Satajidoona aakhareena yureedoona ai yaamanookum wa yaamanoo qawmahum kullamaa ruddooo ilal itnati urkisoo feehaa; fa il lam ya`tazilookum wa yulqooo ilai kumus salama wa yakuffooo aidiyahum fakhuzoohum waqtuloohum haisu saqif tumoohum; wa ulaaa`ikum ja`alnaa lakum `alaihim sultaanam mubeenaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
এখন তুমি আরও এক সম্প্রদায়কে পাবে। তারা তোমাদের কাছেও স্বজাতির কাছেও এবং নির্বিঘ্ন হয়ে থাকতে চায়। যখন তাদেরকে ফ্যাসাদের প্রতি মনোনিবেশ করানো হয়, তখন তারা তাতে নিপতিত হয়, অতএব তারা যদি তোমাদের থেকে নিবৃত্ত না হয়, তোমাদের সাথে সন্ধি না রাখে এবং স্বীয় হস্তসমূহকে বিরত না রাখে, তবে তোমরা তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। আমি তাদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে প্রকাশ্য যুক্তি-প্রমাণ দান করেছি।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
अनक़रीब तुम कुछ ऐसे और लोगों को भी पाओगे जो चाहते हैं कि तुमसे भी अमन में रहें और अपनी क़ौम से भी अमन में रहें (मगर) जब कभी झगड़े की तरफ़ बुलाए गए तो उसमें औंधे मुंह के बल गिर पड़े पस अगर वह तुमसे न किनारा कशी करें और न तुम्हें सुलह का पैग़ाम दें और न लड़ाई से अपने हाथ रोकें पस उनको पकड़ों और जहॉ पाओ उनको क़त्ल करो और यही वह लोग हैं जिनपर हमने तुम्हें सरीही ग़लबा अता फ़रमाया
এখন তুমি আরও এক সম্প্রদায়কে পাবে। তারা তোমাদের কাছেও স্বজাতির কাছেও এবং নির্বিঘ্ন হয়ে থাকতে চায়। যখন তাদেরকে ফ্যাসাদের প্রতি মনোনিবেশ করানো হয়, তখন তারা তাতে নিপতিত হয়, অতএব তারা যদি তোমাদের থেকে নিবৃত্ত না হয়, তোমাদের সাথে সন্ধি না রাখে এবং স্বীয় হস্তসমূহকে বিরত না রাখে, তবে তোমরা তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। আমি তাদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে প্রকাশ্য যুক্তি-প্রমাণ দান করেছি।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
يَأْمَنُوكُمْ – তোমাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা লাভ করা
يَأْمَنُوا قَوْمَهُمْ – নিজেদের সম্প্রদায়ের কাছ থেকে নিরাপত্তা লাভ করা
الْفِتْنَةِ – এখানে কুফরি ও শিরকের দিকে ফিরে যাওয়া
أُرْكِسُوا – নিমজ্জিত করা হয়েছে, অর্থাৎ তারা তাতে নিপতিত হয়েছে
يَعْتَزِلُوكُمْ – তোমাদের থেকে পৃথক থাকা, তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকা
السَّلَمَ – আত্মসমর্পণ, সন্ধি বা শান্তি স্থাপন
يَكُفُّوا أَيْدِيَهُمْ – নিজেদের হাত তোমাদের বিরুদ্ধে তুলে নেওয়া থেকে বিরত রাখা
ثَقِفْتُمُوهُمْ – তোমরা তাদেরকে যেখানে পাবে
سُلْطَانًا مُبِينًا – স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট দলিল বা বৈধ কর্তৃত্ব
তাফসির:
হে মুমিনগণ! তোমরা আরেকটি দলকে পাবে—যারা চরম ধোঁকাবাজ ও কপট। তারা তোমাদের কাছে এসে ঈমান দেখায়, যাতে তোমাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা পায়; আবার নিজেদের কাফির সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেলে তাদের সাথে মিলে কুফরি করে, যাতে তাদের কাছ থেকেও নিরাপত্তা লাভ করতে পারে। এরা এমন এক দল, যারা যখনই কুফরি ও শিরকের দিকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান পায়, তখনই তারা তাতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে এবং দ্রুত সেখানে প্রত্যাবর্তন করে। তাদের ঈমানের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক।
