কোরান সূরা তূর আয়াত 8 তাফসীর

  1. Mokhtasar
  2. Ahsanul Bayan
  3. AbuBakr Zakaria
  4. Ibn Kathir
Surah Tur ayat 8 Bangla tafsir - তাফসীর ইবনে কাসীর - Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান - Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স - বাংলা ভাষায় নোবেল কোরআনের অর্থের অনুবাদ উর্দু ভাষা ও ইংরেজি ভাষা & তাফসীর ইবনে কাসীর : সূরা তূর আয়াত 8 আরবি পাঠে(Tur).
  
   

﴿مَّا لَهُ مِن دَافِعٍ﴾
[ الطور: 8]

তা কেউ প্রতিরোধ করতে পারবে না। [সূরা তূর: 8]

Surah At-Tur in Bangla

জহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Tur ayat 8


এটির জন্য কোনো প্রতিরোধকারী নেই;


Tafsir Mokhtasar Bangla


৮. তাকে প্রতিহতকারী কেউই নেই। যে তাদের উপর তা পতিত হওয়া থেকে প্রতিরোধ করবে।

Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান


এর নিবারণকারী কেউ নেই, [১] [১] এটা হল উল্লিখিত শপথসমূহের জওয়াব। অর্থাৎ, এই সমস্ত জিনিস যা মহান আল্লাহর বিশাল ক্ষমতার নিদর্শন, এ কথা প্রমাণ করে যে, আল্লাহর সেই আযাব অবশ্যই সংঘটিত হবে, যার তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তা কেউ রোধ করার কোন ক্ষমতা রাখে না।

Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স


এটার নিবারণকারী কেউ নেই []। [] বলা হয়েছে, একে অর্থাৎ আপনার রবের শাস্তিকে কেউ প্রতিরোধ করতে পারবে না। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, একবার উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সূরা আত-তূর পাঠ করে যখন এই আয়াতে পৌছেন, তখন একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বিশ দিন পর্যন্ত অসুস্থ থাকেন। তাঁর রোগ নির্ণয় করার ক্ষমতা কারও ছিল না। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি এক রাত্রে প্রজাদের অবস্থা দেখার জন্য ছদ্মবেশে বের হন, এমতাবস্থায় এক লোকের বাড়ির পাশে গিয়ে এ আয়াত শুনতে পান। তিনি তৎক্ষণাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এক মাসের মত সময় অসুস্থ ছিলেন। কেউ তার রোগ নির্ণয় করতে সক্ষম ছিল না। [ ইবন কাসীর ]

Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর


হযরত জুবায়ের ইবনে মুতইম ( রাঃ ) বলেনঃ “ আমি মাগরিবের নামাযে নবী ( সাঃ )-কে সূরায়ে তূর পড়তে শুনেছি । তার চেয়ে অধিক সুমিষ্ট সুর বিশিষ্ট উত্তম কিরআতকারী লোক আমি একটিও দেখিনি।” ( এ হাদীসটি ইমাম মালিক তাঁর মুআত্তা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন )হযরত আয়েশা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “ হজ্বের সময় আমি রুগ্না হয়ে পড়েছিলাম । রাসূলুল্লাহ ( সঃ )-এর সামনে আমি আমার অবস্থা বর্ণনা করলে তিনি আমাকে বলেনঃ “ তুমি সওয়ারীর উপর আরোহণ করে জনগণের পিছনে পিছনে তাওয়াফ করে নাও ।” সুতরাং আমি সওয়ারীর উপর বসে তাওয়াফ করলাম। ঐ সময় নবী ( সঃ ) বায়তুল্লাহ শরীফের এক কোণে নামায পড়ছিলেন এবং ( আরবী )-এর তিলাওয়াত করছিলেন।” ( ইমাম বুখারী (রঃ ) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন) ১-১৬ নং আয়াতের তাফসীর: যেগুলো আল্লাহ তাআলার ব্যাপক ও মহাশক্তির নিদর্শন সেগুলোর শপথ করে আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ তার শাস্তি অবশ্যই আসবে। যখন তাঁর শাস্তি আসবে তখন কারো ক্ষমতা নেই যে, তা প্রতিরোধ করতে পারে। যে পাহাড়ের উপর গাছ থাকে ঐ পাহাড়কে ‘র’ বলে। যেমন ঐ পাহাড়টি, যার উপর আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা ( আঃ )-এর সাথে কথা বলেছিলেন এবং যেখান হতে হযরত ঈসা ( আঃ )-কে পাঠিয়েছিলেন। আর শুষ্ক পাহাড়কে ‘জাবাল বলা হয়। এটাকে ‘র’ বলা হয় না( আরবী ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো লাওহে মাহফুয’ বা রক্ষিত ফলক। অথবা এর দ্বারা আল্লাহ তা'আলার অবতারিত ও লিখিত কিতাব সমূহকে বুঝানো হয়েছে যেগুলো মানুষের সামনে পাঠ করা হয়। এ জন্যেই এর পরেই বলা হয়েছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ উন্মুক্ত পত্রে। বায়তুল মা'মূর' এর ব্যাপারে মিরাজ সম্বলিত হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ সপ্তম আকাশ হতে সামনে অগ্রসর হওয়ার পর আমাকে বায়তুল মা'মূর দেখানো হয় যেখানে প্রত্যহ সত্তর হাজার ফেরেশতা আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে থাকেন । দ্বিতীয় দিনও এই সংখ্যকই ফেরেশতাদের সমাবেশ সেখানে ঘটে থাকে। কিন্তু প্রথম দিন যাদের সমাবেশ হয়, কিয়ামত পর্যন্ত আর তাঁদের পালা পড়বে না। ভূ-পৃষ্ঠে যেমন কাবা শরীফের তাওয়াফ হয়ে থাকে তেমনই বায়তুল মা'মূর হলো আকাশবাসীদের তাওয়াফ ও ইবাদতের জায়গা।” ঐ হাদীসেই রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) ঐ সময় হযরত ইবরাহীম ( আঃ )-কে বায়তুল মা'মূরের সাথে কোমর লাগিয়ে বসে থাকতে দেখেন। এতে একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত এই রয়েছে যে, যেহেতু হযরত ইবরাহীম ( আঃ ) বায়তুল্লাহ শরীফের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং তাঁর হাতেই তা নির্মিত হয়েছে সেই হেতু সেখানেও তাঁকে রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) ওর সাথে লেগে থাকতে দেখতে পান। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা যেন তাকে তার আমলেরই অনুরূপ প্রতিদান দিলেন। এই বায়তুল মা'মূর কাবা শরীফের ঠিক উপরে রয়েছে। আর ওটা রয়েছে সপ্তম আকাশের উপর। এমন তো প্রতিটি আকাশে এমন একটি ঘর রয়েছে যেখানে ঐ আকাশের ফেরেশতারা আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করে থাকেন। প্রথম আকাশে এরূপ যে ঘরটি রয়েছে ওটাকে বলা হয় বায়তুল ইযত। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।হযরত আবু হুরাইরা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী ( সঃ ) বলেছেনঃ “ সপ্তম আকাশে একটি ঘর রয়েছে যাকে মা’মূর বলা হয়, যা কা'বার দিকে রয়েছে । চতুর্থ আকাশে একটি নহর আছে যার নাম হাইওয়ান। তাতে হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) প্রত্যহ ডুব দিয়ে থাকেন এবং উঠে দেহ ঝেড়ে থাকেন। ফলে তাঁর দেহ হতে সত্তরটি বিন্দু ঝরে পড়ে। প্রত্যেক বিন্দু হতে আল্লাহ তা'আলা এক একজন ফেরেশতা সৃষ্টি করেন। তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয় যে, তারা যেন বায়তুল মামুরে গিয়ে নামায আদায় করেন। তারপর তারা সেখান হতে বেরিয়ে আসে। অতঃপর আর তাদের