কোরান সূরা হিজর আয়াত 91 তাফসীর
﴿الَّذِينَ جَعَلُوا الْقُرْآنَ عِضِينَ﴾
[ الحجر: 91]
যারা কোরআনকে খন্ড খন্ড করেছে। [সূরা হিজর: 91]
Surah Al-Hijr in Banglaজহুরুল হক সূরা বাংলা Surah Hijr ayat 91
যারা কুরআনকে করে ছিন্নভিন্ন।
Tafsir Mokhtasar Bangla
৯১. যারা কুর‘আনকে বিভিন্নভাবে দুর্নাম করে বলে: এটি যাদু, জ্যোতিষ বিদ্যা কিংবা কবিতা।
Tafsir Abu Bakr Zakaria bangla কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স
যারা কুরআনকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছে [ ১ ]। [ ১ ] ( عِضِيْنَ ) শব্দের অর্থ করা হয়েছে, বিভক্ত। শব্দটির অন্য অর্থঃ জাদু, গল্প। [ বাগভী ] এ অর্থের সমর্থনে সীরাত গ্রন্থে এসেছে যে, ওয়ালীদ ইবনে মুগীরাহ কুরাইশের এক সমাবেশে হাজির হয়ে বললঃ হজ্জের মওসুম শুরু হয়ে গেছে। চতুর্দিক থেকে মানুষ এখন তোমাদের কাছে আসবে। এদিকে তোমাদের সাথী ( মুহাম্মদ ) সম্পর্কে তারা জেনে গেছে। তাই তোমরা তার ব্যাপারে একজোট হয়ে একটি মত পোষণ কর। তারা বললঃ তুমিই বল। সে বললঃ তোমরাই বল। তখন তারা বললঃ আমরা বলব সে গণক। তখন সে বললঃ সে গণক নয়। তখন তারা বললঃ আমরা বলব সে পাগল। সে বললঃ না, সে তো পাগল নয়। তারা বললঃ আমরা বলব সে কবি। সে বলল, না সে কবিও নয়। তারা বললঃ আমরা বলব সে যাদুকর। সে বললঃ না, সে যাদুকরও নয়। তখন তারা বললঃ তাহলে আমরা কি বলব? সে বললঃ আল্লাহর শপথ! তার কথায় আছে মাধুর্য, তোমরা যা-ই বল না কেন বুঝা যাবে যে তোমাদের কথাই বাতিল। তবে তার কথা যাদুকরের কাছাকাছি। এ কথার উপরই সবাই সেখান থেকে চলে গেল। আর এদিকে আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে নাযিল করলেনঃ “ যারা কুরআন সম্পর্কে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়েছে, কাজেই শপথ আপনার রবের! আমরা তাদের সবাইকে প্রশ্ন করবই, সে বিষয়ে, যা তারা করে ।” [ বাগভী; সীরাতে ইবনে হিশাম ]
Tafsir ibn kathir bangla তাফসীর ইবনে কাসীর
৮৯-৯৩ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে ( সঃ ) নির্দেশ দিচ্ছেনঃ “ হে নবী ( সঃ )! তুমি । জনগণের সামনে ঘোষণা করে দাওঃ আমি সমস্ত মানুষকে আল্লাহর শাস্তি হতে প্রকাশ্য ভয় প্রদর্শক। জেনে রেখো যে, আমার উপর মিথ্যারোপ কারীরা পূর্ববর্তী নবীদের উপর মিথ্যারোপ কারীদের মতই আল্লাহর আযারের শিকার হয়ে যাবে। ( আরবি ) শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে শপথকারীগণ, যারা নবীদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা, তাঁদের বিরুদ্ধাচরণ করা এবং তাঁদেরকে কষ্ট দেয়ার উপর পরম্পর শপথ গ্রহণ করতো। যেমন হযরত সালেহের ( আঃ ) কওমের বর্ণনা কুরআন কারীমে রয়েছে যে, তারা শপথ করে বলেছিলঃ রাতারাতি আমরা সালেহ ( আঃ ) ও তার পরিবার বর্গকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেবো।” অনুরূপ ভাবে কুরআনপাকে রয়েছে যে, তারা আল্লাহর নামে কঠিন শপথ করে বলেছিলঃ “ যে মরে গেছে তাকে আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন না । অন্য জায়গায় এই ব্যাপারে শপথ করার উল্লেখ আছে যে, মুসলমানরা কখনো কোন করুণা লাভ করতে পারে না। মোট কথা, যেটা তারা স্বীকার করতো না ওর উপর শপথ করার তাদের অভ্যাস ছিল। হযরত আবু মূসা ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী ( সঃ ) বলেছেনঃ “ আমার এবং যে হিদায়াতসহ আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে তার দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির মত, যে তার কওমের নিকট এসে বললোঃ হে লোক সকল! আমি শত্রু সেনাবাহিনী স্বচক্ষে