কোরান সূরা হাক্কা আয়াত 14 তাফসীর
﴿وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً﴾
[ الحاقة: 14]
এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চুর্ণ-বিচুর্ণ করে দেয়া হবে, [সূরা হাক্কা: 14]
Surah Al-Haqqah in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Al-Haqqah ayat 14
এবং পৃথিবী ও পাহাড়-পর্বত উত্তোলন করা হবে, আর একটিমাত্র ধাক্কায় তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করা হবে।
Tafsir Mokhtasar Bangla
১৪. আর যমীন ও পাহাড়গুলোকে উত্তোলন করা হবে তখন উভয়টি পরস্পর এক কঠিন ধাক্কা খেয়ে যমীন ও পাহাড়ের অংশগুলো একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তখন পর্বতমালা সহ পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হবে[১] এবং একই ধাক্কায় ওগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। [১] অর্থাৎ, স্ব স্ব স্থান থেকে তুলে নেওয়া হবে এবং আল্লাহর মহাশক্তি দ্বারা অবস্থানক্ষেত্র থেকে সমূলে উৎপাটিত হবে।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
আর পর্বতমালা সহ পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হবে এবং মাত্র এক ধাক্কায় ওরা চুৰ্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
১৩-১৮ নং আয়াতের তাফসীর এখানে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের ভয়াবহতার বর্ণনা দিচ্ছেন। সর্ব প্রথম ভয়ের কারণ হবে শিংগায় ফুৎকার দেয়া। এতে সবারই অন্তরাত্মা কেঁপে উঠবে। তারপর পুনরায় শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে, যার ফলে আসমান ও যমীনের সমস্ত মাখলূক অজ্ঞান হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাঁকে চাইবেন তিনি অজ্ঞান হবেন না। এরপর সূরে ফুৎকার দেয়া হবে, যার শব্দের কারণে সমস্ত মাখলূক তাদের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়িয়ে যাবে। এখানে ঐ প্রথম ফুৎকারেরই বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এখানে গুরুত্ব আরোপের জন্যে একথাও বলে দিয়েছেন যে, এই উঠে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ফুৎকার মাত্র একটি। কেননা, যখন আল্লাহ তা'আলার হুকুম হয়ে গেছে তখন না এর কোন ব্যতিক্রম হতে পারে, না তা টলতে পারে, না দ্বিতীয়বার আদেশ প্রদানের প্রয়োজন হতে পারে, না তাগীদ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। ইমাম রাবী’ ( রঃ ) বলেন যে, এর দ্বারা শেষ ফুৎকারকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু প্রকাশমান উক্তি ওটাই যা আমরা বলেছি। এ জন্যে এর পরেই বলেছেনঃ পর্বতমালা সমেত পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হবে এবং চামড়ার মত ছড়িয়ে দেয়া হবে। যমীন পরিবর্তন করে দেয়া হবে এবং কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। আসমান প্রত্যেক ভোলার জায়গা হতে ফেটে যাবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ( আরবি )অর্থাৎ “ আকাশ উন্মুক্ত করা হবে, ফলে ওটা হয়ে যাবে বহু দ্বার বিশিষ্ট ।” ( ৭৮:১৯ ) হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, আকাশে ছিদ্র ও গর্ত হয়ে যাবে এবং ওটা ফেটে যাবে। আর ওর সামনে থাকবে এবং ফেরেস্তাগণ ওর প্রান্তদেশে থাকবেন, যে প্রান্তদেশ তখন পর্যন্ত ভেঙ্গে পড়েনি। তাঁরা দরজার উপর থাকবেন এবং আকাশের দৈর্ঘ্যের মধ্যে ছড়িয়ে থাকবেন। তাঁরা পৃথিবীবাসীদেরকে দেখতে থাকবেন।এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ কিয়ামতের দিন আটজন ফেরেশতা তাদের প্রতিপালকের আরশকে ধারণ করবে তাদের ঊর্ধ্বে। এর দ্বারা হয় তো আরশে আযীমকে উঠানো উদ্দেশ্য অথবা ঐ আরশকে উঠানো উদ্দেশ্য যার উপর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা লোকদের ফায়সালার জন্যে অধিষ্ঠিত থাকবেন। সঠিকতার কথা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই জানেন।হযরত আব্বাস ইবনে আবদিল মুত্তালিব ( রাঃ ) বলেন যে, এ ফেরেশতাগণ পাহাড়ী বকরীর আকৃতি ধারণ করবেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ( রাঃ ) বলেন যে, তাঁদের চক্ষুর এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্তের ব্যবধান হবে একশ বছরের পথ।