সেখানে যাওয়ার সুযোগে ঘটে না। তাঁদের একজন নেতা থাকেন যাঁকে নির্দেশ দেয়া হয় যে, তিনি যেন তাদেরকে নিয়ে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে যান। তারপর তারা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করতে থাকেন। কিয়ামত পর্যন্ত তাদের এই ব্যস্ততাই থাকে।” ( এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ ) বর্ণনা করেছেন। এটা খুবই গারীব হাদীস। এর বর্ণনাকারী রাওহ্ ইবনে সবাহ এতে একাকী রয়েছেন। হাফিযদের একটি দল তার উপর এ হাদীসটিকে অস্বীকার করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাওজানী ( রঃ ), আকীল ( রঃ ), হাকিম আবু আবদিল্লাহ নীশাপুরী ( রঃ ) প্রমুখ। হাকিম ( রঃ ) হাদীসটিকে ভিত্তিহীন বলেছেন)হযরত খালিদ ইবনে আরআরাহ ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক হযরত আলী ( রাঃ )-কে জিজ্ঞেস করেঃ “ বায়তুল মা'মূর কি?" উত্তরে তিনি বলেনঃ “ওটা আকাশে রয়েছে । ওটাকে সুরাহ বলা হয়। কা'বার ঠিক উপরে ওটা রয়েছে। যমীনের কা'বা যেমন মর্যাদা সম্পন্ন স্থান, অনুরূপভাবে ওটা আসমানে মর্যাদা সম্পন্ন স্থান। প্রত্যহ তাতে সত্তর হাজার ফেরেশতা নামায আদায় করে থাকেন। কিন্তু একদিন যারা তাতে প্রবেশ করেছেন, কিয়ামত পর্যন্ত আর তাঁদের সেখানে যাওয়ার পালা পড়বে না। কেননা, ফেরেশতা অসংখ্য রয়েছেন। ( এটা ইমাম ইবনে জারীর (রঃ ) বর্ণনা করেছেন) একটি রেওয়াইয়াতে রয়েছে যে, এই প্রশ্নকারীর নাম ছিল ইবনুল কাওয়া ( রাঃ ) হযরত ইবনে আব্বাস ( রঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, বায়তুল মা'মূর আরশের পাদদেশে রয়েছে। একটি মারফু হাদীসে রয়েছে যে, একদা বাসূলুল্লাহ ( সঃ ) সাহাবীদেরকে ( রাঃ ) জিজ্ঞেস করেনঃ “ বায়তুল মা'মূর কি তা তোমরা জান কি?” তারা উত্তরে বললেনঃ “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ( সঃ ) ভাল জানেন ।” তখন তিনি বললেনঃ “ ওটা হলো আসমানী কাবা । ওটা যমীনী কাবার ঠিক উপরে রয়েছে। যদি ওটা পড়ে যায় তবে যমীনের কা’বার উপরই পড়বে। এতে প্রত্যহ সত্তর হাজার ফেরেশতা নামায আদায় করে থাকেন। এক দল যখন ওটা হতে বের হন তখন কিয়ামত পর্যন্ত আর তারা সেখানে ফিরে যান না।যহহাক ( রঃ ) বলেন যে, এই ফেরেশতাগুলো ইবলীস গোত্রের জ্বিনদের অন্তর্ভুক্ত। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।সমুন্নত ছাদ’ দ্বারা আকাশকে বুঝানো হয়েছে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ আমি আকাশকে রক্ষিত ছাদ করেছি ।( ২১:৩২ )। রাবী' ইবনে আনাস ( রঃ ) বলেন যে, এর দ্বারা আরশ’কে বুঝানো হয়েছে। কেননা, ওটা সমস্ত মাখলুকের ছাদ স্বরূপ। এই উক্তির ব্যাখ্যা এভাবে দেয়া যেতে পারে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আ’ম বা সাধারণ।( আরবী ) বা উদ্বেলিত সমুদ্র দ্বারা ঐ পানি উদ্দেশ্য যা আরশের নীচে রয়েছে। ওটা বৃষ্টির মত বর্ষিত হবে যার দ্বারা কিয়ামতের দিন মৃতরা পুনর্জীবন লাভ করে নিজ নিজ কবর হতে উথিত হবে। জমহুর বলেন যে, এর দ্বারা সাধারাণ সমুদ্র উদ্দেশ্য। এটাকে ( আরবী ) বলার কারণ এই যে, কিয়ামতের দিন এতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হবে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ সমুদ্র যখন স্ফীত হবে ।( ৮১:৬ ) অর্থাৎ যখন তাতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হবে এবং ওটা ছড়িয়ে গিয়ে সারা হাশরের মাঠকে পরিবেষ্টন করে ফেলবে। হযরত আ’লা ইবনে বদর ( রঃ ) বলেনঃ এটাকে উদ্বেলিত সমুদ্র বলার কারণ এই যে, ওর পানি পানের অযোগ্য হয়ে যাবে। ওটাকে জমিতে দেয়াও চলবে না। কিয়ামতের দিন সমুদ্রগুলোর অবস্থা এরূপই হবে। এর অর্থ প্রবাহিত সমুদ্রও করা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলোঃ পরিপূর্ণ সমুদ্র, যার পানি এদিকে ওদিকে প্রবাহিত। হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, ( আরবী )দ্বারা উদ্দেশ্য হলো খালি বা শূন্য। কোন দাসী পানি আনতে যায়, অতঃপর ফিরে এসে বলেঃ ( আরবী ) অর্থাৎ “ নিশ্চয়ই চৌবাচ্ছা শূন্য ।” এটাও বলা হয়েছেঃ এর অর্থ এই যে, এটাকে যমীন হতে থামিয়ে দেয়া হয়েছে, যেন ডুবিয়ে না দেয়। হযরত উমার ইবনে খাত্তাব ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ প্রতি রাত্রে সমুদ্র তিন বার করে আল্লাহ তা'আলার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করে যে, সমস্ত মানুষকে ডুবিয়ে দেয়ার যেন তাকে হুকুম দেয়া হয় । কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তাকে থামিয়ে দেন।” ( এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ ) বর্ণনা করেছেন)অন্য একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, একজন বুযুর্গ ব্যক্তি, যিনি একজন মুজাহিদ ছিলেন এবং সমুদ্রের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থানকারী সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি জিহাদের প্রস্তুতি গ্রহণে সেখানে অবস্থান করছিলেন, তিনি। বলেনঃ “ একদা রাত্রে আমি পাহারার উদ্দেশ্যে বের হই । ঐ রাত্রে অন্য কোন প্রহরী ছিল না। আমি টহল দিতে দিতে ময়দানে পৌছি। সেখান হতে আমি সমুদ্রের দিকে দৃষ্টিপাত করলে এরূপ মনে হয় যে, সমুদ্র যেন পর্বতের চূড়ার সাথে ধাক্কা খাচ্ছে। বার বার এই দৃশ্যই আমার দৃষ্টিগোচর হয়। আমি ঘটনাটি হযরত আবু সালেহ ( রঃ )-এর কাছে বর্ণনা করলে তিনি হযরত উমার ইবনে খাত্তাব ( রাঃ ) হতে বর্ণিত উপরোক্তে হাদীসটি আমাকে শুনিয়ে দেন।” ( এর সনদে একজন বর্ণনাকারী অস্পষ্ট রয়েছেন, যার নাম উল্লেখ করা হয়নি ) যে বিষয়ের উপর এসব শপথ করা হয়েছে সেগুলোর বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, ওটা নিশ্চিত রূপেই আসবে এবং যখন তা এসে পড়বে তখন ওর নিবারণকারী কেউই হবে না।হাফিয আবু বকর ইবনে আবিদ দুনিয়া ( রঃ ) বর্ণনা করেছেন যে, একদা রাত্রে হযরত উমার ( রাঃ ) শহরের অবস্থা দেখার উদ্দেশ্যে বের হন। একজন মুসলমানের বাড়ীর পার্শ্বদিয়ে গমনকালে তিনি দেখতে পান যে, লোকটি নামায পড়ছেন এবং সূরায়ে তূর পাঠ করছেন। তখন তিনি সওয়ারী থামিয়ে দিয়ে কুরআন শুনতে শুরু করেন। লোকটি যখন পড়তে পড়তে ( আরবী )পর্যন্ত পৌঁছেন তখন তাঁর মুখ দিয়ে বেরিয়ে পড়েঃ “ কা’বার প্রতিপালকের শপথ! এ কথা সত্য ।” অতঃপর তিনি স্বীয় গাধার উপর হতে নেমে পড়েন এবং দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসে পড়েন। চলাফেরার শক্তি তাঁর থাকলো না। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর যখন তিনি শক্তি ফিরে পেলেন তখন বাড়ী ফিরে গেলেন। কিন্তু আল্লাহ পাকের কালামের এই ভীতিপূর্ণ আয়াত তাঁর উপর এমন ক্রিয়াশীল হলো যে, দীর্ঘ এক মাস পর্যন্ত রুগ্ন অবস্থায় থাকলেন। জনগণ তাঁকে দেখতে আসতো, কিন্তু তিনি কি রোগে ভুগছেন তা তারা জানতে পারতো না। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন।হযরত আবু উবায়েদ ( রঃ ) ফাযায়িলুল কুরআনের মধ্যে বর্ণনা করেছেন যে, একদা হযরত উমার ( রাঃ ) ( আরবী )-এই আয়াতগুলো পাঠ করেন। তৎক্ষণাৎ তাঁর হেঁচকী বন্ধ হয়ে যায় এবং এটা তাঁর অন্তরে এমন ক্রিয়াশীল হয় যে, তিনি রুগ্ন হয়ে পড়েন। বিশ দিন পর্যন্ত জনগণ তাকে দেখতে আসতে থাকে।আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ঐ দিন আকাশ আন্দোলিত হবে এবং ফেটে যাবে ও ঘুরতে শুরু করবে। আর পর্বত দ্রুত চলতে থাকবে। ওটা নিজ স্থান হতে সরে যাবে, এদিক হতে ওদিক চলে যাবে, কাঁপতে কাঁপতে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে এবং ধুনো কূলার মত এদিক-ওদিক উড়তে থাকবে। এভাবে ওটার কোন নাম ও নিশানা থাকবে না। ঐ দিন মিথ্যাচারীদের বড়ই দুর্ভোগ পোহাতে হবে, যারা ক্রীড়াস্থলে আসার কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। আল্লাহর শাস্তি, ফেরেশতাদের মার এবং জাহান্নামের আগুন তাদের জন্যে হবে যারা দুনিয়ায় মগ্ন ছিল। যারা দ্বীনকে খেল-তামাশারূপে নির্ধারণ করে নিয়েছিল। সেই দিন তাদের ধাক্কা মারতে মারতে জাহান্নামের আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। জাহান্নামের রক্ষক তাদেরকে বলবেনঃ “ এটা ঐ অগ্নি যাকে তোমরা মিথ্যা মনে করতে । তারপর আরো ধমকের সুরে বলা হবেঃ “ এটা কি যাদু? না কি তোমরা দেখছো না? যাও, তোমরা এতে প্রবেশ কর । এটা তোমাদেরকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলবে। তোমরা এখন ধৈর্যধারণ কর অথবা না কর উভয়ই তোমাদের জন্যে সমান। কোনক্রমেই তোমরা এখান হতে বের হতে পারবে না। এটা তোমাদের উপর আল্লাহ তা'আলার যুলুম নয়, বরং তোমরা যা করতে তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হচ্ছে।

