আল-মায়িদা · 1/120
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-মায়িদা
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ ۚ أُحِلَّتْ لَكُم بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ إِلَّا مَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنتُمْ حُرُمٌ ۗ إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ ۝١
Yaaa aiyuhal lazeena aamanoo awfoo bil`uqood; uhillat lakum baheematul an`aami illaa maa yutlaa `alaikum ghaira muhillis saidi wa antum hurum; innal laaha yahkumu maa yureed
📖 বাংলা অর্থ
মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ন কর। তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, যা তোমাদের কাছে বিবৃত হবে তা ব্যতীত। কিন্তু এহরাম বাধাঁ অবস্থায় শিকারকে হালাল মনে করো না! নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা যা ইচ্ছা করেন, নির্দেশ দেন।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَوْفُوا – পূর্ণ করো, পরিপূর্ণভাবে পালন করো।
  • بِالْعُقُودِ – অঙ্গীকারসমূহ, চুক্তিসমূহ (আল্লাহর সাথে ও মানুষের সাথে)।
  • بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ – চতুষ্পদ গৃহপালিত পশু (উট, গরু, ছাগল, ভেড়া)।
  • يُتْلَى عَلَيْكُمْ – যা তোমাদের উপর তিলাওয়াত করা হয় (অর্থাৎ কুরআনে যা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে)।
  • حُرُمٌ – ইহরাম অবস্থায় (হজ বা ওমরাহর জন্য ইহরাম বাঁধা অবস্থায়)।

তাফসীর:

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর সাথে এবং পরস্পরের সাথে কৃত সকল অঙ্গীকার ও চুক্তি পূর্ণ করো। আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার হলো তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা, তাঁর বিধানকে প্রাণ দিয়ে গ্রহণ করা এবং তাঁরই ইবাদত করা। আর মানুষের সাথে অঙ্গীকার হলো আমানত রক্ষা করা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিবাহ, ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি ইত্যাদি সকল বৈধ চুক্তি যথাযথভাবে পালন করা—যতক্ষণ না তা আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী হয়।

এরপর আল্লাহ ঘোষণা করছেন যে, তিনি তোমাদের জন্য গৃহপালিত চতুষ্পদ পশু (উট, গরু, ছাগল, ভেড়া) হালাল করেছেন, কিন্তু সেই পশুগুলো ছাড়া যা কুরআনে তোমাদের উপর নিষিদ্ধ হিসেবে তিলাওয়াত করা হয়েছে—যেমন মৃত পশু, প্রবাহিত রক্ত, শূকরের মাংস, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে যবেহকৃত পশু ইত্যাদি। আরও একটি শর্ত হলো, তোমরা যখন ইহরাম অবস্থায় থাকো, তখন বন্য প্রাণী শিকার করা তোমাদের জন্য হারাম। তবে ইহরাম অবস্থার বাইরে শিকার করা বৈধ।

আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ীই বিধান দেন—কোনো জিনিস হালাল করেন, কোনোটি হারাম করেন—এবং এ সবই তাঁর অসীম জ্ঞান ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে। তাঁর সিদ্ধান্তের উপর কারো আপত্তি করার অধিকার নেই, তাঁর হুকুমের কোনো প্রতিরোধকারীও নেই।


উপকারিতা ও শিক্ষা:

