2026-10-27

📜 তাফসীর

শব্দার্থ:

  • تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا – জোরপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারসূত্রে গ্রহণ করা (জাহিলী যুগের প্রথা)।
  • تَعْضُلُوهُنَّ – তাদের (স্ত্রীদের) উপর চাপ সৃষ্টি করা বা তাদের বিবাহে বাধা দেওয়া।
  • فَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ – স্পষ্ট অশ্লীল কাজ (যেমন: ব্যভিচার)।
  • عَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ – তাদের সাথে সৎ ও ন্যায়সংগতভাবে জীবনযাপন করা।

তাফসীর:

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে, তোমরা নারীদেরকে জোরপূর্বক উত্তরাধিকারসূত্রে গ্রহণ করবে। জাহিলী যুগের প্রথা ছিল—কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার আত্মীয়রা তার স্ত্রীকে সম্পদের মতো নিজেদের অধিকারে নিয়ে নিত; ইচ্ছা করলে তাকে বিয়ে করত, ইচ্ছা করলে অন্য কাউকে বিয়ে দিতে বাধা দিত, অথবা তাকে বিবাহ থেকে বিরত রাখত—সবই তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। ইসলাম এই অন্যায় প্রথা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।

আরও নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে, তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের উপর চাপ সৃষ্টি করবে—তাদের কষ্ট দেবে, তাদের প্রতি বিরূপ আচরণ করবে—যাতে তারা তোমাদের দেওয়া মোহর বা অন্যান্য সম্পদের কিছু অংশ ছেড়ে দেয়। তবে যদি তারা স্পষ্ট অশ্লীল কাজ করে (যেমন ব্যভিচার), তাহলে তোমরা তাদের কাছ থেকে তোমাদের দেওয়া সম্পদ ফেরত নিতে পারো এবং তাদের উপর কঠোরতা অবলম্বন করতে পারো।

তোমাদের কর্তব্য হলো স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করা, তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা, তাদের অধিকার আদায় করা এবং তাদের সাথে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করা। যদি তোমরা তাদের কোনো কারণে অপছন্দ করো, তাহলে ধৈর্য ধারণ করো। কেননা আল্লাহ তাআলা এমন অনেক বিষয়ে কল্যাণ রাখেন যা মানুষ প্রথমে অপছন্দ করে; যেমন—অপছন্দের স্ত্রীর সাথে ধৈর্য ধারণের ফলে উত্তম সন্তান, পারিবারিক শান্তি বা দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ অর্জিত হতে পারে।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলাম নারীদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় অত্যন্ত যত্নবান; তাদেরকে সম্পদের মতো ব্যবহার করা বা জোরপূর্বক বিবাহের বস্তু বানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  2. স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে হওয়া উচিত; একে অপরের প্রতি জুলুম করা কিংবা সম্পদ আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা ইসলামসম্মত নয়।
  3. স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করা স্বামীর কর্তব্য; এমনকি স্ত্রীকে অপছন্দ হলেও ধৈর্য ও সহনশীলতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ আল্লাহর ইচ্ছায় অপছন্দের মধ্যেও অনেক কল্যাণ লুকিয়ে থাকতে পারে।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর উপর ভরসা রাখা এবং ধৈর্য ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যা আমাদের চোখে খারাপ মনে হয়, তাতে আল্লাহ কল্যাণ দিতে পারেন।

💻 আপনার সাইটে এমবেড করুন

📚 সূরা পবিত্র কুরআন

1আল-ফাতিহা 2আল-বাকারা 3আল-ইমরান 4আন-নিসা 5আল-মায়িদা 6আল-আনআম 7আল-আরাফ 8আল-আনফাল 9আত-তওবা 10ইউনুস 11হুদ 12ইউসুফ 13আর-রাদ 14ইব্রাহীম 15আল-হিজর 16আন-নাহল 17আল-ইসরা 18আল-কাহফ 19মারইয়াম 20ত্ব-হা 21আল-আম্বিয়া 22আল-হাজ্জ 23আল-মুমিনুন 24আন-নূর 25আল-ফুরকান 26আশ-শুআরা 27আন-নামল 28আল-কাসাস 29আল-আঙ্কাবুত 30আর-রুম 31লুকমান 32আস-সাজদাহ 33আল-আহযাব 34সাবা 35ফাতির 36ইয়াসীন 37আস-সাফফাত 38সাদ 39আজ-জুমার 40গাফির 41ফুসসিলাত 42আশ-শুরা 43আজ-জুখরুফ 44আদ-দুখান 45আল-জাসিয়াহ 46আল-আহকাফ 47মুহাম্মদ 48আল-ফাতহ 49আল-হুজুরাত 50ক্বাফ 51আজ-জারিয়াত 52আত-তুর 53আন-নাজম 54আল-ক্বামার 55আর-রহমান 56আল-ওয়াকিয়া 57আল-হাদিদ 58আল-মুজাদালা 59আল-হাশর 60আল-মুমতাহিনা 61আস-সাফফ 62আল-জুমুআ 63আল-মুনাফিকুন 64আত-তাগাবুন 65আত-তালাক 66আত-তাহরীম 67আল-মুলক 68আল-কালাম 69আল-হাক্কা 70আল-মাআরিজ 71নূহ 72আল-জ্বিন 73আল-মুজ্জাম্মিল 74আল-মুদ্দাসসির 75আল-কিয়ামা 76আল-ইনসান 77আল-মুরসালাত 78আন-নাবা 79আন-নাযিয়াত 80আবাসা 81আত-তাকবীর 82আল-ইনফিতার 83আল-মুতাফফিফিন 84আল-ইনশিকাক 85আল-বুরুজ 86আত-তারিক 87আল-আলা 88আল-গাশিয়া 89আল-ফাজর 90আল-বালাদ 91আশ-শামস 92আল-লাইল 93আদ-দুহা 94আশ-শারহ 95আত-তিন 96আল-আলাক 97আল-কাদর 98আল-বাইয়্যিনাহ 99আজ-জালযালা 100আল-আদিয়াত 101আল-কারিয়াহ 102আত-তাকাসুর 103আল-আসর 104আল-হুমাজা 105আল-ফিল 106কুরাইশ 107আল-মাউন 108আল-কাওসার 109আল-কাফিরুন 110আন-নাসর 111আল-মাসাদ 112আল-ইখলাস 113আল-ফালাক 114আন-নাস


পবিত্র কুরআন


Tuesday, October 27, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না