আল-বাকারা · 237/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
وَإِن طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِن قَبْلِ أَن تَمَسُّوهُنَّ وَقَدْ فَرَضْتُمْ لَهُنَّ فَرِيضَةً فَنِصْفُ مَا فَرَضْتُمْ إِلَّا أَن يَعْفُونَ أَوْ يَعْفُوَ الَّذِي بِيَدِهِ عُقْدَةُ النِّكَاحِ ۚ وَأَن تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ ۚ وَلَا تَنسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ۝٢٣٧
Wa in tallaqtumoohunna min qabli an tamassoohunna wa qad farad tum lahunna fareedatan fanisfu maa faradtum illaaa ai ya`foona aw ya`fuwallazee biyadihee `uqdatunnikaah; wa an ta`foona aw ya`fuwallazee biyadihee `uqdatunnikaah; wa an ta`fooo aqrabu littaqwaa; wa laa tansawulfadla bainakum; innal laaha bimaa ta`maloona Baseer
📖 বাংলা অর্থ
আর যদি মোহর সাব্যস্ত করার পর স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তাহলে যে, মোহর সাব্যস্ত করা হয়েছে তার অর্ধেক দিয়ে দিতে হবে। অবশ্য যদি নারীরা ক্ষমা করে দেয় কিংবা বিয়ের বন্ধন যার অধিকারে সে (অর্থাৎ, স্বামী) যদি ক্ষমা করে দেয় তবে তা স্বতন্ত্র কথা। আর তোমরা পুরুষরা যদি ক্ষমা কর, তবে তা হবে পরহেযগারীর নিকটবর্তী। আর পারস্পরিক সহানুভূতির কথা বিস্মৃত হয়ো না। নিশ্চয় তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ সেসবই অত্যন্ত ভাল করে দেখেন।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা:

  • তামাসসু (تمسوهن): এর অর্থ স্ত্রী সহবাস করা বা দৈহিক মিলন করা।
  • ফারাদতুম (فرضتم): অর্থাৎ মাহর (মোহরানা) নির্ধারণ করা।
  • ফারিদাহ (فريضة): নির্ধারিত মাহর বা মোহরানা।
  • আফও (عفون): ক্ষমা করা, ছেড়ে দেওয়া, অর্থাৎ নিজের প্রাপ্য অধিকার ছেড়ে দেওয়া।
  • যিল-ইয়াদিহি উকদাতুন নিকাহ (الذي بيده عقدة النكاح): যার হাতে বিবাহের বন্ধন রয়েছে। অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে এখানে স্বামীকে বোঝানো হয়েছে; কারও মতে অভিভাবকও হতে পারে।

তাফসীর:

প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে বিবাহ-বিচ্ছেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান বর্ণনা করেছেন। যদি তোমরা স্ত্রীদেরকে বিবাহের চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর কিন্তু সহবাসের পূর্বে তালাক দাও, এবং তাদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ মাহর নির্ধারণ করে থাকো, তাহলে সেই নির্ধারিত মাহরের অর্ধেক তোমাদের জন্য প্রদান করা ওয়াজিব। অর্থাৎ, অর্ধেক মাহর স্ত্রীকে দিতে হবে।

তবে এখানে আল্লাহ তাআলা দুটি সুন্দর ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করেছেন:

  1. যদি স্ত্রী নিজে তার প্রাপ্য অর্ধেক মাহর মাফ করে দেয় (অর্থাৎ সে স্বেচ্ছায় তা ছেড়ে দেয়), তাহলে তা বৈধ।
  2. অথবা যদি স্বামী নিজে উদারতা দেখিয়ে সম্পূর্ণ মাহরটি স্ত্রীকে প্রদান করে দেয়, তাহলেও তা বৈধ এবং অতি উত্তম।

এরপর আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে তাকওয়া ও পরহেজগারির দিকে আহ্বান জানিয়ে বলেন: "তোমাদের পরস্পর ক্ষমা করা তাকওয়ার আরও নিকটবর্তী।" অর্থাৎ, স্ত্রী তার প্রাপ্য ছেড়ে দিক বা স্বামী সম্পূর্ণ মাহর প্রদান করুক—এই পারস্পরিক উদারতা ও ক্ষমাই আল্লাহর ভয় ও তাকওয়ার সবচেয়ে কাছের পথ।

আল্লাহ আরও বলেন: "তোমরা পরস্পরের মধ্যে অনুগ্রহ ও সদাচরণ ভুলে যেও না।" অর্থাৎ, হে মানবজাতি! তোমাদের মধ্যে কেউ কারও প্রতি ভালো ব্যবহার করলে, অনুগ্রহ করলে তা ভুলে যেও না। বরং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো এবং প্রতিদান হিসেবে ভালো আচরণ করো। কারণ, আল্লাহ তাআলা তোমাদের সকল কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তিনি ভালো কাজের পুরস্কার দেবেন এবং মন্দ কাজের হিসাব নেবেন।


দাওয়াত ও শিক্ষণীয় দিক:

