Huwal lazee yusaiyirukum fil barri walbahri hattaaa izaa kuntum fil fulki wa jaraina bihim bireeh in taiyibatinw wa farihoo bihaa jaaa`at haa reehun `aasifunw wa jaaa`ahumul mawju min kulli makaaninw wa zannooo annahum uheeta bihim da`awul laaha mukhliseena lahud deena la`in anjaitanaa min haazihee lanakoonannna minash shaakireen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তিনিই তোমাদের ভ্রমন করান স্থলে ও সাগরে। এমনকি যখন তোমরা নৌকাসমূহে আরোহণ করলে আর তা লোকজনকে অনুকূল হাওয়ায় বয়ে নিয়ে চলল এবং তাতে তারা আনন্দিত হল, নৌকাগুলোর উপর এল তীব্র বাতাস, আর সর্বদিক থেকে সেগুলোর উপর ঢেউ আসতে লাগল এবং তারা জানতে পারল যে, তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন ডাকতে লাগল আল্লাহকে তাঁর এবাদতে নিঃস্বার্থ হয়ে যদি তুমি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করে তোল, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
वह वही ख़ुदा है जो तुम्हें ख़ुश्की और दरिया में सैर कराता फिरता है यहाँ तक कि जब (कभी) तुम कश्तियों पर सवार होते हो और वह उन लोगों को बाद मुवाफिक़ (हवा के धारे) की मदद से लेकर चली और लोग उस (की रफ्तार) से ख़ुश हुए (यकायक) कश्ती पर हवा का एक झोंका आ पड़ा और (आना था कि) हर तरफ से उस पर लहरें (बढ़ी चली) आ रही हैं और उन लोगों ने समझ लिया कि अब घिर गए (और जान न बचेगी) तब अपने अक़ीदे को उसके वास्ते निरा खरा करके खुदा से दुआएँ मागँने लगते हैं कि (ख़ुदाया) अगर तूने इस (मुसीबत) से हमें नजात दी तो हम ज़रुर बड़े शुक्र गुज़ार होंगे
তিনিই তোমাদের ভ্রমন করান স্থলে ও সাগরে। এমনকি যখন তোমরা নৌকাসমূহে আরোহণ করলে আর তা লোকজনকে অনুকূল হাওয়ায় বয়ে নিয়ে চলল এবং তাতে তারা আনন্দিত হল, নৌকাগুলোর উপর এল তীব্র বাতাস, আর সর্বদিক থেকে সেগুলোর উপর ঢেউ আসতে লাগল এবং তারা জানতে পারল যে, তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন ডাকতে লাগল আল্লাহকে তাঁর এবাদতে নিঃস্বার্থ হয়ে যদি তুমি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করে তোল, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
يُسَيِّرُكُمْ – তোমাদের চলাচল করান / পরিচালনা করেন।
الْفُلْكِ – জাহাজ (একবচন ও বহুবচন উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়)।
رِيحٍ طَيِّبَةٍ – মৃদু ও আরামদায়ক বাতাস।
عَاصِفٌ – প্রচণ্ড ও ঝড়ো বাতাস।
الْمَوْجُ – সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ।
أُحِيطَ بِهِمْ – তাদেরকে ঘিরে ফেলা হয়েছে অর্থাৎ তারা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছে।
مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ – একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদত ও ডাকে একনিষ্ঠ হওয়া।
তাফসীর:
তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের স্থলে ও সমুদ্রে চলাচল করান। স্থলে তিনি তোমাদের পায়ে হাঁটার শক্তি দেন এবং বাহনসমূহকে তোমাদের অনুগত করেন। আর সমুদ্রে তিনি জাহাজসমূহকে তোমাদের জন্য সচল করেন। যখন তোমরা জাহাজে আরোহণ করো এবং জাহাজটি মৃদু ও মনোরম বাতাসের সাহায্যে সামনের দিকে এগিয়ে চলে, তখন যাত্রীরা এই সুখকর যাত্রায় আনন্দিত হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই মৃদু বাতাসের পরিবর্তে প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করে এবং চারদিক থেকে বিশাল বিশাল ঢেউ এসে জাহাজকে আঘাত করতে থাকে। তখন তারা নিশ্চিত হয়ে যায় যে, তারা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসের কবলে পড়েছে এবং তাদের রক্ষার আর কোনো উপায় নেই। এই ভয়াবহ মুহূর্তে তারা সবকিছু ভুলে গিয়ে একমাত্র আল্লাহকেই ডাকে। তারা তাদের সমস্ত মিথ্যা উপাস্যকে পরিত্যাগ করে খাঁটি মনে একমাত্র আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে এবং অঙ্গীকার করে যে, "হে আল্লাহ! তুমি যদি আমাদেরকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করো, তবে আমরা সত্যিই তোমার কৃতজ্ঞ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হব এবং তোমার একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করব।"
