Mishary Rashid Alafasy
✓
Mahmoud Khalil Al-Husary
✓
Abdurrahman As-Sudais
✓
Mohamed Siddiq Al-Minshawi
✓
Abdul Basit Abdul Samad
✓
Ali Al-Hudhaify
✓
Ahmed ibn Ali al-Ajamy
✓
Abu Bakr Ash-Shaatree
✓
Muhammad Ayyoub
✓
Abdullah Basfar
✓
Abdullah Al-Juhani
✓
Maher Al Muaiqly
✓
অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
- ত্বলাক (طلاق) - বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা
- ইমসাক (إمساك) - স্ত্রীকে বিবাহবন্ধনে রাখা, রেখে দেওয়া
- তাসরিহ (تسريح) - স্ত্রীকে মুক্তি দেওয়া, ছেড়ে দেওয়া
- বি-মা'রূফ (بمعروف) - শরিয়তসম্মত ও ন্যায়সংগত পদ্ধতিতে
- বি-ইহসান (بإحسان) - সদয়তা ও উত্তম আচরণের সাথে
- হুদুদুল্লাহ (حدود الله) - আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা
- ফিদা (فدت) - বিনিময়, মুক্তিপণ (স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে কিছু অর্থ বা সম্পদ প্রদান)
- জুনাহ (جناح) - দোষ, গুনাহ, বাধা
- খুল' (خلع) - স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিনিময়ের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ
আয়াতের বিস্তারিত তাফসির:
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে বিবাহবিচ্ছেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যে ত্বলাকে স্বামীর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার (رجعة) অধিকার থাকে, তা হলো দুটি ত্বলাক। অর্থাৎ, স্বামী একবার ত্বলাক দিলে ইদ্দতের মধ্যে সে চাইলে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারে। এরপর আবার ত্বলাক দিলে দ্বিতীয়বারের মতোও ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু এই দুটি ত্বলাকের পর অবস্থা দাঁড়ায় দুটি স্পষ্ট পথের মোড়ে: হয় স্বামী স্ত্রীকে ন্যায়সংগত ও শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে বিবাহবন্ধনে রাখবে এবং তার সাথে সদাচরণ করবে, অথবা তাকে উত্তম পদ্ধতিতে তৃতীয় ত্বলাক দিয়ে মুক্তি দেবে। অর্থাৎ, স্ত্রীকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে আটকে রাখা বা তার অধিকার খর্ব করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই বিধানটি ইসলামের মহান শিক্ষা, যা নারীদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর আল্লাহ তাআলা স্বামীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে, তোমরা স্ত্রীদেরকে যে মোহর বা উপহার দিয়েছ, তা থেকে কিছুই ফেরত নেবে। তবে একটি বিশেষ অবস্থা ব্যতিক্রম—যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়েই আশঙ্কা করে যে, তারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা (অর্থাৎ দাম্পত্য জীবনের পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্য) রক্ষা করতে পারবে না। যেমন, স্ত্রী স্বামীর আচরণ বা চরিত্রের কারণে তার সাথে জীবনযাপনে অনীহা প্রকাশ করে, অথবা স্বামী স্ত্রীর প্রতি ন্যায়বিচার করতে পারবে না বলে আশঙ্কা করে। তখন তারা উভয়ে মিলে বা তাদের অভিভাবকদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবে। যদি অভিভাবকগণও দেখেন যে, এই দম্পতি আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে না, তাহলে স্ত্রী যদি স্বামীকে কিছু অর্থ বা সম্পদ প্রদান করে তার বিনিময়ে নিজেকে মুক্ত করে নেয় (যাকে 'খুল' বলা হয়), তাহলে উভয়ের ওপর কোনো গুনাহ নেই। এটি একটি সুন্দর সমাধান, যা উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর এবং জুলুম থেকে রক্ষা করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, এই বিধানগুলোই আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। তোমরা তা লঙ্ঘন করো না। যারা আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, তারাই সত্যিকারের জালিম (অত্যাচারী)। কারণ, তারা নিজেদেরকে আল্লাহর শাস্তি ও অসন্তুষ্টির সম্মুখীন করে নিজেদেরই ক্ষতি করে।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি—ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়ের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কতটা যত্নবান। এটি দাম্পত্য জীবনে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও উত্তম আচরণের শিক্ষা দেয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে থেকে জীবনযাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
📜 আয়াত 227-231 — সূরা আল-বাকারা
অনুবাদ — আল-বাকারা 229
সূরা আল-বাকারা আয়াত 229 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তালাকে-‘রাজঈ’ হ’ল দুবার পর্যন্ত তারপর হয় নিয়মানুযায়ী রাখবে, না হয়…সূরা আয়াত 229/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 227–231. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
সূরা আল-বাকারা
পবিত্র কুরআন
Monday, September 28, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না


