Yaaa ayyuhar Rasoolu laa yahzukal lazeena yusaa ri`oona fil kufri minal lazeena qaaloo aamannaa bi afwaahihim wa lam tu`min quloobuhum; wa minal lazeena haadoo sammaa`oona lilkazibi sammaa`oona liqawmin aakhareena lam yaatooka yuharifoonal kalima mim ba`di mawaadi`ihee yaqooloona in ooteetum haazaa fakhuzoohu wa il lam tu`tawhu fahzaroo; wa many-yuridil laahu fitnatahoo falan tamlika lahoo minal laahi shai`aa; ulaaa `ikal lazeena lam yuridil laahu any-yutahhira quloobahum; lahum fid dunyaa khizyunw wa lahum fil Aakhirati`azaabun `azeem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
হে রসূল, তাদের জন্যে দুঃখ করবেন না, যারা দৌড়ে গিয়ে কুফরে পতিত হয়; যারা মুখে বলেঃ আমরা মুসলমান, অথচ তাদের অন্তর মুসলমান নয় এবং যারা ইহুদী; মিথ্যাবলার জন্যে তারা গুপ্তচর বৃত্তি করে। তারা অন্যদলের গুপ্তচর, যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা বাক্যকে স্বস্থান থেকে পরিবর্তন করে। তারা বলেঃ যদি তোমরা এ নির্দেশ পাও, তবে কবুল করে নিও এবং যদি এ নির্দেশ না পাও, তবে বিরত থেকো। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান, তার জন্যে আল্লাহর কাছে আপনি কিছু করতে পারবেন না। এরা এমনিই যে, আল্লাহ এদের অন্তরকে পবিত্র করতে চান না। তাদের জন্যে রয়েছে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা এবং পরকালে বিরাট শাস্তি।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ऐ रसूल जो लोग कुफ़्र की तरफ़ लपक के चले जाते हैं तुम उनका ग़म न खाओ उनमें बाज़ तो ऐसे हैं कि अपने मुंह से बे तकल्लुफ़ कह देते हैं कि हम ईमान लाए हालॉकि उनके दिल बेईमान हैं और बाज़ यहूदी ऐसे हैं कि (जासूसी की ग़रज़ से) झूठी बातें बहुत (शौक से) सुनते हैं ताकि कुफ्फ़ार के दूसरे गिरोह को जो (अभी तक) तुम्हारे पास नहीं आए हैं सुनाएं ये लोग (तौरैत के) अल्फ़ाज़ की उनके असली मायने (मालूम होने) के बाद भी तहरीफ़ करते हैं (और लोगों से) कहते हैं कि (ये तौरैत का हुक्म है) अगर मोहम्मद की तरफ़ से (भी) तुम्हें यही हुक्म दिया जाय तो उसे मान लेना और अगर यह हुक्म तुमको न दिया जाए तो उससे अलग ही रहना और (ऐ रसूल) जिसको ख़ुदा ख़राब करना चाहता है तो उसके वास्ते ख़ुदा से तुम्हारा कुछ ज़ोर नहीं चल सकता यह लोग तो वही हैं जिनके दिलों को ख़ुदा ने (गुनाहों से) पाक करने का इरादा ही नहीं किया (बल्कि) उनके लिए तो दुनिया में भी रूसवाई है और आख़ेरत में भी (उनके लिए) बड़ा (भारी) अज़ाब होगा
হে রসূল, তাদের জন্যে দুঃখ করবেন না, যারা দৌড়ে গিয়ে কুফরে পতিত হয়; যারা মুখে বলেঃ আমরা মুসলমান, অথচ তাদের অন্তর মুসলমান নয় এবং যারা ইহুদী; মিথ্যাবলার জন্যে তারা গুপ্তচর বৃত্তি করে। তারা অন্যদলের গুপ্তচর, যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা বাক্যকে স্বস্থান থেকে পরিবর্তন করে। তারা বলেঃ যদি তোমরা এ নির্দেশ পাও, তবে কবুল করে নিও এবং যদি এ নির্দেশ না পাও, তবে বিরত থেকো। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান, তার জন্যে আল্লাহর কাছে আপনি কিছু করতে পারবেন না। এরা এমনিই যে, আল্লাহ এদের অন্তরকে পবিত্র করতে চান না। তাদের জন্যে রয়েছে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা এবং পরকালে বিরাট শাস্তি।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ – কুফরিতে দ্রুত অগ্রসর হওয়া, কুফরিতে প্রতিযোগিতা করা।
بِأَفْوَاهِهِمْ – তাদের মুখ দিয়ে (কেবল মুখে বলা)।
سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ – মিথ্যা শোনার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী (মিথ্যা গ্রহণকারী)।
يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِن بَعْدِ مَوَاضِعِهِ – তারা কথাকে তার সঠিক স্থান থেকে সরিয়ে বিকৃত করে।
فِتْنَتَهُ – তার বিপদগামিতা/পরীক্ষা।
خِزْيٌ – লাঞ্ছনা, অপমান।
তাফসীর:
হে রাসূল! যারা কুফরিতে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে তাদের কারণে আপনি দুঃখিত হবেন না। এদের মধ্যে দুটি শ্রেণি রয়েছে:
প্রথম শ্রেণি: মুনাফিকরা – যারা মুখে বলে “আমরা ঈমান এনেছি” কিন্তু তাদের অন্তর ঈমান আনে নি। তারা কেবল মুখে ইসলাম ঘোষণা করেছে, কিন্তু তাদের অন্তর কুফরিতে পূর্ণ।
