কোরান সূরা সাবা আয়াত 47 তাফসীর
﴿قُلْ مَا سَأَلْتُكُم مِّنْ أَجْرٍ فَهُوَ لَكُمْ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ﴾
[ سبأ: 47]
বলুন, আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না বরং তা তোমরাই রাখ। আমার পুরস্কার তো আল্লাহর কাছে রয়েছে। প্রত্যেক বস্তুই তাঁর সামনে। [সূরা সাবা: 47]
Surah Saba in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Saba ayat 47
তুমি বলো -- ''যা-কিছু পারিশ্রমিক আমি তোমাদের কাছে চেয়েছি, সে তো তোমাদেরই জন্য! আমার পারিশ্রমিক আল্লাহ্র কাছে বৈ তো নয়, কেননা তিনি সব-কিছুর উপরে প্রত্যক্ষদশ।’’
Tafsir Mokhtasar Bangla
৪৭. হে রাসূল! এসব মুশরিকদেরকে বলে দিন। আমি তোমাদের নিকট যে হেদায়ত ও কল্যাণ নিয়ে আগমন করেছি তার বিনিময়ে কোন পারিতোষিক ও বদলা চাইনি। ( যদি কিছু হয়ে থাকে ) তবে তা তোমাদের জন্য। আমার প্রতিদান তো কেবল আল্লাহর নিকট। তিনি মহিয়ান; সর্ব বিষয়ে সাক্ষী। তিনি সাক্ষী রয়েছেন যে, আমি তোমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছি এবং তিনি তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দিবেন।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
বল, ‘আমি তোমাদের নিকট যে পারিশ্রমিক চেয়েছি তা তোমাদের জন্যই;[১] আমার পারিশ্রমিক আছে আল্লাহর নিকট এবং তিনি সর্ববিষয়ে সাক্ষী।’ [১] নবুঅত প্রচারে নবী ( সাঃ ) নিজের যে কোন লাভ বা স্বার্থ ছিল না এবং তাঁর পার্থিব ধন-সম্পদের যে কোন লোভ ছিল না সে কথা মহান আল্লাহ এই আয়াতে বিশেষভাবে প্রকাশ করে দিয়েছেন। যাতে তাদের মনে এই সন্দেহ সৃষ্টি হয়ে তারা দূরে সরে না যায় যে, উক্ত দাওয়াতের পিছনে তাঁর পার্থিব ধন-সম্পদ উপার্জন উদ্দেশ্য আছে।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
বলুন, 'যদি আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই তবে তা তোমাদেরই জন্য [ ১ ]; আমার পুরস্কার তো আছে কেবল আল্লাহর কাছে এবং তিনি সব কিছু প্ৰত্যক্ষকারী।' [ ১ ] কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে, বলুন, “ আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না, তবে যে ইচ্ছে করে সে তার প্রতিপালকের পথ অবলম্বন করুক ।’ [ সূরা আল-ফুরকান: ৫৭ ] আরও এসেছে, বলুন, “ আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছ থেকে আত্মীয়ের সৌহার্দ্য ছাড়া অন্য কোন প্রতিদান চাই না ।' [ সূরা আশ-শূরাঃ ২৩ ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৪৭-৫০ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূল ( সঃ )-কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তিনি যেন মুশরিকদেরকে বলেনঃ আমি তোমাদের মঙ্গল কামনা করি। তোমাদের কাছে আমি দ্বীনী আহকাম পৌছিয়ে দিচ্ছি। তোমাদেরকে উপদেশ ও পরামর্শ দিচ্ছি। এর জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোন বিনিময় চাচ্ছি না। বিনিময় তো আমাকে আল্লাহ তাআলাই দিবেন। তিনি সবকিছুর রহস্য অবগত আছেন। আমার ও তোমাদের অবস্থা প্রকাশিত হয়ে আছে। নিম্নের আয়াতটিও এই আয়াতের অনুরূপ আয়াতঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ আল্লাহ তা'আলা নিজের নির্দেশে হযরত জিবরাঈল ( আঃ )-কে স্বীয় বান্দাদের যার উপর ইচ্ছা নিজের অহীসহ পাঠিয়ে থাকেন ।”( ৪০:১৫ ) তিনি সত্যসহ ফেরেশতা অবতীর্ণ করেন। তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা। তাঁর কাছে আসমান যমীনের কিছুই গোপন নেই। আল্লাহর নিকট হতে হক এবং মুবারক শরীয়ত এসে গেছে। আর বাতিল ধ্বংস হয়ে গেছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ আমি বাতিলের উপর হককে নাযিল করে বাতিলকে উড়িয়ে বা মিটিয়ে দিই এবং তার তুষ উড়ে যায় ।”