আর যখন আমি আস্বাদন করাই স্বীয় রহমত সে কষ্টের পর, যা তাদের ভোগ করতে হয়েছিল, তখনই তারা আমার শক্তিমত্তার মাঝে নানা রকম ছলনা তৈরী করতে আরম্ভ করবে। আপনি বলে দিন, আল্লাহ সবচেয়ে দ্রুত কলা-কৌশল তৈরী করতে পারেন। নিশ্চয়ই আমাদের ফেরেশতারা লিখে রাখে তোমাদের ছল-চাতুরী।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और लोगों को जो तकलीफ पहुँची उसके बाद जब हमने अपनी रहमत का जाएक़ा चखा दिया तो यकायक उन लोगों से हमारी आयतों में हीले बाज़ी शुरू कर दी (ऐ रसूल) तुम कह दो कि तद्बीर में ख़ुदा सब से ज्यादा तेज़ है तुम जो कुछ मक्कारी करते हो वह हमारे भेजे हुए (फरिश्ते) लिखते जाते हैं
রুসুলুনা – আমাদের প্রেরিত ফেরেশতাগণ (হাফাযা তথা রক্ষণাবেক্ষণকারী ফেরেশতা)।
তাফসীর:
যখন আমি মানুষকে (বিশেষ করে মক্কার কাফিরদের) দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদের পর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, বৃষ্টি ও প্রাচুর্য দান করি, তখন তারা আমার অনুগ্রহের শুকরিয়া আদায় করার পরিবর্তে আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে এবং সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে শুরু করে। তারা আমার নিদর্শনসমূহকে বাতিল করার জন্য নানা কৌশল ও চক্রান্ত আঁটে।
হে নবী! আপনি এই চক্রকারী সম্প্রদায়কে বলে দিন: আল্লাহ তোমাদের চক্রান্তের চেয়ে অনেক দ্রুততর প্রতিদান দানকারী। তোমরা যতই গোপন চক্রান্ত করো না কেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদেরকে ধীরে ধীরে পাকড়াও করা হবে এবং তোমাদের চক্রান্তের শাস্তি অতি দ্রুত তোমাদের ওপর নেমে আসবে। তোমাদের ধারণা যেন না হয় যে, তোমাদের চক্রান্ত আল্লাহর দৃষ্টি এড়িয়ে যাবে। আমাদের নিযুক্ত হাফাযা (রক্ষণাবেক্ষণকারী) ফেরেশতাগণ তোমাদের প্রতিটি চক্রান্ত, প্রতিটি কুমন্ত্রণা ও প্রতিটি ষড়যন্ত্র লিপিবদ্ধ করছেন। তারা তোমাদের কোনো কাজই বাদ দিচ্ছেন না। অতঃপর কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে এসবের পূর্ণ হিসাব দিতে হবে এবং তোমাদের চক্রান্তের উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করতে হবে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
মানুষের উচিত সুখ-দুঃখ উভয় অবস্থায় আল্লাহর দিকে ফেরা। বিপদে ধৈর্য ধরা এবং সুখে শুকরিয়া আদায় করা। কিন্তু মুনাফিক ও কাফিররা বিপদে আল্লাহকে ডাকে, আর সুখ পেলে আল্লাহকে ভুলে যায় এবং তাঁর নিদর্শন নিয়ে ঠাট্টা করে — এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় আচরণ।
আল্লাহর পাকড়াও অত্যন্ত দ্রুত ও কঠোর। কেউ মনে করবে না যে, আল্লাহর চক্রান্ত থেকে বাঁচা যাবে। আল্লাহ যাকে পাকড়াও করেন, তাকে কেউ রক্ষা করতে পারে না।
প্রতিটি মানুষের সঙ্গে আল্লাহর ফেরেশতারা নিয়োজিত আছেন, যারা মানুষের প্রতিটি ভালো-মন্দ কাজ লিপিবদ্ধ করছেন। তাই আমাদের উচিত গোপনে ও প্রকাশ্যে সর্বদা সতর্ক থাকা এবং এমন কোনো কাজ না করা, যা লজ্জাজনক বা পাপজনক।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, ইসলামে গোপন চক্রান্ত ও প্রতারণার কোনো স্থান নেই। মুমিনের চরিত্র হবে স্বচ্ছ ও সততার ভিত্তিতে গড়া। আর যারা চক্রান্ত করে, তাদের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ — আল্লাহই তাদের চক্রান্তের সবচেয়ে দ্রুত জবাব দেবেন।
আর যখন আমি আস্বাদন করাই স্বীয় রহমত সে কষ্টের পর, যা তাদের ভোগ করতে হয়েছিল, তখনই তারা আমার শক্তিমত্তার মাঝে নানা রকম ছলনা তৈরী করতে আরম্ভ করবে। আপনি বলে দিন, আল্লাহ সবচেয়ে দ্রুত কলা-কৌশল তৈরী করতে পারেন। নিশ্চয়ই আমাদের ফেরেশতারা লিখে রাখে তোমাদের ছল-চাতুরী।
আর সমস্ত মানুষ একই উম্মতভুক্ত ছিল, পরে পৃথক হয়ে গেছে। আর একটি কথা যদি তোমার পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে পূর্ব নির্ধারিত না হয়ে যেত; তবে তারা যে বিষয়ে বিরোধ করছে তার মীমাংসা হয়ে যেত।
বস্তুতঃ তারা বলে, তাঁর কাছে তাঁর পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ এল না কেন? বলে দাও গায়েবের কথা আল্লাহই জানেন। আমি ও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।
আর যখন আমি আস্বাদন করাই স্বীয় রহমত সে কষ্টের পর, যা তাদের ভোগ করতে হয়েছিল, তখনই তারা আমার শক্তিমত্তার মাঝে নানা রকম ছলনা তৈরী করতে আরম্ভ করবে। আপনি বলে দিন, আল্লাহ সবচেয়ে দ্রুত কলা-কৌশল তৈরী করতে পারেন। নিশ্চয়ই আমাদের ফেরেশতারা লিখে রাখে তোমাদের ছল-চাতুরী।
তিনিই তোমাদের ভ্রমন করান স্থলে ও সাগরে। এমনকি যখন তোমরা নৌকাসমূহে আরোহণ করলে আর তা লোকজনকে অনুকূল হাওয়ায় বয়ে নিয়ে চলল এবং তাতে তারা আনন্দিত হল, নৌকাগুলোর উপর এল তীব্র বাতাস, আর সর্বদিক থেকে সেগুলোর উপর ঢেউ আসতে লাগল এবং তারা জানতে পারল যে, তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন ডাকতে লাগল আল্লাহকে তাঁর এবাদতে নিঃস্বার্থ হয়ে যদি তুমি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করে তোল, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।
তারপর যখন তাদেরকে আল্লাহ বাঁচিয়ে দিলেন, তখনই তারা পৃথিবীতে অনাচার করতে লাগল অন্যায় ভাবে। হে মানুষ! শোন, তোমাদের অনাচার তোমাদেরই উপর পড়বে। পার্থিব জীবনের সুফল ভোগ করে নাও-অতঃপর আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন আমি বাতলে দেব, যা কিছু তোমরা করতে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।