Turjee man tashaaa`u minhunna wa tu`weee ilaika man tashaaa`u wa manibta ghaita mimman `azalta falaa junaaha `alaik; zaalika adnaaa an taqarra a`yunuhunna wa laa yahzanna wa yardaina bimaa aataitahunna kulluhunn; wal laahu ya`lamu maa fee quloo bikum; wa kaanal laahu `Aleeman haleemaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারেন। আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে কামনা করলে তাতে আপনার কোন দোষ নেই। এতে অধিক সম্ভাবনা আছে যে, তাদের চক্ষু শীতল থাকবে; তারা দুঃখ পাবে না এবং আপনি যা দেন, তাতে তারা সকলেই সন্তুষ্ট থাকবে। তোমাদের অন্তরে যা আছে, আল্লাহ জানেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
इनमें से जिसको (जब) चाहो अलग कर दो और जिसको (जब तक) चाहो अपने पास रखो और जिन औरतों को तुमने अलग कर दिया था अगर फिर तुम उनके ख्वाहॉ हो तो भी तुम पर कोई मज़ाएक़ा नहीं है ये (अख़तेयार जो तुमको दिया गया है) ज़रूर इस क़ाबिल है कि तुम्हारी बीवियों की ऑंखें ठन्डी रहे और आर्जूदा ख़ातिर न हो और वो कुछ तुम उन्हें दे दो सबकी सब उस पर राज़ी रहें और जो कुछ तुम्हारे दिलों में है खुदा उसको ख़ुब जानता है और खुदा तो बड़ा वाक़िफकार बुर्दबार है
আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারেন। আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে কামনা করলে তাতে আপনার কোন দোষ নেই। এতে অধিক সম্ভাবনা আছে যে, তাদের চক্ষু শীতল থাকবে; তারা দুঃখ পাবে না এবং আপনি যা দেন, তাতে তারা সকলেই সন্তুষ্ট থাকবে। তোমাদের অন্তরে যা আছে, আল্লাহ জানেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
تُرْجِي = তুমি বিলম্ব করবে, পিছিয়ে দেবে।
وَتُؤْوِي = তুমি কাছে স্থান দেবে, গ্রহণ করবে।
مِمَّنْ عَزَلْتَ = যাদেরকে তুমি (প্রথমে) আলাদা রেখেছিলে।
جُنَاح = পাপ, দোষ, গুনাহ।
أَدْنَى = আরও নিকটতর, বেশি উপযুক্ত।
تَقَرَّ أَعْيُنُهُنَّ = তাদের চোখ শীতল হবে (তারা সন্তুষ্ট হবে)।
তাফসীর:
হে নবী! আল্লাহ তাআলা আপনাকে বিশেষ সুযোগ দিয়েছেন। আপনার স্ত্রীদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা আপনি নিজের কাছে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা সাময়িকভাবে দূরে রাখতে পারেন—অর্থাৎ রাত কাটানোর ক্ষেত্রে বা সময় বণ্টনের ক্ষেত্রে আপনি ইচ্ছামতো ব্যবস্থা নিতে পারেন। আর যদি আপনি এমন কাউকে পুনরায় কাছে ডাকতে চান যাকে আগে দূরে রেখেছিলেন, তাতেও আপনার ওপর কোনো পাপ নেই। এটি ছিল বিশেষ করে আপনার জন্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ছাড় ও সুবিধা।
এরপর আল্লাহ তাআলা এর হikmah (প্রজ্ঞা) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এই ইখতিয়ার বা স্বাধীনতা প্রদানই তাদের জন্য বেশি কল্যাণকর। কারণ যখন তারা জানবে যে, আপনার কাছে আসা বা না-আসা সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল এবং এটি আল্লাহর নির্দেশেই হচ্ছে, তখন তাদের অন্তরে কোনো অভিমান বা হিংসা জন্মাবে না। বরং তারা খুশি থাকবে, তাদের চোখ শীতল হবে, তারা দুঃখিত হবে না এবং আপনি যা কিছু তাদের দেবেন বা দেবেন না—সবকিছুতেই তারা সন্তুষ্ট থাকবে। কারণ তারা নিশ্চিত থাকবে যে, এটি আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ীই হচ্ছে।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, তিনি জানেন তোমাদের (পুরুষদের) অন্তরে কী আছে—অর্থাৎ কোনো স্ত্রীর প্রতি স্বাভাবিক মানবীয় আকর্ষণ বা বেশি ভালোবাসা থাকতে পারে। আল্লাহ তা জানেন এবং তিনি ক্ষমাশীল, সহনশীল। তিনি তোমাদের দুর্বলতা বা স্বাভাবিক মানবীয় অনুভূতির জন্য তোমাদেরকে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেন না; বরং তিনি ধৈর্য ধরেন এবং সুযোগ দেন।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সা.)-কে বিশেষ সুবিধা দিয়েছিলেন, যা ছিল তাঁর মর্যাদা ও বিশেষ অবস্থানের কারণে। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের ওপর বিশেষ অনুগ্রহ করেন।
ইসলামে স্ত্রীদের সাথে ন্যায়বিচার ও সুন্দর আচরণের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে যেখানে শরিয়তের নির্দেশ থাকে, সেখানে ব্যক্তিগত ইচ্ছার ঊর্ধ্বে আল্লাহর নির্দেশই প্রাধান্য পায়।
পারিবারিক জীবনে শান্তি ও সন্তুষ্টি বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা। যখন সবাই জানে যে, সিদ্ধান্ত আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী হচ্ছে, তখন মনে কোনো কষ্ট বা অভিমান থাকে না।
আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তাই আমাদের উচিত অন্তরকে পবিত্র রাখা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করা।
আল্লাহ সহনশীল ও ক্ষমাশীল। তিনি বান্দার ছোটখাটো দুর্বলতা বা ভুলের জন্য তাৎক্ষণিক শাস্তি দেন না; বরং তিনি তাওবার সুযোগ দেন। এটি আল্লাহর অশেষ রহমতের পরিচয়।
মুমিনগণ! তোমরা যখন মুমিন নারীদেরকে বিবাহ কর, অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তখন তাদেরকে ইদ্দত পালনে বাধ্য করার অধিকার তোমাদের নাই। অতঃপর তোমরা তাদেরকে কিছু দেবে এবং উত্তম পন্থায় বিদায় দেবে।
হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারেন। আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে কামনা করলে তাতে আপনার কোন দোষ নেই। এতে অধিক সম্ভাবনা আছে যে, তাদের চক্ষু শীতল থাকবে; তারা দুঃখ পাবে না এবং আপনি যা দেন, তাতে তারা সকলেই সন্তুষ্ট থাকবে। তোমাদের অন্তরে যা আছে, আল্লাহ জানেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
এরপর আপনার জন্যে কোন নারী হালাল নয় এবং তাদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করাও হালাল নয় যদিও তাদের রূপলাবণ্য আপনাকে মুগ্ধ করে, তবে দাসীর ব্যাপার ভিন্ন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ের উপর সজাগ নজর রাখেন।
হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাওয়ার জন্য আহার্য রন্ধনের অপেক্ষা না করে নবীর গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমরা আহুত হলে প্রবেশ করো, তবে অতঃপর খাওয়া শেষে আপনা আপনি চলে যেয়ো, কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় এটা নবীর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু আল্লাহ সত্যকথা বলতে সংকোচ করেন না। তোমরা তাঁর পত্নীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্যে এবং তাঁদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ। আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর ওফাতের পর তাঁর পত্নীগণকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়। আল্লাহর কাছে এটা গুরুতর অপরাধ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।