কোরান সূরা আ'রাফ আয়াত 63 তাফসীর
﴿أَوَعَجِبْتُمْ أَن جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِّن رَّبِّكُمْ عَلَىٰ رَجُلٍ مِّنكُمْ لِيُنذِرَكُمْ وَلِتَتَّقُوا وَلَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ﴾
[ الأعراف: 63]
তোমরা কি আশ্চর্যবোধ করছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকেই একজনের বাচনিক উপদেশ এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে, যেন তোমরা সংযত হও এবং যেন তোমরা অনুগৃহীত হও। [সূরা আ'রাফ: 63]
Surah Al-Araf in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Araf ayat 63
''আচ্ছা, তোমরা কি বিস্মিত হচ্ছো যে তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে উপদেশ এসেছে তোমাদেরই মধ্যেকার একজন মানুষের মাধ্যমে যেন তিনি তোমাদের সতর্ক করেন, আর যেন তোমরা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করো, আর যেন তোমাদের করুণা প্রদর্শন করা হয়?
Tafsir Mokhtasar Bangla
৬৩. তোমরা কি আশ্চর্য হয়েছো এবং তোমাদের নিকট কি এ ব্যাপারটি খুব অদ্ভুত লেগেছে যে, তোমাদেরই চেনা-জানা এক ব্যক্তির মাধ্যমে তোমাদের নিকট প্রতিপালকের পক্ষ থেকে ওহী ও উপদেশ এসেছে?! তিনি তোমাদের মাঝেই বড় হয়েছেন। তিনি কখনো মিথ্যুক বা পথভ্রষ্ট ছিলেন না। না ছিলেন অন্য জাতের লোক। তোমরা তাঁর উপর মিথ্যারোপ করলে বা তাঁর অবাধ্য হলে তোমাদেরকে আল্লাহর শাস্তির ভয় দেখাতে এসেছেন। তেমনিভাবে তিনি এসেছেন এ জন্য যে, তোমরা যেন আল্লাহ তা‘আলার আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করো এবং তাঁর প্রতি ঈমান এনে তাঁর দয়াপ্রাপ্ত হও।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তোমরা কি আশ্চর্যবোধ করছ যে, তোমাদেরই একজনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তোমাদের নিকট উপদেশ এসেছে, যাতে সে তোমাদেরকে সতর্ক করে এবং যাতে তোমরা সাবধান হও ও অনুকম্পা লাভ করতে পার?’ [১] [১] নূহ ( আঃ ) এবং আদম ( আঃ )-এর মধ্যে ব্যবধান হল দশ শতাব্দী অথবা দশ পুরুষ। নূহ ( আঃ )-এর কিছু পূর্ব থেকে সমস্ত মানুষ তাওহীদের উপরেই প্রতিষ্ঠিত ছিল। অতঃপর সর্বপ্রথম তাওহীদ থেকে বিচ্যুতি এইভাবে ঘটে যে, যখন এই জাতির নেক লোকেরা মারা যান, তখন তাঁদের ভক্তরা তাঁদের বসার জায়গাগুলোকে উপাসনালয় বানিয়ে নেয় এবং তাঁদের চিত্রও সেখানে ঝুলিয়ে দেয়। এ থেকে তাদের উদ্দেশ্য ছিল, এইভাবে তারা তাঁদেরকে স্মরণ করে তারাও তাঁদের মত আল্লাহর যিকর ও ইবাদত করবে এবং সেই যিকর ও ইবাদতে তাঁদের অনুকরণ করবে। অতঃপর যখন কিছু কাল অতিবাহিত হল, তখন তারা এই চিত্রগুলোর মূর্তি নির্মাণ করল। তারপর কিছু কাল কেটে গেলে সে মূর্তিগুলো দেবতার আকার ধারণ করল এবং তাদের পূজাপাঠ আরম্ভ হয়ে গেল। এইভাবে নূহ ( আঃ )-এর জাতির অদ্দ্, সুওয়া', ইয়াগূস, ইয়াউক ও নাসর নামের পাঁচজন নেক লোক উপাস্য বনে গেলেন। এই অবস্থায় মহান আল্লাহ নূহ ( আঃ )-কে তাদের মাঝে নবী বানিয়ে প্রেরণ করলেন। তিনি সাড়ে নয় শত বছর পর্যন্ত তাদেরকে আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত দিলেন। কিন্তু অল্প সংখ্যক কিছু লোক ছাড়া তাঁর দাওয়াতের প্রভাব কারো উপর পড়ল না। পরিশেষে ঈমানদারদের ছাড়া সকলকেই ডুবিয়ে ধ্বংস করা হল। এই আয়াতে বলা হচ্ছে যে, নূহ ( আঃ )-এর জাতি এ ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেছিল যে, তাদেরই মধ্য থেকে একজন নবী হয়ে এসেছে, যে তাদেরকে আল্লাহর আযাবের ভয় দেখায়? অর্থাৎ, তাদের ধারণা ছিল, মানুষ নবী হওয়ার উপযুক্ত নয়।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