দেখে এলাম । সুতরাং তোমরা সাবধান হয়ে যাও এবং মুক্তি লাভের জন্যে প্রস্তুত হও। এখন কিছু লোক তার কথা বিশ্বাস করলো এবং তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে সরে পড়লো। ফলে তারা শত্রুর আক্রমণ থেকে বেঁচে গেল। পক্ষান্তরে কিছু লোক তার কথা অবিশ্বাস করলো এবং সেখানেই নিশ্চিন্তভাবে রয়ে গেল। এমতাবস্থায় অকস্মাৎ শত্রু সেনাবাহিনী এসে পড়লো এবং তাদেরকে পরিবেষ্টন করতঃ ধ্বংস করে দিলো। সুতরাং আমাকে মান্যকারী ও অমান্যকারীদের দৃষ্টান্ত এটাই।” ( এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ ) ও ইমাম মুসলিম ( রঃ ) বর্ণনা করেছেন) ঘোষণা করা হচ্ছেঃ “ তারা তাদের উপর অবতারিত আল্লাহর কিতাবগুলিকে টুকরা টুকরা করে ফেলেছিল । যে মাস্আলাকে ইচ্ছা করতো মানতে এবং যেটা মন মত হতো না তা পরিত্যাগ করতো।”হযরত ইবনু আব্বাস ( রাঃ ) হতে বর্ণিত আছে যে, এর দ্বারা আহলে কিতাবকে বুঝানো হয়েছে। তারা কিতাবের কিছু অংশ মানতো এবং কিছু অংশ মানতো না। এটাও বর্ণিত আছে যে, এর দ্বারা আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে কাফিরদের উক্তিকে বুঝানো হয়েছে। তারা কিতাবুল্লাহ সম্পর্কে বলতোঃ “ এটা যাদু, ভবিষ্যৎ কথন এবং পূর্ববর্তীতের কাহিনী । আর এর কথক হচ্ছে যাদকুর, পাগল, ভবিষ্যদ্বক্তা ইত্যাদি।”‘সীরাতে ইবনু ইসহাক’ গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, একবার কুরআনের নেতৃবর্গ ওয়ালীদ ইবনু মুগীরার নিকট একত্রিত হয়। হজ্বের মওসুম নিকটবর্তী ছিল। ওয়ালীদ ইবনু মুগীরাকে তাদের মধ্যে খুবই সম্ভ্রান্ত ও বুদ্ধিমান লোক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সে সকলকে সম্বোধন করে বললোঃ “ দেখো, হজ্জ্ব উপলক্ষে দূরদূরান্ত থেকে আরবের বহু লোক এখানে সমবেত হবে । তোমরা তো দেখতেই পাচ্ছি যে, এই লোকটি ( নবী, সঃ ) বড়ই হাঙ্গামা সৃষ্টি করে রেখেছে। এর সম্পর্কে ঐ বহিরাগত লোকদেরকে কি বলা যায়? কোন একটি কথার উপর সবাই একমত হয়ে যাও। কেউ এক কথা বলবে এবং অন্য জন অন্য কথা বলবে। এরূপ যেন না হয়। বরং সবাই এক কথাই বলবে এক একজন এক এক কথা বললে তোমাদের উপর থেকে মানুষের আস্থা হারিয়ে যাবে। এ বিদেশীরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করবে।” তখন বললোঃ “ হে আবদে শামস্! আপনিই কোন একটি প্রস্তাব পেশ করুন ।” সে বললোঃ “ তোমরাই আগে বল, তাহলে আমি চিন্তা ভাবনা করার সুযোগ পাবো ।” তারা তখন বললোঃ “ আমাদের মতে সবাই তাকে ভবিষ্যদ্বক্তা বলবে ।” সে বললোঃ “ না, এটা প্রকৃত ঘটনার বিপরীত কথা ।” সে বললোঃ “ এটাও ভুল ।” তারা বললোঃ “ তা হলে কবি?” সে উত্তরে বললোঃ “সে তো কবিতা জানেই না ।” তারা বললোঃ “ তাকে আমরা যাদুকর বলবো কি?” সে উত্তর দিলোঃ না, সে যাদুকরও নয় ।” তারা বললোঃ “ তা হলে আমরা তাকে কি বলবো?” সে বললোঃ “জেনে রেখো যে, তোমরা তাকে যাই বল না কেন, দুনিয়াবাসী জেনে । নেবে যে, সবই ভুল। তার কথাগুলি মিষ্টি মাখানো। কাজেই আমাদের কোন কথাই টিকবে না। তবুও কিছু বলতেই হবে। তোমরা তাকে যাদুকরই বলবে।”সবাই এতে একমত হয়ে গেল। এই আয়াতগুলিতে এরই আলোচনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহর উক্তিঃ “ তোমার প্রতিপালকের শপথ! আমি তাদের সকলকে প্রশ্ন করবই সেই বিষয়ে যা তারা করে । অর্থাৎ কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সম্পর্কে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ ( রাঃ ) বলেনঃ “ যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই তাঁর শপথ! তোমাদের প্রত্যেকটি লোক কিয়ামতের দিন এককভাবে আল্লাহর সামনে হাজির হবে, যেমন