আল-হুজুরাত · 13/18
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-হুজুরাত
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ ۝١٣
Yaaa ayyuhan naasu innaa khalaqnaakum min zakarinw wa unsaa wa ja`alnaakum shu`oobanw wa qabaaa`ila lita`aarafoo inna akramakum `indal laahi atqaakum innal laaha `Aleemun khabeer
📖 বাংলা অর্থ
হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • شُعُوبًا (শু‘উবান): ‘শা‘ব’-এর বহুবচন, অর্থ বড় জাতি বা গোত্র।
  • قَبَائِلَ (কাবা-ইল): ‘ক্বাবীলা’-এর বহুবচন, অর্থ ছোট গোত্র বা বংশ।
  • لِتَعَارَفُوا (লি তা‘আরাফু): যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পারো।
  • أَتْقَاكُمْ (আতক্বাকুম): তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু।

তাফসীর:

হে মানবজাতি! আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করছেন যে, তিনি তোমাদের সকলকে এক পিতা আদম (আঃ) এবং এক মাতা হাওয়া (আঃ) থেকে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং বংশগত দিক থেকে তোমাদের সবার উৎস এক — কেউ কারো চেয়ে বড় নয়, আর কারো ওপর কারো শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করার কোনো ভিত্তি নেই। এরপর আল্লাহ তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি, গোত্র, ভাষা ও বর্ণে বিভক্ত করেছেন — এটি তাঁর ইচ্ছা ও প্রজ্ঞার অংশ। কিন্তু এই বিভক্তির উদ্দেশ্য কখনোই পারস্পরিক বিদ্বেষ, হিংসা বা শ্রেষ্ঠত্বের দম্ভ নয়; বরং এর উদ্দেশ্য হলো পরস্পরকে চেনা, জানা এবং সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলা — যাতে একজন আরেকজনের পরিচয় লাভ করে, প্রয়োজনে সহযোগিতা করে এবং মানবিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।

আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর কাছে প্রকৃত মর্যাদা ও সম্মানের মাপকাঠি বংশ, ধন-সম্পদ, পদ-মর্যাদা বা বর্ণ নয় — বরং তাকওয়া (আল্লাহভীরুতা)। যে ব্যক্তি আল্লাহকে বেশি ভয় করে, তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলে এবং পাপাচার থেকে দূরে থাকে, সেই-ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত। আল্লাহ তো সবকিছু জানেন — তিনি তোমাদের বাহ্যিক অবস্থা এবং অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কেও সম্পূর্ণ অবগত। তোমাদের কার অন্তরে প্রকৃত তাকওয়া আছে, আর কার অন্তর কপটতায় ভরা — তা তিনি পরিপূর্ণভাবে জানেন।

দাওয়াতী বার্তা:

এই আয়াতটি মানবজাতির জন্য এক চিরন্তন বার্তা বহন করে — জাতি, গোত্র, ভাষা বা বর্ণের ভেদাভেদ কখনোই মর্যাদার মানদণ্ড হতে পারে না। ইসলাম আমাদের শেখায়, মানুষ হিসেবে আমরা সবাই সমান; পার্থক্য কেবল চরিত্র ও আল্লাহভীতিতে। আজকের পৃথিবীতে যখন জাতিগত বিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত মানুষকে বিভক্ত করছে, তখন এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় — প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্বের পথ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। আসুন, আমরা সবাই এই শিক্ষা গ্রহণ করি — পরস্পরকে ভালোবাসি, সম্মান করি, এবং তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করি। এটিই সফলতার চাবিকাঠি, এটিই জান্নাতের পথ।



📜 আয়াত 11-15 — সূরা আল-হুজুরাত

11يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ عَسَىٰ أَن يَكُونُوا خَيْرًا مِّنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِّن نِّسَاءٍ عَسَىٰ أَن يَكُنَّ خَيْرًا مِّنْهُنَّ ۖ وَلَا تَلْمِزُوا أَنفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ ۖ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ ۚ وَمَن لَّمْ يَتُبْ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে তারাই যালেম।
12يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ
মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
13يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।
14۞ قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا ۖ قُل لَّمْ تُؤْمِنُوا وَلَٰكِن قُولُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الْإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ ۖ وَإِن تُطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَا يَلِتْكُم مِّنْ أَعْمَالِكُمْ شَيْئًا ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
মরুবাসীরা বলেঃ আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। বলুনঃ তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করনি; বরং বল, আমরা বশ্যতা স্বীকার করেছি। এখনও তোমাদের অন্তরে বিশ্বাস জন্মেনি। যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর, তবে তোমাদের কর্ম বিন্দুমাত্রও নিস্ফল করা হবে না। নিশ্চয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।
15إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ أُولَٰئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ
তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং আল্লাহর পথে প্রাণ ও ধন-সম্পদ দ্বারা জেহাদ করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ।
আল-হুজুরাতকুরআন সূচী
18আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
13আয়াত

অনুবাদ — আল-হুজুরাত 13

সূরা আল-হুজুরাত আয়াত 13 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে…

সূরা আয়াত 13/18 — সূরা আল-হুজুরাত الحجرات (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-হুজুরাত শুনুন, সূরা আল-হুজুরাত অনুবাদ, সূরা আল-হুজুরাত mp3, সূরা আল-হুজুরাত pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না