আল-বাকারা · 249/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوتُ بِالْجُنُودِ قَالَ إِنَّ اللَّهَ مُبْتَلِيكُم بِنَهَرٍ فَمَن شَرِبَ مِنْهُ فَلَيْسَ مِنِّي وَمَن لَّمْ يَطْعَمْهُ فَإِنَّهُ مِنِّي إِلَّا مَنِ اغْتَرَفَ غُرْفَةً بِيَدِهِ ۚ فَشَرِبُوا مِنْهُ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ ۚ فَلَمَّا جَاوَزَهُ هُوَ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ قَالُوا لَا طَاقَةَ لَنَا الْيَوْمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ ۚ قَالَ الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَاقُو اللَّهِ كَم مِّن فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ ۝٢٤٩
Falammaa fasala Taalootu biljunoodi qaala innal laaha mubtaleekum binaharin faman shariba minhu falaisa minnee wa mallam yat`amhu fa innahoo minneee illaa manigh tarafa ghurfatam biyadih; fashariboo minhu illaa qaleelamminhum; falammaa jaawazahoo huwa wallazeena aamanoo ma`ahoo qaaloo laa taaqata lanal yawma bi Jaaloota wa junoodih; qaalallazeena yazunnoona annahum mulaaqul laahi kam min fi`atin qaleelatin ghalabat fi`atan kaseeratam bi iznil laah; wallaahuma`as saabireen
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর তালূত যখন সৈন্য-সামন্ত নিয়ে বেরুল, তখন বলল, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদিগকে পরীক্ষা করবেন একটি নদীর মাধ্যমে। সুতরাং যে লোক সেই নদীর পানি পান করবে সে আমার নয়। আর যে, লোক তার স্বাদ গ্রহণ করলো না, নিশ্চয়ই সে আমার লোক। কিন্তু যে লোক হাতের আঁজলা ভরে সামান্য খেয়ে নেবে তার দোষঅবশ্য তেমন গুরুতর হবে না। অতঃপর সবাই পান করল সে পানি, সামান্য কয়েকজন ছাড়া। পরে তালূত যখন তা পার হলো এবং তার সাথে ছিল মাত্র কয়েকজন ঈমানদার, তখন তারা বলতে লাগল, আজকের দিনে জালূত এবং তার সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই, যাদের ধারণা ছিল যে, আল্লাহর সামনে তাদের একদিন উপস্থিত হতে হবে, তারা বার বার বলতে লাগল, সামান্য দলই বিরাট দলের মোকাবেলায় জয়ী হয়েছে আল্লাহর হুকুমে। আর যারা ধৈর্য্যশীল আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • فَصَلَ — বের হয়ে গেলেন, যাত্রা করলেন।
  • مُبْتَلِيكُم — তোমাদের পরীক্ষা করবেন।
  • نَهَرٍ — নদী/ঝরনা।
  • يَطْعَمْهُ — এর পানি আস্বাদন করবে (পান করবে)।
  • اغْتَرَفَ غُرْفَةً — এক কোষ (হাতের এক আঁজলা) পানি তুলে নেওয়া।
  • جَاوَزَهُ — তা (নদী) অতিক্রম করলেন।
  • فِئَةٍ — দল/সম্প্রদায়।
  • الصَّابِرِينَ — ধৈর্যশীলদের।

তাফসীর:

এরপর যখন ত্বালূত (আঃ) সেনাবাহিনীসহ (জেরুজালেম থেকে) বের হলেন, তখন তিনি সেনাদের বললেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে একটি নদী দ্বারা পরীক্ষা করবেন।” এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল সত্যিকারের মুমিন ও অনুগত সৈন্যদের আলাদা করা — যারা আল্লাহর আদেশের সামনে ধৈর্য ও আনুগত্য দেখাবে, আর যারা প্রবৃত্তির অনুসারী। তিনি ঘোষণা করলেন: “যে ব্যক্তি এ নদী থেকে (সরাসরি মুখ লাগিয়ে বা অতিরিক্ত) পানি পান করবে, সে আমার দলভুক্ত নয়; আর যে এর পানি আস্বাদন করবে না, সে আমারই অন্তর্ভুক্ত। তবে যে ব্যক্তি নিজের হাতে মাত্র এক আঁজলা পানি তুলে নেবে (এবং ততটুকুই পান করবে), তার জন্য কোনো দোষ নেই — কারণ এটি ছিল সহনীয় ছাড়।”

