আন-নাহল · 16/128
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নাহল
وَعَلَامَاتٍ ۚ وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ ۝١٦
Wa `alaamaat; wa bin najmi hum yahtadoon
📖 বাংলা অর্থ
এবং তিনি পথ নির্ণয়ক বহু চিহ্ন সৃষ্টি করেছেন, এবং তারকা দ্বারা ও মানুষ পথের নির্দেশ পায়।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • عَلَامَاتٍ (আলামাত): চিহ্নসমূহ, পথের নিদর্শন।
  • النَّجْمِ (আন-নাজম): নক্ষত্র, তারা।
  • يَهْتَدُونَ (ইয়াহতাদূন): তারা পথপ্রাপ্ত হয়, পথ খুঁজে পায়।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা তাঁর অশেষ রহমতে পৃথিবীতে এমন অনেক চিহ্ন ও নিদর্শন সৃষ্টি করেছেন, যেগুলোর মাধ্যমে মানুষ দিনের বেলা পথ চিনে নেয় এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। যেমন—পাহাড়, টিলা, নদী, বড় গাছ, রাস্তার মোড় ইত্যাদি। এগুলো দেখে মানুষ তার যাত্রাপথ ঠিক করে নেয়।

ঠিক তেমনি রাতের অন্ধকারে পথ হারিয়ে না যাওয়ার জন্য তিনি আকাশে অসংখ্য নক্ষত্র সৃষ্টি করেছেন। মানুষ সেসব নক্ষত্রের অবস্থান দেখে দিক নির্ণয় করে। বিশেষ করে মরুভূমির বাসিন্দা ও যারা দূর-দূরান্তে ভ্রমণ করে, তারা রাতের বেলায় নক্ষত্রের সাহায্যে পথ খুঁজে পায়। কুরাইশরা ব্যবসার জন্য দূর দেশে যাতায়াত করত, তারা এই নক্ষত্রের মাধ্যমেই পথ চিনত। এমনকি কিবলা নির্ধারণেও নক্ষত্র তাদের সহায়ক ছিল।

এভাবে আল্লাহ তাআলা দিনের জন্য স্থলচিহ্ন এবং রাতের জন্য নক্ষত্র—এই দুই ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের পথ চলাকে সহজ করে দিয়েছেন। এটি তাঁর অপার কুদরতের নিদর্শন এবং মানুষের প্রতি তাঁর অশেষ অনুগ্রহ।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবনকে সহজ করার জন্য নানা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। দিনের জন্য দিয়েছেন আলো ও স্থলচিহ্ন, আর রাতের জন্য দিয়েছেন নক্ষত্র। এতে তাঁর অশেষ রহমত ও দয়ার পরিচয় পাওয়া যায়।
  2. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, জীবনের যেকোনো পথ চলার জন্য আল্লাহ পথনির্দেশের ব্যবস্থা রেখেছেন। যেমন দৈহিক পথের জন্য নক্ষত্র, তেমনি আত্মিক ও আধ্যাত্মিক পথের জন্য তিনি পাঠিয়েছেন কুরআন ও রাসূল (সা.)-এর হিদায়াত। যে ব্যক্তি এই হিদায়াত মেনে চলে, সে দুনিয়া ও আখিরাতের সঠিক পথ খুঁজে পায়।
  3. প্রকৃতির প্রতিটি নিদর্শনের দিকে তাকালে আল্লাহর অস্তিত্ব, জ্ঞান ও ক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের ঈমান আরও দৃঢ় হয়। তাই একজন মুমিনের উচিত এসব নিদর্শন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞান যতই উন্নত হোক না কেন, আল্লাহর সৃষ্টি ব্যবস্থার ওপরই তার নির্ভরতা। তাই আমাদের উচিত সব সময় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর দেওয়া নিয়ম-নীতির প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 14-18 — আন-নাহল

14وَهُوَ الَّذِي سَخَّرَ الْبَحْرَ لِتَأْكُلُوا مِنْهُ لَحْمًا طَرِيًّا وَتَسْتَخْرِجُوا مِنْهُ حِلْيَةً تَلْبَسُونَهَا وَتَرَى الْفُلْكَ مَوَاخِرَ فِيهِ وَلِتَبْتَغُوا مِن فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
তিনিই কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন সমুদ্রকে, যাতে তা থেকে তোমরা তাজা মাংস খেতে পার এবং তা থেকে বের করতে পার পরিধেয় অলঙ্কার। তুমি তাতে জলযান সমূহকে পানি চিরে চলতে দেখবে এবং যাতে তোমরা আল্লাহর কৃপা অন্বেষণ কর এবং যাতে তার অনুগ্রহ স্বীকার কর।
15وَأَلْقَىٰ فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ وَأَنْهَارًا وَسُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
এবং তিনি পৃথিবীর উপর বোঝা রেখেছেন যে, কখনো যেন তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে-দুলে না পড়ে এবং নদী ও পথ তৈরী করেছেন, যাতে তোমরা পথ প্রদর্শিত হও।
16وَعَلَامَاتٍ ۚ وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ
এবং তিনি পথ নির্ণয়ক বহু চিহ্ন সৃষ্টি করেছেন, এবং তারকা দ্বারা ও মানুষ পথের নির্দেশ পায়।
17أَفَمَن يَخْلُقُ كَمَن لَّا يَخْلُقُ ۗ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
যিনি সৃষ্টি করে, তিনি কি সে লোকের সমতুল্য যে সৃষ্টি করতে পারে না? তোমরা কি চিন্তা করবে না?
18وَإِن تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا ۗ إِنَّ اللَّهَ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
আন-নাহলকুরআন সূচী
128আয়াত
মাক্কীRevelation
16আয়াত

অনুবাদ — আন-নাহল 16

সূরা আন-নাহল আয়াত 16 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এবং তিনি পথ নির্ণয়ক বহু চিহ্ন সৃষ্টি করেছেন, এবং তারকা…

সূরা আয়াত 16/128 — আন-নাহল النحل (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নাহল শুনুন, আন-নাহল অনুবাদ, আন-নাহল mp3, আন-নাহল pdf. আয়াত 14–18. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না