Laisal birra an tuwalloo wujoohakum qibalal mashriqi walmaghribi wa laakinnal birra man aamana billaahi wal yawmil aakhiri wal malaaa `ikati wal kitaabi wan nabiyyeena wa aatalmaala `alaa hubbihee zawilqurbaa walyataa maa walmasaakeena wabnas sabeeli wassaaa`ileena wa firriqaabi wa aqaamas salaata wa aataz zakaata walmoofoona bi ahdihim izaa `aahadoo wasaabireena fil baasaaa`i waddarraaa`i wa heenal baas; ulaaa`ikal lazeena sadaqoo wa ulaaa `ika humul muttaqoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
नेकी कुछ यही थोड़ी है कि नमाज़ में अपने मुँह पूरब या पश्चिम की तरफ़ कर लो बल्कि नेकी तो उसकी है जो ख़ुदा और रोज़े आख़िरत और फ़रिश्तों और ख़ुदा की किताबों और पैग़म्बरों पर ईमान लाए और उसकी उलफ़त में अपना माल क़राबत दारों और यतीमों और मोहताजो और परदेसियों और माँगने वालों और लौन्डी ग़ुलाम (के गुलू खलासी) में सर्फ करे और पाबन्दी से नमाज़ पढे और ज़कात देता रहे और जब कोई एहद किया तो अपने क़ौल के पूरे हो और फ़क्र व फाक़ा रन्ज और घुटन के वक्त साबित क़दम रहे यही लोग वह हैं जो दावए ईमान में सच्चे निकले और यही लोग परहेज़गार है
ابْنَ السَّبِيلِ (ইবনাস সাবিল): মুসাফির, যে পথে থাকে এবং নিজ দেশ ও পরিবার থেকে দূরে থাকে।
الرِّقَابِ (রিকাব): দাস-দাসী ও বন্দিদের মুক্তির জন্য অর্থ ব্যয় করা।
الْبَأْسَاءِ (বাসা): অভাব-অনটন ও কষ্ট।
الضَّرَّاءِ (দাররা): রোগ-ব্যাধি ও শারীরিক কষ্ট।
حِينَ الْبَأْسِ (হীনাল বাস): যুদ্ধের সময় ও সংঘাতের মুহূর্ত।
তাফসীর:
প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইসলামের মূল চেতনা ও প্রকৃত কল্যাণের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, প্রকৃত সৎকর্ম বা কল্যাণ কেবলমাত্র পূর্ব বা পশ্চিম দিকে মুখ করা নয়। অর্থাৎ, নামাজের কিবলা নিয়ে বিতর্ক করা বা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দিকে মুখ ফেরানোই আসল ইবাদত নয়। বরং প্রকৃত কল্যাণ ও সৎকর্ম হলো সেই ব্যক্তির গুণ, যে—
আল্লাহ ও পরকালের প্রতি পূর্ণ ঈমান আনে: সে এক আল্লাহকে একক উপাস্য হিসেবে বিশ্বাস করে, তার কোনো শরিক নেই। সে আখিরাতের পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ, জান্নাত-জাহান্নামের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।
ফেরেশতা, আসমানী কিতাব ও নবীগণের প্রতি ঈমান আনে: সে আল্লাহর সকল ফেরেশতা, সকল আসমানী কিতাব (তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল, কুরআন) এবং সকল নবী-রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। কোনো নবীর মধ্যে পার্থক্য করে না, সবার প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শন করে।
আল্লাহর পথে সম্পদ ব্যয় করে: সে তার প্রিয় ও প্রয়োজনীয় সম্পদ থেকেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করে—আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, অভাবী সওয়ালকারী এবং দাস-দাসী মুক্তির জন্য। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সে সম্পদ দান করে "তার ভালোবাসা সত্ত্বেও" অর্থাৎ সম্পদের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর ভালোবাসার কারণে তা ব্যয় করে।
নামাজ প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত আদায় করে: সে সময়মতো পূর্ণাঙ্গভাবে নামাজ আদায় করে এবং সম্পদের নির্ধারিত অংশ যাকাত হিসেবে বের করে দেয়।
অঙ্গীকার পূরণ করে: সে আল্লাহর সাথে এবং মানুষের সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূর্ণ করে। কথা দিলে তা রক্ষা করে, আমানত ফেরত দেয়।
ধৈর্যশীল হয়: সে অভাব-অনটন, রোগ-ব্যাধি এবং যুদ্ধের ভয়াবহ মুহূর্তে ধৈর্য ধারণ করে এবং দৃঢ় থাকে।
এরপর আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন—যারা এই গুণাবলিতে নিজেদেরকে সজ্জিত করবে, তারাই সত্যিকার অর্থে ঈমানে সত্যনিষ্ঠ এবং তারাই প্রকৃত মুত্তাকী (খোদাভীরু)। তারা আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকে এবং তাঁর আদেশ পালন করে।
আমাদের জন্য শিক্ষা: এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলাম শুধু আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ঈমানের সাথে সাথে সামাজিক দায়িত্ব, নৈতিক চরিত্র, আত্মত্যাগ ও ধৈর্যের সমন্বয়ই প্রকৃত মুমিনের পরিচয়। আসুন, আমরা সবাই এই মহান গুণাবলি অর্জনের চেষ্টা করি, যাতে আমরা আল্লাহর কাছে সত্যনিষ্ঠ ও মুত্তাকী হিসেবে গণ্য হতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।
সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।
এরাই হল সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করেছে এবং (খরিদ করেছে) ক্ষমা ও অনুগ্রহের বিনিময়ে আযাব। অতএব, তারা দোযখের উপর কেমন ধৈর্য্য ধারণকারী।
সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।
হে ঈমানদারগন! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কেসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়। অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছুটা মাফ করে দেয়া হয়, তবে প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং ভালভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে সহজ এবং বিশেষ অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যাক্তি বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।