আল-বাকারা · 281/286
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-বাকারা
وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ۖ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ۝٢٨١
Wattaqoo yawman turja`oona feehi ilal laahi summa tuwaffaa kullu nafsim maa kasabat wa hum laa yuzlamoon
📖 বাংলা অর্থ
ঐ দিনকে ভয় কর, যে দিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই তার কর্মের ফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোন রূপ অবিচার করা হবে না।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • وَاتَّقُوا – তোমরা ভয় করো, সাবধান হও।
  • يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ – সেই দিনকে, যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
  • تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ – প্রত্যেক প্রাণীকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেওয়া হবে।
  • لَا يُظْلَمُونَ – তাদের প্রতি কোনো প্রকার জুলুম/অবিচার করা হবে না।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

হে মানবজাতি! তোমরা সেই ভয়ঙ্কর দিনটিকে ভয় করো, যেদিন তোমাদের সকলকে আল্লাহর দরবারে ফিরে যেতে হবে। সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার জীবনে করা প্রতিটি ভালো ও মন্দ কাজের পূর্ণ হিসাব দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ভালো কাজ করেছে, সে তার পূর্ণ প্রতিদান পাবে; আর যে মন্দ কাজ করেছে, সে তার পূর্ণ শাস্তি ভোগ করবে। সেদিন কারো প্রতি সামান্যতম জুলুম করা হবে না—কারো নেকির সওয়াব কমানো হবে না, আর কারো গুনাহের শাস্তি বাড়ানোও হবে না।

এই আয়াতটি মূলত সুদ (রিবা) সংক্রান্ত পূর্ববর্তী আয়াতগুলোর পর এসেছে, তাই এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের সতর্ক করেছেন যে, সুদসহ সকল হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকো, কারণ একদিন তোমাদেরকে তাঁর সামনে দাঁড়াতে হবে এবং প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে। এই ভয়ই যেন তোমাদেরকে আল্লাহর আদেশ মানতে এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আখিরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস – এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান অবশ্যই ঘটবে এবং সকলকে আল্লাহর সামনে হাজির হতে হবে। এই বিশ্বাসই মানুষকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং পাপ থেকে বিরত রাখে।
  2. ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা – আল্লাহর দরবারে কোনো জুলুম নেই। সেখানে প্রত্যেকে তার কর্মের সঠিক ফল পাবে। এটি মুমিনের জন্য বড় সান্ত্বনা যে, দুনিয়ায় যদি কোনো অন্যায় হয়, তবে আখিরাতে ন্যায়বিচার অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হবে।
  3. হালাল উপার্জনের গুরুত্ব – এই আয়াতের প্রেক্ষাপটে সুদ ও হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, হারাম উপার্জন শুধু দুনিয়াতেই ক্ষতির কারণ নয়, আখিরাতেও কঠিন শাস্তির কারণ হবে।
  4. আত্মশুদ্ধির আহ্বান – প্রত্যেক মুমিনের উচিত নিজের আমল পর্যালোচনা করা এবং জীবনকে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সাজানো, যাতে আখিরাতের কঠিন দিনে সে সফলকাম হতে পারে।
  5. ভয় ও আশার সমন্বয় – একদিকে যেমন আল্লাহর শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে, অন্যদিকে তাঁর ন্যায়বিচারের প্রতি আশা রাখা হয়েছে। এই সমন্বয়ই একজন মুমিনকে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে।


