আন-নিসা · 24/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
۞ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۖ كِتَابَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ ۚ وَأُحِلَّ لَكُم مَّا وَرَاءَ ذَٰلِكُمْ أَن تَبْتَغُوا بِأَمْوَالِكُم مُّحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ ۚ فَمَا اسْتَمْتَعْتُم بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُم بِهِ مِن بَعْدِ الْفَرِيضَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا ۝٢٤
Walmuhsanaatu minan nisaaa`i illaa maa malakat aimaanukum kitaabal laahi `alaikum; wa uhilla lakum maa waraaa`a zaalikum an tabtaghoo bi amwaali kum muhsineena ghaira musaa fiheen; famastamta`tum bihee minhunna fa aatoohunna ujoorahunna fareedah; wa laa junaaha `alaikum feemaa taraadaitum bihee mim ba`dil fareedah; innal laaha kaana `Aleeman Hakeemaa
📖 বাংলা অর্থ
এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • المُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ: বিবাহিত নারীগণ (যাদের স্বামী আছে)।
  • مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ: যুদ্ধবন্দী দাসীগণ, যারা তোমাদের মালিকানাধীন।
  • كِتَابَ اللهِ عَلَيْكُمْ: আল্লাহ তোমাদের উপর এ বিধান ফরজ করেছেন।
  • مُحْصِنِينَ: সতী-সচ্চরিত্র থাকার উদ্দেশ্যে (বৈধ বিবাহের মাধ্যমে)।
  • غَيْرَ مُسَافِحِينَ: ব্যভিচারী না হয়ে।
  • أُجُورَهُنَّ: তাদের মোহর (যা স্ত্রীদের প্রদান করা ওয়াজিব)।
  • فَرِيضَةً: নির্ধারিত ও আবশ্যক কর্তব্য হিসেবে।
  • تَرَاضَيْتُمْ: পারস্পরিক সম্মতিতে (মোহর কম-বেশি করা)।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা বিবাহের আরও কিছু নিষিদ্ধ ও বৈধ বিধান বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তোমাদের জন্য বিবাহিত নারীদেরকে বিয়ে করা সম্পূর্ণ হারাম, অর্থাৎ যে নারীর স্বামী আছে, তাকে বিয়ে করা কিংবা তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা জায়েয নয়। তবে এর একটি ব্যতিক্রম হলো—যুদ্ধবন্দী দাসীগণ। যদি কোনো যুদ্ধে শত্রুপক্ষের নারীদের বন্দী করা হয় এবং তারা তোমাদের মালিকানায় আসে, তবে তাদের সাথে সহবাস করা বৈধ হবে, তবে তাদের পূর্বের স্বামী থাকলেও তা বিবেচ্য নয়, কারণ বন্দী হওয়ার মাধ্যমে তাদের পূর্বের বিবাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে শর্ত হলো, তাদের গর্ভাশয় পবিত্র কিনা তা নিশ্চিত করতে একবার হায়েয (ঋতুবর্তী) হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এরপর আল্লাহ বলেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে লিখিত বিধান হিসেবে তোমাদের উপর ফরজ করা হয়েছে। আর এর বাইরে যত নারী আছে—যেমন মুসলিম, কিতাবীয় (ইহুদি-খ্রিস্টান) ইত্যাদি—তাদেরকে বিয়ে করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে, তবে শর্ত হলো, তোমরা নিজেদের অর্থ-সম্পদ (মোহর) দিয়ে তাদেরকে বিয়ে করবে, সতীত্ব রক্ষার উদ্দেশ্যে, ব্যভিচারের জন্য নয়। অর্থাৎ তোমাদের উদ্দেশ্য হবে পবিত্র জীবনযাপন ও বৈধ সম্পর্ক স্থাপন, যেনা-ব্যভিচার নয়।

