আন-নিসা · 14/176
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নিসা
وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ ۝١٤
Wa mai ya`sil laaha wa Rasoolahoo wa yata`adda hudoodahoo yudkhilhu Naaran khaalidan feehaa wa lahoo `azaabum muheen
📖 বাংলা অর্থ
যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • يَعْصِ – অবাধ্যতা করা, নাফরমানি করা।
  • يَتَعَدَّ – সীমালঙ্ঘন করা, লঙ্ঘন করা।
  • حُدُودَهُ – আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা, শরিয়তের বিধান।
  • خَالِدًا – স্থায়ীভাবে, চিরকাল থাকা।
  • مُهِينٌ – অপমানজনক, লাঞ্ছনাকর।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করে এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন করে—অর্থাৎ, আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করে, সেগুলো পরিবর্তন করার চেষ্টা করে, কিংবা সেগুলোর ওপর বিশ্বাস না রেখে আমল ত্যাগ করে, সে নিজের জন্য জাহান্নামের আগুন নিশ্চিত করে নেয়। সেখানে সে চিরকাল থাকবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর ও অপমানজনক শাস্তি। এই শাস্তি কেবল দৈহিক যন্ত্রণাই নয়, বরং আত্মিক ও মানসিক লাঞ্ছনাও অন্তর্ভুক্ত, যা জাহান্নামের আগুনের চেয়েও বেশি কষ্টদায়ক। আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘনকারীর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ, কারণ সে নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর বিধানের ওপর প্রাধান্য দিয়েছে এবং রাসূলের নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করেছে।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহর বিধান ও রাসূলের নির্দেশনা মান্য করা প্রতিটি মুমিনের জন্য অপরিহার্য। এর বিপরীত পথই ধ্বংসের পথ।
  2. আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করা মানে নিজের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনা। ইসলাম শুধু বিধান দেয় না, বরং মানুষের কল্যাণের জন্যই সীমারেখা নির্ধারণ করেছে।
  3. জাহান্নামের শাস্তি শুধু দৈহিক নয়, সাথে রয়েছে অপমান ও লাঞ্ছনা—যা একজন মানুষের জন্য সবচেয়ে কষ্টদায়ক। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর বিধান মেনে চলা এবং তাঁর রহমতের আশায় থাকা।
  4. এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, ক্ষমা ও রহমতের দরজা সবসময় খোলা, কিন্তু সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। তাই তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।
  5. ইসলামের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যই হলো সফলতার চাবিকাঠি। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের পথে চলে, সে পার্থিব ও পরকালীন উভয় জগতেই সফলতা লাভ করে।


📜 আয়াত 12-16 — সূরা আন-নিসা

12۞ وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٌ ۚ فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۚ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّكُمْ وَلَدٌ ۚ فَإِن كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُم ۚ مِّن بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۗ وَإِن كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ ۚ فَإِن كَانُوا أَكْثَرَ مِن ذَٰلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَىٰ بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَارٍّ ۚ وَصِيَّةً مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ
আর, তোমাদের হবে অর্ধেক সম্পত্তি, যা ছেড়ে যায় তোমাদের স্ত্রীরা যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের হবে এক-চতুর্থাংশ ঐ সম্পত্তির, যা তারা ছেড়ে যায়; ওছিয়্যতের পর, যা তারা করে এবং ঋণ পরিশোধের পর। স্ত্রীদের জন্যে এক-চতুর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্যে হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ, যা তোমরা ছেড়ে যাও ওছিয়্যতের পর, যা তোমরা কর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যে পুরুষের, ত্যাজ্য সম্পত্তি, তার যদি পিতা-পুত্র কিংবা স্ত্রী না থাকে এবং এই মৃতের এক ভাই কিংবা এক বোন থাকে, তবে উভয়ের প্রত্যেকে ছয়-ভাগের এক পাবে। আর যদি ততোধিক থাকে, তবে তারা এক তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে ওছিয়্যতের পর, যা করা হয় অথবা ঋণের পর এমতাবস্থায় যে, অপরের ক্ষতি না করে। এ বিধান আল্লাহর। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
13تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ وَذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের আদেশমত চলে, তিনি তাকে জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য।
14وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ
যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।
15وَاللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِن نِّسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِّنكُمْ ۖ فَإِن شَهِدُوا فَأَمْسِكُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ حَتَّىٰ يَتَوَفَّاهُنَّ الْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا
আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারিণী তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জন পুরুষকে সাক্ষী হিসেবে তলব কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে সংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখ, যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে তুলে না নেয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোন পথ নির্দেশ না করেন।
16وَاللَّذَانِ يَأْتِيَانِهَا مِنكُمْ فَآذُوهُمَا ۖ فَإِن تَابَا وَأَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا عَنْهُمَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ تَوَّابًا رَّحِيمًا
তোমাদের মধ্য থেকে যে দু’জন সেই কুকর্মে লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর। অতঃপর যদি উভয়ে তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
14আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 14

সূরা আন-নিসা আয়াত 14 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা…

সূরা আয়াত 14/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 12–16. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না