Falammaa fasala Taalootu biljunoodi qaala innal laaha mubtaleekum binaharin faman shariba minhu falaisa minnee wa mallam yat`amhu fa innahoo minneee illaa manigh tarafa ghurfatam biyadih; fashariboo minhu illaa qaleelamminhum; falammaa jaawazahoo huwa wallazeena aamanoo ma`ahoo qaaloo laa taaqata lanal yawma bi Jaaloota wa junoodih; qaalallazeena yazunnoona annahum mulaaqul laahi kam min fi`atin qaleelatin ghalabat fi`atan kaseeratam bi iznil laah; wallaahuma`as saabireen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর তালূত যখন সৈন্য-সামন্ত নিয়ে বেরুল, তখন বলল, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদিগকে পরীক্ষা করবেন একটি নদীর মাধ্যমে। সুতরাং যে লোক সেই নদীর পানি পান করবে সে আমার নয়। আর যে, লোক তার স্বাদ গ্রহণ করলো না, নিশ্চয়ই সে আমার লোক। কিন্তু যে লোক হাতের আঁজলা ভরে সামান্য খেয়ে নেবে তার দোষঅবশ্য তেমন গুরুতর হবে না। অতঃপর সবাই পান করল সে পানি, সামান্য কয়েকজন ছাড়া। পরে তালূত যখন তা পার হলো এবং তার সাথে ছিল মাত্র কয়েকজন ঈমানদার, তখন তারা বলতে লাগল, আজকের দিনে জালূত এবং তার সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই, যাদের ধারণা ছিল যে, আল্লাহর সামনে তাদের একদিন উপস্থিত হতে হবে, তারা বার বার বলতে লাগল, সামান্য দলই বিরাট দলের মোকাবেলায় জয়ী হয়েছে আল্লাহর হুকুমে। আর যারা ধৈর্য্যশীল আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
फिर जब तालूत लशकर समैत (शहर ऐलिया से) रवाना हुआ तो अपने साथियों से कहा देखो आगे एक नहर मिलेगी इस से यक़ीनन ख़ुदा तुम्हारे सब्र की आज़माइश करेगा पस जो शख्स उस का पानी पीयेगा मुझे (कुछ वास्ता) नही रखता और जो उस को नही चखेगा वह बेशक मुझ से होगा मगर हाँ जो अपने हाथ से एक (आधा चुल्लू भर के पी) ले तो कुछ हर्ज नही पस उन लोगों ने न माना और चन्द आदमियों के सिवा सब ने उस का पानी पिया ख़ैर जब तालूत और जो मोमिनीन उन के साथ थे नहर से पास हो गए तो (ख़ास मोमिनों के सिवा) सब के सब कहने लगे कि हम में तो आज भी जालूत और उसकी फौज से लड़ने की सकत नहीं मगर वह लोग जिनको यक़ीन है कि एक दिन ख़ुदा को मुँह दिखाना है बेधड़क बोल उठे कि ऐसा बहुत हुआ कि ख़ुदा के हुक्म से छोटी जमाअत बड़ी जमाअत पर ग़ालिब आ गयी है और ख़ुदा सब्र करने वालों का साथी है
অতঃপর তালূত যখন সৈন্য-সামন্ত নিয়ে বেরুল, তখন বলল, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদিগকে পরীক্ষা করবেন একটি নদীর মাধ্যমে। সুতরাং যে লোক সেই নদীর পানি পান করবে সে আমার নয়। আর যে, লোক তার স্বাদ গ্রহণ করলো না, নিশ্চয়ই সে আমার লোক। কিন্তু যে লোক হাতের আঁজলা ভরে সামান্য খেয়ে নেবে তার দোষঅবশ্য তেমন গুরুতর হবে না। অতঃপর সবাই পান করল সে পানি, সামান্য কয়েকজন ছাড়া। পরে তালূত যখন তা পার হলো এবং তার সাথে ছিল মাত্র কয়েকজন ঈমানদার, তখন তারা বলতে লাগল, আজকের দিনে জালূত এবং তার সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই, যাদের ধারণা ছিল যে, আল্লাহর সামনে তাদের একদিন উপস্থিত হতে হবে, তারা বার বার বলতে লাগল, সামান্য দলই বিরাট দলের মোকাবেলায় জয়ী হয়েছে আল্লাহর হুকুমে। আর যারা ধৈর্য্যশীল আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
فَصَلَ — বের হয়ে গেলেন, যাত্রা করলেন।
مُبْتَلِيكُم — তোমাদের পরীক্ষা করবেন।
