Sammaa`oona lilkazibi akkaaloona lissuht; fa in jaaa`ooka fahkum bainahum aw a`rid anhum wa in tu`rid `anhum falany-yadurrooka shai`anw wa in hakamta fahkum bainahum bilqist; innal laaha yuhibbul muqsiteen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
এরা মিথ্যা বলার জন্যে গুপ্তচরবৃত্তি করে, হারাম ভক্ষণ করে। অতএব, তারা যদি আপনার কাছে আসে, তবে হয় তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন, না হয় তাদের ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকুন। যদি তাদের থেকে নির্লিপ্ত থাকেন, তবে তাদের সাধ্য নেই যে, আপনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারে। যদি ফয়সালা করেন, তবেন্যায় ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ये (कम्बख्त) झूठी बातों को बड़े शौक़ से सुनने वाले और बड़े ही हरामख़ोर हैं तो (ऐ रसूल) अगर ये लोग तुम्हारे पास (कोई मामला लेकर) आए तो तुमको इख्तेयार है ख्वाह उनके दरमियान फैसला कर दो या उनसे किनाराकशी करो और अगर तुम किनाराकश रहोगे तो (कुछ ख्याल न करो) ये लोग तुम्हारा हरगिज़ कुछ बिगाड़ नहीं सकते और अगर उनमें फैसला करो तो इन्साफ़ से फैसला करो क्योंकि ख़ुदा इन्साफ़ करने वालों को दोस्त रखता है
এরা মিথ্যা বলার জন্যে গুপ্তচরবৃত্তি করে, হারাম ভক্ষণ করে। অতএব, তারা যদি আপনার কাছে আসে, তবে হয় তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন, না হয় তাদের ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকুন। যদি তাদের থেকে নির্লিপ্ত থাকেন, তবে তাদের সাধ্য নেই যে, আপনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারে। যদি ফয়সালা করেন, তবেন্যায় ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ — মিথ্যা শোনার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী, অর্থাৎ তারা মিথ্যা কথা শোনে এবং মিথ্যা সাক্ষ্য গ্রহণ করে।
أَكَّالُونَ لِلسُّحْتِ — হারাম ভক্ষণকারী; ‘সুহত’ হলো এমন হারাম সম্পদ যা অর্জন করলে লজ্জা ও অপমান বয়ে আনে এবং বরকত নষ্ট করে দেয়।
الْقِسْطِ — ন্যায়বিচার, ইনসাফ।
الْمُقْسِطِينَ — ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা, যারা বিচারে ইনসাফ করে।
তাফসীর:
এই আয়াতে ইয়াহুদীদের কিছু খারাপ স্বভাবের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। তারা মিথ্যা শোনার প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিল, অর্থাৎ তারা মিথ্যা সাক্ষ্য দিত, মিথ্যা কথা প্রচার করত এবং মিথ্যা সংবাদ শুনতে ভালোবাসত। আর তারা হারাম ভক্ষণেও অভ্যস্ত ছিল, যেমন ঘুষ, সুদ, এবং অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করা। এই আয়াতটি কা‘ব ইবনে আশরাফ ও তার অনুসারীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা মিথ্যা সাক্ষ্য গ্রহণ করত এবং ঘুষ খেয়ে বিচার করত।
এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল ﷺ-কে ইয়াহুদীদের বিচার প্রসঙ্গে এখতিয়ার দিয়েছেন। তারা যদি বিচার প্রার্থনা নিয়ে আসে, তবে রাসূল ﷺ চাইলে তাদের মধ্যে ফয়সালা করতে পারতেন, আর চাইলে বিরত থাকতে পারতেন। এটি ছিল তাদের প্রতি শাস্তিস্বরূপ এবং তাদের অবস্থা প্রকাশের জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আপনি যদি তাদের বিচার না করেন, তবে তারা আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি বিচার করেন, তবে অবশ্যই ন্যায়বিচার করবেন, এমনকি তারা শত্রু বা অন্যায়কারী হলেও। কারণ আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন, এবং ন্যায়বিচার সবার প্রতি সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
শিক্ষা ও ফয়দা:
মিথ্যা কথা শোনা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং হারাম সম্পদ ভক্ষণ করা গুরুতর গুনাহ, যা থেকে প্রত্যেক মুসলিমের দূরে থাকা আবশ্যক।
বিচারক বা নেতার উচিত সব সময় ন্যায়বিচার করা, এমনকি শত্রু বা অমুসলিমদের প্রতিও ইনসাফ বজায় রাখা।
ইসলামের বিচারব্যবস্থা অত্যন্ত ন্যায়নিষ্ঠ; যেখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো স্থান নেই।
আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে শত্রুদের ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকা যায়; রাসূল ﷺ-কে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, ইয়াহুদীদের ষড়যন্ত্র তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
ন্যায়পরায়ণতা আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় গুণ, এবং ন্যায়পরায়ণদের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ লাভের মাধ্যম।
হে রসূল, তাদের জন্যে দুঃখ করবেন না, যারা দৌড়ে গিয়ে কুফরে পতিত হয়; যারা মুখে বলেঃ আমরা মুসলমান, অথচ তাদের অন্তর মুসলমান নয় এবং যারা ইহুদী; মিথ্যাবলার জন্যে তারা গুপ্তচর বৃত্তি করে। তারা অন্যদলের গুপ্তচর, যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা বাক্যকে স্বস্থান থেকে পরিবর্তন করে। তারা বলেঃ যদি তোমরা এ নির্দেশ পাও, তবে কবুল করে নিও এবং যদি এ নির্দেশ না পাও, তবে বিরত থেকো। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান, তার জন্যে আল্লাহর কাছে আপনি কিছু করতে পারবেন না। এরা এমনিই যে, আল্লাহ এদের অন্তরকে পবিত্র করতে চান না। তাদের জন্যে রয়েছে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা এবং পরকালে বিরাট শাস্তি।
এরা মিথ্যা বলার জন্যে গুপ্তচরবৃত্তি করে, হারাম ভক্ষণ করে। অতএব, তারা যদি আপনার কাছে আসে, তবে হয় তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন, না হয় তাদের ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকুন। যদি তাদের থেকে নির্লিপ্ত থাকেন, তবে তাদের সাধ্য নেই যে, আপনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারে। যদি ফয়সালা করেন, তবেন্যায় ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।
তারা আপনাকে কেমন করে বিচারক নিয়োগ করবে অথচ তাদের কাছে তওরাত রয়েছে। তাতে আল্লাহর নির্দেশ আছে। অতঃপর এরা পেছন দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারা কখনও বিশ্বাসী নয়।
আমি তওরাত অবর্তীর্ন করেছি। এতে হেদায়াত ও আলো রয়েছে। আল্লাহর আজ্ঞাবহ পয়গম্বর, দরবেশ ও আলেমরা এর মাধ্যমে ইহুদীদেরকে ফয়সালা দিতেন। কেননা, তাদেরকে এ খোদায়ী গ্রন্থের দেখাশোনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং তাঁরা এর রক্ষণাবেক্ষণে নিযুক্ত ছিলেন। অতএব, তোমরা মানুষকে ভয় করো না এবং আমাকে ভয় কর এবং আমার আয়াত সমূহের বিনিময়ে স্বল্পমূল্যে গ্রহণ করো না, যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফায়সালা করে না, তারাই কাফের।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।