Wa in kaana zoo `usratin fanaziratun ilaa maisarah; wa an tasaddaqoo khairul lakum in kuntum ta`lamoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যদি খাতক অভাবগ্রস্থ হয়, তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেয়া উচিত। আর যদি ক্ষমা করে দাও, তবে তা খুবই উত্তম যদি তোমরা উপলব্ধি কর।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और अगर कोई तंगदस्त तुम्हारा (क़र्ज़दार हो) तो उसे ख़ुशहाली तक मोहल्लत (दो) और सदक़ा करो और अगर तुम समझो तो तुम्हारे हक़ में ज्यादा बेहतर है कि असल भी बख्श दो
تَصَدَّقُوا – দান করা, অর্থাৎ ঋণের টাকা বা তার কিছু অংশ মাফ করে দেওয়া।
তাফসীর:
যদি ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি সত্যিই অভাবগ্রস্ত হয় এবং ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয়, তবে তোমাদের কর্তব্য হলো তাকে সময় দেওয়া, যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে সচ্ছলতা দান করেন এবং সে তার ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হয়। এই নির্দেশটি ইসলামের সহানুভূতি ও মানবতার শিক্ষা দেয়। তবে এর চেয়েও উত্তম ও কল্যাণকর হলো, তোমরা ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির প্রতি দান করার মনোভাব গ্রহণ করা—অর্থাৎ তার ঋণের সম্পূর্ণ টাকা বা তার কিছু অংশ মাফ করে দেওয়া। এটি তোমাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে অধিক কল্যাণকর, যদি তোমরা এর প্রকৃত মাহাত্ম্য উপলব্ধি করতে পারো। যে ব্যক্তি এই সত্য জানার পরও তা পালন করে না, সে যেন জানে না এমন ব্যক্তির মতোই হয়ে যায়।
উপকার ও শিক্ষা:
ইসলাম অর্থনৈতিক লেনদেনে দয়া ও সহানুভূতির নির্দেশ দেয় এবং অভাবগ্রস্ত ঋণগ্রস্তকে চাপে ফেলতে নিষেধ করে।
ঋণদাতার জন্য ঋণ মাফ করা বা কিছু অংশ ছেড়ে দেওয়া একটি মহৎ ইবাদত, যা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং এর বিনিময় আল্লাহ নিজেই দেবেন।
এই আয়াত মুসলিম সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে, যা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনে।
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের এমন কাজের নির্দেশ দেন যা তাদের নিজেদের জন্যই কল্যাণকর, যদিও তা প্রথম দৃষ্টিতে ক্ষতির মতো মনে হতে পারে।
জ্ঞান ও আমলের সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে—যে ব্যক্তি জানে কিন্তু আমল করে না, সে জ্ঞানহীনের মতোই। তাই জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা জরুরি।
অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না।
হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ঋনের আদান-প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও এবং তোমাদের মধ্যে কোন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে তা লিখে দেবে; লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। আল্লাহ তাকে যেমন শিক্ষা দিয়েছেন, তার উচিত তা লিখে দেয়া। এবং ঋন গ্রহীতা যেন লেখার বিষয় বলে দেয় এবং সে যেন স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করে এবং লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্রও বেশ কম না করে। অতঃপর ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ হয় কিংবা দূর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখাবে। দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন ডাকা হয়, তখন সাক্ষীদের অস্বীকার করা উচিত নয়। তোমরা এটা লিখতে অলসতা করোনা, তা ছোট হোক কিংবা বড়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এ লিপিবদ্ধ করণ আল্লাহর কাছে সুবিচারকে অধিক কায়েম রাখে, সাক্ষ্যকে অধিক সুসংহত রাখে এবং তোমাদের সন্দেহে পতিত না হওয়ার পক্ষে অধিক উপযুক্ত। কিন্তু যদি কারবার নগদ হয়, পরস্পর হাতে হাতে আদান-প্রদান কর, তবে তা না লিখলে তোমাদের প্রতি কোন অভিযোগ নেই। তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সাক্ষী রাখ। কোন লেখক ও সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করো না। যদি তোমরা এরূপ কর, তবে তা তোমাদের পক্ষে পাপের বিষয়। আল্লাহকে ভয় কর তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। আল্লাহ সব কিছু জানেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।