এরপর যখন তারা নদীর কাছে পৌঁছল, তখন অধিকাংশ সৈন্য তৃষ্ণার চাপে ধৈর্য হারিয়ে ফেলে এবং নদী থেকে পানি পান করে ফেলে। শুধুমাত্র অল্প সংখ্যক লোক — যারা ছিল প্রকৃত মুমিন ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ — তারা ধৈর্য ধারণ করে এবং মাত্র এক আঁজলা পানি গ্রহণ করে। এর ফলে যারা পান করেছিল তারা মূলত অনুগত সৈন্যের তালিকা থেকে বাদ পড়ে গেল।

এরপর ত্বালূত (আঃ) এবং তার সাথে থাকা মুমিনদের ছোট্ট দলটি (যারা ছিল প্রায় ৩১৩ জন) নদী অতিক্রম করলেন। তখন যারা আগে পান করেছিল এবং দুর্বল বিশ্বাসের অধিকারী ছিল, তারা বলতে লাগল: “আজ আমাদের জালূত ও তার বাহিনীর মোকাবিলা করার কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।” কিন্তু যারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করত যে, একদিন তাদের আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ হবে (এবং তারা আখিরাতে হিসাব দিতে হবে), তারা অন্যদের সাহস জুগিয়ে বলল: “কত ছোট দল আল্লাহর অনুমতিতে বড় দলকে পরাজিত করেছে! আল্লাহর সাহায্য ও নুসরাতই আসল শক্তি — সংখ্যার আধিক্য নয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন — তাদেরকে সাহায্য করেন, বিজয় দান করেন এবং তাদের পথে বারাকাহ দেন।”


শিক্ষা ও ফয়দা:

  1. আল্লাহর পরীক্ষা — আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে বিভিন্ন উপায়ে পরীক্ষা করেন, যাতে প্রকাশ পায় কে সত্যিকারের অনুগত আর কে কেবল মুখে বিশ্বাস করে। এই পরীক্ষাগুলো আমাদের ঈমানের মান যাচাই করার মাধ্যম।
  2. আনুগত্যের মূল্য — ধৈর্য ও আনুগত্যই মুমিনের পরিচয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশের সামনে নিজের প্রবৃত্তিকে দমন করতে পারে, সে-ই প্রকৃত সৈনিক এবং আল্লাহর সাহায্যের উপযুক্ত।
  3. বিপদে ধৈর্য — কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরাই মুমিনের কর্তব্য। তৃষ্ণা, কষ্ট বা ভয় যতই আসুক, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে তিনি পথ দেখান।
  4. বিজয়ের আসল রহস্য — সংখ্যা ও শক্তি নয়, বরং আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস, ধৈর্য এবং তাঁর আদেশের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যই বিজয়ের চাবিকাঠি। ইতিহাসে বহুবার ছোট দল আল্লাহর সাহায্যে বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করেছে।
  5. আখিরাতের চেতনা — যারা নিশ্চিত জানে যে, তাদেরকে একদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, তারা দুনিয়ার ভয়-ভীতি বা প্রলোভনে বিচলিত হয় না। এই চেতনাই তাদেরকে সাহস ও স্থিরতা দান করে।
  6. আল্লাহর সাথে থাকার সুসংবাদ — আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, তিনি ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। এর অর্থ — তাদের হৃদয়ে শান্তি, তাদের কাজে তাওফীক এবং তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য। এটি মুমিনের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সম্বল।


