আল-মায়িদা · 42/120
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-মায়িদা
سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ أَكَّالُونَ لِلسُّحْتِ ۚ فَإِن جَاءُوكَ فَاحْكُم بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ ۖ وَإِن تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَن يَضُرُّوكَ شَيْئًا ۖ وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُم بَيْنَهُم بِالْقِسْطِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ ۝٤٢
Sammaa`oona lilkazibi akkaaloona lissuht; fa in jaaa`ooka fahkum bainahum aw a`rid anhum wa in tu`rid `anhum falany-yadurrooka shai`anw wa in hakamta fahkum bainahum bilqist; innal laaha yuhibbul muqsiteen
📖 বাংলা অর্থ
এরা মিথ্যা বলার জন্যে গুপ্তচরবৃত্তি করে, হারাম ভক্ষণ করে। অতএব, তারা যদি আপনার কাছে আসে, তবে হয় তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন, না হয় তাদের ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকুন। যদি তাদের থেকে নির্লিপ্ত থাকেন, তবে তাদের সাধ্য নেই যে, আপনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারে। যদি ফয়সালা করেন, তবেন্যায় ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ — মিথ্যা শোনার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী, অর্থাৎ তারা মিথ্যা কথা শোনে এবং মিথ্যা সাক্ষ্য গ্রহণ করে।
  • أَكَّالُونَ لِلسُّحْتِ — হারাম ভক্ষণকারী; ‘সুহত’ হলো এমন হারাম সম্পদ যা অর্জন করলে লজ্জা ও অপমান বয়ে আনে এবং বরকত নষ্ট করে দেয়।
  • الْقِسْطِ — ন্যায়বিচার, ইনসাফ।
  • الْمُقْسِطِينَ — ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা, যারা বিচারে ইনসাফ করে।

তাফসীর:

এই আয়াতে ইয়াহুদীদের কিছু খারাপ স্বভাবের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। তারা মিথ্যা শোনার প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিল, অর্থাৎ তারা মিথ্যা সাক্ষ্য দিত, মিথ্যা কথা প্রচার করত এবং মিথ্যা সংবাদ শুনতে ভালোবাসত। আর তারা হারাম ভক্ষণেও অভ্যস্ত ছিল, যেমন ঘুষ, সুদ, এবং অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করা। এই আয়াতটি কা‘ব ইবনে আশরাফ ও তার অনুসারীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা মিথ্যা সাক্ষ্য গ্রহণ করত এবং ঘুষ খেয়ে বিচার করত।

এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল ﷺ-কে ইয়াহুদীদের বিচার প্রসঙ্গে এখতিয়ার দিয়েছেন। তারা যদি বিচার প্রার্থনা নিয়ে আসে, তবে রাসূল ﷺ চাইলে তাদের মধ্যে ফয়সালা করতে পারতেন, আর চাইলে বিরত থাকতে পারতেন। এটি ছিল তাদের প্রতি শাস্তিস্বরূপ এবং তাদের অবস্থা প্রকাশের জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আপনি যদি তাদের বিচার না করেন, তবে তারা আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি বিচার করেন, তবে অবশ্যই ন্যায়বিচার করবেন, এমনকি তারা শত্রু বা অন্যায়কারী হলেও। কারণ আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন, এবং ন্যায়বিচার সবার প্রতি সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

শিক্ষা ও ফয়দা:

  1. মিথ্যা কথা শোনা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং হারাম সম্পদ ভক্ষণ করা গুরুতর গুনাহ, যা থেকে প্রত্যেক মুসলিমের দূরে থাকা আবশ্যক।
  2. বিচারক বা নেতার উচিত সব সময় ন্যায়বিচার করা, এমনকি শত্রু বা অমুসলিমদের প্রতিও ইনসাফ বজায় রাখা।
  3. ইসলামের বিচারব্যবস্থা অত্যন্ত ন্যায়নিষ্ঠ; যেখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো স্থান নেই।
  4. আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে শত্রুদের ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকা যায়; রাসূল ﷺ-কে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, ইয়াহুদীদের ষড়যন্ত্র তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
  5. ন্যায়পরায়ণতা আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় গুণ, এবং ন্যায়পরায়ণদের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ লাভের মাধ্যম।


