা আপনার পক্ষে, তাদের পক্ষে নই, বরং তারা জিনদের পূজা করত।
  5. যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বিছানা এবং তাতে তোমাদের জন্যে করেছেন পথ, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে
  6. তারা ভীষণ চক্রান্ত করে,
  7. অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?
  8. অতঃপর সত্য সত্যই এক ভয়ংকর শব্দ তাদেরকে হতচকিত করল এবং আমি তাদেরকে বাত্যা-তাড়িত আবর্জনা সদৃশ
  9. যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন,
  10. (বিপথগামী ওরাই) যারা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ পাক যা

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা রহ্মান ডাউনলোড করুন:

সূরা Rahman mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Rahman শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত রহ্মান  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত রহ্মান  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত রহ্মান  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত রহ্মান  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত রহ্মান  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত রহ্মান  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত রহ্মান  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত রহ্মান  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত রহ্মান  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত রহ্মান  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত রহ্মান  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত রহ্মান  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত রহ্মান  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত রহ্মান  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত রহ্মান  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত রহ্মান  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত রহ্মান  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত রহ্মান  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত রহ্মান  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত রহ্মান  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত রহ্মান  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত রহ্মান  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত রহ্মান  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত রহ্মান  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত রহ্মান  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Wednesday, June 10, 2026

Please remember us in your sincere prayers