আল-ফাতহ · 25/29
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-ফাতহ
هُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَالْهَدْيَ مَعْكُوفًا أَن يَبْلُغَ مَحِلَّهُ ۚ وَلَوْلَا رِجَالٌ مُّؤْمِنُونَ وَنِسَاءٌ مُّؤْمِنَاتٌ لَّمْ تَعْلَمُوهُمْ أَن تَطَئُوهُمْ فَتُصِيبَكُم مِّنْهُم مَّعَرَّةٌ بِغَيْرِ عِلْمٍ ۖ لِّيُدْخِلَ اللَّهُ فِي رَحْمَتِهِ مَن يَشَاءُ ۚ لَوْ تَزَيَّلُوا لَعَذَّبْنَا الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا ۝٢٥
Humul lazeena kafaroo wa saddookum `anil-Masjidil-Haraami walhadya ma`koofan any yablugha mahillah; wa law laa rijaalum mu`minoona wa nisaaa`um mu`minaatul lam ta`lamoohum an tata`oohum fatuseebakum minhum ma`arratum bighairi `ilmin liyud khilal laahu fee rahmatihee many yashaaa`; law tazayyaloo la`azzabnal lazeena kafaroo minhum `azaaban aleema
📖 বাংলা অর্থ
তারাই তো কুফরী করেছে এবং বাধা দিয়েছে তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে এবং অবস্থানরত কোরবানীর জন্তুদেরকে যথাস্থানে পৌছতে। যদি মক্কায় কিছুসংখ্যক ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী না থাকত, যাদেরকে তোমরা জানতে না। অর্থাৎ তাদের পিষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, অতঃপর তাদের কারণে তোমরা অজ্ঞাতসারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে, তবে সব কিছু চুকিয়ে দেয়া হত; কিন্তু এ কারণে চুকানো হয়নি, যাতে আল্লাহ তা’আলা যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে দাখিল করে নেন। যদি তারা সরে যেত, তবে আমি অবশ্যই তাদের মধ্যে যারা কাফের তাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শস্তি দিতাম।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • وَالْهَدْيَ مَعْكُوفًا – এবং কুরবানীর পশুকে আটকে রাখা হয়েছিল।
  • مَحِلَّهُ – তার নির্ধারিত স্থান, অর্থাৎ হারাম শরীফ (কা'বা)।
  • تَطَؤُوهُمْ – তোমরা তাদের পদদলিত করবে (অর্থাৎ হত্যা করবে)।
  • مَعَرَّةٌ – গুনাহ, দোষ, ক্ষতি বা জরিমানা।
  • لَوْ تَزَيَّلُوا – যদি তারা পৃথক হয়ে যেত (মুমিন ও কাফির)।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই কাফিরদের কথা উল্লেখ করছেন, যারা কুফরী করেছিল এবং মুসলিমদের মক্কা বিজয়ের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারা ছিল কুরাইশের কাফিররা, যারা হুদায়বিয়ার সময় মুসলিমদেরকে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে বাধা দেয় এবং কুরবানীর পশুগুলোকে (সত্তরটি উট) হারামের সীমানায় পৌঁছতে দেয়নি। তারা পশুগুলোকে আটকে রেখেছিল, যেন সেগুলো তাদের নির্ধারিত স্থানে (কা'বার নিকট) পৌঁছে যবেহ করা না যায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন: যদি মক্কার ভেতরে দুর্বল ও নির্যাতিত কিছু মুমিন পুরুষ ও নারী না থাকত—যাদেরকে তোমরা চিনতে পারনি, কারণ তারা কাফিরদের সাথে মিশে ছিল এবং ভয়ে নিজেদের ঈমান গোপন রেখেছিল—তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে মক্কা বিজয়ের অনুমতি দিতেন। কিন্তু সেই মুমিনদের কারণে তোমাদেরকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে, কারণ তোমরা যদি সেখানে আক্রমণ করতে, তবে অজান্তে তাদেরকেও হত্যা করে ফেলতে। ফলে তোমাদের উপর গুনাহ, দোষ ও ক্ষতিপূরণের বোঝা এসে পড়ত, অথচ তোমরা জানতে না যে তারা মুমিন।

আল্লাহ তাআলা চান যাকে ইচ্ছা তাঁর রহমতে দাখিল করবেন। অর্থাৎ এই বিলম্বের মধ্যে আল্লাহর এক মহা হিকমত ছিল—যাতে করে মক্কার সেই লুক্কায়িত মুমিনরা পরে ঈমানের আলোয় উদ্ভাসিত হয় এবং অনেক কাফিরও ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করে। আল্লাহর রহমতের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত।