📜 আয়াত 40-44 — সূরা আল-মায়িদা

40أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ وَيَغْفِرُ لِمَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
তুমি কি জান না যে আল্লাহর নিমিত্তেই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আধিপত্য। তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
41۞ يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِن قُلُوبُهُمْ ۛ وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا ۛ سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ سَمَّاعُونَ لِقَوْمٍ آخَرِينَ لَمْ يَأْتُوكَ ۖ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِن بَعْدِ مَوَاضِعِهِ ۖ يَقُولُونَ إِنْ أُوتِيتُمْ هَٰذَا فَخُذُوهُ وَإِن لَّمْ تُؤْتَوْهُ فَاحْذَرُوا ۚ وَمَن يُرِدِ اللَّهُ فِتْنَتَهُ فَلَن تَمْلِكَ لَهُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا ۚ أُولَٰئِكَ الَّذِينَ لَمْ يُرِدِ اللَّهُ أَن يُطَهِّرَ قُلُوبَهُمْ ۚ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ ۖ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ
হে রসূল, তাদের জন্যে দুঃখ করবেন না, যারা দৌড়ে গিয়ে কুফরে পতিত হয়; যারা মুখে বলেঃ আমরা মুসলমান, অথচ তাদের অন্তর মুসলমান নয় এবং যারা ইহুদী; মিথ্যাবলার জন্যে তারা গুপ্তচর বৃত্তি করে। তারা অন্যদলের গুপ্তচর, যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা বাক্যকে স্বস্থান থেকে পরিবর্তন করে। তারা বলেঃ যদি তোমরা এ নির্দেশ পাও, তবে কবুল করে নিও এবং যদি এ নির্দেশ না পাও, তবে বিরত থেকো। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান, তার জন্যে আল্লাহর কাছে আপনি কিছু করতে পারবেন না। এরা এমনিই যে, আল্লাহ এদের অন্তরকে পবিত্র করতে চান না। তাদের জন্যে রয়েছে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা এবং পরকালে বিরাট শাস্তি।
42سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ أَكَّالُونَ لِلسُّحْتِ ۚ فَإِن جَاءُوكَ فَاحْكُم بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ ۖ وَإِن تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَن يَضُرُّوكَ شَيْئًا ۖ وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُم بَيْنَهُم بِالْقِسْطِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ
এরা মিথ্যা বলার জন্যে গুপ্তচরবৃত্তি করে, হারাম ভক্ষণ করে। অতএব, তারা যদি আপনার কাছে আসে, তবে হয় তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন, না হয় তাদের ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকুন। যদি তাদের থেকে নির্লিপ্ত থাকেন, তবে তাদের সাধ্য নেই যে, আপনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারে। যদি ফয়সালা করেন, তবেন্যায় ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।
43وَكَيْفَ يُحَكِّمُونَكَ وَعِندَهُمُ التَّوْرَاةُ فِيهَا حُكْمُ اللَّهِ ثُمَّ يَتَوَلَّوْنَ مِن بَعْدِ ذَٰلِكَ ۚ وَمَا أُولَٰئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ
তারা আপনাকে কেমন করে বিচারক নিয়োগ করবে অথচ তাদের কাছে তওরাত রয়েছে। তাতে আল্লাহর নির্দেশ আছে। অতঃপর এরা পেছন দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারা কখনও বিশ্বাসী নয়।
44إِنَّا أَنزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ ۚ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِن كِتَابِ اللَّهِ وَكَانُوا عَلَيْهِ شُهَدَاءَ ۚ فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ
আমি তওরাত অবর্তীর্ন করেছি। এতে হেদায়াত ও আলো রয়েছে। আল্লাহর আজ্ঞাবহ পয়গম্বর, দরবেশ ও আলেমরা এর মাধ্যমে ইহুদীদেরকে ফয়সালা দিতেন। কেননা, তাদেরকে এ খোদায়ী গ্রন্থের দেখাশোনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং তাঁরা এর রক্ষণাবেক্ষণে নিযুক্ত ছিলেন। অতএব, তোমরা মানুষকে ভয় করো না এবং আমাকে ভয় কর এবং আমার আয়াত সমূহের বিনিময়ে স্বল্পমূল্যে গ্রহণ করো না, যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফায়সালা করে না, তারাই কাফের।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
42আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 42

সূরা আল-মায়িদা আয়াত 42 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এরা মিথ্যা বলার জন্যে গুপ্তচরবৃত্তি করে, হারাম ভক্ষণ করে। অতএব,…

সূরা আয়াত 42/120 — সূরা আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-মায়িদা শুনুন, সূরা আল-মায়িদা অনুবাদ, সূরা আল-মায়িদা mp3, সূরা আল-মায়িদা pdf. আয়াত 40–44. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না