Wallaatee yaateenal faahishata min nisaaa`ikum fastashhidoo `alaihinna arba`atam minkum fa in shahidoo fa amsikoohunna fil buyooti hatta yatawaffaa hunnal mawtu aw yaj`alal laahu lahunna sabeelaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারিণী তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জন পুরুষকে সাক্ষী হিসেবে তলব কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে সংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখ, যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে তুলে না নেয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোন পথ নির্দেশ না করেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और वह उसमें हमेशा अपना किया भुगतता रहेगा और उसके लिए बड़ी रूसवाई का अज़ाब है और तुम्हारी औरतों में से जो औरतें बदकारी करें तो उनकी बदकारी पर अपने लोगों में से चार गवाही लो और फिर अगर चारों गवाह उसकी तसदीक़ करें तो (उसकी सज़ा ये है कि) उनको घरों में बन्द रखो यहॉ तक कि मौत आ जाए या ख़ुदा उनकी कोई (दूसरी) राह निकाले
আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারিণী তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জন পুরুষকে সাক্ষী হিসেবে তলব কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে সংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখ, যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে তুলে না নেয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোন পথ নির্দেশ না করেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
اللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ – যারা অশ্লীল কাজ করে (অর্থাৎ যিনা/ব্যভিচার করে)।
فَاسْتَشْهِدُوا – সাক্ষী চাও, অর্থাৎ প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করো।
أَرْبَعَةً مِّنكُمْ – তোমাদের মধ্য থেকে চারজন (ন্যায়পরায়ণ মুসলিম পুরুষ)।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসলিম সমাজের নারীদের মধ্যে যারা জিনা (ব্যভিচার) নামক জঘন্য অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়, তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রথমত, এই অপরাধ প্রমাণের জন্য চারজন ন্যায়পরায়ণ মুসলিম পুরুষ সাক্ষী প্রয়োজন। যদি চারজন সাক্ষী সত্যায়িতভাবে সাক্ষ্য দেয়, তাহলে সেই নারীদেরকে শাস্তি হিসেবে ঘরে আটকে রাখতে হবে, যতক্ষণ না তাদের মৃত্যু হয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য কোনো পথ (অর্থাৎ শরয়ী বিধান) নির্ধারণ করেন।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে এই বিধান действовал ছিল। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা সূরা আন-নূর (আয়াত ২) এবং হাদীসের মাধ্যমে স্পষ্ট পথ নির্ধারণ করে দেন—অবিবাহিত (কুমারী/বিধবা) জিনাকারীর শাস্তি ১০০টি বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন, আর বিবাহিত (মুহসিনা) নারী-পুরুষের শাস্তি রজম (পাথর মেরে হত্যা) পর্যন্ত। এই আয়াতটি ছিল প্রাথমিক বিধান, যা পরবর্তী বিধান দ্বারা মানসুখ (রহিত) হয়েছে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
ইসলাম নারীর সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষায় অত্যন্ত যত্নবান। অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যেন সমাজে শুদ্ধতা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠিত থাকে।
কোনো অপরাধ প্রমাণের জন্য সুস্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণের গুরুত্ব অপরিসীম। চারজন সাক্ষীর শর্ত প্রমাণ করে যে, ইসলাম মিথ্যা অভিযোগ ও অপবাদ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে চায়।
শাস্তির উদ্দেশ্য শুধু প্রতিশোধ নয়, বরং অপরাধীকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং সমাজে অপরাধের বিস্তার রোধ করা।
ইসলামের বিধান ধাপে ধাপে নাজিল হয়েছে, যাতে সমাজ ধীরে ধীরে নতুন বিধান গ্রহণে প্রস্তুত হয়। এটি প্রমাণ করে ইসলামের আইন প্রজ্ঞাপূর্ণ ও সময়োপযোগী।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর নির্দেশ মান্য করা এবং তাঁর বিধানের কাছে আত্মসমর্পণ করাই মুমিনের কর্তব্য। আল্লাহ যেভাবে এই উম্মতের জন্য সহজ পথ নির্ধারণ করেছেন, তাতে রয়েছে রহমত ও কল্যাণ।
এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের আদেশমত চলে, তিনি তাকে জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য।
আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারিণী তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জন পুরুষকে সাক্ষী হিসেবে তলব কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে সংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখ, যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে তুলে না নেয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোন পথ নির্দেশ না করেন।
তোমাদের মধ্য থেকে যে দু’জন সেই কুকর্মে লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর। অতঃপর যদি উভয়ে তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু।
অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।