অতঃপর আল্লাহ বলেন, তোমরা যেসব নারীকে বিয়ে করেছ এবং তাদের সাথে দাম্পত্য জীবন উপভোগ করেছ, তাদের মোহর পরিপূর্ণভাবে প্রদান করো—এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ। তবে মোহর নির্ধারিত হওয়ার পর যদি উভয় পক্ষ পারস্পরিক সম্মতিতে তা কমিয়ে বা বাড়িয়ে নেয়, অথবা স্ত্রী স্বেচ্ছায় তার মোহরের কিছু অংশ স্বামীকে মাফ করে দেয়, তবে তাতে কোনো গুনাহ নেই। আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং তাঁর বিধান প্রজ্ঞাপূর্ণ। তিনি জানেন কোন বিধান মানুষের জন্য কল্যাণকর এবং কোনটি অকল্যাণকর, তাই তিনি তাঁর অসীম জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী বিধান দিয়েছেন।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলাম বিবাহকে অত্যন্ত পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং এর মাধ্যমে সমাজে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখে।
  2. বৈধ উপায়ে বিবাহ ও সতীত্ব রক্ষার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে, আর যেকোনো প্রকার ব্যভিচার ও অবৈধ সম্পর্ককে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  3. স্ত্রীর মোহর আদায় করা স্বামীর উপর আবশ্যক কর্তব্য—এটি নারীর সম্মান ও অধিকারের প্রতি ইসলামের গভীর শ্রদ্ধার পরিচায়ক।
  4. পারস্পরিক সম্মতিতে মোহর কম-বেশি করার অনুমতি দিয়ে ইসলাম নমনীয়তা ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়, যা দাম্পত্য জীবনে সুখ ও সম্প্রীতি আনে।
  5. আল্লাহর প্রতিটি বিধান জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উপর ভিত্তি করে—তিনি মানুষের প্রকৃতি ও প্রয়োজন সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত, তাই তাঁর বিধানই সর্বোত্তম ও কল্যাণকর।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 22-26 — আন-নিসা

22وَلَا تَنكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۚ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَمَقْتًا وَسَاءَ سَبِيلًا
যে নারীকে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না। কিন্তু যা বিগত হয়ে গেছে। এটা অশ্লীল, গযবের কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ।
23حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُم مِّنَ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُم مِّن نِّسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُم بِهِنَّ فَإِن لَّمْ تَكُونُوا دَخَلْتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ وَأَن تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا
তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকণ্যা; ভগিনীকণ্যা তোমাদের সে মাতা, যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু।
24۞ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۖ كِتَابَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ ۚ وَأُحِلَّ لَكُم مَّا وَرَاءَ ذَٰلِكُمْ أَن تَبْتَغُوا بِأَمْوَالِكُم مُّحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ ۚ فَمَا اسْتَمْتَعْتُم بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُم بِهِ مِن بَعْدِ الْفَرِيضَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا
এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ।
25وَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ مِنكُمْ طَوْلًا أَن يَنكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِن مَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُم مِّن فَتَيَاتِكُمُ الْمُؤْمِنَاتِ ۚ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِكُم ۚ بَعْضُكُم مِّن بَعْضٍ ۚ فَانكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ وَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ مُحْصَنَاتٍ غَيْرَ مُسَافِحَاتٍ وَلَا مُتَّخِذَاتِ أَخْدَانٍ ۚ فَإِذَا أُحْصِنَّ فَإِنْ أَتَيْنَ بِفَاحِشَةٍ فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنَاتِ مِنَ الْعَذَابِ ۚ ذَٰلِكَ لِمَنْ خَشِيَ الْعَنَتَ مِنكُمْ ۚ وَأَن تَصْبِرُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম ক্রীতদাসীদেরকে বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন। তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে-ব্যভিচারিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হবে না। অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদেরকে স্বাধীন নারীদের অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ব্যবস্থা তাদের জন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে। আর যদি সবর কর, তবে তা তোমাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।
26يُرِيدُ اللَّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ وَيَتُوبَ عَلَيْكُمْ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
আল্লাহ তোমাদের জন্যে সব কিছু পরিষ্কার বর্ণনা করে দিতে চান, তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ প্রদর্শন করতে চান। এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করতে চান, আল্লাহ মহাজ্ঞানী রহস্যবিদ।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
24আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 24

সূরা আন-নিসা আয়াত 24 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে…

সূরা আয়াত 24/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 22–26. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না