আল-মায়িদা · 2/120
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মায়িদা
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تُحِلُّواْ شَعَٰٓئِرَ ٱللَّهِ وَلَا ٱلشَّهۡرَ ٱلۡحَرَامَ وَلَا ٱلۡهَدۡيَ وَلَا ٱلۡقَلَٰٓئِدَ وَلَآ ءَآمِّينَ ٱلۡبَيۡتَ ٱلۡحَرَامَ يَبۡتَغُونَ فَضۡلًا مِّن رَّبِّهِمۡ وَرِضۡوَٰنًاۚ وَإِذَا حَلَلۡتُمۡ فَٱصۡطَادُواْۚ وَلَا يَجۡرِمَنَّكُمۡ شَنَـَٔانُ قَوۡمٍ أَن صَدُّوكُمۡ عَنِ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِ أَن تَعۡتَدُواْۘ وَتَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡبِرِّ وَٱلتَّقۡوَىٰۖ وَلَا تَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ  ۝٢
Yaaa aiyuhal lazeena aamanoo laa tuhilloo sha`aaa `iral laahi wa lash Shahral Haraama wa lal hadya wa lal qalaaa`ida wa laa aaammeenal Baital Haraama yabtaghoona fadlam mir Rabbihim wa ridwaanaa; wa izaa halaltum fastaadoo; wa laa yajrimannakum shana aanu qawmin an saddookum `anil Masjidil-Haraami an ta`tadoo; wa ta`aawanoo `alalbirri wattaqwaa; wa laa ta`aawanoo `alal ismi wal`udwaan; wattaqul laah; innal laaha shadeedul `iqaab
📖 বাংলা অর্থ
হে মুমিনগণ! হালাল মনে করো না আল্লাহর নিদর্শনসমূহ এবং সম্মানিত মাসসমূহকে এবং হরমে কুরবানীর জন্যে নির্দিষ্ট জন্তুকে এবং ঐসব জন্তুকে, যাদের গলায় কন্ঠাভরণ রয়েছে এবং ঐসব লোককে যারা সম্মানিত গৃহ অভিমুখে যাচ্ছে, যারা স্বীয় পালনকর্তার অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। যখন তোমরা এহরাম থেকে বের হয়ে আস, তখন শিকার কর। যারা পবিত্র মসজিদ থেকে তোমাদেরকে বাধা প্রদান করেছিল, সেই সম্প্রদায়ের শুত্রুতা যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • شَعَائِرَ اللهِ: আল্লাহর নিদর্শনসমূহ; এখানে হজের আনুষ্ঠানিকতা ও পবিত্র স্থানসমূহ।
  • الشَّهْرَ الْحَرَامَ: সম্মানিত মাসসমূহ, অর্থাৎ জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব।
  • الْهَدْيَ: কুরবানীর জন্য হারাম (কাবা) শরীফে পাঠানো পশু।
  • الْقَلَائِدَ: যে পশুর গলায় চিহ্নস্বরূপ (চামড়া বা পশমের) মালা পরানো হয়, যেন তা হাদঈ (কুরবানীর পশু) হিসেবে পরিচিত হয়।
  • آمِّينَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ: যারা বাইতুল্লাহর দিকে যাত্রা করে।
  • شَنَآنُ: শত্রুতা ও বিদ্বেষ।
  • الْبِرِّ: সকল প্রকার কল্যাণ ও সৎকর্ম।
  • التَّقْوَى: আল্লাহভীতি ও তাঁর আদেশ পালন, নিষেধ থেকে বিরত থাকা।
  • الْإِثْمِ: পাপ ও গুনাহের কাজ।
  • الْعُدْوَانِ: সীমালঙ্ঘন ও জুলুম।

তাফসীর:

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে সম্মান করো এবং সেগুলোকে লঙ্ঘন করো না। অর্থাৎ হজ ও ওমরার আনুষ্ঠানিকতা, পবিত্র মাসসমূহ, কুরবানীর পশু এবং গলায় চিহ্নযুক্ত পশু—এসবের প্রতি অসম্মান বা হস্তক্ষেপ করো না। আর যারা ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর সন্তুষ্টি কামনায় পবিত্র কাবা ঘরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে, তাদেরকেও তোমরা বাধা দিও না বা তাদের ক্ষতি করো না। তবে তোমরা যখন ইহরাম থেকে মুক্তি পাও এবং হারাম শরীফের বাইরে চলে যাও, তখন শিকার করা তোমাদের জন্য বৈধ।

আর মনে রেখো, কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ—যারা একবার তোমাদেরকে মসজিদে হারামে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছিল (হুদাইবিয়ার ঘটনা)—যেন তোমাদেরকে কখনো অন্যায় ও সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। তোমাদের কর্তব্য হবে সর্বদা ন্যায় ও ইনসাফের পথে থাকা।

তোমরা পরস্পরকে সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে সহযোগিতা করো, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে কখনো একে অপরের সাহায্য করো না। আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। তাই তাঁর আদেশ অমান্য করা ও নিষেধ লঙ্ঘন করা থেকে সাবধান থাকো।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলাম মানবতাকে শান্তি ও সম্মানের শিক্ষা দেয়। এমনকি অমুসলিমদের পবিত্র স্থান ও ধর্মীয় অনুভূতিকেও সম্মান করতে নির্দেশ দেয়, যদি তারা শান্তিপূর্ণভাবে থাকে।
  2. প্রতিশোধপরায়ণতা ও ঘৃণা কখনো ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণ হতে পারে না। শত্রুর প্রতিও ইনসাফ বজায় রাখা ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য।
  3. সমাজ গঠনে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব অপরিসীম। ভালো কাজে একে অপরকে সাহায্য করা এবং মন্দ কাজে সহযোগিতা না করা—এটাই ইসলামী সমাজের ভিত্তি।
  4. আল্লাহভীতি (তাকওয়া)是所有 ভালো কাজের মূল চালিকাশক্তি। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, সে অন্যায় ও পাপ থেকে দূরে থাকে এবং তার জীবন সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হয়।
  5. এই আয়াত মুসলিমদেরকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও ক্ষমাশীলতার শিক্ষা দেয়। এমনকি কঠিন পরিস্থিতিতেও সীমালঙ্ঘন না করে ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে উৎসাহিত করে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 1-4 — আল-মায়িদা

1يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَوۡفُواْ بِٱلۡعُقُودِۚ أُحِلَّتۡ لَكُم بَهِيمَةُ ٱلۡأَنۡعَٰمِ إِلَّا مَا يُتۡلَىٰ عَلَيۡكُمۡ غَيۡرَ مُحِلِّي ٱلصَّيۡدِ وَأَنتُمۡ حُرُمٌۗ إِنَّ ٱللَّهَ يَحۡكُمُ مَا يُرِيدُ 
মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ন কর। তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, যা তোমাদের কাছে বিবৃত হবে তা ব্যতীত। কিন্তু এহরাম বাধাঁ অবস্থায় শিকারকে হালাল মনে করো না! নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা যা ইচ্ছা করেন, নির্দেশ দেন।
2يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تُحِلُّواْ شَعَٰٓئِرَ ٱللَّهِ وَلَا ٱلشَّهۡرَ ٱلۡحَرَامَ وَلَا ٱلۡهَدۡيَ وَلَا ٱلۡقَلَٰٓئِدَ وَلَآ ءَآمِّينَ ٱلۡبَيۡتَ ٱلۡحَرَامَ يَبۡتَغُونَ فَضۡلًا مِّن رَّبِّهِمۡ وَرِضۡوَٰنًاۚ وَإِذَا حَلَلۡتُمۡ فَٱصۡطَادُواْۚ وَلَا يَجۡرِمَنَّكُمۡ شَنَـَٔانُ قَوۡمٍ أَن صَدُّوكُمۡ عَنِ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِ أَن تَعۡتَدُواْۘ وَتَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡبِرِّ وَٱلتَّقۡوَىٰۖ وَلَا تَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ 
হে মুমিনগণ! হালাল মনে করো না আল্লাহর নিদর্শনসমূহ এবং সম্মানিত মাসসমূহকে এবং হরমে কুরবানীর জন্যে নির্দিষ্ট জন্তুকে এবং ঐসব জন্তুকে, যাদের গলায় কন্ঠাভরণ রয়েছে এবং ঐসব লোককে যারা সম্মানিত গৃহ অভিমুখে যাচ্ছে, যারা স্বীয় পালনকর্তার অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। যখন তোমরা এহরাম থেকে বের হয়ে আস, তখন শিকার কর। যারা পবিত্র মসজিদ থেকে তোমাদেরকে বাধা প্রদান করেছিল, সেই সম্প্রদায়ের শুত্রুতা যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা।
3حُرِّمَتۡ عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَيۡتَةُ وَٱلدَّمُ وَلَحۡمُ ٱلۡخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ لِغَيۡرِ ٱللَّهِ بِهِۦ وَٱلۡمُنۡخَنِقَةُ وَٱلۡمَوۡقُوذَةُ وَٱلۡمُتَرَدِّيَةُ وَٱلنَّطِيحَةُ وَمَآ أَكَلَ ٱلسَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيۡتُمۡ وَمَا ذُبِحَ عَلَى ٱلنُّصُبِ وَأَن تَسۡتَقۡسِمُواْ بِٱلۡأَزۡلَٰمِۚ ذَٰلِكُمۡ فِسۡقٌۗ ٱلۡيَوۡمَ يَئِسَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمۡ فَلَا تَخۡشَوۡهُمۡ وَٱخۡشَوۡنِۚ ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ وَأَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلۡإِسۡلَٰمَ دِينًاۚ فَمَنِ ٱضۡطُرَّ فِي مَخۡمَصَةٍ غَيۡرَ مُتَجَانِفٍ لِّإِثۡمٍ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ 
তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস, যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গকৃত হয়, যা কন্ঠরোধে মারা যায়, যা আঘাত লেগে মারা যায়, যা উচ্চ স্থান থেকে পতনের ফলে মারা যা, যা শিং এর আঘাতে মারা যায় এবং যাকে হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করেছে, কিন্তু যাকে তোমরা যবেহ করেছ। যে জন্তু যজ্ঞবেদীতে যবেহ করা হয় এবং যা ভাগ্য নির্ধারক শর দ্বারা বন্টন করা হয়। এসব গোনাহর কাজ। আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে। অতএব তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় কর। আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। অতএব যে ব্যাক্তি তীব্র ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে; কিন্তু কোন গোনাহর প্রতি প্রবণতা না থাকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল।
4يَسۡـَٔلُونَكَ مَاذَآ أُحِلَّ لَهُمۡۖ قُلۡ أُحِلَّ لَكُمُ ٱلطَّيِّبَٰتُ وَمَا عَلَّمۡتُم مِّنَ ٱلۡجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ ٱللَّهُۖ فَكُلُواْ مِمَّآ أَمۡسَكۡنَ عَلَيۡكُمۡ وَٱذۡكُرُواْ ٱسۡمَ ٱللَّهِ عَلَيۡهِۖ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَرِيعُ ٱلۡحِسَابِ 
তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে যে, কি বস্তু তাদের জন্যে হালাল? বলে দিন, তোমাদের জন্যে পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হয়েছে। যেসব শিকারী জন্তুকে তোমরা প্রশিক্ষণ দান কর শিকারের প্রতি প্রেরণের জন্যে এবং ওদেরকে ঐ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দাও, যা আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। এমন শিকারী জন্তু যে শিকারকে তোমাদের জন্যে ধরে রাখে, তা খাও এবং তার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর। আল্লাহকে ভয় করতে থাক। নিশ্চয় আল্লাহ সত্ত্বর হিসাব গ্রহণকারী।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীRevelation
2আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 2

সূরা আয়াত 2/120 — আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মায়িদা শুনুন, আল-মায়িদা অনুবাদ, আল-মায়িদা mp3, আল-মায়িদা pdf. আয়াত 1–4. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না