আল-ফাতহ · 27/29
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ফাতহ
لَّقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ ۖ لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِن شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ لَا تَخَافُونَ ۖ فَعَلِمَ مَا لَمْ تَعْلَمُوا فَجَعَلَ مِن دُونِ ذَٰلِكَ فَتْحًا قَرِيبًا ۝٢٧
Laqad sadaqal laahu Rasoolahur ru`yaa bilhaqq, latadkhulunnal Masjidal-Haraama in shaaa`al laahu aamineena muhalliqeena ru`oosakum wa muqassireena laa takhaafoona fa`alima maa lam ta`lamoo faja`ala min dooni zaalika fathan qareebaa
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ তাঁর রসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আল্লাহ চাহেন তো তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে মস্তকমুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। তোমরা কাউকে ভয় করবে না। অতঃপর তিনি জানেন যা তোমরা জান না। এছাড়াও তিনি দিয়েছেন তোমাদেরকে একটি আসন্ন বিজয়।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • الرُّؤْيَا – স্বপ্ন (এখানে নবী ﷺ-এর সত্য স্বপ্নকে বোঝানো হয়েছে)।
  • مُحَلِّقِينَ – মাথা সম্পূর্ণ মুণ্ডনকারী।
  • مُقَصِّرِينَ – মাথার কিছু চুল কাটকারী।
  • فَتْحًا قَرِيبًا – নিকটবর্তী বিজয় (এখানে হুদাইবিয়ার সন্ধি ও খায়বার বিজয়)।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল মুহাম্মদ ﷺ-কে যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তা সত্য ছিল এবং তিনি তা পূর্ণ করেছেন। নবী ﷺ স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, তিনি ও তাঁর সাহাবাগণ নিরাপদ状态下 মসজিদে হারামে (কাবায়) প্রবেশ করবেন, কেউ মাথা মুণ্ডন করবেন, কেউ চুল ছাঁটবেন এবং তারা কোনো ভয়-ভীতি অনুভব করবেন না। আল্লাহ তাআলা এই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন, তবে তাঁর ইচ্ছা ও হিকমত অনুযায়ী সেটি নির্ধারিত সময়ে।

আল্লাহ তাআলা জানতেন যে, ঐ বছর (হিজরী ৬ষ্ঠ সালে) মক্কায় প্রবেশের মধ্যে যে কল্যাণ ও প্রজ্ঞা ছিল, তা তোমরা জানতে না। তাই তিনি তোমাদের জন্য মক্কা বিজয়ের পূর্বে একটি নিকটবর্তী বিজয় নির্ধারণ করলেন—তা হলো হুদাইবিয়ার সন্ধি এবং খায়বার বিজয়। এই সন্ধির মাধ্যমেই ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীতে মক্কা বিজয়ের পথ সুগম হয়। অতঃপর আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরের বছরই নবী ﷺ ও সাহাবাগণ নিরাপদে উমরাহ আদায় করেন এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটার মাধ্যমে ইহরাম থেকে মুক্ত হন।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহর ওয়াদা কখনো ভঙ্গ হয় না; বরং তিনি তা যথাসময়ে পূর্ণ করেন, যদিও তা বিলম্বিত হয়।
  2. মুমিনের কর্তব্য আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা, কারণ তিনি যা কিছু করেন তাতে কল্যাণই নিহিত।
  3. স্বপ্নের মাধ্যমে নবী ﷺ-কে আল্লাহ বিশেষ সম্মান দিয়েছেন এবং তা ছিল তাঁর নবুওয়তের প্রমাণ।
  4. ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসার মাধ্যমেই সাফল্য অর্জিত হয়; হুদাইবিয়ার সন্ধি ছিল বাহ্যিক দৃষ্টিতে প্রতিকূল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা ছিল বিরাট বিজয়ের পূর্বাভাস।
  5. আল্লাহর আদব শেখানো—প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় "ইন শা আল্লাহ" বলা উচিত, যেমনটি আল্লাহ নিজে তাঁর রাসূলকে শিখিয়েছেন।
  6. ইসলামের ইতিহাসে হুদাইবিয়ার সন্ধি ছিল একটি কৌশলগত বিজয়, যা পরবর্তীকালে মক্কা বিজয়ের পথ সুগম করেছিল—এতে আল্লাহর পরিকল্পনার গভীরতা প্রকাশ পায়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 25-29 — আল-ফাতহ

25هُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَالْهَدْيَ مَعْكُوفًا أَن يَبْلُغَ مَحِلَّهُ ۚ وَلَوْلَا رِجَالٌ مُّؤْمِنُونَ وَنِسَاءٌ مُّؤْمِنَاتٌ لَّمْ تَعْلَمُوهُمْ أَن تَطَئُوهُمْ فَتُصِيبَكُم مِّنْهُم مَّعَرَّةٌ بِغَيْرِ عِلْمٍ ۖ لِّيُدْخِلَ اللَّهُ فِي رَحْمَتِهِ مَن يَشَاءُ ۚ لَوْ تَزَيَّلُوا لَعَذَّبْنَا الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
তারাই তো কুফরী করেছে এবং বাধা দিয়েছে তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে এবং অবস্থানরত কোরবানীর জন্তুদেরকে যথাস্থানে পৌছতে। যদি মক্কায় কিছুসংখ্যক ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী না থাকত, যাদেরকে তোমরা জানতে না। অর্থাৎ তাদের পিষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, অতঃপর তাদের কারণে তোমরা অজ্ঞাতসারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে, তবে সব কিছু চুকিয়ে দেয়া হত; কিন্তু এ কারণে চুকানো হয়নি, যাতে আল্লাহ তা’আলা যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে দাখিল করে নেন। যদি তারা সরে যেত, তবে আমি অবশ্যই তাদের মধ্যে যারা কাফের তাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শস্তি দিতাম।
26إِذْ جَعَلَ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي قُلُوبِهِمُ الْحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ فَأَنزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَىٰ وَكَانُوا أَحَقَّ بِهَا وَأَهْلَهَا ۚ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا
কেননা, কাফেররা তাদের অন্তরে মূর্খতাযুগের জেদ পোষণ করত। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রসূল ও মুমিনদের উপর স্বীয় প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদের জন্যে সংযমের দায়িত্ব অপরিহার্য করে দিলেন। বস্তুতঃ তারাই ছিল এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।
27لَّقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ ۖ لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِن شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ لَا تَخَافُونَ ۖ فَعَلِمَ مَا لَمْ تَعْلَمُوا فَجَعَلَ مِن دُونِ ذَٰلِكَ فَتْحًا قَرِيبًا
আল্লাহ তাঁর রসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আল্লাহ চাহেন তো তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে মস্তকমুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। তোমরা কাউকে ভয় করবে না। অতঃপর তিনি জানেন যা তোমরা জান না। এছাড়াও তিনি দিয়েছেন তোমাদেরকে একটি আসন্ন বিজয়।
28هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ شَهِيدًا
তিনিই তাঁর রসূলকে হেদায়েত ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে একে অন্য সমস্ত ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। সত্য প্রতিষ্ঠাতারূপে আল্লাহ যথেষ্ট।
29مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ ۚ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ ۖ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا ۖ سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ ۚ ذَٰلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ ۚ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَىٰ عَلَىٰ سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ ۗ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا
মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সেজদারত দেখবেন। তাদের মুখমন্ডলে রয়েছে সেজদার চিহ্ন । তওরাতে তাদের অবস্থা এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের অবস্থা যেমন একটি চারা গাছ যা থেকে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর তা শক্ত ও মজবুত হয় এবং কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে-চাষীকে আনন্দে অভিভুত করে-যাতে আল্লাহ তাদের দ্বারা কাফেরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা দিয়েছেন।
আল-ফাতহকুরআন সূচী
29আয়াত
মাদানীRevelation
27আয়াত

অনুবাদ — আল-ফাতহ 27

সূরা আল-ফাতহ আয়াত 27 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহ তাঁর রসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আল্লাহ চাহেন তো তোমরা…

সূরা আয়াত 27/29 — আল-ফাতহ الفتح (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ফাতহ শুনুন, আল-ফাতহ অনুবাদ, আল-ফাতহ mp3, আল-ফাতহ pdf. আয়াত 25–29. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না