Wa ankihul ayaamaa minkum was saaliheena min `ibaadikum wa imaa`kum; iny-yakoonoo fuqaraaa`a yughni himul laahu min fadlih; wal laahu Waasi`un `Aleem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और अपनी (क़ौम की) बेशौहर औरतों और अपने नेक बख्त गुलामों और लौंडियों का निकाह कर दिया करो अगर ये लोग मोहताज होंगे तो खुदा अपने फज़ल व (करम) से उन्हें मालदार बना देगा और ख़ुदा तो बड़ी गुन्जाइश वाला वाक़िफ कार है
তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
الأَيَامَى (আয়ামা): "আইম" এর বহুবচন। অর্থাৎ যাদের বিবাহ নেই—পুরুষ হোক বা নারী, কুমারী হোক বা বিধবা/তালাকপ্রাপ্তা।
الصَّالِحِينَ (সালেহীন): সচ্চরিত্র, ধার্মিক ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী।
عَلِيمٌ (আলিম): সর্বজ্ঞ, প্রত্যেকের অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানী।
তাফসীর:
হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত—পুরুষ হোক বা নারী, কুমারী হোক বা পূর্বে বিবাহিত—তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করো। আর তোমাদের অধীনস্থ দাস-দাসীদের মধ্য থেকে যারা সচ্চরিত্র ও ধার্মিক, তাদেরও বিবাহ দাও। কেউ যেন দারিদ্র্যের অজুহাতে বিবাহ থেকে বিরত না থাকে। কারণ তারা যদি অভাবগ্রস্তও হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাব দূর করে দেবেন এবং তাদের জন্য রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। আল্লাহর দান অফুরন্ত, তার ভান্ডার কখনো শেষ হয় না। তিনি প্রত্যেক বান্দার অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত—কার জন্য কতটুকু রিজিক উপযুক্ত তা তিনি ভালো করেই জানেন। তাই বিবাহকে কঠিন মনে না করে সহজভাবে গ্রহণ করা উচিত, কারণ বিবাহ কেবল পার্থিব প্রয়োজনই পূরণ করে না, বরং এটি একটি ইবাদত এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিক প্রাপ্তির একটি মাধ্যম।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, বিবাহ ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং সমাজের দায়িত্বশীলদের উচিত অবিবাহিতদের বিবাহে সহযোগিতা করা।
দারিদ্র্য কখনো বিবাহের পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বিবাহ করলে তিনি অফুরন্ত রিজিক দিয়ে থাকেন। এটি মুমিনের জন্য এক বিশাল সুসংবাদ।
দাস-দাসীদের প্রতি সদয় আচরণ এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়ে ইসলাম মানবতার মর্যাদা ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করেছে।
এই আয়াত সমাজে পবিত্রতা, সচ্চরিত্র ও শালীনতা রক্ষার জন্য বিবাহকে উৎসাহিত করে, যা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্য কল্যাণকর।
আল্লাহর গুণ "ওয়াসি" ও "আলিম" আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, তার রিজিকের ভান্ডার অফুরন্ত এবং তিনি প্রত্যেকের প্রয়োজন সম্পর্কে অবগত। তাই তার ওপর ভরসা রাখা এবং তার আদেশ পালন করাই মুমিনের কর্তব্য।
মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।
ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।
তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
যারা বিবাহে সামর্থ নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন। তোমাদের অধিকারভুক্তদের মধ্যে যারা মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে চায়, তাদের সাথে তোমরা লিখিত চুক্তি কর যদি জান যে, তাদের মধ্যে কল্যাণ আছে। আল্লাহ তোমাদেরকে যে, অর্থ-কড়ি দিয়েছেন, তা থেকে তাদেরকে দান কর। তোমাদের দাসীরা নিজেদের পবিত্রতা রক্ষা করতে চাইলে তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদের লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য কারো না। যদি কেহ তাদের উপর জোর-জবরদস্তি করে, তবে তাদের উপর জোর-জবরদস্তির পর আল্লাহ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।