কোরান সূরা হুমাযাহ আয়াত 4 তাফসীর
﴿كَلَّا ۖ لَيُنبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِ﴾
[ الهمزة: 4]
কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। [সূরা হুমাযাহ: 4]
Surah Al-Humazah in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Humazah ayat 4
কখনো না! তাকে অবশ্যই নিক্ষেপ করা হবে সর্বনাশা দুর্ঘটনায়।
Tafsir Mokhtasar Bangla
৪. এ অর্বাচীন যেমনটি ধারণা করেছে বিষয়টি তেমন নয়। বরং অবশ্যই তাকে এমন জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে যা তার প্রচÐ আগ্রাসনের ফলে তাতে নিক্ষিপ্ত সকল বস্তুকে ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলে।
Tafsir Ahsanul Bayan তাফসীরে আহসানুল বায়ান
কখনও না, [১] সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুত্বামায়। [২] [১] অর্থাৎ, কখনও এমনটি হবে না, যেমন সে ভাবে ও ধারণা করে। [২] এমন বখীল ব্যক্তিকে 'হুত্বামাহ' জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এটাও একটি জাহান্নামের নাম। 'হুত্বামাহ' অর্থঃ ভেঙ্গে-চুরে ধ্বংস করা।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে [ ১ ] হুতামায় [ ২ ] ; [ ১ ] আরবী ভাষায় কোন জিনিসকে তুচ্ছ মনে করে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া অর্থে ‘নবয’ نبذ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। [ কুরতুবী, তাহরীর ওয়াত-তানওয়ীর ] এ থেকে আপনা আপনি এই ইংগিত সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, নিজের ধনশালী হওয়ার কারণে সে দুনিয়ায় নিজেকে অনেক বড় কিছু মনে করে। কিন্তু কিয়ামতের দিন তাকে ঘৃণাভরে জাহান্নামে ছুঁড়ে দেয়া হবে। [ ২ ] হুতামা শব্দটির মূল হচ্ছে, হাতম। হাতম মানে ভেঙ্গে ফেলা, পিষে ফেলা ও টুকরা করে ফেলা। জাহান্নামকে হাতম নামে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে এই যে, তার মধ্যে যা কিছু ফেলে দেয়া হবে তাকে সে নিজের গভীরতা ও আগুনের কারণে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে রেখে দেবে। [ কুরতুবী ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
১-৯ নং আয়াতের তাফসীরআল্লাহ তা'আলা বলেনঃ চরম দুর্ভোগ রয়েছে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যে যে অগোচরে অন্যের নিন্দে করে এবং সাক্ষাতে ধিক্কার দেয়। এর বর্ণনা ( আরবি ) ( পশ্চাতে নিন্দাকারী, যে একের কথা অপরের নিকট লাগিয়ে বেড়ায় ) ( ৬৮:১১ ) এ আয়াতের তাফসীরে গত হয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস ( রাঃ ) বলেন যে, এর অর্থ হলো খোটাদানকারী এবং গীবতকারী। রবী ইবনে আনাস ( রাঃ ) বলেন যে, সামনে মন্দ বলাকে ( আরবি ) বলা হয় এবং অসাক্ষাতে নিন্দে করাকে ( আরবি ) বলে। হযরত কাতাদাহ ( রঃ ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হলো মুখের ভাষায় এবং চোখের ইশারায় আল্লাহর বান্দাদেরকে কষ্ট দেয়া। মুজাহিদ ( রঃ ) বলেন যে, ( আরবি ) এর অর্থ হলো হাত এবং ( আরবি ) চোখ দ্বারা কষ্ট দেয়া এবং এর অর্থ মুখ বা জিহ্বা দ্বারা কষ্ট দেয়া। কেউ কেউ বলেন যে, এর দ্বারা আখফাস ইবনে শুরায়েককে বুঝানো হয়েছে। মুজাহিদ ( রঃ ) বলেন যে, এ আয়াত কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ হয়নি।এরপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ যে অর্থ জমায় ও তা বারবার গণনা করে। যেমন অন্যত্র রয়েছেঃ ( আরবি ) অর্থাৎ “ যে সম্পদ পুঞ্জীভূত এবং সংরক্ষিত করে রেখেছিল ।” হযরত কাব ( রঃ ) বলেনঃ সারাদিন সে অর্থ সম্পদ উপার্জনের জন্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখলো এবং রাত্রে পচা গলা লাশের মত পড়ে রইলো।আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ সে মনে করে যে, তার ধন সম্পদ তার কাছে চিরকাল থাকবে। কখনো না। অবশ্যই সে নিক্ষিপ্ত হবে হুমায়। হে নবী ( সঃ )! তুমি কি জান হুতামাহ কি? তা তুমি জান না। তা হলো আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত হুতাশন। যা হৃদয়কে গ্রাস করবে। জ্বালিয়ে তাদেরকে ভষ্ম করে দিবে, কিন্তু তারা মৃত্যুবরণ করবে না। হযরত সাবিত বানানী ( রঃ ) এ আয়াত তিলাওয়াত করে যখন এর অর্থ বর্ণনা করতেন তখন কেঁদে ফেলতেন এবং বলতেনঃ “ আল্লাহর আযাব তাদেরকে ভীষণ যন্ত্রণা দিয়েছে ।” মুহাম্মদ ইবনে কা'ব ( রঃ ) বলেনঃ প্রজ্জ্বলিত আগুন কণ্ঠনালী পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তারপর ফিরে আসে, আবার পৌঁছে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ এ আগুন তাদের উপর আবদ্ধ করে দেয়া হবে সুদীর্ঘ স্তম্ভসমূহের মধ্যে। সূরা বালাদ’ এর তাফসীরেও এ ধরণের বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। একটি মারফু হাদীসেও এ রকম বর্ণনা রয়েছে। আগুনের স্তম্ভের মধ্যে লম্বা লম্বা দরজা রয়েছে। হযরত ইবনে মাসউদের ( রাঃ ) কিরআত ( আরবি ) রয়েছে। ঐ সব জাহান্নামীদের স্কন্ধে শিকল বাধা থাকবে। লম্বা লম্বা স্তম্ভের মধ্যে আবদ্ধ করে তাদের উপর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। সেই আগুনের স্তম্ভের মধ্যে তাদেরকে নিকৃষ্ট ধরনের শাস্তি দেয়া হবে। আবু সালিহ ( রঃ ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ তাদের জন্যে ভারী বেড়ী এবং শিকল থাকবে। তাতে তাদেরকে বন্দী করে দেয়া হবে।
সূরা হুমাযাহ আয়াত 4 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- কারণ, তাঁর কাছে এক অন্ধ আগমন করল।
- দৃষ্টিমান ও দৃষ্টিহীন সমান নয়।
- হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর এবং ভয় কর এমন এক দিবসকে, যখন
- ইব্রাহীমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।
- আপনি তাদের জন্যে ক্ষমাপ্রার্থনা করুন অথবা না করুন, উভয়ই সমান। আল্লাহ কখনও তাদেরকে ক্ষমা করবেন
- যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের
- আমি আপন পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুবের ধর্ম অনুসরণ করছি। আমাদের জন্য শোভা পায় না
- দরিয়ায় বিচরণশীল পর্বতদৃশ্য জাহাজসমূহ তাঁরই (নিয়ন্ত্রনাধীন)
- ফেরাউনের কাছে যাও, নিশ্চয় সে সীমালংঘন করেছে।
- তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা হুমাযাহ ডাউনলোড করুন:
সূরা Humazah mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Humazah শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