نَهَرٍ — নদী/ঝরনা।
يَطْعَمْهُ — এর পানি আস্বাদন করবে (পান করবে)।
اغْتَرَفَ غُرْفَةً — এক কোষ (হাতের এক আঁজলা) পানি তুলে নেওয়া।
جَاوَزَهُ — তা (নদী) অতিক্রম করলেন।
فِئَةٍ — দল/সম্প্রদায়।
الصَّابِرِينَ — ধৈর্যশীলদের।
তাফসীর:
এরপর যখন ত্বালূত (আঃ) সেনাবাহিনীসহ (জেরুজালেম থেকে) বের হলেন, তখন তিনি সেনাদের বললেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে একটি নদী দ্বারা পরীক্ষা করবেন।” এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল সত্যিকারের মুমিন ও অনুগত সৈন্যদের আলাদা করা — যারা আল্লাহর আদেশের সামনে ধৈর্য ও আনুগত্য দেখাবে, আর যারা প্রবৃত্তির অনুসারী। তিনি ঘোষণা করলেন: “যে ব্যক্তি এ নদী থেকে (সরাসরি মুখ লাগিয়ে বা অতিরিক্ত) পানি পান করবে, সে আমার দলভুক্ত নয়; আর যে এর পানি আস্বাদন করবে না, সে আমারই অন্তর্ভুক্ত। তবে যে ব্যক্তি নিজের হাতে মাত্র এক আঁজলা পানি তুলে নেবে (এবং ততটুকুই পান করবে), তার জন্য কোনো দোষ নেই — কারণ এটি ছিল সহনীয় ছাড়।”
এরপর যখন তারা নদীর কাছে পৌঁছল, তখন অধিকাংশ সৈন্য তৃষ্ণার চাপে ধৈর্য হারিয়ে ফেলে এবং নদী থেকে পানি পান করে ফেলে। শুধুমাত্র অল্প সংখ্যক লোক — যারা ছিল প্রকৃত মুমিন ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ — তারা ধৈর্য ধারণ করে এবং মাত্র এক আঁজলা পানি গ্রহণ করে। এর ফলে যারা পান করেছিল তারা মূলত অনুগত সৈন্যের তালিকা থেকে বাদ পড়ে গেল।
এরপর ত্বালূত (আঃ) এবং তার সাথে থাকা মুমিনদের ছোট্ট দলটি (যারা ছিল প্রায় ৩১৩ জন) নদী অতিক্রম করলেন। তখন যারা আগে পান করেছিল এবং দুর্বল বিশ্বাসের অধিকারী ছিল, তারা বলতে লাগল: “আজ আমাদের জালূত ও তার বাহিনীর মোকাবিলা করার কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।” কিন্তু যারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করত যে, একদিন তাদের আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ হবে (এবং তারা আখিরাতে হিসাব দিতে হবে), তারা অন্যদের সাহস জুগিয়ে বলল: “কত ছোট দল আল্লাহর অনুমতিতে বড় দলকে পরাজিত করেছে! আল্লাহর সাহায্য ও নুসরাতই আসল শক্তি — সংখ্যার আধিক্য নয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন — তাদেরকে সাহায্য করেন, বিজয় দান করেন এবং তাদের পথে বারাকাহ দেন।”
শিক্ষা ও ফয়দা:
আল্লাহর পরীক্ষা — আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে বিভিন্ন উপায়ে পরীক্ষা করেন, যাতে প্রকাশ পায় কে সত্যিকারের অনুগত আর কে কেবল মুখে বিশ্বাস করে। এই পরীক্ষাগুলো আমাদের ঈমানের মান যাচাই করার মাধ্যম।
আনুগত্যের মূল্য — ধৈর্য ও আনুগত্যই মুমিনের পরিচয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশের সামনে নিজের প্রবৃত্তিকে দমন করতে পারে, সে-ই প্রকৃত সৈনিক এবং আল্লাহর সাহায্যের উপযুক্ত।
বিপদে ধৈর্য — কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরাই মুমিনের কর্তব্য। তৃষ্ণা, কষ্ট বা ভয় যতই আসুক, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে তিনি পথ দেখান।
বিজয়ের আসল রহস্য — সংখ্যা ও শক্তি নয়, বরং আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস, ধৈর্য এবং তাঁর আদেশের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যই বিজয়ের চাবিকাঠি। ইতিহাসে বহুবার ছোট দল আল্লাহর সাহায্যে বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করেছে।
