অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- فَأْذَنُوا – জেনে নাও, নিশ্চিত হও।
- بِحَرْبٍ مِّنَ اللهِ وَرَسُولِهِ – আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা।
- رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ – তোমাদের মূলধন (যে পরিমাণ টাকা মূলত ধার দেওয়া হয়েছিল)।
- لَا تَظْلِمُونَ – তোমরা কারো প্রতি অত্যাচার করবে না (অর্থাৎ মূলধনের অতিরিক্ত সুদ আদায় করবে না)।
- وَلَا تُظْلَمُونَ – এবং তোমাদের প্রতিও অত্যাচার করা হবে না (অর্থাৎ মূলধন থেকে কম দেওয়া হবে না)।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী আয়াতে সুদ সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করে মুমিনদেরকে তা পরিত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর এই আয়াতে ঘোষণা করা হচ্ছে— যদি তোমরা এই নির্দেশ পালন না কর এবং সুদ খাওয়া থেকে বিরত না হও, তাহলে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও। এটি অত্যন্ত কঠোর হুমকি, যা প্রমাণ করে যে সুদ ইসলামে কত বড় মহাপাপ। সুদখোররা যেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সরাসরি শত্রুতা করছে।
কিন্তু এরপরই আল্লাহ তাআলা রহমতের দরজা খুলে দিয়েছেন— যদি তোমরা তওবা করো, অর্থাৎ সুদ গ্রহণ করা থেকে ফিরে আসো এবং ভবিষ্যতে তা না খাওয়ার সংকল্প করো, তাহলে তোমাদের জন্য বৈধ হবে শুধু তোমাদের মূলধন ফেরত নেওয়া। অর্থাৎ যে পরিমাণ টাকা মূলত ধার দেওয়া হয়েছিল, তা ফেরত নিতে পারবে; কিন্তু তার সাথে কোনো অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না। এখানে ন্যায়বিচারের নীতি স্পষ্ট— তোমরা কাউকে অত্যাচার করবে না (সুদের অতিরিক্ত আদায় করে) এবং তোমাদের প্রতিও অত্যাচার করা হবে না (মূলধন থেকে কমিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে)। এই ঘোষণা মূলত একটি আদেশের অর্থ বহন করে, অর্থাৎ সুদ সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা আবশ্যক।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, যখন এই আয়াত নাজিল হয়, তখন সুদখোররা বলেছিল, "আমাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধের শক্তি নেই" এবং তারা মূলধন নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বনু মুগীরা গোত্রের কিছু লোক দারিদ্র্যের অজুহাত দেখিয়ে বলেছিল, "ফসল পাকা পর্যন্ত আমাদের অবকাশ দিন।" তখন তাদেরকে অবকাশ দেওয়া হয়নি, বরং মূলধন আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
- সুদ এমন একটি মহাপাপ যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধের সমতুল্য। এটি ইসলামের চোখে কতটা জঘন্য অপরাধ, তা এই ঘোষণা থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়। তাই একজন মুমিনের উচিত সুদ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা এবং হালাল উপার্জনে সন্তুষ্ট থাকা।
- ইসলামের দরজা সর্বদা তওবার জন্য উন্মুক্ত। মানুষ যত বড় পাপই করুক না কেন, আন্তরিক তওবা করলে আল্লাহ তা ক্ষমা করে দেন এবং জীবনের নতুন সুযোগ দেন। এই আয়াতে সুদখোরদের জন্যও তওবার পথ খোলা রাখা হয়েছে।
- ইসলাম ন্যায়বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত। একজন ঋণদাতা শুধু তার মূলধন ফেরত পাবে, অতিরিক্ত কিছু নয়; আবার ঋণগ্রহীতাও মূলধন ফেরত দিতে বাধ্য, কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সুсправедливый ব্যবস্থা।
- এই আয়াত প্রমাণ করে যে ইসলাম অর্থনৈতিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার গুরুত্ব দেয়। সমাজে সুদমুক্ত লেনদেন প্রতিষ্ঠা করলে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর হয় এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি পায়।
- আল্লাহর আদেশ পালনে বিলম্ব করা উচিত নয়। যখন কোনো বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ এসে যায়, তখন সাথে সাথে তা মেনে নেওয়া এবং বাস্তবায়ন করা মুমিনের কর্তব্য। দ্বিধা বা অজুহাত দেখানো ঈমানের দুর্বলতার লক্ষণ।
📜 আয়াত 277-281 — আল-বাকারা
অনুবাদ — আল-বাকারা 279
সূরা আল-বাকারা আয়াত 279 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর…সূরা আয়াত 279/286 — আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-বাকারা শুনুন, আল-বাকারা অনুবাদ, আল-বাকারা mp3, আল-বাকারা pdf. আয়াত 277–281. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








