Wa in kuntum `alaa safarinw wa lam tajidoo kaatiban farihaanum maqboodatun fa in amina ba`dukum ba`dan falyu`addil lazi tumina amaa natahoo walyattaqil laaha Rabbah; wa laa taktumush shahaadah; wa mai yaktumhaa fa innahooo aasimun qalbuh; wallaahu bimaa ta`maloona `Aleem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর তোমরা যদি প্রবাসে থাক এবং কোন লেখক না পাও তবে বন্ধকী বন্তু হস্তগত রাখা উচিত। যদি একে অন্যকে বিশ্বাস করে, তবে যাকে বিশ্বাস করা হয়, তার উচিত অন্যের প্রাপ্য পরিশোধ করা এবং স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় কর! তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে কেউ তা গোপন করবে, তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। তোমরা যা করা, আল্লাহ সে সম্পর্কে খুব জ্ঞাত।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और अगर तुम सफ़र में हो और कोई लिखने वाला न मिले (और क़र्ज़ देना हो) तो रहन या कब्ज़ा रख लो और अगर तुममें एक का एक को एतबार हो तो (यूं ही क़र्ज़ दे सकता है मगर) फिर जिस शख्स पर एतबार किया गया है (क़र्ज़ लेने वाला) उसको चाहिये क़र्ज़ देने वाले की अमानत (क़र्ज़) पूरी पूरी अदा कर दे और अपने पालने वाले ख़ुदा से डरे (मुसलमानो) तुम गवाही को न छिपाओ और जो छिपाएगा तो बेशक उसका दिल गुनाहगार है और तुम लोग जो कुछ करते हो ख़ुदा उसको ख़ूब जानता है
আর তোমরা যদি প্রবাসে থাক এবং কোন লেখক না পাও তবে বন্ধকী বন্তু হস্তগত রাখা উচিত। যদি একে অন্যকে বিশ্বাস করে, তবে যাকে বিশ্বাস করা হয়, তার উচিত অন্যের প্রাপ্য পরিশোধ করা এবং স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় কর! তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে কেউ তা গোপন করবে, তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। তোমরা যা করা, আল্লাহ সে সম্পর্কে খুব জ্ঞাত।
📜
অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি শব্দের অর্থ:
রিহানুন মাকবূদাতুন (فَرِهَانٌ مَّقْبُوضَةٌ): হস্তান্তরকৃত (দখলে নেওয়া) বন্ধক বা জামানত।
আমানাতাহু (أَمَانَتَهُ): তার কাছে গচ্ছিত আমানত (এখানে ঋণ বা দায়িত্ব)।
আছিমুন কলবুহু (آثِمٌ قَلْبُهُ): তার অন্তর পাপী, অর্থাৎ সে অন্তর দিয়ে পাপ করল।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
যদি তোমরা সফরে থাকো এবং এমন কোনো লেখক বা কেরানি না পাও যে তোমাদের ঋণের দলিল লিখে দেবে, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কিছু বস্তু বন্ধক (রেহান) রেখে দাও, যা পাওনাদার তার হাতে (দখলে) নেবে এবং তা তার প্রাপ্য হকের জামানত হিসেবে থাকবে, যতক্ষণ না ঋণ পরিশোধ করা হয়। তবে যদি তোমরা পরস্পর পরস্পরকে বিশ্বাস করো এবং মনে করো যে, ঋণগ্রহীতা সত্যপরায়ণ ও আমানতদার, তাহলে দলিল লেখা, সাক্ষী রাখা বা বন্ধক রাখার প্রয়োজন নেই। তখন ঋণটি ঋণগ্রহীতার দায়িত্বে একটি আমানত হিসেবে গণ্য হবে। তার কর্তব্য হলো, যথাসময়ে তা পরিশোধ করা এবং আল্লাহকে ভয় করা—যেন সে বিশ্বাসভঙ্গ না করে বা ঋণের কিছু অংশ অস্বীকার না করে। আর যদি ঋণগ্রহীতা অস্বীকার করে এবং সেখানে উপস্থিত সাক্ষীরা বিষয়টি জানে, তাহলে তাদের উচিত সাক্ষ্য দিতে এগিয়ে আসা এবং তা গোপন না করা। যে ব্যক্তি সাক্ষ্য গোপন করবে, তার অন্তর পাপী ও বিশ্বাসঘাতক। আল্লাহ তোমাদের সকল কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত, তিনি গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছু জানেন এবং তোমাদের কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা; এটি মানুষের আর্থিক লেনদেনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা দিয়েছে যা উভয় পক্ষের অধিকার রক্ষা করে এবং ভুল-বোঝাবুঝি বা প্রতারণার পথ বন্ধ করে দেয়।