আল্লাহ আরও বলেন: যদি সেই মুমিনরা কাফিরদের থেকে পৃথক হয়ে যেত (অর্থাৎ মক্কা থেকে বের হয়ে আসত বা আলাদা অবস্থানে থাকত), তাহলে আমরা কাফিরদেরকে কঠিন শাস্তি দিতাম—তোমাদের মাধ্যমে তাদেরকে হত্যা ও বন্দী করার আযাব দিতাম। কিন্তু সেই মুমিনদের নিরাপত্তার জন্যই এই শাস্তি স্থগিত রাখা হয়েছে।


দাওয়াতী শিক্ষা:

এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও সূক্ষ্মদর্শী। তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেন যা আমাদের কাছে প্রথমে বোধগম্য না-ও হতে পারে, কিন্তু এর মধ্যে থাকে অগণিত কল্যাণ। মুমিনের কর্তব্য হলো আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা এবং ধৈর্য ধারণ করা। মনে রাখবেন—যেকোনো পরিস্থিতিতেই আল্লাহর রহমত ও হিকমতের উপর ভরসা রাখা আমাদের ঈমানের অংশ। আজকের কষ্ট ও বাধা হয়তো আগামীকালের বিজয়ের সোপান। আল্লাহ আমাদেরকে ধৈর্যশীল ও তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন।



📜 আয়াত 23-27 — সূরা আল-ফাতহ

23سُنَّةَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلُ ۖ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلًا
এটাই আল্লাহর রীতি, যা পূর্ব থেকে চালু আছে। তুমি আল্লাহর রীতিতে কোন পরিবর্তন পাবে না।
24وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُم بِبَطْنِ مَكَّةَ مِن بَعْدِ أَنْ أَظْفَرَكُمْ عَلَيْهِمْ ۚ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا
তিনি মক্কা শহরে তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে নিবারিত করেছেন তাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করার পর। তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ তা দেখেন।
25هُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَالْهَدْيَ مَعْكُوفًا أَن يَبْلُغَ مَحِلَّهُ ۚ وَلَوْلَا رِجَالٌ مُّؤْمِنُونَ وَنِسَاءٌ مُّؤْمِنَاتٌ لَّمْ تَعْلَمُوهُمْ أَن تَطَئُوهُمْ فَتُصِيبَكُم مِّنْهُم مَّعَرَّةٌ بِغَيْرِ عِلْمٍ ۖ لِّيُدْخِلَ اللَّهُ فِي رَحْمَتِهِ مَن يَشَاءُ ۚ لَوْ تَزَيَّلُوا لَعَذَّبْنَا الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
তারাই তো কুফরী করেছে এবং বাধা দিয়েছে তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে এবং অবস্থানরত কোরবানীর জন্তুদেরকে যথাস্থানে পৌছতে। যদি মক্কায় কিছুসংখ্যক ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী না থাকত, যাদেরকে তোমরা জানতে না। অর্থাৎ তাদের পিষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, অতঃপর তাদের কারণে তোমরা অজ্ঞাতসারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে, তবে সব কিছু চুকিয়ে দেয়া হত; কিন্তু এ কারণে চুকানো হয়নি, যাতে আল্লাহ তা’আলা যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে দাখিল করে নেন। যদি তারা সরে যেত, তবে আমি অবশ্যই তাদের মধ্যে যারা কাফের তাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শস্তি দিতাম।
26إِذْ جَعَلَ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي قُلُوبِهِمُ الْحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ فَأَنزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَىٰ وَكَانُوا أَحَقَّ بِهَا وَأَهْلَهَا ۚ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا
কেননা, কাফেররা তাদের অন্তরে মূর্খতাযুগের জেদ পোষণ করত। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রসূল ও মুমিনদের উপর স্বীয় প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদের জন্যে সংযমের দায়িত্ব অপরিহার্য করে দিলেন। বস্তুতঃ তারাই ছিল এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।
27لَّقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ ۖ لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِن شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ لَا تَخَافُونَ ۖ فَعَلِمَ مَا لَمْ تَعْلَمُوا فَجَعَلَ مِن دُونِ ذَٰلِكَ فَتْحًا قَرِيبًا
আল্লাহ তাঁর রসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আল্লাহ চাহেন তো তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে মস্তকমুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। তোমরা কাউকে ভয় করবে না। অতঃপর তিনি জানেন যা তোমরা জান না। এছাড়াও তিনি দিয়েছেন তোমাদেরকে একটি আসন্ন বিজয়।
আল-ফাতহকুরআন সূচী
29আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
25আয়াত

অনুবাদ — আল-ফাতহ 25

সূরা আল-ফাতহ আয়াত 25 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারাই তো কুফরী করেছে এবং বাধা দিয়েছে তোমাদেরকে মসজিদে হারাম…

সূরা আয়াত 25/29 — সূরা আল-ফাতহ الفتح (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ফাতহ শুনুন, সূরা আল-ফাতহ অনুবাদ, সূরা আল-ফাতহ mp3, সূরা আল-ফাতহ pdf. আয়াত 23–27. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না