তাই হে মুমিনগণ! এই ধোঁকাবাজদের ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশ হলো—যদি তারা তোমাদের থেকে পৃথক না থাকে, তোমাদের সাথে সন্ধি ও আত্মসমর্পণের প্রস্তাব না দেয় এবং তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে নিজেদের হাত গুটিয়ে না নেয়, তাহলে তোমরা তাদেরকে যেখানেই পাবে, সেখানেই বন্দি করো এবং হত্যা করো। কারণ তারা শান্তি ও নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না, বরং তাদের অবস্থানই হলো বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা। আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট অনুমতি ও বৈধ কর্তৃত্ব দিয়েছেন, কারণ তারা নিজেদের আচরণের মাধ্যমে এই শাস্তি নিজেরাই ডেকে এনেছে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার ধর্ম। যারা শান্তি কামনা করে এবং যুদ্ধ থেকে বিরত থাকে, তাদের সাথে সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়াও বৈধ।
দ্বিমুখী নীতি ও ধোঁকাবাজি ইসলামে সম্পূর্ণ নিন্দনীয়। একজন মুমিনের চরিত্র হবে স্পষ্ট ও স্বচ্ছ—যা ভিতরে থাকে, বাইরেও তা-ই প্রকাশ পায়।
আল্লাহর পথে সংগ্রামে সতর্কতা ও বিচক্ষণতা অপরিহার্য। শত্রুকে চিনে রাখা এবং তার কৌশল সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি, যাতে তারা সুযোগ নিয়ে মুমিনদের ক্ষতি করতে না পারে।
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, ইসলাম শুধু নাম-ধামের ঈমানকে গ্রহণ করে না, বরং প্রকৃত আনুগত্য ও আচরণের মাধ্যমে ঈমান প্রমাণ করতে হয়। যে ব্যক্তি মুখে ঈমান বলে কিন্তু কাজে কুফরি করে, তার অবস্থান আল্লাহর কাছে স্পষ্ট।
মুমিনদের জন্য এটি একটি বড় শিক্ষা যে, দুর্বলতা ও ভীরুতা নয়, বরং সত্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট পদক্ষেপই আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়।
তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।
কিন্তু যারা এমন সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হয় যে, তোমাদের মধ্যে ও তাদের মধ্যে চুক্তি আছে অথবা তোমাদের কাছে এভাবে আসে যে, তাদের অন্তর তোমাদের সাথে এবং স্বজাতির সাথেও যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক। যদি আল্লাহ ইচ্ছে করতেন, তবে তোমাদের উপর তাদেরকে প্রবল করে দিতেন। ফলে তারা অবশ্যই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করত। অতঃপর যদি তারা তোমাদের থেকে পৃথক থাকে তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের সাথে সন্ধি করে, তবে আল্লাহ তোমাদের কে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ দেননি।
এখন তুমি আরও এক সম্প্রদায়কে পাবে। তারা তোমাদের কাছেও স্বজাতির কাছেও এবং নির্বিঘ্ন হয়ে থাকতে চায়। যখন তাদেরকে ফ্যাসাদের প্রতি মনোনিবেশ করানো হয়, তখন তারা তাতে নিপতিত হয়, অতএব তারা যদি তোমাদের থেকে নিবৃত্ত না হয়, তোমাদের সাথে সন্ধি না রাখে এবং স্বীয় হস্তসমূহকে বিরত না রাখে, তবে তোমরা তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। আমি তাদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে প্রকাশ্য যুক্তি-প্রমাণ দান করেছি।
মুসলমানের কাজ নয় যে, মুসলমানকে হত্যা করে; কিন্তু ভুলক্রমে। যে ব্যক্তি মুসলমানকে ভূলক্রমে হত্যা করে, সে একজন মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে এবং রক্ত বিনিময় সমর্পন করবে তার স্বজনদেরকে; কিন্তু যদি তারা ক্ষমা করে দেয়। অতঃপর যদি নিহত ব্যক্তি তোমাদের শত্রু সম্প্রদায়ের অন্তর্গত হয়, তবে মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে এবং যদি সে তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ কোন সম্প্রদায়ের অন্তর্গত হয়, তবে রক্ত বিনিময় সমর্পণ করবে তার স্বজনদেরকে এবং একজন মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে। অতঃপর যে ব্যক্তি না পায়, সে আল্লাহর কাছ থেকে গোনাহ মাফ করানোর জন্যে উপর্যুপুরি দুই মাস রোযা রাখবে। আল্লাহ, মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।