আল-বাকারা · 186/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ ۖ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ ۝١٨٦
Wa izaa sa alaka `ibaadee `annnee fa innee qareebun ujeebu da`wataddaa`i izaa da`aani falyastajeeboo lee walyu minoo beela `allahum yarshudoon
📖 বাংলা অর্থ
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • قَرِيبٌ — অতি নিকটে, যিনি সবকিছু জানেন এবং দেখেন।
  • أُجِيبُ — আমি সাড়া দিই, কবুল করি।
  • دَعْوَةَ الدَّاعِ — আহ্বানকারীর দোয়া বা প্রার্থনা।
  • فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي — সুতরাং তারা যেন আমার আহ্বানে সাড়া দেয়, অর্থাৎ আমার আদেশ মান্য করে।
  • لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ — যাতে তারা সঠিক পথ পায়, হিদায়াত লাভ করে।

তাফসির:

হে নবী! যখন আমার বান্দারা আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তখন তাদের জানিয়ে দিন যে, আমি তাদের অত্যন্ত নিকটে। আমি তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত, তাদের কথা শুনি এবং তাদের প্রয়োজনের প্রতি খেয়াল রাখি। তাদের আমার কাছে পৌঁছানোর জন্য কোনো মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই, এমনকি উচ্চৈঃস্বরে ডাকারও প্রয়োজন নেই। যখন কোনো বান্দা আন্তরিকভাবে ও একনিষ্ঠ মনে আমাকে ডাকে, আমি তার দোয়া কবুল করি। তাই তাদের উচিত আমার আদেশ-নিষেধ মেনে চলা, আমার দেওয়া পথে চলা এবং আমার প্রতি পূর্ণ ঈমান রাখা। কারণ, এই আনুগত্য ও ঈমানই আমার দোয়া কবুলের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। এর মাধ্যমেই তারা দুনিয়া ও আখিরাতের মঙ্গল ও সঠিক পথ লাভ করতে পারবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের এত নিকটে যে, তিনি তাদের ডাক শোনেন এবং প্রয়োজনে সাড়া দেন—এটা তাঁর মহান অনুগ্রহ ও দয়া।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অত্যন্ত নিকটে; তাই তাঁর কাছে কিছু চাইতে বা দোয়া করতে কোনো মাধ্যম বা মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই। যে কেউ সরাসরি তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে পারে।
  2. দোয়া কবুলের জন্য আন্তরিকতা ও একনিষ্ঠতা অপরিহার্য। আল্লাহ সেই বান্দার ডাকে সাড়া দেন, যে তাকে আন্তরিকভাবে ডাকে।
  3. দোয়া কবুলের সাথে আল্লাহর আনুগত্য ও ঈমানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যে আল্লাহর আদেশ মানে এবং তার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে, তার দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বেশি।
  4. এই আয়াত মুমিনদের জন্য অত্যন্ত সান্ত্বনাদায়ক যে, তারা যেখানেই থাকুক, আল্লাহ তাদের কাছেই আছেন এবং তাদের ডাক শোনেন। ফলে মুমিনের অন্তর সর্বদা আল্লাহমুখী থাকে এবং সে কখনো একাকী বা অসহায় বোধ করে না।
  5. রমজান মাসে এই আয়াত নাজিল হয়েছে, যা দোয়া ও ইবাদতের বিশেষ মৌসুম। এটি মুমিনদের উৎসাহিত করে যে, এই মাসে বেশি বেশি দোয়া করো, কারণ আল্লাহ তোমাদের অতি নিকটে।


📜 আয়াত 184-188 — সূরা আল-বাকারা

184أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ ۚ وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।
185شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
186وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ ۖ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।
187أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَائِكُمْ ۚ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ ۗ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتَانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ ۖ فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ ۚ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ ۚ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে।
188وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না। এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্নসাৎ করার উদ্দেশে শাসন কতৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
186আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 186

সূরা আল-বাকারা আয়াত 186 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে…

সূরা আয়াত 186/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 184–188. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না