আত-তালাক · 1/12
অনুবাদ উচ্চারণ — আত-তালাক
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ ۖ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِن بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ۚ لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَٰلِكَ أَمْرًا ۝١
Yaaa ayyuhan nabiyyu izaa tallaqtummun nisaaa`a fatalliqoohunna li`iddatihinna wa ahsul`iddata; wattaqul laaha rabbakum laa tukhri joohunna mim bu-yootihinna wa laa yakhrujna illaaa any yaateema bifaahishatim mubaiyinah; wa tilka hudoodul laah; wa many yata`adda hudoodal laahi faqad zalama nafsha; laa tadree la`allal laaha yuhdisu ba`dazaalika amraa
📖 বাংলা অর্থ
হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদেরকে তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা করো। তোমরা তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করো। তাদেরকে তাদের গৃহ থেকে বহিস্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয় যদি না তারা কোন সুস্পষ্ট নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমালংঘন করে, সে নিজেরই অনিষ্ট করে। সে জানে না, হয়তো আল্লাহ এই তালাকের পর কোন নতুন উপায় করে দেবেন।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لِعِدَّتِهِنَّ – তাদের ইদ্দতের সূচনায়; অর্থাৎ এমন পবিত্র অবস্থায় তালাক দেওয়া যাতে ইদ্দত গণনা শুরু হয়।
  • وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ – ইদ্দতের হিসাব সঠিকভাবে রাখা এবং তার সংখ্যা সংরক্ষণ করা।
  • فَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ – স্পষ্ট অশ্লীল/অনৈতিক কাজ, যেমন ব্যভিচার বা স্বামীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য দুর্ব্যবহার।
  • حُدُودُ اللَّهِ – আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা ও বিধান।
  • يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًا – তালাকের পর আল্লাহ নতুন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারেন, যেমন মন পরিবর্তন বা পুনর্মিলনের ইচ্ছা।

তাফসীর:

হে নবী! যখন তোমরা (তুমি ও তোমার উম্মত) স্ত্রীদের তালাক দিতে ইচ্ছুক হও, তখন তাদের ইদ্দতের সূচনায় তালাক দাও। অর্থাৎ, এমন পবিত্র অবস্থায় তালাক দাও যখন তাদের সাথে সহবাস করা হয়নি, অথবা তারা গর্ভবতী হলে গর্ভাবস্থা স্পষ্ট। এই সময়ে তালাক দিলে ইদ্দত সঠিকভাবে গণনা করা যায়। আর তোমরা ইদ্দতের হিসাব ভালোভাবে সংরক্ষণ করো, যাতে জানতে পারো কখন রজ‘আত (ফিরিয়ে আনা) সম্ভব, যদি তোমরা পুনর্মিলন চাও।

তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যিনি তোমাদের রব। তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করো না, যেখানে তারা বসবাস করছে, যতক্ষণ না তাদের ইদ্দত শেষ হয়। আর তারাও নিজেরা বের হবে না, তবে যদি তারা স্পষ্ট অশ্লীল কাজ করে (যেমন ব্যভিচার), তাহলে সেক্ষেত্রে বের হওয়ার অনুমতি রয়েছে। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করে, সে নিজেরই ক্ষতি করে এবং নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।

হে তালাকদাতা! তুমি জানো না—হয়তো আল্লাহ তালাকের পর এমন একটি বিষয় ঘটাবেন যা তুমি কল্পনাও করো নি, যেমন তোমার মনে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত হওয়া এবং তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা সৃষ্টি হওয়া। তাই তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিও না।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. তালাক একটি গুরুতর বিষয়; এটি আল্লাহর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ীই দিতে হবে, নিজের ইচ্ছামতো নয়। এটি ইসলামের পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হওয়ার প্রমাণ।
  2. তালাকের সময়ও স্ত্রীর প্রতি ইনসাফ ও সম্মান বজায় রাখতে হবে; তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া বা কষ্ট দেওয়া জুলুম।
  3. ইদ্দতের হিসাব রাখা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি পরিবার পুনর্মিলনের সুযোগ তৈরি করে। এতে তাড়াহুড়ার কারণে সৃষ্ট অনুতাপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
  4. আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করলে প্রকৃত ক্ষতি হয় নিজেরই; তাই প্রতিটি কাজে আল্লাহভীতি (তাকওয়া) অবলম্বন করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
  5. এই আয়াত শেখায় যে, ইসলাম নারীদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় অত্যন্ত যত্নবান; এমনকি তালাকের মতো সংকটময় সময়েও তাদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি ইসলামের সৌন্দর্য ও মানবতার প্রতি এর গভীর ভালোবাসার পরিচয়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 1-3 — আত-তালাক

1يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ ۖ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِن بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَن يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ ۚ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ۚ لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَٰلِكَ أَمْرًا
হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদেরকে তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা করো। তোমরা তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করো। তাদেরকে তাদের গৃহ থেকে বহিস্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয় যদি না তারা কোন সুস্পষ্ট নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমালংঘন করে, সে নিজেরই অনিষ্ট করে। সে জানে না, হয়তো আল্লাহ এই তালাকের পর কোন নতুন উপায় করে দেবেন।
2فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ فَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِّنكُمْ وَأَقِيمُوا الشَّهَادَةَ لِلَّهِ ۚ ذَٰلِكُمْ يُوعَظُ بِهِ مَن كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا
অতঃপর তারা যখন তাদের ইদ্দতকালে পৌঁছে, তখন তাদেরকে যথোপযুক্ত পন্থায় রেখে দেবে অথবা যথোপযুক্ত পন্থায় ছেড়ে দেবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন নির্ভরযোগ্য লোককে সাক্ষী রাখবে। তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দিবে। এতদ্দ্বারা যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন।
3وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ ۚ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا
এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।
আত-তালাককুরআন সূচী
12আয়াত
মাদানীRevelation
1আয়াত

অনুবাদ — আত-তালাক 1

সূরা আত-তালাক আয়াত 1 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদেরকে…

সূরা আয়াত 1/12 — আত-তালাক الطلاق (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আত-তালাক শুনুন, আত-তালাক অনুবাদ, আত-তালাক mp3, আত-তালাক pdf. আয়াত 1–3. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না