প্রত্যেক ব্যক্তি এককভাবে চৌদ্দ তারিখের চাঁদ দেখে থাকে ।” আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞেস করবেনঃ “ হে আদম সন্তান! আমার ব্যাপারে কিসে তোমাকে গর্বিত করে তুলেছিল? হে আদমের ( আঃ ) পুত্র! যা তুমি শিক্ষা করেছিলে তার থেকে কি আমল করেছিলেঃ হে আদম সন্তান! আমার রাসূলদেরকে তুমি কি জবাব দিয়েছিলে?” আবুল আলিয়া ( রঃ ) বলেন, প্রত্যেককে দুটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে । প্রথম প্রশ্ন হবেঃ “ তুমি কাকে মাবুদ বানিয়েছিলে”? দ্বিতীয় প্রশ্ন হবেঃ “তুমি রাসূলের ( সঃ ) আনুগত্য স্বীকার করেছিলে কি কর নাই”? ইবনু উইয়াইনা ( রঃ ) বলেন, আমল এবং মাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে ।হযরত মুআয ইবনু জাবাল ( রাঃ ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ( সঃ ) বলেছেনঃ “ হে মুআয ( রাঃ )! মানুষকে কিয়ামতের দিন তার সমস্ত আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে । হে মুআয ( রাঃ )! দেখো, যেন কিয়ামতের দিন এরূপ না হয় যে, তুমি আল্লাহর নিয়ামত কম খেয়ালকারী রয়ে যাও।”এই আয়াতে তো রয়েছে যে, প্রত্যেককে তার আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। আর সূরায়ে আর-রাহমানে রয়েছেঃ ( আরবি ) অর্থাৎ মানব এবং দানবকে তার গুনাহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে না। ( ৫৫:৩৯ ) এই দুই আয়াতের মধ্যে হযরত ইবনু আব্বাসের ( রাঃ ) উক্তি অনুযায়ী সামঞ্জস্যের উপায় এই যে, “ তুমি কি এই আমল করেছিলে? এ কথা জিজ্ঞেস করা হবে না । বরং জিজ্ঞেস করা হবেঃ “তুমি এই কাজ কেন করেছিলে?
সূরা হিজর আয়াত 91 সূরা
| English | Türkçe | Indonesia |
| Русский | Français | فارسی |
| تفسير | Urdu | اعراب |
বাংলায় পবিত্র কুরআনের আয়াত
- সে কি মনে করে যে, তার উপর কেউ ক্ষমতাবান হবে না ?
- যে ঈমানদার অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে, সে জুলুম ও ক্ষতির আশঙ্কা করবে না।
- অতঃপর আমি তাকে ও তাঁর পরিবার পরিজনকে বাঁচিয়ে দিলাম, কিন্তু তার স্ত্রী। সে তাদের মধ্যেই
- যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।
- নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার
- তারা আল্লাহ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়। অথচ এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দেয়
- যারা মহৎ, পূত চরিত্র।
- তাঁর আরও নিদর্শনঃ রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা এবং তাঁর কৃপা অন্বেষণ। নিশ্চয় এতে মনোযোগী
- এমরানের স্ত্রী যখন বললো-হে আমার পালনকর্তা! আমার গর্ভে যা রয়েছে আমি তাকে তোমার নামে উৎসর্গ
- বলুনঃ হে লোক সকল! আমি তো তোমাদের জন্যে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ককারী।
বাংলায় কোরআনের সূরা পড়ুন :
সবচেয়ে বিখ্যাত কোরআন তেলাওয়াতকারীদের কণ্ঠে সূরা হিজর ডাউনলোড করুন:
সূরা Hijr mp3 : উচ্চ মানের সাথে সম্পূর্ণ অধ্যায়টি Hijr শুনতে এবং ডাউনলোড করতে আবৃত্তিকারকে বেছে নিন
আহমেদ আল-আজমি
ইব্রাহীম আল-আখদার
বান্দার বেলাইলা
খালিদ গালিলি
হাতেম ফরিদ আল ওয়ার
খলিফা আল টুনাইজি
সাদ আল-গামদি
সৌদ আল-শুরাইম
সালাহ বুখাতীর
আবদ এল বাসেট
আবদুল রশিদ সুফি
আব্দুল্লাহ্ বাস্ফার
আবদুল্লাহ আল-জুহানী
আলী আল-হুদায়েফি
আলী জাবের
ফারেস আব্বাদ
মাহের আলমাইকুলই
মোহাম্মদ আইয়ুব
মুহাম্মদ আল-মুহাইসনি
মুহাম্মাদ জিব্রীল
আল-মিনশাবি
আল হোসারি
মিশারী আল-আফসী
নাসের আল কাতামি
ইয়াসের আল-দোসারি
Please remember us in your sincere prayers



