অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
- মুহাজিরাত (مهاجرات): যারা স্বদেশ ত্যাগ করে হিজরত করেছে (এখানে স্ত্রীলোকদের কথা বলা হয়েছে)।
- ফাম্তাহিনুহুন্না (فامتحنوهن): তাদের পরীক্ষা করুন, তাদের ঈমানের সত্যতা যাচাই করুন।
- উজুরাহুন্না (أجورهن): তাদের মোহরানা।
- ‘ইসাম (عصم): বন্ধন, সম্পর্ক, বিবাহের বন্ধন।
- কাওয়াফির (الكوافر): কাফির নারীগণ (যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি বা ধর্মত্যাগ করেছে)।
তাফসির:
হে ঈমানদারগণ! যখন তোমাদের কাছে ঈমানদার নারীরা হিজরত করে আসে—অর্থাৎ কুফরের দেশ ত্যাগ করে ইসলামের দেশে চলে আসে—তখন তোমরা তাদের পরীক্ষা করো। পরীক্ষার উদ্দেশ্য হলো তাদের ঈমানের সত্যতা যাচাই করা; তারা কি সত্যিই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসায় দেশত্যাগ করেছে, নাকি অন্য কোনো পার্থিব কারণে এসেছে? আল্লাহই তাদের অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। তবে তোমাদের ওপর দায়িত্ব হলো বাহ্যিক লক্ষণ ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
যদি তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে তারা প্রকৃতই ঈমানদার, তাহলে তাদের কাফির স্বামীদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ো না। কারণ ইসলামি বিধান অনুযায়ী, একজন মুমিন নারীর জন্য কাফির পুরুষকে বিবাহ করা বৈধ নয়, আর কাফির পুরুষের জন্যও মুমিন নারীকে বিবাহ করা বৈধ নয়। তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে তাদের (কাফির স্বামীদের)কে তারা যে মোহরানা দিয়েছিল তা ফিরিয়ে দাও। আর তোমাদের জন্য কোনো গুনাহ নেই যে, তোমরা তাদেরকে বিবাহ করবে, যদি তোমরা তাদের মোহরানা পরিশোধ করো।
আর তোমরা কাফির নারীদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক আঁকড়ে ধরো না। অর্থাৎ, যে স্ত্রী কুফরি অবস্থায় থাকে বা ইসলাম ত্যাগ করে কাফিরদের কাছে চলে যায়, তার সাথে তোমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। আর তোমরা তোমাদের সেই স্ত্রীদের জন্য যে মোহরানা দিয়েছিলে, যারা ধর্মত্যাগ করে কাফিরদের কাছে গেছে, তা কাফিরদের কাছে দাবি করো। আর তারাও যেন তাদের স্ত্রীদের জন্য যে মোহরানা দিয়েছিল (যারা ইসলাম গ্রহণ করে তোমাদের কাছে এসেছে) তা তোমাদের কাছে দাবি করে। এই হলো আল্লাহর বিধান, যা তিনি তোমাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করেছেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
শিক্ষণীয় দিক ও দাওয়াতি বার্তা:
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এটি শুধু ইবাদত-বন্দেগিই নয়, বরং পারিবারিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট বিধান দেয়। ইসলাম কখনো সত্য ও মিথ্যার মধ্যে আপস করে না। ঈমান ও কুফরের মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। মুমিনের পরিচয় হলো সে আল্লাহর বিধানকে সর্বোচ্চ স্থান দেয়।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলাম নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় কতটা যত্নবান। একজন মুমিন নারীকে জোরপূর্বক কাফির স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি, বরং তার ঈমানকে সম্মান করা হয়েছে। একই সাথে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—কেউ যেন কারো সম্পদ অন্যায়ভাবে আটকে না রাখে।
আজকের বিশ্বে যখন নারীদের অধিকার নিয়ে অনেক কথা বলা হয়, তখন ইসলাম যে চৌদ্দ শতক আগেই নারীদের সম্মান, নিরাপত্তা ও আর্থিক অধিকার নিশ্চিত করেছে—এটি সত্যিই চিন্তার বিষয়। আল্লাহর এই বিধানগুলোর মাঝেই রয়েছে মানবজাতির কল্যাণ। আমরা যদি সত্যিই আল্লাহর বিধান মেনে চলি, তাহলে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সমাজ হবে সুখী, শান্তিপূর্ণ ও বরকতময়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর বিধান বুঝার ও মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।
📜 আয়াত 8-12 — সূরা আল-মুমতাহিনা
অনুবাদ — আল-মুমতাহিনা 10
সূরা আল-মুমতাহিনা আয়াত 10 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : মুমিনগণ, যখন তোমাদের কাছে ঈমানদার নারীরা হিজরত করে আগমন করে,…সূরা আয়াত 10/13 — সূরা আল-মুমতাহিনা الممتحنة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-মুমতাহিনা শুনুন, সূরা আল-মুমতাহিনা অনুবাদ, সূরা আল-মুমতাহিনা mp3, সূরা আল-মুমতাহিনা pdf. আয়াত 8–12. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Monday, September 7, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








