الْكُفَّارِ অর্থ: যারা প্রকাশ্যে কুফরি করে এবং তা ঘোষণা করে।
الْمُنَافِقِينَ অর্থ: যারা অন্তরে কুফরি লুকিয়ে রেখে মুখে ঈমান প্রকাশ করে।
وَاغْلُظْ অর্থ: কঠোর ও কঠিন আচরণ করা, নম্রতা না দেখানো।
مَأْوَاهُمْ অর্থ: তাদের আবাসস্থল বা আশ্রয়স্থল।
الْمَصِيرِ অর্থ: প্রত্যাবর্তনের স্থান বা পরিণতি।
তাফসির:
হে নবী! আপনি কাফিরদের বিরুদ্ধে তরবারি ও যুদ্ধের মাধ্যমে জিহাদ করুন, কারণ তারা প্রকাশ্যে কুফরি ঘোষণা করেছে এবং সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আর মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন প্রমাণ ও হুজ্জতের মাধ্যমে, তাদের কপটতা ও ষড়যন্ত্র উন্মোচনের মাধ্যমে এবং তাদের উপর ইসলামি শাস্তি (হুদুদ) ও শরিয়তের বিধান প্রয়োগের মাধ্যমে। উভয় দলের সাথে কঠোরতা ও কঠিন আচরণ করুন, যেন তারা আপনার ভয় ও সম্মান অনুভব করে এবং দুষ্কর্ম থেকে বিরত থাকে। তাদের চূড়ান্ত পরিণতি ও আবাসস্থল হলো জাহান্নাম, যা অত্যন্ত নিকৃষ্ট ও জঘন্য প্রত্যাবর্তনস্থল। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং শাস্তি ভোগ করবে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
ইসলাম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে প্রতিষ্ঠিত থাকার জন্য শত্রুদের মোকাবিলা করার নির্দেশ দেয়—প্রকাশ্য শত্রুদের বিরুদ্ধে শক্তি দিয়ে এবং গোপন শত্রুদের বিরুদ্ধে কৌশল, প্রমাণ ও শাস্তির মাধ্যমে।
নবী (সা.)-কে সম্বোধন করে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এর মাধ্যমে উম্মতের নেতা ও দায়িত্বশীলদের জন্যও নির্দেশনা রয়েছে যে, তারা যেন সত্যের পক্ষে অবিচল থাকে এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।
মুনাফিকদের সাথে কঠোরতা ও তাদের চক্রান্ত উন্মোচন করা জরুরি, কারণ তারা সমাজের জন্য কাফিরদের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর—তারা ভেতর থেকে ইসলামকে দুর্বল করার চেষ্টা করে।
এই আয়াত মুমিনদের মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস জাগিয়ে তোলে যে, শত্রুদের যতই ক্ষমতা থাকুক না কেন, তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তাই মুমিনদের উচিত আল্লাহর পথে ধৈর্য ও সাহসের সাথে লড়াই করা এবং পরকালের সাফল্যের প্রতিই দৃষ্টি রাখা।
ইসলাম শান্তি ও সহনশীলতার ধর্ম, কিন্তু জুলুম, কুফরি ও ফাসাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়াও ইসলামেরই অংশ—যাতে সমাজে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত থাকে।
মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ তা’আলার কাছে তওবা কর-আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেদিন আল্লাহ নবী এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানদিকে ছুটোছুটি করবে। তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর সর্ব শক্তিমান।
আল্লাহ তা’আলা কাফেরদের জন্যে নূহ-পত্নী ও লূত-পত্নীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। তারা ছিল আমার দুই ধর্মপরায়ণ বান্দার গৃহে। অতঃপর তারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। ফলে নূহ ও লূত তাদেরকে আল্লাহ তা’আলার কবল থেকে রক্ষা করতে পারল না এবং তাদেরকে বলা হলঃ জাহান্নামীদের সাথে জাহান্নামে চলে যাও।
আল্লাহ তা’আলা মুমিনদের জন্যে ফেরাউন-পত্নীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা! আপনার সন্নিকটে জান্নাতে আমার জন্যে একটি গৃহ নির্মাণ করুন, আমাকে ফেরাউন ও তার দুস্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন এবং আমাকে যালেম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।