মুসনাদে ইবনে আবী হাতিমে হযরত জাবির ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ আমাকে অনুমতি দেয়া হয়েছে যে, আমি তোমাদের কাছে আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের মধ্যে একজন ফেরেশতা সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করবো । ঐ ফেরেশতার স্কন্ধ ও কানের নিম্ন ভাগের মধ্যকার ব্যবধান এতোটা যে ওর মধ্যে উড়ন্ত পাখী সাতশ বছর পর্যন্ত উড়তে থাকবে। ( এ হাদীসের সনদ খুবই উওম এবং সমস্ত বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য। এটাকে ইমাম আবু দাউদ (রঃ ) ও স্বী সুনানে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ ( সঃ ) এরূপই বলেছেন) হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের ( রঃ ) বলেন যে, আটজন ফেরেশতা দ্বারা ফেরেশতাদের আটটি সারিকে বুঝানো হয়েছে। আরো বহু গুরুজন হতে এটা বর্ণিত আছে।হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, সমুন্নত ফেরেশতাদের আটটি অংশ রয়েছে। প্রতিটি অংশের সংখ্যা সমস্ত মানুষ, জ্বিন, শয়তান এবং ফেরেশতার সমান।এরপর ঘোষণা করা হচ্ছেঃ কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে ঐ আল্লাহর সামনে পেশ করা হবে যিনি গোপনীয় ও প্রকাশ্য সব কিছুই অবগত আছেন। তিনি প্রকাশমান জিনিস সম্পর্কে যেমন পূর্ণ অবহিত, অনুরূপভাবে গোপনীয় জিনিস সম্পর্কেও তিনি পূর্ণ ওয়াকিফহাল। এ জন্যেই মহান আল্লাহ্ বলেনঃ সেই দিন তোমাদের কিছুই গোপন থাকবে না। হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব ( রাঃ ) বলেনঃ “ হে জনমণ্ডলী! তোমাদের হিসাব নেয়া হবে এর পূর্বেই নিজেরাই নিজেদের হিসাব নিয়ে নাও । আর তোমাদের আমলসমূহ ওযন করা হবে। এর পূর্বেই তোমরা তোমাদের আমলসমূহ অনুমান করে নাও, যাতে কাল কিয়ামতের দিন তোমাদের জন্যে সহজ হয়ে যায়, যেই দিন তোমাদের পুরোপুরি হিসাব নেয়া হবে এবং তোমাদেরকে মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহর সামনে পেশ করা হবে।” মুসনাদে আহমাদে হযরত আবূ মূসা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ কিয়ামতের দিন জনগণকে তিনবার আল্লাহ্ তা'আলার সামনে পেশ করা হবে । প্রথম দু’বার তো ঝগড়া, তর্ক-বিতর্ক ও ওযর-আপত্তি চলবে। কিন্তু তৃতীয়বারে আমলনামা উড়ানো হবে। ঐ আমলনামা কারো ডান হাতে আসবে এবং কারো বাম হাতে আসবে।” ( এ হাদীসটি সুনানে ইবনে মাজাহতেও রয়েছে। হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ )-এর মাধ্যমেও এই রিওয়াইয়াতটি ইমাম ইবনে জারীর ( রঃ ) বর্ণনা করেছেন এবং হযরত কাতাদাহ ( রঃ ) হতেও মুরসালরূপে এরকমই রিওয়াইয়াত)
সূরা হাক্কা আয়াত 14 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- আমি তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম ঝঞ্জাবায়ু এক চিরাচরিত অশুভ দিনে।
- অতএব, তোমরা হীনবল হয়ো না এবং সন্ধির আহবান জানিও না, তোমরাই হবে প্রবল। আল্লাহই তোমাদের
- আমি ইচ্ছা করলে তাদের দৃষ্টি শক্তি বিলুপ্ত করে দিতে পারতাম, তখন তারা পথের দিকে দৌড়াতে
- যেদিন তিনি তাদের সবাইকে একত্রিত করবেন এবং ফেরেশতাদেরকে বলবেন, এরা কি তোমাদেরই পূজা করত?
- তারা আল্লাহকে যথার্থরূপে বোঝেনি। কেয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে এবং আসমান সমূহ
- এবং যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোন সাক্ষী
- এমন সাফল্যের জন্যে পরিশ্রমীদের পরিশ্রম করা উচিত।
- অতএব তাদের কথা যেন আপনাকে দুঃখিত না করে। আমি জানি যা তারা গোপনে করে এবং
- অতঃপর তিনি এক কার্যোপকরণ অবলম্বন করলেন।
- মুমিনগণ, যখন তোমাদের কাছে ঈমানদার নারীরা হিজরত করে আগমন করে, তখন তাদেরকে পরীক্ষা কর। আল্লাহ
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা হাক্কা ডাউনলোড করুন:
সূরা Al-Haqqah mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Al-Haqqah শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



