কোরান সূরা সাফ্ফাত আয়াত 123 তাফসীর
﴿وَإِنَّ إِلْيَاسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ﴾
[ الصافات: 123]
নিশ্চয়ই ইলিয়াস ছিল রসূল। [সূরা সাফ্ফাত: 123]
Surah As-Saaffat in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Assaaffat ayat 123
আর নিশ্চয়ই ইল্য়াস রসূলগণের মধ্যেকার ছিলেন।
Tafsir Mokhtasar Bangla
১২৩. আর ইলিয়াস ( আলাইহিস-সালাম ) স্বীয় প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত ছিলেন। আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াত ও রিসালত দ্বারা ধন্য করেছেন।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
নিশ্চয় ইল্য়্যাসও ছিল রসূলদের একজন; [১] [১] ইলিয়াস ( আঃ ) হারূন ( আঃ )-এর বংশোদ্ভূত বনী ইস্রাঈলের প্রতি প্রেরিত একজন নবী ছিলেন। তাঁকে বা'লাবাক্ক্ নামক এলাকায় প্রেরণ করা হয়েছিল। অনেকে সে জায়গার নাম সামেরা বলেছেন, যা ফিলিস্তীনের মধ্য পশ্চিমে অবস্থিত। সেখানের মানুষ বা'ল নামক এক মূর্তির উপাসনা করত। অনেকে বলেন, এটা একটি দেবী ছিল।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
আর নিশ্চয় ইলইয়াস ছিলেন রাসূলদের একজন [ ১ ]। [ ১ ] কাতাদা বলেন, ইলইয়াস ও ইন্দ্রীস একই ব্যক্তি। [ তাবারী ] অন্যদের নিকট তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। [ ইবন কাসীর ] সে মতে তিনি ছিলেন, ইলইয়াস ইবনে ফিনহাস ইবনে আইযার ইবনে হারূন ইবনে ইমরান। তারা বালি নামীয় এক মূর্তির পূজা করত। তিনি তাদেরকে তা থেকে নিষেধ করেন। কিন্তু তারা তা থেকে বিরত হয় না। [ ইবন কাসীর ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
১২৩-১৩২ নং আয়াতের তাফসীর: হযরত কাতাদা ( রঃ ) ও মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ( র ) বলেনঃ “ বলা হয় যে, ইলিয়াস ছিল হযরত ইদরীস ( আঃ )-এর নাম । হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ( রাঃ ) বলেন যে, ইলিয়াসই ছিলেন ইদরীস ( আঃ )। যহাক ( রঃ ) বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা হযরত হাকীল নবী ( আঃ )-এর পরে তাঁকে বানী ইসরাঈলের মধ্যে প্রেরণ করেন। বানী ইসরাঈল ঐ সময় ‘বা'আল’ নামক মূর্তির পূজা। করতো। হযরত ইলিয়াস ( আঃ ) তাদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকলেন এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যের উপাসনা করতে নিষেধ করলেন। তাদের বাদশাহ তা কবুল করে নেয়। কিন্তু পরে সে মুরতাদ ( ধর্মত্যাগী ) হয়ে যায়। অতঃপর তারা সবাই ভ্রান্ত পথেই রয়ে যায়। তাদের কেউই তার উপর ঈমান আনলো না। আল্লাহর নবী ( আঃ ) তাদের উপর বদ দূআ করেন। ফলে তিন বছর ধরে সেখানে বৃষ্টিপাত বন্ধ তাকে। তখন তারা সবাই হযরত ইলিয়াস ( আঃ )-এর কাছে এসে বলেঃ “ আপনি দুআ করুন! আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হলেই আমরা কসম করে বলছি যে, আমরা ঈমান আনয়ন করবো ।” হযরত ইলিয়াস ( আঃ )-এর দু'আর ফলে আল্লাহ তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করলেন। কিন্তু এর পরেও তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে কুফরীর উপরই অটল থেকে গেল। তাদের এ আচরণ দেখে হযরত ইলিয়াস ( আঃ ) আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করলেন যে, তাঁকে যেন আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়। হযরত ইয়াসা ইবনে উখতূব ( আঃ ) তাঁর নিকটই লালিত পালিত হয়েছিলেন। হযরত ইলিয়াস ( আঃ )-এর এই দু’আর পর তাকে নির্দেশ দেয়া হলো যে, তিনি যেন অমুক নির্দিষ্ট স্থানে গমন করেন এবং সেখানে যে যানবাহন পাবেন তাতেই যেন আরোহণ করেন। যথাস্থানে পৌঁছে তিনি নূরের একটি ঘোড়া দেখতে পান এবং তাতেই আরোহণ করেন। আল্লাহ তাকেও জ্যোতির্ময় করলেন এবং পাখা প্রদান করলেন। তিনি ফেরেশতাদের সাথে স্বীয় পাখার উপর ভর করে উড়তে