Lillaahi maa fissamaawaati wa maa fil ard; wa in tubdoo maa feee anfusikum aw tukhfoohu yuhaasibkum bihil laa; fayaghfiru li mai yashaaa`u wa yu`azzibu mai yashaaa u;wallaahu `alaa kulli shai in qadeer
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যা কিছু আকাশসমূহে রয়েছে এবং যা কিছু যমীনে আছে, সব আল্লাহরই। যদি তোমরা মনের কথা প্রকাশ কর কিংবা গোপন কর, আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দেবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
जो कुछ आसमानों में है और जो कुछ ज़मीन में है (ग़रज़) सब कुछ खुदा ही का है और जो कुछ तुम्हारे दिलों में हे ख्वाह तुम उसको ज़ाहिर करो या उसे छिपाओ ख़ुदा तुमसे उसका हिसाब लेगा, फिर जिस को चाहे बख्श दे और जिस पर चाहे अज़ाब करे, और ख़ुदा हर चीज़ पर क़ादिर है
যা কিছু আকাশসমূহে রয়েছে এবং যা কিছু যমীনে আছে, সব আল্লাহরই। যদি তোমরা মনের কথা প্রকাশ কর কিংবা গোপন কর, আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দেবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ — আসমান ও জমিনের সবকিছু আল্লাহরই (সৃষ্টি, মালিকানা ও পরিচালনায়)।
تُبْدُوا — তোমরা প্রকাশ করো, খোলাখুলি বলো।
مَا فِي أَنفُسِكُمْ — যা তোমাদের অন্তরে আছে (চিন্তা, ইচ্ছা, বিশ্বাস)।
تُخْفُوهُ — তোমরা তা গোপন রাখো।
يُحَاسِبْكُم — তিনি তোমাদের হিসাব নেবেন।
فَيَغْفِرُ لِمَن يَشَاءُ — অতঃপর তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।
وَيُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ — এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন।
قَدِيرٌ — সর্বশক্তিমান, সবকিছুতে পূর্ণ ক্ষমতাবান।
তাফসীর:
আসমান ও জমিনের সমস্ত কিছু — সৃষ্টি, মালিকানা, পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ — সম্পূর্ণরূপে একমাত্র আল্লাহরই। তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা থেকে কিছুই লুকানো নেই। তোমরা তোমাদের অন্তরের কথা প্রকাশ করো বা গোপন রাখো — আল্লাহ তা সম্পূর্ণ জানেন এবং তিনি তোমাদেরকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। অর্থাৎ, মানুষের অন্তরের বিশ্বাস, নিয়ত ও চিন্তা-ভাবনার হিসাবও আল্লাহ নেবেন।
আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী যাকে চান ক্ষমা করেন — তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের কারণে, এবং যাকে চান শাস্তি দেন — তাঁর ন্যায়বিচার ও প্রজ্ঞার কারণে। তিনি যা কিছু করেন তা সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত। আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান — তিনি যেমন চান তেমনই করেন, কেউ তাঁকে বাধা দিতে পারে না।
পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে উম্মতের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন — অন্তরে উদিত হওয়া খেয়াল-খুশি বা মনের কথা যতক্ষণ না তা মুখে বলা হয় বা কাজে পরিণত হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তা ক্ষমা করা হবে। এটি আল্লাহর রহমতেরই বহিঃপ্রকাশ।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহর মালিকানা ও ক্ষমতা: আসমান-জমিনের সবকিছু আল্লাহর — এটি উপলব্ধি করলে মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি গভীর ভয় ও ভালোবাসা জন্মে এবং সে জেনে রাখে যে, তার প্রতিটি কাজ ও চিন্তা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।
আন্তরিকতা ও নিয়তের গুরুত্ব: ইসলামে শুধু বাহ্যিক আমলই নয়, অন্তরের নিয়ত ও বিশ্বাসও গুরুত্বপূর্ণ। এটি মুমিনকে সর্বদা অন্তরকে পবিত্র রাখতে উৎসাহিত করে।
আল্লাহর ন্যায়বিচার ও দয়া: আল্লাহ যেমন ন্যায়বিচারক, তেমনি তিনি অত্যন্ত দয়ালু। তিনি চাইলে ক্ষমা করেন, চাইলে শাস্তি দেন — তাঁর সিদ্ধান্ত সর্বদা প্রজ্ঞাময়।
আল্লাহর রহমতের সুসংবাদ: মনের খেয়াল-খুশি বা অনিচ্ছাকৃত চিন্তার জন্য কাউকে পাকড়াও করা হবে না — এটি ইসলামের সহজতা ও রহমতের প্রমাণ। এটি মানুষকে নিরাশ হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে উৎসাহিত করে।
আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা: আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান — এই বিশ্বাস মুমিনকে জীবনের যেকোনো সংকটে ধৈর্য ও সাহস দেয় এবং তাকে আল্লাহর উপর নির্ভর করতে শেখায়।
হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ঋনের আদান-প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও এবং তোমাদের মধ্যে কোন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে তা লিখে দেবে; লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। আল্লাহ তাকে যেমন শিক্ষা দিয়েছেন, তার উচিত তা লিখে দেয়া। এবং ঋন গ্রহীতা যেন লেখার বিষয় বলে দেয় এবং সে যেন স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করে এবং লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্রও বেশ কম না করে। অতঃপর ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ হয় কিংবা দূর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখাবে। দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন ডাকা হয়, তখন সাক্ষীদের অস্বীকার করা উচিত নয়। তোমরা এটা লিখতে অলসতা করোনা, তা ছোট হোক কিংবা বড়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এ লিপিবদ্ধ করণ আল্লাহর কাছে সুবিচারকে অধিক কায়েম রাখে, সাক্ষ্যকে অধিক সুসংহত রাখে এবং তোমাদের সন্দেহে পতিত না হওয়ার পক্ষে অধিক উপযুক্ত। কিন্তু যদি কারবার নগদ হয়, পরস্পর হাতে হাতে আদান-প্রদান কর, তবে তা না লিখলে তোমাদের প্রতি কোন অভিযোগ নেই। তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সাক্ষী রাখ। কোন লেখক ও সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করো না। যদি তোমরা এরূপ কর, তবে তা তোমাদের পক্ষে পাপের বিষয়। আল্লাহকে ভয় কর তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। আল্লাহ সব কিছু জানেন।
আর তোমরা যদি প্রবাসে থাক এবং কোন লেখক না পাও তবে বন্ধকী বন্তু হস্তগত রাখা উচিত। যদি একে অন্যকে বিশ্বাস করে, তবে যাকে বিশ্বাস করা হয়, তার উচিত অন্যের প্রাপ্য পরিশোধ করা এবং স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় কর! তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে কেউ তা গোপন করবে, তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। তোমরা যা করা, আল্লাহ সে সম্পর্কে খুব জ্ঞাত।
যা কিছু আকাশসমূহে রয়েছে এবং যা কিছু যমীনে আছে, সব আল্লাহরই। যদি তোমরা মনের কথা প্রকাশ কর কিংবা গোপন কর, আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দেবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।