আল-আহযাব · 50/73
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আহযাব
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَاجَكَ اللَّاتِي آتَيْتَ أُجُورَهُنَّ وَمَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْكَ وَبَنَاتِ عَمِّكَ وَبَنَاتِ عَمَّاتِكَ وَبَنَاتِ خَالِكَ وَبَنَاتِ خَالَاتِكَ اللَّاتِي هَاجَرْنَ مَعَكَ وَامْرَأَةً مُّؤْمِنَةً إِن وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ إِنْ أَرَادَ النَّبِيُّ أَن يَسْتَنكِحَهَا خَالِصَةً لَّكَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ۗ قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَيْهِمْ فِي أَزْوَاجِهِمْ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ لِكَيْلَا يَكُونَ عَلَيْكَ حَرَجٌ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا ۝٥٠
Yaaa aiyuhan Nabiyyu innaaa ahlalnaa laka azwaa jakal laatee aayaita ujoora hunna wa maa malakat yameenuka mimmaaa afaaa`al laahu `alaika wa banaati `ammika wa banaati `ammaatika wa banaati khaalika wa banaati khaalaa tikal laatee haajarna ma`aka wamra atam mu`minatan inw wahabat nafsahaa lin Nabiyyi in araadan Nabiyyu ai yastan kihahaa khaalisatal laka min doonil mu`mineen; qad `alim naa maa faradnaa `alaihim feee azwaajihim wa maa malakat aimaanuhum likailaa yakoona `alaika haraj; wa kaanal laahu Ghafoorar Raheema
📖 বাংলা অর্থ
হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أُجُورَهُنَّ – তাদের মাহর (দেনমোহর)।
  • مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ – তোমার মালিকানাধীন দাসীগণ।
  • أَفَاءَ اللهُ عَلَيْكَ – আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও গনিমত)।
  • هَاجَرْنَ مَعَكَ – যারা তোমার সাথে হিজরত করেছে (মক্কা থেকে মদিনায়)।
  • وَهَبَتْ نَفْسَهَا – নিজেকে দান করেছে (বিনা মাহরে)।
  • يَسْتَنكِحَهَا – তাকে বিয়ে করা।
  • خَالِصَةً لَّكَ – বিশেষভাবে তোমার জন্য নির্দিষ্ট।
  • حَرَجٌ – সংকীর্ণতা, কষ্ট বা অসুবিধা।

তাফসীর:

হে নবী! আমি তোমার জন্য তোমার স্ত্রীদেরকে বৈধ করেছি, যাদেরকে তুমি মাহর প্রদান করেছ। আরও বৈধ করেছি তোমার মালিকানাধীন দাসীদেরকে, যাদেরকে আল্লাহ তোমাকে গনিমত হিসেবে দান করেছেন। তদ্রূপ বৈধ করেছি তোমার চাচার কন্যা, ফুফুর কন্যা, মামার কন্যা এবং খালার কন্যাদেরকে—যারা তোমার সাথে হিজরত করেছে। আরও বৈধ করেছি কোনো মুমিন নারীকে, যদি সে নিজেকে নবীর জন্য দান করে এবং নবী তাকে বিয়ে করতে চান—এটি কোনো মাহর ছাড়াই। তবে এই বিশেষ অনুমতি (নিজেকে দান করা নারীকে বিয়ে করা) শুধুমাত্র আপনার জন্য নির্দিষ্ট, অন্য মুমিনদের জন্য প্রযোজ্য নয়।

আমি অবশ্যই জানি যা আমি মুমিনদের উপর তাদের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে নির্ধারণ করেছি—যেমন তারা চারটি স্ত্রীর বেশি রাখতে পারবে না এবং দাসীদের ব্যাপারে নির্দিষ্ট বিধান। আমি আপনার জন্য এই বিধানগুলো শিথিল করেছি, যাতে আপনার জন্য কোনো সংকীর্ণতা বা অসুবিধা না হয়। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু—তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করে বিধান সহজ করেছেন।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. বিধানের সহজতা: আল্লাহ তাঁর নবীকে বিশেষ কিছু অনুমতি দিয়েছেন, যা দেখায় যে ইসলামের বিধানগুলো মানুষের সামর্থ্য ও অবস্থা বিবেচনা করেই নির্ধারিত। আল্লাহ চান তাঁর বান্দাদের জীবন সহজ হোক, কঠিন নয়।
  2. স্ত্রীদের সম্মান: আয়াতে স্ত্রীদের মাহর প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা নারীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সম্মানের নিশ্চয়তা দেয়। ইসলাম নারীর অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে।
  3. আত্মীয়তার সম্পর্ক: আয়াতে চাচা, ফুফু, মামা, খালার কন্যাদের সাথে বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় করতে সহায়ক। ইসলাম পরিবার ও আত্মীয়তার সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।
  4. বিশেষ মর্যাদা: নবী (সা.)-এর প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও মর্যাদা এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয়। তবে এটি শুধু নবীর জন্য নির্দিষ্ট ছিল, সাধারণ মুমিনদের জন্য নয়—যা ইসলামের ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলা প্রতিফলিত করে।
  5. আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া: আয়াতের শেষে আল্লাহ নিজেকে "ক্ষমাশীল ও দয়ালু" হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি মুমিনদের জন্য আশার বার্তা—তারা যতই ভুল করুক না কেন, আল্লাহর দরজা সর্বদা খোলা। তওবা করলেই তিনি ক্ষমা করবেন।
  6. আনুগত্যের পুরস্কার: যারা হিজরত করেছে (আল্লাহর পথে ত্যাগ স্বীকার করেছে) তাদের প্রতি বিশেষ সম্মান দেখানো হয়েছে। এটি শিক্ষা দেয় যে আল্লাহর পথে কুরবানি কখনো বৃথা যায় না।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 48-52 — আল-আহযাব

48وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ وَدَعْ أَذَاهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَكِيلًا
আপনি কাফের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না এবং তাদের উৎপীড়ন উপেক্ষা করুন ও আল্লাহর উপর ভরসা করুন। আল্লাহ কার্যনিবার্হীরূপে যথেষ্ট।
49يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَكَحْتُمُ الْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِن قَبْلِ أَن تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّونَهَا ۖ فَمَتِّعُوهُنَّ وَسَرِّحُوهُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا
মুমিনগণ! তোমরা যখন মুমিন নারীদেরকে বিবাহ কর, অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তখন তাদেরকে ইদ্দত পালনে বাধ্য করার অধিকার তোমাদের নাই। অতঃপর তোমরা তাদেরকে কিছু দেবে এবং উত্তম পন্থায় বিদায় দেবে।
50يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَاجَكَ اللَّاتِي آتَيْتَ أُجُورَهُنَّ وَمَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْكَ وَبَنَاتِ عَمِّكَ وَبَنَاتِ عَمَّاتِكَ وَبَنَاتِ خَالِكَ وَبَنَاتِ خَالَاتِكَ اللَّاتِي هَاجَرْنَ مَعَكَ وَامْرَأَةً مُّؤْمِنَةً إِن وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ إِنْ أَرَادَ النَّبِيُّ أَن يَسْتَنكِحَهَا خَالِصَةً لَّكَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ۗ قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَيْهِمْ فِي أَزْوَاجِهِمْ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ لِكَيْلَا يَكُونَ عَلَيْكَ حَرَجٌ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
51۞ تُرْجِي مَن تَشَاءُ مِنْهُنَّ وَتُؤْوِي إِلَيْكَ مَن تَشَاءُ ۖ وَمَنِ ابْتَغَيْتَ مِمَّنْ عَزَلْتَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكَ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَن تَقَرَّ أَعْيُنُهُنَّ وَلَا يَحْزَنَّ وَيَرْضَيْنَ بِمَا آتَيْتَهُنَّ كُلُّهُنَّ ۚ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا فِي قُلُوبِكُمْ ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَلِيمًا
আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারেন। আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে কামনা করলে তাতে আপনার কোন দোষ নেই। এতে অধিক সম্ভাবনা আছে যে, তাদের চক্ষু শীতল থাকবে; তারা দুঃখ পাবে না এবং আপনি যা দেন, তাতে তারা সকলেই সন্তুষ্ট থাকবে। তোমাদের অন্তরে যা আছে, আল্লাহ জানেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
52لَّا يَحِلُّ لَكَ النِّسَاءُ مِن بَعْدُ وَلَا أَن تَبَدَّلَ بِهِنَّ مِنْ أَزْوَاجٍ وَلَوْ أَعْجَبَكَ حُسْنُهُنَّ إِلَّا مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ رَّقِيبًا
এরপর আপনার জন্যে কোন নারী হালাল নয় এবং তাদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করাও হালাল নয় যদিও তাদের রূপলাবণ্য আপনাকে মুগ্ধ করে, তবে দাসীর ব্যাপার ভিন্ন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ের উপর সজাগ নজর রাখেন।
আল-আহযাবকুরআন সূচী
73আয়াত
মাদানীRevelation
50আয়াত

অনুবাদ — আল-আহযাব 50

সূরা আল-আহযাব আয়াত 50 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি…

সূরা আয়াত 50/73 — আল-আহযাব الأحزاب (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আহযাব শুনুন, আল-আহযাব অনুবাদ, আল-আহযাব mp3, আল-আহযাব pdf. আয়াত 48–52. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না