আখিরাতের চেতনা — যারা নিশ্চিত জানে যে, তাদেরকে একদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, তারা দুনিয়ার ভয়-ভীতি বা প্রলোভনে বিচলিত হয় না। এই চেতনাই তাদেরকে সাহস ও স্থিরতা দান করে।
আল্লাহর সাথে থাকার সুসংবাদ — আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, তিনি ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। এর অর্থ — তাদের হৃদয়ে শান্তি, তাদের কাজে তাওফীক এবং তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য। এটি মুমিনের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সম্বল।
আর তাদেরকে তাদের নবী বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তালূতকে তোমাদের জন্য বাদশাহ সাব্যস্ত করেছেন। তারা বলতে লাগল তা কেমন করে হয় যে, তার শাসন চলবে আমাদের উপর। অথচ রাষ্ট্রক্ষমতা পাওয়ার ক্ষেত্রে তার চেয়ে আমাদেরই অধিকার বেশী। আর সে সম্পদের দিক দিয়েও সচ্ছল নয়। নবী বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর তাকে পছন্দ করেছেন এবং স্বাস্থ্য ও জ্ঞানের দিক দিয়ে প্রাচুর্য দান করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তাকেই রাজ্য দান করেন, যাকে ইচ্ছা। আর আল্লাহ হলেন অনুগ্রহ দানকারী এবং সব বিষয়ে অবগত।
বনী-ইসরাঈলদেরকে তাদের নবী আরো বললেন, তালূতের নেতৃত্বের চিহ্ন হলো এই যে, তোমাদের কাছে একটা সিন্দুক আসবে তোমাদের পালকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের মনের সন্তুষ্টির নিমিত্তে। আর তাতে থাকবে মূসা, হারুন এবং তাঁদের সন্তানবর্গের পরিত্যক্ত কিছু সামগ্রী। সিন্দুকটিকে বয়ে আনবে ফেরেশতারা। তোমরা যদি ঈমানদার হয়ে থাক, তাহলে এতে তোমাদের জন্য নিশ্চিতই পরিপূর্ণ নিদর্শন রয়েছে।
অতঃপর তালূত যখন সৈন্য-সামন্ত নিয়ে বেরুল, তখন বলল, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদিগকে পরীক্ষা করবেন একটি নদীর মাধ্যমে। সুতরাং যে লোক সেই নদীর পানি পান করবে সে আমার নয়। আর যে, লোক তার স্বাদ গ্রহণ করলো না, নিশ্চয়ই সে আমার লোক। কিন্তু যে লোক হাতের আঁজলা ভরে সামান্য খেয়ে নেবে তার দোষঅবশ্য তেমন গুরুতর হবে না। অতঃপর সবাই পান করল সে পানি, সামান্য কয়েকজন ছাড়া। পরে তালূত যখন তা পার হলো এবং তার সাথে ছিল মাত্র কয়েকজন ঈমানদার, তখন তারা বলতে লাগল, আজকের দিনে জালূত এবং তার সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই, যাদের ধারণা ছিল যে, আল্লাহর সামনে তাদের একদিন উপস্থিত হতে হবে, তারা বার বার বলতে লাগল, সামান্য দলই বিরাট দলের মোকাবেলায় জয়ী হয়েছে আল্লাহর হুকুমে। আর যারা ধৈর্য্যশীল আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।
আর যখন তালূত ও তার সেনাবাহিনী শত্রুর সম্মুখীন হল, তখন বলল, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের মনে ধৈর্য্য সৃষ্টি করে দাও এবং আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখ-আর আমাদের সাহায্য কর সে কাফের জাতির বিরুদ্ধে।
তারপর ঈমানদাররা আল্লাহর হুকুমে জালূতের বাহিনীকে পরাজিত করে দিল এবং দাউদ জালূতকে হত্যা করল। আর আল্লাহ দাউদকে দান করলেন রাজ্য ও অভিজ্ঞতা। আর তাকে যা চাইলেন শিখালেন। আল্লাহ যদি একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে গোটা দুনিয়া বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহ একান্তই দয়ালু, করুণাময়।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।