( ২১:১৮ )মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বায়তুল্লাহর মধ্যে প্রবেশ করে তথাকার মূর্তিগুলোকে স্বীয় কামানের কাঠ দ্বারা ফেলে দিচ্ছিলেন এবং মুখে উচ্চারণ করছিলেনঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ ( হে নবী সঃ )! তুমি বলে দাও যে, সত্য এসে গেছে এবং বাতিল দূরীভূত হয়েছে, আর বাতিল দূরীভূত হয়েই থাকে ।”( ১৭:৮১ )। ( এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে )কোন কোন তাফসীরকার হতে বর্ণিত আছে যে, এখানে বাতিল দ্বারা ইবলীসকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ সে না পূর্বে কাউকেও সৃষ্টি করেছে, না ভবিষ্যতে কাউকেও সৃষ্টি করতে পারবে। সে মৃতকেও জীবিত করতে পারে না এবং এ ধরনের কোন ক্ষমতাই তার নেই। কথা তো এটাও সত্য। কিন্তু এখানে উদ্দেশ্য তা নয়। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। আল্লাহ তাআলা সত্য সত্যই অহী পাঠিয়ে থাকেন। তাঁর হিদায়াত ও বর্ণনা খুবই সহজ ও সরল। যারা পথভ্রষ্ট হচ্ছে তারা নিজে থেকেই পথভ্রষ্ট হচ্ছে এবং তারা নিজেদেরই ক্ষতি সাধন করছে। যেমন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ( রাঃ )-কে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ “ আমি এটা আমার নিজের চিন্তা প্রসূত কথা বলছি । যদি তা সঠিক হয় তবে জানবে যে, এটা আল্লাহর পক্ষ হতে। আর যদি ভুল হয় তাহলে জানবে যে, এটা শয়তানের পক্ষ হতে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ( সঃ ) এটা হতে সম্পূর্ণরূপে দায়িত্বমুক্ত। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের কথা শুনে থাকেন, তিনি খুব নিকটেই আছেন। আহ্বানকারীর আহ্বানে তিনি সদা সাড়া দিয়ে থাকেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আবু মূসা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) স্বীয় সাহাবীদেরকে বলেনঃ “ তোমরা কোন বধিরকেও ডাকছো না এবং কোন অনুপস্থিতকেও ডাকছো না, বরং তোমরা ডাকছো এমন সত্তাকে যিনি শ্রবণকারী, যিনি নিকটেই রয়েছেন এবং যিনি তোমাদের আহ্বানে সাড়া দানকারী এবং তোমাদের প্রার্থনা কবুলকারী ।”
সূরা সাবা আয়াত 47 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্যে আছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় নির্ঝরিণীসমূহ।
- অর্থাৎ যেদিন মানুষ তার কৃতকর্ম স্মরণ করবে
- তুমি কি তোমার পালনকর্তাকে দেখ না, তিনি কিভাবে ছায়াকে বিলম্বিত করেন? তিনি ইচ্ছা করলে একে
- আল্লাহ ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনে কানন-কুঞ্জের, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণ। তারা
- তারা বলল, হে যাদুকর, তুমি আমাদের জন্যে তোমার পালনকর্তার কাছে সে বিষয় প্রার্থনা কর, যার
- এটি এমন একটি গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ণ করেছি, খুব মঙ্গলময়, অতএব, এর অনুসরণ কর এবং
- আমি ইচ্ছা করলে আপনার কাছে ওহীর মাধমে যা প্রেরণ করেছি তা অবশ্যই প্রত্যাহার করতে পারতাম।
- আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একেকজন রসূল রয়েছে। যখন তাদের কাছে তাদের রসূল ন্যায়দন্ডসহ উপস্থিত হল, তখন
- ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী লোক-সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করেছেন।
- সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা সাবা ডাউনলোড করুন:
সূরা Saba mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Saba শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