তোমরা কি বিস্মিত হচ্ছ যে, তোমাদেরই একজনের মাধ্যমে তোমাদের রবের কাছে থেকে তোমাদের কাছে উপদেশ [ ১ ] এসেছে, যাতে তিনি তোমাদেরকে সতর্ক করেন এবং যাতে তোমারা তাকওয়া অবলম্বন কর। আর যাতে তোমারা রহমতপ্রাপ্ত হও ?’ [ ১ ] মূলে ( ذكر ) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে এর অর্থ হচ্ছে, তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদেরই একজন লোক, যার বংশ ও সত্যবাদিতা তোমাদের কাছে স্বীকৃত। তার কাছে এমন কিছু এসেছে যা তোমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিবে, যাতে তোমাদের কল্যাণ রয়েছে। [ মুয়াসসার ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৬৩-৬৪ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা হযরত নূহ ( আঃ ) সম্পর্কে খবর দিতে গিয়ে বলেন যে, তিনি তাঁর কওমকে সম্বোধন করে বললেনঃ “ তোমরা এতে ব্ৰিত কেন হচ্ছ যে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরই একজন লোকের উপর অহী প্রেরণ করেছেন । এটা তো তোমাদের উপর দয়া ও অনুগ্রহ। সে তোমাদেরকে আল্লাহর ভয় দেখাচ্ছে, যেন তোমরা তার শাস্তি থেকে ভয় কর এবং শিরক থেকে বিরত থাক। এর ফলে হয়তো তোমাদের উপর দয়া প্রদর্শন করা হবে। কিন্তু হযরত নূহ ( আঃ )-এর কওম তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো এবং তার বিরোধিতা করতে শুরু করে দিলো। তাদের অতি অল্প সংখ্যক লোকই ঈমান আনয়ন করলো। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ “ সুতরাং আমি তাকে এবং তার সাথে নৌকায় যারা ছিল তাদেরকে ( আমার শাস্তি হতে ) রক্ষা করলাম, আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে অমান্য করেছিল, তাদেরকে ডুবিয়ে মারলাম । যেমন মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেনঃ “ তাদের পাপের কারণে তাদেরকে ডুবিয়ে দেয়া হয় এবং জাহান্নামে প্রবেশ করানো হয়, এখন তারা আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকেও সাহায্যকারী পায়নি ।আল্লাহ পাক বলেনঃ এরা অন্ধ ছিল। সত্যকে তারা দেখতেই পাচ্ছিল না। আল্লাহর বন্ধুদের সাথে শত্রুতা পোষণকারীরা কেমন শাস্তি পেলো, এই ঘটনায় আল্লাহ এর বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি এটাও দেখিয়েছেন যে, রাসূল ও মুমিনগণ মুক্তি পেয়ে গেল। যেমন তিনি বলেনঃ আমি অবশ্যই আমার রাসূলদেরকে সাহায্য করবো। বিজয় ও সফলতা সৎ লোকেরাই লাভ করবে, দুনিয়াতে এবং আখিরাতেও। যেমন তিনি নূহ ( আঃ )-এর কওমকে ডুবিয়ে দিয়ে ধ্বংস করলেন এবং নূহ ( আঃ ) ও তার সঙ্গীদেরকে মুক্তি দিলেন। যায়েদ ইবনে আসলাম ( রঃ ) বলেনঃ “ নূহ ( আঃ )-এর কওম এত বেশী ছিল যে, শহর ও জঙ্গল ভরে গিয়েছিল । যমীনের প্রতিটি অংশের উপর তাদের দখল ছিল। ইবনে অহাব ( রঃ ) বলেনঃ “ ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) হতে আমার কাছে সংবাদ পৌছেছে যে, হযরত নূহ ( আঃ )-এর সাথে যারা নৌকায় আশ্রয় নিয়ে মুক্তি পেয়েছিল তাদের সংখ্যা ছিল আশিজন । তাদের মধ্যে জুরহুম’ নামক একজন লোক ছিলেন যার ভাষা ছিল আরবী।” ( এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)
সূরা আ'রাফ আয়াত 63 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- আল্লাহ ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনে কানন-কুঞ্জের, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণ। তারা
- নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য
- অতঃপর তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলেন লূত। ইব্রাহীম বললেন, আমি আমার পালনকর্তার উদ্দেশে দেশত্যাগ করছি।
- অতঃপর যখন তারা আমার আযাবের কথা টের পেল, তখনই তারা সেখান থেকে পলায়ন করতে লাগল।
- সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে।
- এবং তাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করেছিলাম।
- তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে
- তারা তাকে বধ করল ফলে, তারা অনুতপ্ত হয়ে গেল।
- বলুন, আমার মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহই সাক্ষীরূপে যথেষ্ট। তিনি জানেন যা কিছু নভোমন্ডলে ও
- অথচ তারা পূর্ব থেকে সত্যকে অস্বীকার করছিল। আর তারা সত্য হতে দূরে থেকে অজ্ঞাত বিষয়ের
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা আ'রাফ ডাউনলোড করুন:
সূরা Araf mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Araf শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