শিক্ষা ও উপদেশ:
বিপদ-আপদে মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো একমাত্র আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। এটি প্রমাণ করে যে, তাওহিদ (একত্ববাদ) মানুষের ফিতরাতের (স্বভাবের) মধ্যে নিহিত।
সুখ-সমৃদ্ধির সময় আল্লাহকে ভুলে থাকা এবং কেবল বিপদে তাঁকে ডাকা উচিত নয়। বরং সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ ও অনুগত থাকা ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য।
এই আয়াত মানুষের দুর্বলতা ও অসহায়ত্বকে তুলে ধরে। যখন মানুষ সমুদ্রের বিশালতা ও প্রকৃতির শক্তির মুখোমুখি হয়, তখন সে বুঝতে পারে যে, তার সমস্ত ক্ষমতা নগণ্য এবং প্রকৃত কর্তা একমাত্র আল্লাহ।
বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং ওয়াদা পূরণ করা অপরিহার্য। কারণ আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার পর আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়া অকৃতজ্ঞতার পরিচায়ক।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, দুনিয়ার জীবনে নিরাপত্তা ও শান্তি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তাই আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর উপর ভরসা করা এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।
বস্তুতঃ তারা বলে, তাঁর কাছে তাঁর পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ এল না কেন? বলে দাও গায়েবের কথা আল্লাহই জানেন। আমি ও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।
আর যখন আমি আস্বাদন করাই স্বীয় রহমত সে কষ্টের পর, যা তাদের ভোগ করতে হয়েছিল, তখনই তারা আমার শক্তিমত্তার মাঝে নানা রকম ছলনা তৈরী করতে আরম্ভ করবে। আপনি বলে দিন, আল্লাহ সবচেয়ে দ্রুত কলা-কৌশল তৈরী করতে পারেন। নিশ্চয়ই আমাদের ফেরেশতারা লিখে রাখে তোমাদের ছল-চাতুরী।
তিনিই তোমাদের ভ্রমন করান স্থলে ও সাগরে। এমনকি যখন তোমরা নৌকাসমূহে আরোহণ করলে আর তা লোকজনকে অনুকূল হাওয়ায় বয়ে নিয়ে চলল এবং তাতে তারা আনন্দিত হল, নৌকাগুলোর উপর এল তীব্র বাতাস, আর সর্বদিক থেকে সেগুলোর উপর ঢেউ আসতে লাগল এবং তারা জানতে পারল যে, তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন ডাকতে লাগল আল্লাহকে তাঁর এবাদতে নিঃস্বার্থ হয়ে যদি তুমি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করে তোল, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।
তারপর যখন তাদেরকে আল্লাহ বাঁচিয়ে দিলেন, তখনই তারা পৃথিবীতে অনাচার করতে লাগল অন্যায় ভাবে। হে মানুষ! শোন, তোমাদের অনাচার তোমাদেরই উপর পড়বে। পার্থিব জীবনের সুফল ভোগ করে নাও-অতঃপর আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন আমি বাতলে দেব, যা কিছু তোমরা করতে।
পার্থিব জীবনের উদাহরণ তেমনি, যেমনি আমি আসমান থেকে পানি বর্ষন করলাম, পরে তা মিলিত সংমিশ্রিত হয়ে তা থেকে যমীনের শ্যামল উদ্ভিদ বেরিয়ে এল যা মানুষ ও জীব-জন্তুরা খেয়ে থাকে। এমনকি যমীন যখন সৌন্দর্য সুষমায় ভরে উঠলো আর যমীনের অধিকর্তারা ভাবতে লাগল, এগুলো আমাদের হাতে আসবে, হঠাৎ করে তার উপর আমার নির্দেশ এল রাত্রে কিংবা দিনে, তখন সেগুলোকে কেটে স্তুপাকার করে দিল যেন কাল ও এখানে কোন আবাদ ছিল না। এমনিভাবে আমি খোলাখুলি বর্ণনা করে থাকি নিদর্শণসমূহ সে সমস্ত লোকদের জন্য যারা লক্ষ্য করে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।