আল-বাকারা · 178/286
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-বাকারা
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى ۖ الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْأُنثَىٰ بِالْأُنثَىٰ ۚ فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ ۗ ذَٰلِكَ تَخْفِيفٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَرَحْمَةٌ ۗ فَمَنِ اعْتَدَىٰ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ ۝١٧٨
Yaaa ayyuhal lazeena aamanoo kutiba alaikumul qisaasu fil qatlaa alhurru bilhurri wal`abdu bil`abdi wal unsaa bil unsaa; faman `ufiya lahoo min akheehi shai`un fattibaa`um bilma`roofi wa adaaa`un ilaihi bi ihsaan; zaalika takhfeefum mir rahbikum wa rahmah; famani` tadaa ba`da zaalika falahoo `azaabun aleem
📖 বাংলা অর্থ
হে ঈমানদারগন! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কেসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়। অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছুটা মাফ করে দেয়া হয়, তবে প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং ভালভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে সহজ এবং বিশেষ অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যাক্তি বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • কিসাস (قصاص): হত্যার অপরাধে অপরাধীর সাথে সমান আচরণ করা, অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত হত্যার বিনিময়ে হত্যাকারীকে হত্যা করা।
  • উফিয়া লাহু (عُفِيَ لَهُ): যার পক্ষ থেকে ক্ষমা করা হলো, অর্থাৎ হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো।
  • দিয়াত (دية): রক্তপণ বা ক্ষতিপূরণ, যা হত্যাকারী ক্ষমার বিনিময়ে নিহতের পরিবারকে প্রদান করে।
  • ইহসান (إحسان): উত্তম পন্থায়, কোনো প্রকার কাঠিন্য বা বিলম্ব ছাড়া।
  • ই’তিদা (اعتدى): সীমালঙ্ঘন করা, অন্যায়ভাবে অতিক্রম করা।

তাফসির:

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর হত্যার ক্ষেত্রে কিসাস (সমান প্রতিশোধ) ফরজ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ইচ্ছাকৃত হত্যার অপরাধে হত্যাকারীকে তার অপরাধের সমান শাস্তি দিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সমতা ও সামঞ্জস্য শর্ত: স্বাধীন ব্যক্তির বিনিময়ে স্বাধীন ব্যক্তি, দাসের বিনিময়ে দাস এবং নারীর বিনিময়ে নারীকে হত্যা করা যাবে।

এরপর যদি নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে ক্ষমা করা হয়—অর্থাৎ কিসাস মাফ করে দেওয়া হয় এবং এর বিনিময়ে দিয়াত (রক্তপণ) গ্রহণে সম্মত হয়—তবে ক্ষমাকারীকে উচিত সদয়ভাবে ও ন্যায়সংগতভাবে দিয়াত দাবি করা, কোনো প্রকার জুলুম বা কঠোরতা না করা। আর হত্যাকারীর কর্তব্য হলো নির্ধারিত দিয়াত উত্তম পন্থায়, বিলম্ব না করে এবং কোনো ঘাটতি না রেখে পরিশোধ করা।

এই বিধান—ক্ষমা করে দিয়াত গ্রহণের সুযোগ—তোমাদের রবের পক্ষ থেকে একটি সহজতা ও বিশেষ রহমত। কারণ পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর কঠোর বিধান ছিল; ইয়াহুদীদের উপর কিসাস বাধ্যতামূলক ছিল এবং দিয়াত গ্রহণের অনুমতি ছিল না, আর খ্রিস্টানদের উপর দিয়াত বাধ্যতামূলক ছিল এবং কিসাসের বিধান ছিল না। কিন্তু এই উম্মতকে উভয়ের মধ্যে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।

অতএব, কেউ যদি ক্ষমা ও দিয়াত গ্রহণের পরও সীমালঙ্ঘন করে—যেমন ক্ষমা পাওয়া হত্যাকারীকে হত্যা করে বা অন্যায়ভাবে কারো উপর অত্যাচার করে—তাহলে তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি; দুনিয়ায় কিসাস হিসেবে অথবা আখিরাতে জাহান্নামের আগুন।


উপকারিতা ও শিক্ষা:

  1. ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ আইন প্রদান করেছে, যা ন্যায়বিচার ও রহমতের সমন্বয়। কিসাসের বিধান সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, কারণ অপরাধী জানে তার কর্মের ফল ভোগ করতে হবে।
  2. ক্ষমা ও দিয়াতের বিধান ইসলামের সহজতা ও মানুষের প্রতি রহমতের প্রমাণ। এটি হত্যাকারীকে অনুতপ্ত হয়ে সমাজে ফিরে আসার সুযোগ দেয় এবং নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সান্ত্বনা প্রদান করে।
  3. এই আয়াত মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি বিশেষ সম্মান—আল্লাহ তায়ালা পূর্ববর্তী উম্মতদের তুলনায় আমাদের জন্য সহজ বিধান দিয়েছেন, যা আমাদের প্রতি তার অশেষ মেহেরবানির নিদর্শন।
  4. ক্ষমা করা এবং সদয় আচরণ করা ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য। এটি মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং প্রতিশোধের আগুন নিভিয়ে সমাজে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করে।
  5. সীমালঙ্ঘনকারীর জন্য কঠিন শাস্তির ঘোষণা আমাদের শেখায় যে, ইসলামের বিধান লঙ্ঘন করা এবং অন্যায়ভাবে কারো উপর অত্যাচার করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি আমাদেরকে ন্যায়পরায়ণ ও সংযমী হতে উৎসাহিত করে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 176-180 — আল-বাকারা

176ذَٰلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ نَزَّلَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ ۗ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِي الْكِتَابِ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ
আর এটা এজন্যে যে, আল্লাহ নাযিল করেছেন সত্যপূর্ণ কিতাব। আর যারা কেতাবের মাঝে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে নিশ্চয়ই তারা জেদের বশবর্তী হয়ে অনেক দূরে চলে গেছে।
177۞ لَّيْسَ الْبِرَّ أَن تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَىٰ حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا ۖ وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ ۗ أُولَٰئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ
সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।
178يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى ۖ الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْأُنثَىٰ بِالْأُنثَىٰ ۚ فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ ۗ ذَٰلِكَ تَخْفِيفٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَرَحْمَةٌ ۗ فَمَنِ اعْتَدَىٰ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ
হে ঈমানদারগন! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কেসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়। অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছুটা মাফ করে দেয়া হয়, তবে প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং ভালভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে সহজ এবং বিশেষ অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যাক্তি বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
179وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে বুদ্ধিমানগণ! কেসাসের মধ্যে তোমাদের জন্যে জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পার।
180كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِن تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ ۖ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ
তোমাদের কারো যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, সে যদি কিছু ধন-সম্পদ ত্যাগ করে যায়, তবে তার জন্য ওসীয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হলো, পিতা-মাতা ও নিকটাত্নীয়দের জন্য ইনসাফের সাথে পরহেযগারদের জন্য এ নির্দেশ জরুরী। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা সবকিছু শোনেন ও জানেন।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীRevelation
178আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 178

সূরা আল-বাকারা আয়াত 178 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : হে ঈমানদারগন! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কেসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ…

সূরা আয়াত 178/286 — আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-বাকারা শুনুন, আল-বাকারা অনুবাদ, আল-বাকারা mp3, আল-বাকারা pdf. আয়াত 176–180. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না