আল-বাকারা · 229/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ ۗ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَن يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ ۝٢٢٩
Attalaaqu marrataani fa imsaakum bima`roofin aw tasreehum bi ihsaan; wa laa yahillu lakum an taakhuzoo mimmaaa aataitumoohunna shai`an illaaa ai yakhaafaaa alla yuqeemaa hudoodallahi fa in khiftum allaa yuqeemaa budoodal laahi falaa junaaha `Alaihimaa feemaf tadat bihee tilka hudoodul laahi falaa ta`tadoohaa; wa mai yata`adda hudoodal laahi fa ulaaa`ika humuzzaa limoon
📖 বাংলা অর্থ
তালাকে-‘রাজঈ’ হ’ল দুবার পর্যন্ত তারপর হয় নিয়মানুযায়ী রাখবে, না হয় সহৃদয়তার সঙ্গে বর্জন করবে। আর নিজের দেয়া সম্পদ থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য জায়েয নয় তাদের কাছ থেকে। কিন্তু যে ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই এ ব্যাপারে ভয় করে যে, তারা আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, অতঃপর যদি তোমাদের ভয় হয় যে, তারা উভয়েই আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, তাহলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি বিনিময় দিয়ে অব্যাহতি নিয়ে নেয়, তবে উভয়ের মধ্যে কারোরই কোন পাপ নেই। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা। কাজেই একে অতিক্রম করো না। বস্তুতঃ যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তারাই জালেম।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • ত্বলাক (طلاق) - বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা
  • ইমসাক (إمساك) - স্ত্রীকে বিবাহবন্ধনে রাখা, রেখে দেওয়া
  • তাসরিহ (تسريح) - স্ত্রীকে মুক্তি দেওয়া, ছেড়ে দেওয়া
  • বি-মা'রূফ (بمعروف) - শরিয়তসম্মত ও ন্যায়সংগত পদ্ধতিতে
  • বি-ইহসান (بإحسان) - সদয়তা ও উত্তম আচরণের সাথে
  • হুদুদুল্লাহ (حدود الله) - আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা
  • ফিদা (فدت) - বিনিময়, মুক্তিপণ (স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে কিছু অর্থ বা সম্পদ প্রদান)
  • জুনাহ (جناح) - দোষ, গুনাহ, বাধা
  • খুল' (خلع) - স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিনিময়ের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ

আয়াতের বিস্তারিত তাফসির:

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে বিবাহবিচ্ছেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যে ত্বলাকে স্বামীর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার (رجعة) অধিকার থাকে, তা হলো দুটি ত্বলাক। অর্থাৎ, স্বামী একবার ত্বলাক দিলে ইদ্দতের মধ্যে সে চাইলে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারে। এরপর আবার ত্বলাক দিলে দ্বিতীয়বারের মতোও ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু এই দুটি ত্বলাকের পর অবস্থা দাঁড়ায় দুটি স্পষ্ট পথের মোড়ে: হয় স্বামী স্ত্রীকে ন্যায়সংগত ও শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে বিবাহবন্ধনে রাখবে এবং তার সাথে সদাচরণ করবে, অথবা তাকে উত্তম পদ্ধতিতে তৃতীয় ত্বলাক দিয়ে মুক্তি দেবে। অর্থাৎ, স্ত্রীকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে আটকে রাখা বা তার অধিকার খর্ব করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই বিধানটি ইসলামের মহান শিক্ষা, যা নারীদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এরপর আল্লাহ তাআলা স্বামীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে, তোমরা স্ত্রীদেরকে যে মোহর বা উপহার দিয়েছ, তা থেকে কিছুই ফেরত নেবে। তবে একটি বিশেষ অবস্থা ব্যতিক্রম—যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়েই আশঙ্কা করে যে, তারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা (অর্থাৎ দাম্পত্য জীবনের পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্য) রক্ষা করতে পারবে না। যেমন, স্ত্রী স্বামীর আচরণ বা চরিত্রের কারণে তার সাথে জীবনযাপনে অনীহা প্রকাশ করে, অথবা স্বামী স্ত্রীর প্রতি ন্যায়বিচার করতে পারবে না বলে আশঙ্কা করে। তখন তারা উভয়ে মিলে বা তাদের অভিভাবকদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবে। যদি অভিভাবকগণও দেখেন যে, এই দম্পতি আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে না, তাহলে স্ত্রী যদি স্বামীকে কিছু অর্থ বা সম্পদ প্রদান করে তার বিনিময়ে নিজেকে মুক্ত করে নেয় (যাকে 'খুল' বলা হয়), তাহলে উভয়ের ওপর কোনো গুনাহ নেই। এটি একটি সুন্দর সমাধান, যা উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর এবং জুলুম থেকে রক্ষা করে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, এই বিধানগুলোই আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। তোমরা তা লঙ্ঘন করো না। যারা আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, তারাই সত্যিকারের জালিম (অত্যাচারী)। কারণ, তারা নিজেদেরকে আল্লাহর শাস্তি ও অসন্তুষ্টির সম্মুখীন করে নিজেদেরই ক্ষতি করে।