সূরা তূর আয়াত 8 সূরা

ما له من دافع

سورة: الطور - آية: ( 8 )  - جزء: ( 27 )  -  صفحة: ( 523 )


English Türkçe Indonesia
Русский Français فارسی
تفسير Urdu اعراب

বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত

  1. মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক দাঁড়িপালায় ওজন করবে। এটা উত্তম; এর পরিণাম
  2. বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার
  3. যারা কাফের, যদি তাদের কাছে পৃথিবীর সমুদয় সম্পদ এবং তৎসহ আরও তদনুরূপ সম্পদ থাকে আর
  4. আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন কে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো
  5. মুনাফিকরা আপনার কাছে এসে বলেঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রসূল। আল্লাহ জানেন
  6. আমি জানি না সম্ভবতঃ বিলম্বের মধ্যে তোমাদের জন্যে একটি পরীক্ষা এবং এক সময় পর্যন্ত ভোগ
  7. বলুনঃ তোমাদের জানা থাকলে বল, কার হাতে সব বস্তুর কতৃর্ꦣ2468;্ব, যিনি রক্ষা করেন এবং যার
  8. যেদিন তারা বের হয়ে পড়বে, আল্লাহর কাছে তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। আজ রাজত্ব কার?
  9. মূসা বলল, তিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরও পালনকর্তা।
  10. তারপর আল্লাহ নাযিল করেন নিজের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা, তাঁর রসূল ও মুমিনদের প্রতি এবং অবতীর্ণ

বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :

সুরত আল বাক্বারাহ্ আলে ইমরান সুরত আন-নিসা
সুরত আল-মায়েদাহ্ সুরত ইউসুফ সুরত ইব্রাহীম
সুরত আল-হিজর সুরত আল-কাহফ সুরত মারইয়াম
সুরত আল-হাজ্জ সুরত আল-ক্বাসাস আল-‘আনকাবূত
সুরত আস-সাজদা সুরত ইয়াসীন সুরত আদ-দুখান
সুরত আল-ফাতহ সুরত আল-হুজুরাত সুরত ক্বাফ
সুরত আন-নাজম সুরত আর-রাহমান সুরত আল-ওয়াক্বি‘আহ
সুরত আল-হাশর সুরত আল-মুলক সুরত আল-হাক্কাহ্
সুরত আল-ইনশিক্বাক সুরত আল-আ‘লা সুরত আল-গাশিয়াহ্

সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা তূর ডাউনলোড করুন:

সূরা Tur mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Tur শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
সুরত তূর  ভয়েস আহমেদ আল-আজমি
আহমেদ আল-আজমি
সুরত তূর  ভয়েস ইব্রাহীম আল-আখদার
ইব্রাহীম আল-আখদার
সুরত তূর  ভয়েস বান্দার বেলাইলা
বান্দার বেলাইলা
সুরত তূর  ভয়েস খালিদ গালিলি
খালিদ গালিলি
সুরত তূর  ভয়েস হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
সুরত তূর  ভয়েস খলিফা আল টুনাইজি
খলিফা আল টুনাইজি
সুরত তূর  ভয়েস সাদ আল-গামদি
সাদ আল-গামদি
সুরত তূর  ভয়েস সৌদ আল-শুরাইম
সৌদ আল-শুরাইম
সুরত তূর  ভয়েস সালাহ আবু খাতর
সালাহ বুখাতীর
সুরত তূর  ভয়েস আবদুল বাসিত আব্দুল সামাদ
আবদ এল বাসেট
সুরত তূর  ভয়েস আবদুল রশিদ সুফি
আবদুল রশিদ সুফি
সুরত তূর  ভয়েস আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
আব্দুল্লাহ্ বাস্‌ফার
সুরত তূর  ভয়েস আবদুল্লাহ আওওয়াদ আল-জুহানী
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
সুরত তূর  ভয়েস আলী আল-হুদায়েফি
আলী আল-হুদায়েফি
সুরত তূর  ভয়েস আলী জাবের
আলী জাবের
সুরত তূর  ভয়েস ফারেস আব্বাদ
ফারেস আব্বাদ
সুরত তূর  ভয়েস মাহের আলমাইকুলই
মাহের আলমাইকুলই
সুরত তূর  ভয়েস মোহাম্মদ আইয়ুব
মোহাম্মদ আইয়ুব
সুরত তূর  ভয়েস মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
সুরত তূর  ভয়েস মুহাম্মাদ জিব্রীল
মুহাম্মাদ জিব্রীল
সুরত তূর  ভয়েস মুহাম্মদ সিদ্দিক আল মিনশাবি
আল-মিনশাবি
সুরত তূর  ভয়েস আল হোসারি
আল হোসারি
সুরত তূর  ভয়েস আল-আফসী
মিশারী আল-আফসী
সুরত তূর  ভয়েস নাসের আল কাতামি
নাসের আল কাতামি
সুরত তূর  ভয়েস ইয়াসের আল-দোসারি
ইয়াসের আল-দোসারি


Friday, June 5, 2026

Please remember us in your sincere prayers