আন-নিসা · 15/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
وَاللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِن نِّسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِّنكُمْ ۖ فَإِن شَهِدُوا فَأَمْسِكُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ حَتَّىٰ يَتَوَفَّاهُنَّ الْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا ۝١٥
Wallaatee yaateenal faahishata min nisaaa`ikum fastashhidoo `alaihinna arba`atam minkum fa in shahidoo fa amsikoohunna fil buyooti hatta yatawaffaa hunnal mawtu aw yaj`alal laahu lahunna sabeelaa
📖 বাংলা অর্থ
আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারিণী তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জন পুরুষকে সাক্ষী হিসেবে তলব কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে সংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখ, যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে তুলে না নেয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোন পথ নির্দেশ না করেন।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • اللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ – যারা অশ্লীল কাজ করে (অর্থাৎ যিনা/ব্যভিচার করে)।
  • فَاسْتَشْهِدُوا – সাক্ষী চাও, অর্থাৎ প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করো।
  • أَرْبَعَةً مِّنكُمْ – তোমাদের মধ্য থেকে চারজন (ন্যায়পরায়ণ মুসলিম পুরুষ)।
  • فَأَمْسِكُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ – তাহাদেরকে ঘরে আটকে রাখো।
  • يَتَوَفَّاهُنَّ الْمَوْتُ – মৃত্যু তাহাদের প্রাণ হরণ না করা পর্যন্ত।
  • سَبِيلًا – পথ/ব্যবস্থা (অর্থাৎ শরয়ী শাস্তির বিধান)।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসলিম সমাজের নারীদের মধ্যে যারা জিনা (ব্যভিচার) নামক জঘন্য অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়, তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রথমত, এই অপরাধ প্রমাণের জন্য চারজন ন্যায়পরায়ণ মুসলিম পুরুষ সাক্ষী প্রয়োজন। যদি চারজন সাক্ষী সত্যায়িতভাবে সাক্ষ্য দেয়, তাহলে সেই নারীদেরকে শাস্তি হিসেবে ঘরে আটকে রাখতে হবে, যতক্ষণ না তাদের মৃত্যু হয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য কোনো পথ (অর্থাৎ শরয়ী বিধান) নির্ধারণ করেন।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে এই বিধান действовал ছিল। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা সূরা আন-নূর (আয়াত ২) এবং হাদীসের মাধ্যমে স্পষ্ট পথ নির্ধারণ করে দেন—অবিবাহিত (কুমারী/বিধবা) জিনাকারীর শাস্তি ১০০টি বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন, আর বিবাহিত (মুহসিনা) নারী-পুরুষের শাস্তি রজম (পাথর মেরে হত্যা) পর্যন্ত। এই আয়াতটি ছিল প্রাথমিক বিধান, যা পরবর্তী বিধান দ্বারা মানসুখ (রহিত) হয়েছে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. ইসলাম নারীর সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষায় অত্যন্ত যত্নবান। অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যেন সমাজে শুদ্ধতা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠিত থাকে।
  2. কোনো অপরাধ প্রমাণের জন্য সুস্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণের গুরুত্ব অপরিসীম। চারজন সাক্ষীর শর্ত প্রমাণ করে যে, ইসলাম মিথ্যা অভিযোগ ও অপবাদ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে চায়।
  3. শাস্তির উদ্দেশ্য শুধু প্রতিশোধ নয়, বরং অপরাধীকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং সমাজে অপরাধের বিস্তার রোধ করা।
  4. ইসলামের বিধান ধাপে ধাপে নাজিল হয়েছে, যাতে সমাজ ধীরে ধীরে নতুন বিধান গ্রহণে প্রস্তুত হয়। এটি প্রমাণ করে ইসলামের আইন প্রজ্ঞাপূর্ণ ও সময়োপযোগী।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর নির্দেশ মান্য করা এবং তাঁর বিধানের কাছে আত্মসমর্পণ করাই মুমিনের কর্তব্য। আল্লাহ যেভাবে এই উম্মতের জন্য সহজ পথ নির্ধারণ করেছেন, তাতে রয়েছে রহমত ও কল্যাণ।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 13-17 — আন-নিসা

13تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ وَذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের আদেশমত চলে, তিনি তাকে জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য।
14وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ
যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।
15وَاللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِن نِّسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِّنكُمْ ۖ فَإِن شَهِدُوا فَأَمْسِكُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ حَتَّىٰ يَتَوَفَّاهُنَّ الْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا
আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারিণী তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জন পুরুষকে সাক্ষী হিসেবে তলব কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে সংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখ, যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে তুলে না নেয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোন পথ নির্দেশ না করেন।
16وَاللَّذَانِ يَأْتِيَانِهَا مِنكُمْ فَآذُوهُمَا ۖ فَإِن تَابَا وَأَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا عَنْهُمَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ تَوَّابًا رَّحِيمًا
তোমাদের মধ্য থেকে যে দু’জন সেই কুকর্মে লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর। অতঃপর যদি উভয়ে তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু।
17إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍ فَأُولَٰئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
15আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 15

সূরা আন-নিসা আয়াত 15 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারিণী তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য…

সূরা আয়াত 15/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 13–17. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না