আল-ফাতহ · 28/29
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ফাতহ
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ شَهِيدًا ۝٢٨
Huwal lazeee arsala Rasoolahoo bilhudaa wa deenil haqqi liyuzhirahoo `alad deeni kullih; wa kafaa billaahi Shaheeda
📖 বাংলা অর্থ
তিনিই তাঁর রসূলকে হেদায়েত ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে একে অন্য সমস্ত ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। সত্য প্রতিষ্ঠাতারূপে আল্লাহ যথেষ্ট।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • الْهُدَىٰ — স্পষ্ট পথনির্দেশ, হিদায়াত।
  • دِينِ الْحَقِّ — সত্য দ্বীন, অর্থাৎ ইসলাম।
  • لِيُظْهِرَهُ — যাতে তিনি একে বিজয়ী/প্রাধান্য দান করেন।
  • الدِّينِ كُلِّهِ — সকল ধর্মের উপর।
  • شَهِيدًا — সাক্ষী।

তাফসীর:

তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন স্পষ্ট হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ। এখানে ‘হুদা’ অর্থ সত্যের স্পষ্ট প্রমাণ ও পথনির্দেশ, আর ‘দ্বীনুল হক’ অর্থ ইসলাম — যা আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন। আল্লাহ এই রাসূলকে পাঠিয়েছেন এই উদ্দেশ্যে যে, তিনি এই দ্বীনকে সমস্ত ধর্মের উপর বিজয়ী ও প্রাধান্যশীল করবেন। অর্থাৎ, সত্য দ্বীন অন্যান্য সকল ধর্মের অসারতা ও ভ্রান্তি প্রকাশ করবে এবং যুগে যুগে আল্লাহর এই দ্বীনই চিরন্তন সত্য হিসেবে টিকে থাকবে — অন্য কোনো মতবাদ বা ধর্ম ব্যবস্থা এটিকে পরাজিত করতে পারবে না। আল্লাহ নিজেই এই প্রতিশ্রুতির সাক্ষী। রাসূলের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাঁর পক্ষে সাক্ষী — তিনি তাঁর রাসূলকে সাহায্য করবেন এবং তাঁর দ্বীনকে সমস্ত ধর্মের উপর উচ্চে স্থাপন করবেন। এটি একটি সুসংবাদ যা আল্লাহ নিজ জবানে ঘোষণা করেছেন এবং এর সত্যতার উপর আল্লাহ নিজেই সাক্ষী।

ফায়দা:

  1. এই আয়াত থেকে আমরা জানতে পারি যে, ইসলামই একমাত্র সত্য ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা আল্লাহ নিজেই মনোনীত করেছেন। তাই একজন মুমিনের অন্তরে ইসলামের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও গর্ব থাকা উচিত।
  2. আল্লাহর এই প্রতিশ্রুতি আমাদের শেখায় যে, সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী — যদিও মাঝে মাঝে মনে হতে পারে সত্যের পথ কঠিন, কিন্তু আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় নিশ্চিত।
  3. রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি আল্লাহর এই ঘোষণা আমাদের জন্য শিক্ষা যে, আল্লাহর উপর ভরসা করলে এবং তাঁর দ্বীনের জন্য কাজ করলে আল্লাহ কখনো আমাদের একা ছেড়ে দেন না।
  4. এই আয়াত মুমিনদের মনে আশা ও সাহস সঞ্চার করে যে, ইসলামের আলো কখনো নিভবে না; বরং প্রতিটি যুগে এটি বিজয়ী থাকবে — এটি আল্লাহর অঙ্গীকার।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 26-29 — আল-ফাতহ

26إِذْ جَعَلَ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي قُلُوبِهِمُ الْحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ فَأَنزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَىٰ وَكَانُوا أَحَقَّ بِهَا وَأَهْلَهَا ۚ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا
কেননা, কাফেররা তাদের অন্তরে মূর্খতাযুগের জেদ পোষণ করত। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রসূল ও মুমিনদের উপর স্বীয় প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদের জন্যে সংযমের দায়িত্ব অপরিহার্য করে দিলেন। বস্তুতঃ তারাই ছিল এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।
27لَّقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ ۖ لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِن شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ لَا تَخَافُونَ ۖ فَعَلِمَ مَا لَمْ تَعْلَمُوا فَجَعَلَ مِن دُونِ ذَٰلِكَ فَتْحًا قَرِيبًا
আল্লাহ তাঁর রসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আল্লাহ চাহেন তো তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে মস্তকমুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। তোমরা কাউকে ভয় করবে না। অতঃপর তিনি জানেন যা তোমরা জান না। এছাড়াও তিনি দিয়েছেন তোমাদেরকে একটি আসন্ন বিজয়।
28هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ شَهِيدًا
তিনিই তাঁর রসূলকে হেদায়েত ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে একে অন্য সমস্ত ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। সত্য প্রতিষ্ঠাতারূপে আল্লাহ যথেষ্ট।
29مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ ۚ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ ۖ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا ۖ سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ ۚ ذَٰلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ ۚ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَىٰ عَلَىٰ سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ ۗ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا
মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সেজদারত দেখবেন। তাদের মুখমন্ডলে রয়েছে সেজদার চিহ্ন । তওরাতে তাদের অবস্থা এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের অবস্থা যেমন একটি চারা গাছ যা থেকে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর তা শক্ত ও মজবুত হয় এবং কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে-চাষীকে আনন্দে অভিভুত করে-যাতে আল্লাহ তাদের দ্বারা কাফেরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা দিয়েছেন।
আল-ফাতহকুরআন সূচী
29আয়াত
মাদানীRevelation
28আয়াত

অনুবাদ — আল-ফাতহ 28

সূরা আল-ফাতহ আয়াত 28 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তিনিই তাঁর রসূলকে হেদায়েত ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে…

সূরা আয়াত 28/29 — আল-ফাতহ الفتح (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ফাতহ শুনুন, আল-ফাতহ অনুবাদ, আল-ফাতহ mp3, আল-ফাতহ pdf. আয়াত 26–29. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না