প্রয়োজনে ঋণ বা লেনদেনের সময় লিখিত দলিল, সাক্ষী এবং বন্ধক রাখার নির্দেশ দিয়ে ইসলাম আমাদেরকে সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা শেখায়।
বিশ্বাস ও আমানতদারিতা ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। যে ব্যক্তি বিশ্বাসভঙ্গ করে, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর অবাধ্য হয় এবং নিজের অন্তরকে কলুষিত করে।
সত্য সাক্ষ্য দেওয়া এবং তা গোপন না করা একটি নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। সাক্ষ্য গোপন করা শুধু পাপ নয়, বরং সমাজে অন্যায় ও জুলুম প্রতিষ্ঠারও কারণ।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ; তিনি আমাদের গোপন ও প্রকাশ্য সকল কাজ দেখেন। এই বিশ্বাস আমাদেরকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখে।
হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ঋনের আদান-প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও এবং তোমাদের মধ্যে কোন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে তা লিখে দেবে; লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। আল্লাহ তাকে যেমন শিক্ষা দিয়েছেন, তার উচিত তা লিখে দেয়া। এবং ঋন গ্রহীতা যেন লেখার বিষয় বলে দেয় এবং সে যেন স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করে এবং লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্রও বেশ কম না করে। অতঃপর ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ হয় কিংবা দূর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখাবে। দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন ডাকা হয়, তখন সাক্ষীদের অস্বীকার করা উচিত নয়। তোমরা এটা লিখতে অলসতা করোনা, তা ছোট হোক কিংবা বড়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এ লিপিবদ্ধ করণ আল্লাহর কাছে সুবিচারকে অধিক কায়েম রাখে, সাক্ষ্যকে অধিক সুসংহত রাখে এবং তোমাদের সন্দেহে পতিত না হওয়ার পক্ষে অধিক উপযুক্ত। কিন্তু যদি কারবার নগদ হয়, পরস্পর হাতে হাতে আদান-প্রদান কর, তবে তা না লিখলে তোমাদের প্রতি কোন অভিযোগ নেই। তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সাক্ষী রাখ। কোন লেখক ও সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করো না। যদি তোমরা এরূপ কর, তবে তা তোমাদের পক্ষে পাপের বিষয়। আল্লাহকে ভয় কর তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। আল্লাহ সব কিছু জানেন।
আর তোমরা যদি প্রবাসে থাক এবং কোন লেখক না পাও তবে বন্ধকী বন্তু হস্তগত রাখা উচিত। যদি একে অন্যকে বিশ্বাস করে, তবে যাকে বিশ্বাস করা হয়, তার উচিত অন্যের প্রাপ্য পরিশোধ করা এবং স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় কর! তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে কেউ তা গোপন করবে, তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। তোমরা যা করা, আল্লাহ সে সম্পর্কে খুব জ্ঞাত।
যা কিছু আকাশসমূহে রয়েছে এবং যা কিছু যমীনে আছে, সব আল্লাহরই। যদি তোমরা মনের কথা প্রকাশ কর কিংবা গোপন কর, আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দেবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।