এই আয়াত থেকে আমরা শিখি—ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়ের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কতটা যত্নবান। এটি দাম্পত্য জীবনে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও উত্তম আচরণের শিক্ষা দেয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে থেকে জীবনযাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।



📜 আয়াত 227-231 — সূরা আল-বাকারা

227وَإِنْ عَزَمُوا الطَّلَاقَ فَإِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
আর যদি বর্জন করার সংকল্প করে নেয়, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী ও জ্ঞানী।
228وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ ۚ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَن يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ إِن كُنَّ يُؤْمِنَّ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَٰلِكَ إِنْ أَرَادُوا إِصْلَاحًا ۚ وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
আর তালাকপ্রাপ্তা নারী নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন হায়েয পর্যন্ত। আর যদি সে আল্লাহর প্রতি এবং আখেরাত দিবসের উপর ঈমানদার হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহ যা তার জরায়ুতে সৃষ্টি করেছেন তা লুকিয়ে রাখা জায়েজ নয়। আর যদি সদ্ভাব রেখে চলতে চায়, তাহলে তাদেরকে ফিরিয়ে নেবার অধিকার তাদের স্বামীরা সংরক্ষণ করে। আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনি ভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের উপর নিয়ম অনুযায়ী। আর নারীরদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আর আল্লাহ হচ্ছে পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ।
229الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ ۗ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَن يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
তালাকে-‘রাজঈ’ হ’ল দুবার পর্যন্ত তারপর হয় নিয়মানুযায়ী রাখবে, না হয় সহৃদয়তার সঙ্গে বর্জন করবে। আর নিজের দেয়া সম্পদ থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য জায়েয নয় তাদের কাছ থেকে। কিন্তু যে ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই এ ব্যাপারে ভয় করে যে, তারা আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, অতঃপর যদি তোমাদের ভয় হয় যে, তারা উভয়েই আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, তাহলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি বিনিময় দিয়ে অব্যাহতি নিয়ে নেয়, তবে উভয়ের মধ্যে কারোরই কোন পাপ নেই। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা। কাজেই একে অতিক্রম করো না। বস্তুতঃ যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তারাই জালেম।
230فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ কতৃꦣ2453; নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়।
231وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ ۚ وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِّتَعْتَدُوا ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ۚ وَلَا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا ۚ وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنزَلَ عَلَيْكُم مِّنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُم بِهِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও, অতঃপর তারা নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্ত করে নেয়, তখন তোমরা নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে রেখে দাও অথবা সহানুভুতির সাথে তাদেরকে মুক্ত করে দাও। আর তোমরা তাদেরকে জ্বালাতন ও বাড়াবাড়ি করার উদ্দেশ্যে আটকে রেখো না। আর যারা এমন করবে, নিশ্চয়ই তারা নিজেদেরই ক্ষতি করবে। আর আল্লাহর নির্দেশকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করো না। আল্লাহর সে অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের উপর রয়েছে এবং তাও স্মরণ কর, যে কিতাব ও জ্ঞানের কথা তোমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে যার দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয়। আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহ সর্ববিষয়েই জ্ঞানময়।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
229আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 229

সূরা আল-বাকারা আয়াত 229 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তালাকে-‘রাজঈ’ হ’ল দুবার পর্যন্ত তারপর হয় নিয়মানুযায়ী রাখবে, না হয়…

সূরা আয়াত 229/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 227–231. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না