📜 আয়াত 279-283 — আল-বাকারা

279فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ ۖ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ
অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না।
280وَإِن كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَىٰ مَيْسَرَةٍ ۚ وَأَن تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
যদি খাতক অভাবগ্রস্থ হয়, তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেয়া উচিত। আর যদি ক্ষমা করে দাও, তবে তা খুবই উত্তম যদি তোমরা উপলব্ধি কর।
281وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ۖ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
ঐ দিনকে ভয় কর, যে দিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই তার কর্মের ফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোন রূপ অবিচার করা হবে না।
282يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى فَاكْتُبُوهُ ۚ وَلْيَكْتُب بَّيْنَكُمْ كَاتِبٌ بِالْعَدْلِ ۚ وَلَا يَأْبَ كَاتِبٌ أَن يَكْتُبَ كَمَا عَلَّمَهُ اللَّهُ ۚ فَلْيَكْتُبْ وَلْيُمْلِلِ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ وَلْيَتَّقِ اللَّهَ رَبَّهُ وَلَا يَبْخَسْ مِنْهُ شَيْئًا ۚ فَإِن كَانَ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ سَفِيهًا أَوْ ضَعِيفًا أَوْ لَا يَسْتَطِيعُ أَن يُمِلَّ هُوَ فَلْيُمْلِلْ وَلِيُّهُ بِالْعَدْلِ ۚ وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِن رِّجَالِكُمْ ۖ فَإِن لَّمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّن تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ أَن تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَىٰ ۚ وَلَا يَأْبَ الشُّهَدَاءُ إِذَا مَا دُعُوا ۚ وَلَا تَسْأَمُوا أَن تَكْتُبُوهُ صَغِيرًا أَوْ كَبِيرًا إِلَىٰ أَجَلِهِ ۚ ذَٰلِكُمْ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ وَأَقْوَمُ لِلشَّهَادَةِ وَأَدْنَىٰ أَلَّا تَرْتَابُوا ۖ إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً حَاضِرَةً تُدِيرُونَهَا بَيْنَكُمْ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَلَّا تَكْتُبُوهَا ۗ وَأَشْهِدُوا إِذَا تَبَايَعْتُمْ ۚ وَلَا يُضَارَّ كَاتِبٌ وَلَا شَهِيدٌ ۚ وَإِن تَفْعَلُوا فَإِنَّهُ فُسُوقٌ بِكُمْ ۗ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ وَيُعَلِّمُكُمُ اللَّهُ ۗ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ঋনের আদান-প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও এবং তোমাদের মধ্যে কোন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে তা লিখে দেবে; লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। আল্লাহ তাকে যেমন শিক্ষা দিয়েছেন, তার উচিত তা লিখে দেয়া। এবং ঋন গ্রহীতা যেন লেখার বিষয় বলে দেয় এবং সে যেন স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করে এবং লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্রও বেশ কম না করে। অতঃপর ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ হয় কিংবা দূর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখাবে। দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন ডাকা হয়, তখন সাক্ষীদের অস্বীকার করা উচিত নয়। তোমরা এটা লিখতে অলসতা করোনা, তা ছোট হোক কিংবা বড়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এ লিপিবদ্ধ করণ আল্লাহর কাছে সুবিচারকে অধিক কায়েম রাখে, সাক্ষ্যকে অধিক সুসংহত রাখে এবং তোমাদের সন্দেহে পতিত না হওয়ার পক্ষে অধিক উপযুক্ত। কিন্তু যদি কারবার নগদ হয়, পরস্পর হাতে হাতে আদান-প্রদান কর, তবে তা না লিখলে তোমাদের প্রতি কোন অভিযোগ নেই। তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সাক্ষী রাখ। কোন লেখক ও সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করো না। যদি তোমরা এরূপ কর, তবে তা তোমাদের পক্ষে পাপের বিষয়। আল্লাহকে ভয় কর তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। আল্লাহ সব কিছু জানেন।
283۞ وَإِن كُنتُمْ عَلَىٰ سَفَرٍ وَلَمْ تَجِدُوا كَاتِبًا فَرِهَانٌ مَّقْبُوضَةٌ ۖ فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُم بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ وَلْيَتَّقِ اللَّهَ رَبَّهُ ۗ وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ ۚ وَمَن يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ ۗ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ
আর তোমরা যদি প্রবাসে থাক এবং কোন লেখক না পাও তবে বন্ধকী বন্তু হস্তগত রাখা উচিত। যদি একে অন্যকে বিশ্বাস করে, তবে যাকে বিশ্বাস করা হয়, তার উচিত অন্যের প্রাপ্য পরিশোধ করা এবং স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় কর! তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে কেউ তা গোপন করবে, তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। তোমরা যা করা, আল্লাহ সে সম্পর্কে খুব জ্ঞাত।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীRevelation
281আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 281

সূরা আল-বাকারা আয়াত 281 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : ঐ দিনকে ভয় কর, যে দিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত…

সূরা আয়াত 281/286 — আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-বাকারা শুনুন, আল-বাকারা অনুবাদ, আল-বাকারা mp3, আল-বাকারা pdf. আয়াত 279–283. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না