আল-মুমতাহিনা · 9/13
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মুমতাহিনা
إِنَّمَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ قَاتَلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَأَخْرَجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ وَظَاهَرُوا عَلَىٰ إِخْرَاجِكُمْ أَن تَوَلَّوْهُمْ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُمْ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ ۝٩
Innamaa yanhaakumul laahu `anil lazeena qaatalookum fid deeni wa akhrajookum min diyaarikum wa zaaharoo `alaa ikhraajikum an tawallawhum; wa many yatawallahum faulaaa`ika humuz zaalimoon
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • قَاتَلُوكُمْ فِي الدِّينِ – তোমাদেরকে ধর্মের কারণে যুদ্ধ করেছে।
  • وَأَخْرَجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ – এবং তোমাদেরকে নিজেদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।
  • وَظَاهَرُوا – এবং তারা সহযোগিতা করেছে/পক্ষ নিয়েছে।
  • أَن تَوَلَّوْهُمْ – যে, তোমরা তাদের বন্ধু-সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করবে।
  • الظَّالِمُونَ – সীমালঙ্ঘনকারী, জালিম।

তাফসির:

আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি তোমাদেরকে কেবল তাদেরই বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন, যারা তোমাদের বিরুদ্ধে ধর্মের কারণে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে নিজেদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদের বের করে দেওয়ার ব্যাপারে অন্যদেরকে সহযোগিতা করেছে। অর্থাৎ যারা মুসলিমদের প্রতি প্রকাশ্য শত্রুতা ও নিপীড়ন চালিয়েছে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও সাহায্যের সম্পর্ক স্থাপন করা হারাম। তবে যারা ধর্মের কারণে যুদ্ধ করেনি, তোমাদেরকে বের করেনি এবং বের করার সহযোগিতাও করেনি, তাদের সাথে সদ্ব্যবহার ও ন্যায়বিচার করা নিষিদ্ধ নয়। আর যে ব্যক্তি এরূপ শত্রুদেরকে বন্ধু ও সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করবে, সে নিজের ক্ষতিই করবে; কারণ সে আল্লাহর আদেশ অমান্য করে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিল। এরূপ লোকই প্রকৃত জালিম, কারণ তারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং ভালোবাসা ও আনুগত্যের স্থান ভুলভাবে নির্ধারণ করেছে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. মুমিনের ভালোবাসা ও আনুগত্য কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য হওয়া উচিত; শত্রুদের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের পরিপন্থী।
  2. ইসলাম শত্রুতার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার ও ইনসাফ শেখায় — যারা ক্ষতি করেনি তাদের প্রতি সদয় হওয়া জায়েয।
  3. আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা মানবজাতির কল্যাণের জন্যই; কারণ শত্রুর সাথে বন্ধুত্ব করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংস সৃষ্টি হয়।
  4. আত্মীয়তা, প্রতিবেশী বা অন্য কোনো সম্পর্কের চেয়ে ঈমান ও আল্লাহর সন্তুষ্টিই মুমিনের সম্পর্ক নির্ধারণের মূল মানদণ্ড।
  5. যে নিজের ধর্ম ও উম্মতের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে শত্রুদের সাথে সম্পর্ক রাখে, সে নিজের আত্মার প্রতি জুলুম করে এবং আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হয়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 7-11 — আল-মুমতাহিনা

7۞ عَسَى اللَّهُ أَن يَجْعَلَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ الَّذِينَ عَادَيْتُم مِّنْهُم مَّوَدَّةً ۚ وَاللَّهُ قَدِيرٌ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
যারা তোমাদের শত্রু আল্লাহ তাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সম্ভবতঃ বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। আল্লাহ সবই করতে পারেন এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।
8لَّا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ أَن تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ
ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন।
9إِنَّمَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ قَاتَلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَأَخْرَجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ وَظَاهَرُوا عَلَىٰ إِخْرَاجِكُمْ أَن تَوَلَّوْهُمْ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُمْ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম।
10يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ ۖ اللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِهِنَّ ۖ فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلَا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الْكُفَّارِ ۖ لَا هُنَّ حِلٌّ لَّهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ ۖ وَآتُوهُم مَّا أَنفَقُوا ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ أَن تَنكِحُوهُنَّ إِذَا آتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ ۚ وَلَا تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ وَاسْأَلُوا مَا أَنفَقْتُمْ وَلْيَسْأَلُوا مَا أَنفَقُوا ۚ ذَٰلِكُمْ حُكْمُ اللَّهِ ۖ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ ۚ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
মুমিনগণ, যখন তোমাদের কাছে ঈমানদার নারীরা হিজরত করে আগমন করে, তখন তাদেরকে পরীক্ষা কর। আল্লাহ তাদের ঈমান সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। এরা কাফেরদের জন্যে হালাল নয় এবং কাফেররা এদের জন্যে হালাল নয়। কাফেররা যা ব্যয় করেছে, তা তাদের দিয়ে দাও। তোমরা, এই নারীদেরকে প্রাপ্য মোহরানা দিয়ে বিবাহ করলে তোমাদের অপরাধ হবে না। তোমরা কাফের নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না। তোমরা যা ব্যয় করেছ, তা চেয়ে নাও এবং তারাও চেয়ে নিবে যা তারা ব্যয় করেছে। এটা আল্লাহর বিধান; তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।
11وَإِن فَاتَكُمْ شَيْءٌ مِّنْ أَزْوَاجِكُمْ إِلَى الْكُفَّارِ فَعَاقَبْتُمْ فَآتُوا الَّذِينَ ذَهَبَتْ أَزْوَاجُهُم مِّثْلَ مَا أَنفَقُوا ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي أَنتُم بِهِ مُؤْمِنُونَ
তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাতছাড়া হয়ে কাফেরদের কাছে থেকে যায়, অতঃপর তোমরা সুযোগ পাও, তখন যাদের স্ত্রী হাতছাড়া হয়ে গেছে, তাদেরকে তাদের ব্যয়কৃত অর্থের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাস রাখ।
আল-মুমতাহিনাকুরআন সূচী
13আয়াত
মাদানীRevelation
9আয়াত

অনুবাদ — আল-মুমতাহিনা 9

সূরা আল-মুমতাহিনা আয়াত 9 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের…

সূরা আয়াত 9/13 — আল-মুমতাহিনা الممتحنة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মুমতাহিনা শুনুন, আল-মুমতাহিনা অনুবাদ, আল-মুমতাহিনা mp3, আল-মুমতাহিনা pdf. আয়াত 7–11. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না