আল-বাকারা · 185/286
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-বাকারা
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ۝١٨٥
Shahru Ramadaanallazeee unzila feehil Qur`aanu hudal linnaasi wa baiyinaatim minal hudaa wal furqaan; faman shahida minkumush shahra falyasumhu wa man kaana mareedan aw `alaa safarin fa`iddatum min ayyaamin ukhar; yureedul laahu bikumul yusra wa laa yureedu bikumul `usra wa litukmilul `iddata wa litukabbirul laaha `alaa maa hadaakum wa la`allakum tashkuroon
📖 বাংলা অর্থ
রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দের অর্থ:

  • شَهْرُ رَمَضَانَ – রমজান মাস।
  • أُنزِلَ – অবতীর্ণ করা হয়েছে।
  • هُدًى – পথপ্রদর্শক / হেদায়েত।
  • بَيِّنَاتٍ – সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শন।
  • الْفُرْقَانِ – সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।
  • شَهِدَ – উপস্থিত থাকা (অর্থাৎ সে মাসে জীবিত ও সুস্থ থাকা)।
  • فَلْيَصُمْهُ – সে যেন সিয়াম পালন করে।
  • عِدَّةٌ – গণনা / সংখ্যা পূরণ করা।
  • الْيُسْرَ – সহজতা / আরাম।
  • الْعُسْرَ – কষ্ট / সংকীর্ণতা।
  • لِتُكْمِلُوا – তোমরা পূর্ণ করো।
  • لِتُكَبِّرُوا – তোমরা মহিমান্বিত ঘোষণা করো (তাকবির দাও)।
  • تَشْكُرُونَ – কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

রমজান হলো সেই মহান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে—সম্পূর্ণ কুরআন লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানে একত্রে নাজিল হয়েছে, আর তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে। এই কুরআন是人类দের জন্য হেদায়েতের উৎস, যাতে রয়েছে সত্য পথের সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী নির্দেশনা।

অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাস পাবে (সুস্থ ও মুকিম অবস্থায়), সে যেন এই মাসের সিয়াম পালন করে। তবে যদি কেউ অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে, তবে সে সিয়াম ভঙ্গ করতে পারবে এবং পরে অন্য দিনগুলোতে সেই সংখ্যা পূরণ করে দেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান, কষ্ট চান না। তিনি চান তোমরা সিয়ামের সংখ্যা পূর্ণ করো, রমজান শেষে (ঈদুল ফিতরে) আল্লাহর তাকবির দাও—তাঁর মহত্ত্ব ঘোষণা করো, কারণ তিনি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং এই ইবাদত করার তাওফিক দিয়েছেন। আর তোমরা যেন তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো।


উপকারিতা ও শিক্ষা:

  1. রমজান মাসের মর্যাদা অপরিসীম, কারণ এই মাসেই কুরআন নাজিল হয়েছে—যা মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ হেদায়েত।
  2. ইসলাম ধর্ম সহজতার ধর্ম। অসুস্থ ও মুসাফিরদের জন্য সিয়াম ভঙ্গের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে আল্লাহ বান্দাদের উপর কষ্ট চাপাতে চান না।
  3. সিয়াম শুধু উপবাস নয়, বরং এটি আল্লাহর নির্দেশ পালন, আত্মশুদ্ধি এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি মাধ্যম।
  4. ঈদুল ফিতরের তাকবির দেওয়া সুন্নত এবং এটি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আনন্দ প্রকাশের একটি উপায়।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ধর্মীয় বিধান পালনে কোনো সংকীর্ণতা নেই; বরং প্রতিটি বিধানের মধ্যে রয়েছে মানুষের কল্যাণ ও সহজতা।
  6. কুরআন এমন একটি গ্রন্থ যা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 183-187 — আল-বাকারা

183يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।
184أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ ۚ وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।
185شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
186وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ ۖ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।
187أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَائِكُمْ ۚ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ ۗ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتَانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ ۖ فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ ۚ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ ۚ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীRevelation
185আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 185

সূরা আল-বাকারা আয়াত 185 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন,…

সূরা আয়াত 185/286 — আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-বাকারা শুনুন, আল-বাকারা অনুবাদ, আল-বাকারা mp3, আল-বাকারা pdf. আয়াত 183–187. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না