📜 আয়াত 247-251 — সূরা আল-বাকারা

247وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكًا ۚ قَالُوا أَنَّىٰ يَكُونُ لَهُ الْمُلْكُ عَلَيْنَا وَنَحْنُ أَحَقُّ بِالْمُلْكِ مِنْهُ وَلَمْ يُؤْتَ سَعَةً مِّنَ الْمَالِ ۚ قَالَ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَاهُ عَلَيْكُمْ وَزَادَهُ بَسْطَةً فِي الْعِلْمِ وَالْجِسْمِ ۖ وَاللَّهُ يُؤْتِي مُلْكَهُ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
আর তাদেরকে তাদের নবী বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তালূতকে তোমাদের জন্য বাদশাহ সাব্যস্ত করেছেন। তারা বলতে লাগল তা কেমন করে হয় যে, তার শাসন চলবে আমাদের উপর। অথচ রাষ্ট্রক্ষমতা পাওয়ার ক্ষেত্রে তার চেয়ে আমাদেরই অধিকার বেশী। আর সে সম্পদের দিক দিয়েও সচ্ছল নয়। নবী বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর তাকে পছন্দ করেছেন এবং স্বাস্থ্য ও জ্ঞানের দিক দিয়ে প্রাচুর্য দান করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তাকেই রাজ্য দান করেন, যাকে ইচ্ছা। আর আল্লাহ হলেন অনুগ্রহ দানকারী এবং সব বিষয়ে অবগত।
248وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ آيَةَ مُلْكِهِ أَن يَأْتِيَكُمُ التَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَبَقِيَّةٌ مِّمَّا تَرَكَ آلُ مُوسَىٰ وَآلُ هَارُونَ تَحْمِلُهُ الْمَلَائِكَةُ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
বনী-ইসরাঈলদেরকে তাদের নবী আরো বললেন, তালূতের নেতৃত্বের চিহ্ন হলো এই যে, তোমাদের কাছে একটা সিন্দুক আসবে তোমাদের পালকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের মনের সন্তুষ্টির নিমিত্তে। আর তাতে থাকবে মূসা, হারুন এবং তাঁদের সন্তানবর্গের পরিত্যক্ত কিছু সামগ্রী। সিন্দুকটিকে বয়ে আনবে ফেরেশতারা। তোমরা যদি ঈমানদার হয়ে থাক, তাহলে এতে তোমাদের জন্য নিশ্চিতই পরিপূর্ণ নিদর্শন রয়েছে।
249فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوتُ بِالْجُنُودِ قَالَ إِنَّ اللَّهَ مُبْتَلِيكُم بِنَهَرٍ فَمَن شَرِبَ مِنْهُ فَلَيْسَ مِنِّي وَمَن لَّمْ يَطْعَمْهُ فَإِنَّهُ مِنِّي إِلَّا مَنِ اغْتَرَفَ غُرْفَةً بِيَدِهِ ۚ فَشَرِبُوا مِنْهُ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ ۚ فَلَمَّا جَاوَزَهُ هُوَ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ قَالُوا لَا طَاقَةَ لَنَا الْيَوْمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ ۚ قَالَ الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَاقُو اللَّهِ كَم مِّن فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ
অতঃপর তালূত যখন সৈন্য-সামন্ত নিয়ে বেরুল, তখন বলল, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদিগকে পরীক্ষা করবেন একটি নদীর মাধ্যমে। সুতরাং যে লোক সেই নদীর পানি পান করবে সে আমার নয়। আর যে, লোক তার স্বাদ গ্রহণ করলো না, নিশ্চয়ই সে আমার লোক। কিন্তু যে লোক হাতের আঁজলা ভরে সামান্য খেয়ে নেবে তার দোষঅবশ্য তেমন গুরুতর হবে না। অতঃপর সবাই পান করল সে পানি, সামান্য কয়েকজন ছাড়া। পরে তালূত যখন তা পার হলো এবং তার সাথে ছিল মাত্র কয়েকজন ঈমানদার, তখন তারা বলতে লাগল, আজকের দিনে জালূত এবং তার সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই, যাদের ধারণা ছিল যে, আল্লাহর সামনে তাদের একদিন উপস্থিত হতে হবে, তারা বার বার বলতে লাগল, সামান্য দলই বিরাট দলের মোকাবেলায় জয়ী হয়েছে আল্লাহর হুকুমে। আর যারা ধৈর্য্যশীল আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।
250وَلَمَّا بَرَزُوا لِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ قَالُوا رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
আর যখন তালূত ও তার সেনাবাহিনী শত্রুর সম্মুখীন হল, তখন বলল, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের মনে ধৈর্য্য সৃষ্টি করে দাও এবং আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখ-আর আমাদের সাহায্য কর সে কাফের জাতির বিরুদ্ধে।
251فَهَزَمُوهُم بِإِذْنِ اللَّهِ وَقَتَلَ دَاوُودُ جَالُوتَ وَآتَاهُ اللَّهُ الْمُلْكَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَهُ مِمَّا يَشَاءُ ۗ وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّفَسَدَتِ الْأَرْضُ وَلَٰكِنَّ اللَّهَ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْعَالَمِينَ
তারপর ঈমানদাররা আল্লাহর হুকুমে জালূতের বাহিনীকে পরাজিত করে দিল এবং দাউদ জালূতকে হত্যা করল। আর আল্লাহ দাউদকে দান করলেন রাজ্য ও অভিজ্ঞতা। আর তাকে যা চাইলেন শিখালেন। আল্লাহ যদি একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে গোটা দুনিয়া বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহ একান্তই দয়ালু, করুণাময়।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
249আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 249

সূরা আল-বাকারা আয়াত 249 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতঃপর তালূত যখন সৈন্য-সামন্ত নিয়ে বেরুল, তখন বলল, নিশ্চয় আল্লাহ…

সূরা আয়াত 249/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 247–251. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না