আর এটা এজন্যে যে, আল্লাহ নাযিল করেছেন সত্যপূর্ণ কিতাব। আর যারা কেতাবের মাঝে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে নিশ্চয়ই তারা জেদের বশবর্তী হয়ে অনেক দূরে চলে গেছে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
شِقَاقٍ — বিরোধিতা, মতভেদ, দ্বন্দ্ব।
بَعِيدٍ — সুদূর, অর্থাৎ সত্য থেকে বহু দূরে।
তাফসীর:
এই আযাব ও শাস্তি এ কারণে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবসমূহ সত্য ও ন্যায়সঙ্গতভাবে নাযিল করেছেন, যাতে মানুষ হিদায়াত লাভ করে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু তারা সেই কিতাবের প্রতি ঈমান আনার পরিবর্তে কুফরি করেছে, আবার কেউ কেউ কিতাবের কিছু অংশ মেনেছে এবং কিছু অংশ অস্বীকার করেছে। যারা কিতাবের মধ্যে মতভেদ করেছে—কোনো অংশে ঈমান এনেছে, কোনো অংশকে অস্বীকার করেছে বা গোপন করেছে—তারা সত্য থেকে বহু দূরে চলে গেছে এবং গভীর বিরোধিতা ও বিভেদের মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছে। তাদের এই অবস্থা হিদায়াতের সম্পূর্ণ বিপরীত, কারণ তারা নিজেদের মনগড়া মতামতকে কিতাবের উপর প্রাধান্য দিয়েছে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবসমূহ সত্য ও ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত। তাই আমাদের কর্তব্য হলো তা পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে চলা, আংশিক নয়।
কিতাবের কোনো অংশে ঈমান আনা এবং অন্য অংশকে অস্বীকার করা বা গোপন করা মারাত্মক অপরাধ, যা মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
মতভেদ ও বিভেদ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ তা হিদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুতির কারণ।
কুরআন ও সুন্নাহকে পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করাই মুমিনের একমাত্র পথ, আর এতে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া বা অংশবিশেষ গ্রহণ করা জায়েয নয়।
যারা সত্যকে জেনেও গোপন করে বা বিকৃত করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তির সতর্কবাণী। তাই আমাদের উচিত সত্য প্রকাশ করা এবং অন্যকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান করা।
নিশ্চয় যারা সেসব বিষয় গোপন করে, যা আল্লাহ কিতাবে নাযিল করেছেন এবং সেজন্য অল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা আগুন ছাড়া নিজের পেটে আর কিছুই ঢুকায় না। আর আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের সাথে না কথা বলবেন, না তাদের পবিত্র করা হবে, বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
এরাই হল সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করেছে এবং (খরিদ করেছে) ক্ষমা ও অনুগ্রহের বিনিময়ে আযাব। অতএব, তারা দোযখের উপর কেমন ধৈর্য্য ধারণকারী।
সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।
হে ঈমানদারগন! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কেসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়। অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছুটা মাফ করে দেয়া হয়, তবে প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং ভালভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে সহজ এবং বিশেষ অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যাক্তি বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।