আত-তালাক · 2/12
অনুবাদ উচ্চারণ — আত-তালাক
فَإِذَا بَلَغۡنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمۡسِكُوهُنَّ بِمَعۡرُوفٍ أَوۡ فَارِقُوهُنَّ بِمَعۡرُوفٍ وَأَشۡهِدُواْ ذَوَيۡ عَدۡلٍ مِّنكُمۡ وَأَقِيمُواْ ٱلشَّهَٰدَةَ لِلَّهِۚ ذَٰلِكُمۡ يُوعَظُ بِهِۦ مَن كَانَ يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۚ وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجًا  ۝٢
Fa izaa balaghna ajalahunna fa amsikoohunna bima`roofin aw faariqoohunna bima`roofinw wa ashhidoo zawai `adlim minkum wa aqeemush shahaadata lillaah; zaalikum yoo`azu bihee man kaana yu`minu billaahi wal yawmil aakhir; wa many yattaqil laaha yaj`al lahoo makhrajaa
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর তারা যখন তাদের ইদ্দতকালে পৌঁছে, তখন তাদেরকে যথোপযুক্ত পন্থায় রেখে দেবে অথবা যথোপযুক্ত পন্থায় ছেড়ে দেবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন নির্ভরযোগ্য লোককে সাক্ষী রাখবে। তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দিবে। এতদ্দ্বারা যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ — অর্থাৎ, তারা তাদের ইদ্দতের সমাপ্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
  • فَأَمْسِكُوهُنَّ — তাদেরকে (স্ত্রীদেরকে) রুজু করুন (বিবাহের বন্ধনে ফিরিয়ে নিন)।
  • بِمَعْرُوفٍ — ন্যায়সংগত ও সদয়ভাবে।
  • فَارِقُوهُنَّ — তাদেরকে পরিত্যাগ করুন (অর্থাৎ, ইদ্দত শেষ হতে দিন এবং তাদের থেকে আলাদা হয়ে যান)।
  • ذَوَيْ عَدْلٍ — দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী।
  • أَقِيمُوا الشَّهَادَةَ لِلَّهِ — সাক্ষ্যকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিষ্ঠা করুন (সত্য সাক্ষ্য দিতে দ্বিধা করবেন না)।

তাফসীর:

যখন তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তাদের ইদ্দতের সমাপ্তির কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখন স্বামীদের জন্য দুটি বৈধ পথ রয়েছে: হয় তাদেরকে সদয়ভাবে ও ন্যায়সংগতভাবে রুজু করা (বিবাহের বন্ধনে ফিরিয়ে আনা) অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে পরিত্যাগ করা, অর্থাৎ ইদ্দত শেষ হতে দেওয়া যাতে তারা নিজেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্বাধীন হয়। উভয় অবস্থাতেই স্ত্রীদের প্রতি ন্যায়বিচার ও সদাচরণ বজায় রাখা আবশ্যক, তাদের ক্ষতি করা বা তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

রুজু বা তালাকের সময় দুজন ন্যায়পরায়ণ মুসলিম সাক্ষী রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিরোধ বা জটিলতা সৃষ্টি না হয়। আর সাক্ষীদেরকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সত্য সাক্ষ্য দেয়, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা সম্পর্কের কারণে সত্য গোপন না করে।

এই নির্দেশসমূহ তাদের জন্য উপদেশ ও শিক্ষা, যারা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে। কারণ ঈমানদাররাই এসব নির্দেশ থেকে উপকৃত হয় এবং মেনে চলে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলে, আল্লাহ তার জন্য সংকট থেকে উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন। তাকে এমনভাবে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারেনি, এবং তার সকল বিষয়ে আল্লাহই যথেষ্ট।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. পারিবারিক জীবনেও ন্যায়বিচার ও সদাচরণ ইসলামের মূল নীতি। স্ত্রীকে রুজু করা হোক বা তালাক দেওয়া হোক, উভয় ক্ষেত্রেই সদয় আচরণ করা আবশ্যক।
  2. প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাক্ষী রাখা ইসলামের একটি বিধান, যা পরবর্তী জটিলতা ও বিবাদ প্রতিরোধ করে।
  3. সাক্ষ্য দেওয়া একটি আমানত; আল্লাহর ভয়ে সত্য সাক্ষ্য দেওয়া প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব।
  4. তাকওয়া (আল্লাহভীতি) হল সংকট থেকে মুক্তির চাবিকাঠি। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য অকল্পনীয় উপায়ে সমস্যার সমাধান করেন।
  5. ঈমান ও আখিরাতে বিশ্বাসই মানুষকে আল্লাহর বিধান মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে এবং এসব বিধানের প্রকৃত উপকার লাভ করতে সাহায্য করে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 1-4 — আত-তালাক

1يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ إِذَا طَلَّقۡتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحۡصُواْ ٱلۡعِدَّةَۖ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ رَبَّكُمۡۖ لَا تُخۡرِجُوهُنَّ مِنۢ بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخۡرُجۡنَ إِلَّآ أَن يَأۡتِينَ بِفَٰحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍۚ وَتِلۡكَ حُدُودُ ٱللَّهِۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ ٱللَّهِ فَقَدۡ ظَلَمَ نَفۡسَهُۥۚ لَا تَدۡرِي لَعَلَّ ٱللَّهَ يُحۡدِثُ بَعۡدَ ذَٰلِكَ أَمۡرًا 
হে নবী, তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদেরকে তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং ইদ্দত গণনা করো। তোমরা তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করো। তাদেরকে তাদের গৃহ থেকে বহিস্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয় যদি না তারা কোন সুস্পষ্ট নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমালংঘন করে, সে নিজেরই অনিষ্ট করে। সে জানে না, হয়তো আল্লাহ এই তালাকের পর কোন নতুন উপায় করে দেবেন।
2فَإِذَا بَلَغۡنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمۡسِكُوهُنَّ بِمَعۡرُوفٍ أَوۡ فَارِقُوهُنَّ بِمَعۡرُوفٍ وَأَشۡهِدُواْ ذَوَيۡ عَدۡلٍ مِّنكُمۡ وَأَقِيمُواْ ٱلشَّهَٰدَةَ لِلَّهِۚ ذَٰلِكُمۡ يُوعَظُ بِهِۦ مَن كَانَ يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۚ وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجًا 
অতঃপর তারা যখন তাদের ইদ্দতকালে পৌঁছে, তখন তাদেরকে যথোপযুক্ত পন্থায় রেখে দেবে অথবা যথোপযুক্ত পন্থায় ছেড়ে দেবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন নির্ভরযোগ্য লোককে সাক্ষী রাখবে। তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দিবে। এতদ্দ্বারা যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন।
3وَيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُۚ وَمَن يَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسۡبُهُۥٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَٰلِغُ أَمۡرِهِۦۚ قَدۡ جَعَلَ ٱللَّهُ لِكُلِّ شَيۡءٍ قَدۡرًا 
এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।
4وَٱلَّٰٓـِٔي يَئِسۡنَ مِنَ ٱلۡمَحِيضِ مِن نِّسَآئِكُمۡ إِنِ ٱرۡتَبۡتُمۡ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَٰثَةُ أَشۡهُرٍ وَٱلَّٰٓـِٔي لَمۡ يَحِضۡنَۚ وَأُوْلَٰتُ ٱلۡأَحۡمَالِ أَجَلُهُنَّ أَن يَضَعۡنَ حَمۡلَهُنَّۚ وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مِنۡ أَمۡرِهِۦ يُسۡرًا 
তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের ঋতুবর্তী হওয়ার আশা নেই, তাদের ব্যাপারে সন্দেহ হলে তাদের ইদ্দত হবে তিন মাস। আর যারা এখনও ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি, তাদেরও অনুরূপ ইদ্দতকাল হবে। গর্ভবর্তী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তানপ্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন।
আত-তালাককুরআন সূচী
12আয়াত
মাদানীRevelation
2আয়াত

অনুবাদ — আত-তালাক 2

সূরা আয়াত 2/12 — আত-তালাক الطلاق (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আত-তালাক শুনুন, আত-তালাক অনুবাদ, আত-তালাক mp3, আত-তালাক pdf. আয়াত 1–4. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না