দ্বিতীয় শ্রেণি: ইহুদিরা – যারা মিথ্যা শোনার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী। তারা তাদের পণ্ডিতদের বানানো মিথ্যা কথা গ্রহণ করে। তারা এমন একদল লোকের জন্য গুপ্তচরের মতো কাজ করে যারা আপনার কাছে আসে নি। এই ইহুদি পণ্ডিতরা আল্লাহর কালামকে তার সঠিক স্থান থেকে সরিয়ে বিকৃত করে। তারা তাদের অনুসারীদের বলে: “যদি মুহাম্মদ (সা.) তোমাদেরকে এমন কোনো হুকুম দেন যা আমাদের বিকৃত করা হুকুমের সাথে মিলে যায়, তাহলে তা গ্রহণ করো। আর যদি তা আমাদের বিকৃত হুকুমের বিপরীত হয়, তাহলে তা গ্রহণ করা থেকে সাবধান থাকো।”
হে রাসূল! আল্লাহ যাকে বিপদগামী করতে চান, তার জন্য আপনি আল্লাহর পক্ষ থেকে কিছুই করতে পারবেন না – আপনি তাকে হিদায়াত দিতে সক্ষম নন। এরা হলো সেই সমস্ত লোক যাদের অন্তরকে আল্লাহ পবিত্র করতে চান নি। তাদের জন্য দুনিয়ায় রয়েছে লাঞ্ছনা ও অপমান, এবং আখিরাতে রয়েছে ভয়ানক শাস্তি।
উপকারিতা ও শিক্ষা:
নবী (সা.)-কে সান্ত্বনা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা প্রমাণ করেছেন যে, দাওয়াতের পথে বাধা ও শত্রুদের ষড়যন্ত্র দেখে হতাশ হওয়া উচিত নয়। আল্লাহ তাঁর নবীকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মুনাফিকদের পরিচয় হলো – মুখে ঈমান আনে, অন্তরে কুফর লুকিয়ে রাখে। মুসলিম সমাজে এদের চক্রান্ত সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।
ইহুদি পণ্ডিতদের বিকৃতির কৌশল ছিল – আল্লাহর বিধানকে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী পরিবর্তন করা এবং মানুষের কাছে সেটাকে সত্য বলে প্রচার করা। এ থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে, ধর্মীয় বিষয়ে নিজেদের মতামতকে আল্লাহর বিধানের উপর প্রাধান্য দেওয়া সম্পূর্ণ ভুল।
হিদায়াত ও গোমরাহি সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছাধীন। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কেউ হিদায়াত দিতে পারে না। তাই আমাদের কর্তব্য হলো আল্লাহর কাছে নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্য হিদায়াতের দো‘আ করা।
দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও আখিরাতের শাস্তি – উভয়ই সত্য। যারা আল্লাহর বিধান বিকৃত করে এবং সত্য গোপন করে, তাদের জন্য উভয় জগতেই অপমান ও শাস্তি নির্ধারিত।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, সত্যের উপর অটল থাকতে হবে এবং অন্যায়ের সাথে আপস করা যাবে না। আল্লাহর বিধানকে নিজেদের স্বার্থের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা মারাত্মক অপরাধ।
হে রসূল, তাদের জন্যে দুঃখ করবেন না, যারা দৌড়ে গিয়ে কুফরে পতিত হয়; যারা মুখে বলেঃ আমরা মুসলমান, অথচ তাদের অন্তর মুসলমান নয় এবং যারা ইহুদী; মিথ্যাবলার জন্যে তারা গুপ্তচর বৃত্তি করে। তারা অন্যদলের গুপ্তচর, যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা বাক্যকে স্বস্থান থেকে পরিবর্তন করে। তারা বলেঃ যদি তোমরা এ নির্দেশ পাও, তবে কবুল করে নিও এবং যদি এ নির্দেশ না পাও, তবে বিরত থেকো। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান, তার জন্যে আল্লাহর কাছে আপনি কিছু করতে পারবেন না। এরা এমনিই যে, আল্লাহ এদের অন্তরকে পবিত্র করতে চান না। তাদের জন্যে রয়েছে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা এবং পরকালে বিরাট শাস্তি।
এরা মিথ্যা বলার জন্যে গুপ্তচরবৃত্তি করে, হারাম ভক্ষণ করে। অতএব, তারা যদি আপনার কাছে আসে, তবে হয় তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন, না হয় তাদের ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকুন। যদি তাদের থেকে নির্লিপ্ত থাকেন, তবে তাদের সাধ্য নেই যে, আপনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারে। যদি ফয়সালা করেন, তবেন্যায় ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।
তারা আপনাকে কেমন করে বিচারক নিয়োগ করবে অথচ তাদের কাছে তওরাত রয়েছে। তাতে আল্লাহর নির্দেশ আছে। অতঃপর এরা পেছন দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারা কখনও বিশ্বাসী নয়।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।