  1. আমানত ও অঙ্গীকার পালন – ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা হলো ওয়াদা ও চুক্তি পূর্ণ করা। এটি মুমিনের চরিত্রের পরিচয়। যে ব্যক্তি অঙ্গীকার রক্ষা করে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন এবং মানুষের কাছেও সে বিশ্বস্ত হয়।
  2. হালাল-হারামের জ্ঞান – আল্লাহ আমাদের জন্য যা হালাল করেছেন তা গ্রহণ করা এবং যা হারাম করেছেন তা থেকে দূরে থাকা ইমানের দাবি। এতে আমাদের জীবন পবিত্র হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।
  3. আল্লাহর বিধানের প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ – আল্লাহ যা চান তাই করেন, তাঁর হুকুমের পেছনে রয়েছে গভীর হিকমত। আমাদের উচিত তাঁর সিদ্ধান্তকে খুশি মনে মেনে নেওয়া, কারণ তিনি সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান।
  4. ইহরামের মর্যাদা – ইহরাম অবস্থায় শিকার নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের শেখান আত্মসংযম ও তাকওয়ার শিক্ষা। এটি হজ ও ওমরাহর পবিত্রতা রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
  5. কৃতজ্ঞতা ও রহমতের অনুভূতি – আল্লাহ আমাদের জন্য পশু হালাল করেছেন আমাদের খাদ্যের প্রয়োজন মেটাতে। এটি তাঁর রহমতের নিদর্শন। এতে আমরা তাঁর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করি এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করি।


📜 আয়াত 1-3 — সূরা আল-মায়িদা

1يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ ۚ أُحِلَّتْ لَكُم بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ إِلَّا مَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنتُمْ حُرُمٌ ۗ إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ
মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ন কর। তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, যা তোমাদের কাছে বিবৃত হবে তা ব্যতীত। কিন্তু এহরাম বাধাঁ অবস্থায় শিকারকে হালাল মনে করো না! নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা যা ইচ্ছা করেন, নির্দেশ দেন।
2يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحِلُّوا شَعَائِرَ اللَّهِ وَلَا الشَّهْرَ الْحَرَامَ وَلَا الْهَدْيَ وَلَا الْقَلَائِدَ وَلَا آمِّينَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّن رَّبِّهِمْ وَرِضْوَانًا ۚ وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا ۚ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ أَن صَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَن تَعْتَدُوا ۘ وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
হে মুমিনগণ! হালাল মনে করো না আল্লাহর নিদর্শনসমূহ এবং সম্মানিত মাসসমূহকে এবং হরমে কুরবানীর জন্যে নির্দিষ্ট জন্তুকে এবং ঐসব জন্তুকে, যাদের গলায় কন্ঠাভরণ রয়েছে এবং ঐসব লোককে যারা সম্মানিত গৃহ অভিমুখে যাচ্ছে, যারা স্বীয় পালনকর্তার অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। যখন তোমরা এহরাম থেকে বের হয়ে আস, তখন শিকার কর। যারা পবিত্র মসজিদ থেকে তোমাদেরকে বাধা প্রদান করেছিল, সেই সম্প্রদায়ের শুত্রুতা যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা।
3حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَن تَسْتَقْسِمُوا بِالْأَزْلَامِ ۚ ذَٰلِكُمْ فِسْقٌ ۗ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ ۚ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ۚ فَمَنِ اضْطُرَّ فِي مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لِّإِثْمٍ ۙ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস, যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গকৃত হয়, যা কন্ঠরোধে মারা যায়, যা আঘাত লেগে মারা যায়, যা উচ্চ স্থান থেকে পতনের ফলে মারা যা, যা শিং এর আঘাতে মারা যায় এবং যাকে হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করেছে, কিন্তু যাকে তোমরা যবেহ করেছ। যে জন্তু যজ্ঞবেদীতে যবেহ করা হয় এবং যা ভাগ্য নির্ধারক শর দ্বারা বন্টন করা হয়। এসব গোনাহর কাজ। আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে। অতএব তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় কর। আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। অতএব যে ব্যাক্তি তীব্র ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে; কিন্তু কোন গোনাহর প্রতি প্রবণতা না থাকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
1আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 1

সূরা আল-মায়িদা আয়াত 1 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ন কর। তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল…

সূরা আয়াত 1/120 — সূরা আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-মায়িদা শুনুন, সূরা আল-মায়িদা অনুবাদ, সূরা আল-মায়িদা mp3, সূরা আল-মায়িদা pdf. আয়াত 1–3. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না