এই আয়াত থেকে আমরা শিখি—ইসলাম এমন একটি ধর্ম যা প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করেছে। বিবাহ-বিচ্ছেদের মতো কঠিন পরিস্থিতিতেও ইসলাম উদারতা, ক্ষমা ও সদাচরণের শিক্ষা দেয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে শেখান যে, অধিকার আদায়ের পাশাপাশি ক্ষমা ও উদারতা প্রদর্শন করা তাকওয়ার অন্তর্ভুক্ত। যারা ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।

আসুন, আমরা সবাই এই শিক্ষা গ্রহণ করি—পরিবারে, সমাজে এবং প্রতিটি সম্পর্কে ক্ষমা, উদারতা ও সদাচরণ বজায় রাখি। মনে রাখবেন, আল্লাহ আমাদের প্রতিটি কাজ দেখছেন এবং তিনি কাউকে তার ভালো কাজের প্রতিদান দিতে ভুলবেন না।



📜 আয়াত 235-239 — সূরা আল-বাকারা

235وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُم بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ أَوْ أَكْنَنتُمْ فِي أَنفُسِكُمْ ۚ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ سَتَذْكُرُونَهُنَّ وَلَٰكِن لَّا تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا إِلَّا أَن تَقُولُوا قَوْلًا مَّعْرُوفًا ۚ وَلَا تَعْزِمُوا عُقْدَةَ النِّكَاحِ حَتَّىٰ يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي أَنفُسِكُمْ فَاحْذَرُوهُ ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌ
আর যদি তোমরা আকার ইঙ্গিতে সে নারীর বিয়ের পয়গাম দাও, কিংবা নিজেদের মনে গোপন রাখ, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই, আল্লাহ জানেন যে, তোমরা অবশ্যই সে নারীদের কথা উল্লেখ করবে। কিন্তু তাদের সাথে বিয়ে করার গোপন প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখো না। অবশ্য শরীয়তের নির্ধারিত প্রথা অনুযায়ী কোন কথা সাব্যস্ত করে নেবে। আর নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্তি পর্যায়ে না যাওয়া অবধি বিয়ে করার কোন ইচ্ছা করো না। আর একথা জেনে রেখো যে, তোমাদের মনে যে কথা রয়েছে, আল্লাহর তা জানা আছে। কাজেই তাঁকে ভয় করতে থাক। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ ক্ষমাকারী ও ধৈর্য্যশীল।
236لَّا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ مَا لَمْ تَمَسُّوهُنَّ أَوْ تَفْرِضُوا لَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَمَتِّعُوهُنَّ عَلَى الْمُوسِعِ قَدَرُهُ وَعَلَى الْمُقْتِرِ قَدَرُهُ مَتَاعًا بِالْمَعْرُوفِ ۖ حَقًّا عَلَى الْمُحْسِنِينَ
স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করার আগে এবং কোন মোহর সাব্যস্ত করার পূর্বেও যদি তালাক দিয়ে দাও, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই। তবে তাদেরকে কিছু খরচ দেবে। আর সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এবং কম সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সাধ্য অনুযায়ী। যে খরচ প্রচলিত রয়েছে তা সৎকর্মশীলদের উপর দায়িত্ব।
237وَإِن طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِن قَبْلِ أَن تَمَسُّوهُنَّ وَقَدْ فَرَضْتُمْ لَهُنَّ فَرِيضَةً فَنِصْفُ مَا فَرَضْتُمْ إِلَّا أَن يَعْفُونَ أَوْ يَعْفُوَ الَّذِي بِيَدِهِ عُقْدَةُ النِّكَاحِ ۚ وَأَن تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ ۚ وَلَا تَنسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
আর যদি মোহর সাব্যস্ত করার পর স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তাহলে যে, মোহর সাব্যস্ত করা হয়েছে তার অর্ধেক দিয়ে দিতে হবে। অবশ্য যদি নারীরা ক্ষমা করে দেয় কিংবা বিয়ের বন্ধন যার অধিকারে সে (অর্থাৎ, স্বামী) যদি ক্ষমা করে দেয় তবে তা স্বতন্ত্র কথা। আর তোমরা পুরুষরা যদি ক্ষমা কর, তবে তা হবে পরহেযগারীর নিকটবর্তী। আর পারস্পরিক সহানুভূতির কথা বিস্মৃত হয়ো না। নিশ্চয় তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ সেসবই অত্যন্ত ভাল করে দেখেন।
238حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ
সমস্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সাথে দাঁড়াও।
239فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًا ۖ فَإِذَا أَمِنتُمْ فَاذْكُرُوا اللَّهَ كَمَا عَلَّمَكُم مَّا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ
অতঃপর যদি তোমাদের কারো ব্যাপারে ভয় থাকে, তাহলে পদচারী অবস্থাতেই পড়ে নাও অথবা সওয়ারীর উপরে। তারপর যখন তোমরা নিরাপত্তা পাবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর, যেভাবে তোমাদের শেখানো হয়েছে, যা তোমরা ইতিপূর্বে জানতে না।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
237আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 237

সূরা আল-বাকারা আয়াত 237 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর যদি মোহর সাব্যস্ত করার পর স্পর্শ করার পূর্বে তালাক…

সূরা আয়াত 237/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 235–239. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না