আল-বাকারা · 279/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ ۖ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ ۝٢٧٩
Fail lam taf`aloo faazanoo biharbim minal laahi wa Rasoolihee wa in tubtum falakum ru`oosu amwaalikum laa tazlimoona wa laa tuzlamoon
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • فَأْذَنُوا – জেনে নাও, নিশ্চিত হও।
  • بِحَرْبٍ مِّنَ اللهِ وَرَسُولِهِ – আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা।
  • رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ – তোমাদের মূলধন (যে পরিমাণ টাকা মূলত ধার দেওয়া হয়েছিল)।
  • لَا تَظْلِمُونَ – তোমরা কারো প্রতি অত্যাচার করবে না (অর্থাৎ মূলধনের অতিরিক্ত সুদ আদায় করবে না)।
  • وَلَا تُظْلَمُونَ – এবং তোমাদের প্রতিও অত্যাচার করা হবে না (অর্থাৎ মূলধন থেকে কম দেওয়া হবে না)।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী আয়াতে সুদ সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করে মুমিনদেরকে তা পরিত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর এই আয়াতে ঘোষণা করা হচ্ছে— যদি তোমরা এই নির্দেশ পালন না কর এবং সুদ খাওয়া থেকে বিরত না হও, তাহলে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও। এটি অত্যন্ত কঠোর হুমকি, যা প্রমাণ করে যে সুদ ইসলামে কত বড় মহাপাপ। সুদখোররা যেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সরাসরি শত্রুতা করছে।

কিন্তু এরপরই আল্লাহ তাআলা রহমতের দরজা খুলে দিয়েছেন— যদি তোমরা তওবা করো, অর্থাৎ সুদ গ্রহণ করা থেকে ফিরে আসো এবং ভবিষ্যতে তা না খাওয়ার সংকল্প করো, তাহলে তোমাদের জন্য বৈধ হবে শুধু তোমাদের মূলধন ফেরত নেওয়া। অর্থাৎ যে পরিমাণ টাকা মূলত ধার দেওয়া হয়েছিল, তা ফেরত নিতে পারবে; কিন্তু তার সাথে কোনো অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না। এখানে ন্যায়বিচারের নীতি স্পষ্ট— তোমরা কাউকে অত্যাচার করবে না (সুদের অতিরিক্ত আদায় করে) এবং তোমাদের প্রতিও অত্যাচার করা হবে না (মূলধন থেকে কমিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে)। এই ঘোষণা মূলত একটি আদেশের অর্থ বহন করে, অর্থাৎ সুদ সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা আবশ্যক।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, যখন এই আয়াত নাজিল হয়, তখন সুদখোররা বলেছিল, "আমাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধের শক্তি নেই" এবং তারা মূলধন নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বনু মুগীরা গোত্রের কিছু লোক দারিদ্র্যের অজুহাত দেখিয়ে বলেছিল, "ফসল পাকা পর্যন্ত আমাদের অবকাশ দিন।" তখন তাদেরকে অবকাশ দেওয়া হয়নি, বরং মূলধন আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. সুদ এমন একটি মহাপাপ যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধের সমতুল্য। এটি ইসলামের চোখে কতটা জঘন্য অপরাধ, তা এই ঘোষণা থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়। তাই একজন মুমিনের উচিত সুদ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা এবং হালাল উপার্জনে সন্তুষ্ট থাকা।
  2. ইসলামের দরজা সর্বদা তওবার জন্য উন্মুক্ত। মানুষ যত বড় পাপই করুক না কেন, আন্তরিক তওবা করলে আল্লাহ তা ক্ষমা করে দেন এবং জীবনের নতুন সুযোগ দেন। এই আয়াতে সুদখোরদের জন্যও তওবার পথ খোলা রাখা হয়েছে।
  3. ইসলাম ন্যায়বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত। একজন ঋণদাতা শুধু তার মূলধন ফেরত পাবে, অতিরিক্ত কিছু নয়; আবার ঋণগ্রহীতাও মূলধন ফেরত দিতে বাধ্য, কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সুсправедливый ব্যবস্থা।
  4. এই আয়াত প্রমাণ করে যে ইসলাম অর্থনৈতিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার গুরুত্ব দেয়। সমাজে সুদমুক্ত লেনদেন প্রতিষ্ঠা করলে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর হয় এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি পায়।
  5. আল্লাহর আদেশ পালনে বিলম্ব করা উচিত নয়। যখন কোনো বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ এসে যায়, তখন সাথে সাথে তা মেনে নেওয়া এবং বাস্তবায়ন করা মুমিনের কর্তব্য। দ্বিধা বা অজুহাত দেখানো ঈমানের দুর্বলতার লক্ষণ।


📜 আয়াত 277-281 — সূরা আল-বাকারা

277إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, সৎকাজ করেছে, নামায প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং যাকাত দান করেছে, তাদের জন্যে তাদের পুরষ্কার তাদের পালনকর্তার কছে রয়েছে। তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
278يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক।
279فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ ۖ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ
অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না।
280وَإِن كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَىٰ مَيْسَرَةٍ ۚ وَأَن تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
যদি খাতক অভাবগ্রস্থ হয়, তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেয়া উচিত। আর যদি ক্ষমা করে দাও, তবে তা খুবই উত্তম যদি তোমরা উপলব্ধি কর।
281وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ۖ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
ঐ দিনকে ভয় কর, যে দিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই তার কর্মের ফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোন রূপ অবিচার করা হবে না।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
279আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 279

সূরা আল-বাকারা আয়াত 279 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর…

সূরা আয়াত 279/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 277–281. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না