লাগলেন। এই ভাবে একজন মানুষ আসমানী ও যমীনী ফেরেশতায় পরিণত হয়ে গেলেন। ( অহাব ইবনে মুনাব্বাহ (রঃ ) আহলে কিতাব হতে এটা বর্ণনা করেছেন। এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ)মহান আল্লাহ বলেন যে, ইলিয়াস ( আঃ ) স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ “ তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না যে, তাকে ছেড়ে অন্যের উপাসনা কর?” হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, ( আরবী ) অর্থ হলো ‘রব’ বা প্রতিপালক । ইকরামা ( রঃ ) বলেন যে, এটা ইয়ামনীদের ভাষা। কাতাদা ( রঃ ) বলেন যে, এটা ইযদ শানুআদের ভাষা। ইবনে ইসহাক ( রঃ ) বলেন:“ আমাকে সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, তারা একটি মহিলার মূর্তির পূজা করতো । তার নাম ছিল বা'আল। আবদুর রহমান ( রঃ ) বলেন যে, ওটা একটা মূর্তি ছিল। শহরবাসীরা ওর পূজা করতো। ঐ শহরের নামও ছিল বাআলাক'। হযরত ইলিয়াস ( আঃ ) তাদেরকে বললেনঃ “ তোমরা সকলের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ছেড়ে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয়েছে? অথচ আল্লাহ তো তোমাদের ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের সৃষ্টিকর্তা এবং প্রতিপালক । একমাত্র তিনিই তো ইবাদতের যোগ্য।" প্রবল প্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “ কিন্তু তারা তাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, কাজেই তাদেরকে অবশ্যই শাস্তির জন্যে উপস্থিত করা হবে । তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাদের কথা স্বতন্ত্র ।” তাদেরকে তিনি রক্ষা করবেন। আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ আমি ইলিয়াস ( আঃ )-এর জন্যে পরবর্তী লোকদের উত্তম প্রশংসা প্রচলিত রেখেছি যে, প্রত্যেক মুসলমান তার উপর দরূদ ও সালাম প্রেরণ করে থাকে।( আরবী ) শব্দের দ্বিতীয় রূপ ( আরবী ) রয়েছে। যেমন ( আরবী ) কে ( আরবী ) বলা হয়। এটা বানু আসাদ গোত্রের ভাষা। অনুরূপভাবে ( আরবী ) -কে ( আরবী ) এবং ( আরবী ) কে ( আরবী ) বলা হয়ে থাকে। ফল কথা, এটা আরবে সুপ্রচলিত শব্দ। হযরত ইবনে মাসউদ ( রাঃ )-এর এক কিরআতে ( আরবী ) পড়া হয়েছে। অর্থাৎ ( আরবী ) বা মুহাম্মাদ ( সঃ )-এর বংশধর। মহান আল্লাহ বলেনঃ “ এই ভাবে আমি সৎকর্মশীলদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি । নিশ্চয়ই সে ছিল আমার মুমিন বান্দাদের অন্যতম।” এর তাফসীর পূর্বেই গত হয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।
সূরা সাফ্ফাত আয়াত 123 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- যখন সত্য তাদের কাছে আগমন করল, তখন তারা বলল, এটা যাদু, আমরা একে মানি না।
- বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং দিয়েছেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
- তারা বললঃ হে ঐ ব্যক্তি, যার প্রতি কোরআন নাযিল হয়েছে, আপনি তো একজন উম্মাদ।
- তিনি বললেনঃ হে আমার জননী-তনয়, আমার শ্মশ্রু ও মাথার চুল ধরে আকর্ষণ করো না; আমি
- অতঃপর আমি তা রেখেছি এক সংরক্ষিত আধারে,
- সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, আমি মোটেই নির্বোধ নই, বরং আমি বিশ্ব প্রতিপালকের প্রেরিত পয়গম্বর।
- নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।
- আর যখন তাদেরকে কেউ বলে যে, সে হুকুমেরই আনুগত্য কর যা আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেছেন,
- অতঃপর যেদিন কর্ণবিদারক নাদ আসবে,
- অতঃপর ফেরাউন শহরে শহরে সংগ্রাহকদেরকে প্রেরণ করল,
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা সাফ্ফাত ডাউনলোড করুন:
সূরা Assaaffat mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Assaaffat শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



