আল-বাকারা · 184/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ ۚ وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ۝١٨٤
Ayyaamam ma`doodaat; faman kaana minkum mareedan aw`alaa safarin fa`iddatum min ayyaamin ukhar; wa `alal lazeena yuteeqoonahoo fidyatun ta`aamu miskeenin faman tatawwa`a khairan fahuwa khairulo lahoo wa an tasoomoo khairul lakum in kuntum ta`lamoon
📖 বাংলা অর্থ
গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ — নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন (রমজানের দিনগুলো)।
  • يُطِيقُونَهُ — যারা সিয়াম পালনে সক্ষম (কিন্তু কষ্ট হয়), যেমন বৃদ্ধ বা অসুস্থ ব্যক্তি যার সুস্থ হওয়ার আশা নেই।
  • فِدْيَةٌ — ক্ষতিপূরণ, বিনিময়।
  • تَطَوَّعَ خَيْرًا — যে ব্যক্তি অতিরিক্ত সৎকর্ম করল (অর্থাৎ ফিদইয়ার পরিমাণের চেয়ে বেশি দান করল)।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা বলেন, সিয়াম তোমাদের উপর নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনের জন্য ফরজ করা হয়েছে, যা হলো রমজান মাসের দিনগুলো। তবে তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অসুস্থ হয় (যে অসুস্থতায় সিয়াম রাখা কষ্টকর) অথবা সফরে থাকে, তবে সে সিয়াম ভঙ্গ করতে পারবে এবং পরে তার বদলে অন্য দিনগুলোতে (সুস্থ হয়ে বা সফর থেকে ফিরে) সেই সংখ্যক দিন সিয়াম পালন করবে। আর যারা সিয়াম পালনে সক্ষম কিন্তু চরম কষ্টে পড়ে (যেমন প্রবীণ বৃদ্ধ বা এমন রোগী যার আরোগ্য লাভের আশা নেই), তারা প্রতিটি সিয়ামের বদলে একজন মিসকিনকে খাবার খাওয়াবে। যদি কেউ স্বেচ্ছায় এর চেয়ে বেশি দান করে (অর্থাৎ একাধিক মিসকিনকে খাওয়ায় বা পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়), তবে তা তার জন্য কল্যাণকর। তবে সিয়াম পালন করা (যদি কষ্ট সহ্য করা সম্ভব হয়) ফিদইয়া দেওয়ার চেয়ে উত্তম—যদি তোমরা সিয়ামের মাহাত্ম্য ও এর প্রতিদান সম্পর্কে জানতে। এই বিধান ছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে, যখন সিয়াম ফরজ হওয়ার শুরুতে মুসলিমদের মধ্যে এখতিয়ার (ইচ্ছা) ছিল—চাইলে সিয়াম রাখবে, চাইলে ফিদইয়া দেবে। পরে আল্লাহ তাআলা পরবর্তী আয়াতে সিয়ামকে সবার জন্য ফরজ করে দেন এবং এই এখতিয়ার রহিত করেন।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলাম একটি সহজ ও মানবিক ধর্ম—অসুস্থ ও মুসাফিরদের জন্য সিয়ামের বিধানে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর বোঝা চাপাতে চান না।
  2. সিয়ামের মাধ্যমে আত্মসংযম, ধৈর্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়, যা মানুষের আত্মিক উন্নতির জন্য অপরিহার্য।
  3. দান-সদকা ও মিসকিনদের খাওয়ানোর মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়, যা ইসলামের অন্যতম মূল শিক্ষা।
  4. যে কোনো ইবাদতে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত সৎকর্ম করার সুযোগ ইসলাম দিয়েছে, যা মানুষের নেকির প্রতি আগ্রহ বাড়ায় এবং আল্লাহর রহমত লাভের পথ সুগম করে।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলামের বিধানগুলো ধাপে ধাপে নাজিল হয়েছে, যাতে মানুষ সহজে তা মেনে নিতে পারে এবং তাদের উপর কঠিন না হয়।


📜 আয়াত 182-186 — সূরা আল-বাকারা

182فَمَنْ خَافَ مِن مُّوصٍ جَنَفًا أَوْ إِثْمًا فَأَصْلَحَ بَيْنَهُمْ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
যদি কেউ ওসীয়তকারীর পক্ষ থেকে আশংকা করে পক্ষপাতিত্বের অথবা কোন অপরাধমূলক সিদ্ধান্তের এবং তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়, তবে তার কোন গোনাহ হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।
183يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।
184أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ ۚ وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।
185شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
186وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ ۖ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
184আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 184

সূরা আল-বাকারা আয়াত 184 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে…

সূরা আয়াত 184/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 182–186. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না