Innamaa yanhaakumul laahu `anil lazeena qaatalookum fid deeni wa akhrajookum min diyaarikum wa zaaharoo `alaa ikhraajikum an tawallawhum; wa many yatawallahum faulaaa`ika humuz zaalimoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ख़ुदा तो बस उन लोगों के साथ दोस्ती करने से मना करता है जिन्होने तुमसे दीन के बारे में लड़ाई की और तुमको तुम्हारे घरों से निकाल बाहर किया, और तुम्हारे निकालने में (औरों की) मदद की और जो लोग ऐसों से दोस्ती करेंगे वह लोग ज़ालिम हैं
আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
قَاتَلُوكُمْ فِي الدِّينِ – তোমাদেরকে ধর্মের কারণে যুদ্ধ করেছে।
وَأَخْرَجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ – এবং তোমাদেরকে নিজেদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।
وَظَاهَرُوا – এবং তারা সহযোগিতা করেছে/পক্ষ নিয়েছে।
أَن تَوَلَّوْهُمْ – যে, তোমরা তাদের বন্ধু-সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করবে।
الظَّالِمُونَ – সীমালঙ্ঘনকারী, জালিম।
তাফসির:
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি তোমাদেরকে কেবল তাদেরই বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন, যারা তোমাদের বিরুদ্ধে ধর্মের কারণে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে নিজেদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদের বের করে দেওয়ার ব্যাপারে অন্যদেরকে সহযোগিতা করেছে। অর্থাৎ যারা মুসলিমদের প্রতি প্রকাশ্য শত্রুতা ও নিপীড়ন চালিয়েছে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও সাহায্যের সম্পর্ক স্থাপন করা হারাম। তবে যারা ধর্মের কারণে যুদ্ধ করেনি, তোমাদেরকে বের করেনি এবং বের করার সহযোগিতাও করেনি, তাদের সাথে সদ্ব্যবহার ও ন্যায়বিচার করা নিষিদ্ধ নয়। আর যে ব্যক্তি এরূপ শত্রুদেরকে বন্ধু ও সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করবে, সে নিজের ক্ষতিই করবে; কারণ সে আল্লাহর আদেশ অমান্য করে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিল। এরূপ লোকই প্রকৃত জালিম, কারণ তারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং ভালোবাসা ও আনুগত্যের স্থান ভুলভাবে নির্ধারণ করেছে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
মুমিনের ভালোবাসা ও আনুগত্য কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য হওয়া উচিত; শত্রুদের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের পরিপন্থী।
ইসলাম শত্রুতার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার ও ইনসাফ শেখায় — যারা ক্ষতি করেনি তাদের প্রতি সদয় হওয়া জায়েয।
আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা মানবজাতির কল্যাণের জন্যই; কারণ শত্রুর সাথে বন্ধুত্ব করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংস সৃষ্টি হয়।
আত্মীয়তা, প্রতিবেশী বা অন্য কোনো সম্পর্কের চেয়ে ঈমান ও আল্লাহর সন্তুষ্টিই মুমিনের সম্পর্ক নির্ধারণের মূল মানদণ্ড।
যে নিজের ধর্ম ও উম্মতের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে শত্রুদের সাথে সম্পর্ক রাখে, সে নিজের আত্মার প্রতি জুলুম করে এবং আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হয়।
ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন।
আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম।
মুমিনগণ, যখন তোমাদের কাছে ঈমানদার নারীরা হিজরত করে আগমন করে, তখন তাদেরকে পরীক্ষা কর। আল্লাহ তাদের ঈমান সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। এরা কাফেরদের জন্যে হালাল নয় এবং কাফেররা এদের জন্যে হালাল নয়। কাফেররা যা ব্যয় করেছে, তা তাদের দিয়ে দাও। তোমরা, এই নারীদেরকে প্রাপ্য মোহরানা দিয়ে বিবাহ করলে তোমাদের অপরাধ হবে না। তোমরা কাফের নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না। তোমরা যা ব্যয় করেছ, তা চেয়ে নাও এবং তারাও চেয়ে নিবে যা তারা ব্যয় করেছে। এটা আল্লাহর বিধান; তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।
তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাতছাড়া হয়ে কাফেরদের কাছে থেকে যায়, অতঃপর তোমরা সুযোগ পাও, তখন যাদের স্ত্রী হাতছাড়া হয়ে গেছে, তাদেরকে তাদের ব্যয়কৃত অর্থের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাস রাখ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।