আল-বাকারা · 220/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۗ وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَىٰ ۖ قُلْ إِصْلَاحٌ لَّهُمْ خَيْرٌ ۖ وَإِن تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ ۚ وَاللَّهُ يَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَعْنَتَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ۝٢٢٠
Fid dunyaa wal aakhirah; wa yas`aloonaka `anil yataamaa qul islaahullahum khayr, wa in tukhaalitoohum fa ikhwaanukum; wallaahu ya`lamul mufsida minalmuslih; wa law shaaa`al laahu la-a`natakum; innal laaha `Azeezun Hakeem
📖 বাংলা অর্থ
দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে। আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, এতীম সংক্রান্ত হুকুম। বলে দাও, তাদের কাজ-কর্ম সঠিকভাবে গুছিয়ে দেয়া উত্তম আর যদি তাদের ব্যয়ভার নিজের সাথে মিশিয়ে নাও, তাহলে মনে করবে তারা তোমাদের ভাই । বস্তুতঃ অমঙ্গলকামী ও মঙ্গলকামীদেরকে আল্লাহ জানেন। আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তোমাদের উপর জটিলতা আরোপ করতে পারতেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞ।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • إِصْلَاحٌ لَّهُمْ – এতিমদের জন্য কল্যাণকর কাজ করা, তাদের সম্পদ রক্ষা ও বৃদ্ধি করা।
  • تُخَالِطُوهُمْ – তোমরা তাদের সাথে মিলেমিশে থাকা, তাদের সম্পদ নিজের সম্পদের সাথে মিশিয়ে দেওয়া।
  • لَأَعْنَتَكُمْ – আল্লাহ তোমাদের উপর কঠোরতা ও সংকীর্ণতা চাপিয়ে দিতেন।
  • عَزِيزٌ – পরাক্রমশালী, যাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।
  • حَكِيمٌ – প্রজ্ঞাময়, যিনি প্রতিটি কাজ ও বিধান প্রজ্ঞার সাথে করেন।

তাফসীর:

প্রিয় নবী! মানুষ যখন দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের কথা চিন্তা করে, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য সঠিক পথ দেখান। এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা এতিমদের বিষয়ে সাহাবায়ে কিরামের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। যখন এতিমদের সম্পদের কাছে না যাওয়ার নির্দেশ নাজিল হলো, তখন সাহাবারা এতিমদের সাথে মিশতে, তাদের খাওয়া-দাওয়ায় অংশ নিতে এমনকি তাদের দেখাশোনা করতেও সংকোচ বোধ করতে লাগলেন। তাঁরা ভাবলেন, যদি আমরা তাদের সম্পদের সাথে মিশে যাই, তাহলে কি গুনাহ হবে? তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাজিল করে ঘোষণা করলেন:

তোমরা যদি এতিমদের জন্য কল্যাণকর কাজ করো—তাদের সম্পদ রক্ষা করো, তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করো, তাদের শিক্ষা-দীক্ষার দায়িত্ব নাও—তাহলে এটাই উত্তম এবং আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয়। আর যদি তোমরা তাদের সাথে মিলেমিশে থাকো, তাদের সম্পদ নিজেদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে দাও, তবে তাতে কোনো দোষ নেই। কারণ তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই। ভাই তো ভাইয়ের সাহায্য করে, ভাইয়ের কল্যাণ কামনা করে। তবে খেয়াল রাখতে হবে—এই মিশ্রণ যেন নিছক সুবিধা নেওয়ার জন্য না হয়, বরং তাদের কল্যাণের জন্যই হয়।

আল্লাহ তাআলা সম্পূর্ণ জানেন কে এতিমদের সম্পদ নষ্ট করতে চায় আর কে তাদের জন্য প্রকৃত কল্যাণ কামনা করে। তিনি বলেন, যদি আল্লাহ চাইতেন, তাহলে তিনি এতিমদের সাথে মিশে থাকাকে সম্পূর্ণ হারাম করে দিতেন এবং তোমাদের উপর কঠোরতা চাপিয়ে দিতেন। কিন্তু তিনি চাননি, কারণ তাঁর বিধান সহজ ও সুন্দর। তিনি পরাক্রমশালী—তাঁর আদেশের বাইরে কেউ যেতে পারে না; আর তিনি প্রজ্ঞাময়—প্রতিটি বিধানে রয়েছে গভীর কল্যাণ।

প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! দেখুন, ইসলাম কত সুন্দর ও সহজ! এতিমদের প্রতি সদয় হওয়া, তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সম্পদ রক্ষা করা—এসবই আমাদের ঈমানের অংশ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমি ও এতিমের দেখাশোনাকারী জান্নাতে এভাবে থাকব” —এই বলে তিনি শাহাদাত ও মধ্যমা আঙুল একত্র করে দেখিয়েছিলেন। তাই আসুন, আমরা এতিমদের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্বশীল হই। তাদের মুখে হাসি ফোটাই, তাদের পাশে দাঁড়াই। মনে রাখবেন, আল্লাহর কাছে এই ছোট্ট ভালো কাজও অমূল্য। আর আল্লাহ কখনো কারো ভালো কাজ বিনষ্ট করেন না।



📜 আয়াত 218-222 — সূরা আল-বাকারা

218إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَٰئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللَّهِ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
আর এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে আর আল্লাহর পথে লড়াই (জেহাদ) করেছে, তারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী করুনাময়।
219۞ يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ ۖ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِن نَّفْعِهِمَا ۗ وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ
তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়। আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কি তারা ব্যয় করবে? বলে দাও, নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর যা বাঁচে তাই খরচ করবে। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্দেশ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করতে পার।
220فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۗ وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَىٰ ۖ قُلْ إِصْلَاحٌ لَّهُمْ خَيْرٌ ۖ وَإِن تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ ۚ وَاللَّهُ يَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَعْنَتَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে। আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, এতীম সংক্রান্ত হুকুম। বলে দাও, তাদের কাজ-কর্ম সঠিকভাবে গুছিয়ে দেয়া উত্তম আর যদি তাদের ব্যয়ভার নিজের সাথে মিশিয়ে নাও, তাহলে মনে করবে তারা তোমাদের ভাই । বস্তুতঃ অমঙ্গলকামী ও মঙ্গলকামীদেরকে আল্লাহ জানেন। আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তোমাদের উপর জটিলতা আরোপ করতে পারতেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞ।
221وَلَا تَنكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّىٰ يُؤْمِنَّ ۚ وَلَأَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ ۗ وَلَا تُنكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّىٰ يُؤْمِنُوا ۚ وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ ۗ أُولَٰئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ ۖ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ ۖ وَيُبَيِّنُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ
আর তোমরা মুশরেক নারীদেরকে বিয়ে করোনা, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্য মুসলমান ক্রীতদাসী মুশরেক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে। এবং তোমরা (নারীরা) কোন মুশরেকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরেকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা দোযখের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে। আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বাতলে দেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
222وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
220আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 220

সূরা আল-বাকারা আয়াত 220 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে। আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, এতীম…

সূরা আয়াত 220/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 218–222. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না