আত-তওবা · 5/129
অনুবাদ উচ্চারণ — আত-তওবা
فَإِذَا انسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ ۚ فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ۝٥
Fa izansalakhal Ashhurul Hurumu faqtulul mushrikeena haisu wajattumoohum wa khuzoohum wahsuroohum qaq`udoo lahum kulla marsad; fa-in taaboo wa aqaamus Salaata wa aatawuz Zakaata fakhalloo sabeelahum; innal laaha Ghafoorur Raheem
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা:

  • انسَلَخَ — অর্থ: শেষ হওয়া, সমাপ্ত হওয়া। মূলত এটি এমন একটি শব্দ যা দ্বারা পশুর চামড়া খোলার অর্থ বোঝায়; এখানে সময়ের সমাপ্তি বোঝানো হয়েছে।
  • الأَشْهُرُ الْحُرُمُ — অর্থ: সম্মানিত মাসসমূহ। এখানে সেই চারটি মাস (রজব, জুল-ক্বা'দা, জুল-হিজ্জা, মুহাররম) বোঝানো হয়েছে, অথবা এখানে উদ্দেশ্য সেই নির্দিষ্ট চার মাস যেগুলোতে মুশরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল (শাওয়াল, জুল-ক্বা'দা, জুল-হিজ্জা, মুহাররম)।
  • خُذُوهُمْ — অর্থ: তাদেরকে বন্দী করুন।
  • احْصُرُوهُمْ — অর্থ: তাদেরকে অবরোধ করুন, তাদের অবস্থানস্থলে ঘেরাও করুন।
  • مَرْصَدٍ — অর্থ: এমন স্থান যেখানে শত্রুর আগমন লক্ষ্য করা হয়; অর্থাৎ পথ, ঘাট, গিরিপথ ইত্যাদি।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

যখন সেই চারটি সম্মানিত মাস অতিবাহিত হয়ে যাবে, যেগুলোতে মুশরিকদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল এবং তারা যেন স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে, তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হলো। অর্থাৎ, তোমরা মুশরিকদেরকে যেখানেই পাবে সেখানেই হত্যা করো, তাদেরকে বন্দী করো, তাদের অবস্থানস্থলে অবরোধ করো এবং প্রতিটি পথে ও ঘাটে তাদের জন্য অপেক্ষমাণ থাকো, যাতে তারা কোনোভাবেই পালিয়ে যেতে না পারে বা নিরাপদে থাকতে না পারে। তবে এর সাথে সাথে আল্লাহ তাআলা রহমতের দরজাও খোলা রেখেছেন। যদি তারা শিরক থেকে তওবা করে ইসলাম গ্রহণ করে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে এবং যাকাত প্রদান করে, তাহলে তাদেরকে ছেড়ে দাও, তাদের পথ মুক্ত করে দাও। কারণ, তখন তারা তোমাদের ইসলামি ভ্রাতা হয়ে যাবে। তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের প্রতি ক্ষমাশীল এবং তাদের প্রতি পরম দয়ালু।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার ধর্ম। শত্রুদের সাথেও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তি করলে তা পালন করা আবশ্যক।
  2. ইসলামে শিরক ও কুফরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এর সাথে সাথে তাওবার দরজা সর্বদা খোলা।
  3. তাওবার প্রকৃত প্রমাণ হলো— ইসলাম গ্রহণ, নামাজ প্রতিষ্ঠা এবং যাকাত প্রদান। অর্থাৎ, ঈমানের সাথে আমলের সম্পর্ক থাকতে হবে।
  4. ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিমদের সাথে আচরণের নীতি হলো— তারা যদি নিরাপত্তা চুক্তি করে, তবে তা সম্মান করতে হবে; আর যদি শত্রুতা করে, তবে তাদের মোকাবিলা করা হবে।
  5. আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত অপরিসীম। যে ব্যক্তি যত বড় গুনাহই করুক না কেন, আন্তরিকভাবে তাওবা করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।
  6. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, শত্রুর সাথে কৌশলগত আচরণ করা জায়েজ; যেমন— তাদেরকে অবরোধ করা, পথরোধ করা ইত্যাদি, তবে তা ইসলামি বিধান অনুযায়ী।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 3-7 — আত-তওবা

3وَأَذَانٌ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى النَّاسِ يَوْمَ الْحَجِّ الْأَكْبَرِ أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ ۙ وَرَسُولُهُ ۚ فَإِن تُبْتُمْ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ وَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ غَيْرُ مُعْجِزِي اللَّهِ ۗ وَبَشِّرِ الَّذِينَ كَفَرُوا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ
আর মহান হজ্বের দিনে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে লোকদের প্রতি ঘোষণা করে দেয়া হচ্ছে যে, আল্লাহ মুশরেকদের থেকে দায়িত্ব মুক্ত এবং তাঁর রসূলও। অবশ্য যদি তোমরা তওবা কর, তবে তা, তোমাদের জন্যেও কল্যাণকর, আর যদি মুখ ফেরাও, তবে জেনে রেখো, আল্লাহকে তোমরা পরাভূত করতে পারবে না। আর কাফেরদেরকে মর্মান্তিক শাস্তির সুসংবাদ দাও।
4إِلَّا الَّذِينَ عَاهَدتُّم مِّنَ الْمُشْرِكِينَ ثُمَّ لَمْ يَنقُصُوكُمْ شَيْئًا وَلَمْ يُظَاهِرُوا عَلَيْكُمْ أَحَدًا فَأَتِمُّوا إِلَيْهِمْ عَهْدَهُمْ إِلَىٰ مُدَّتِهِمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ
তবে যে মুশরিকদের সাথে তোমরা চুক্তি বদ্ধ, অতপরঃ যারা তোমাদের ব্যাপারে কোন ত্রুটি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সাথে কৃত চুক্তিকে তাদের দেয়া মেয়াদ পর্যন্ত পূরণ কর। অবশ্যই আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।
5فَإِذَا انسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ ۚ فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
6وَإِنْ أَحَدٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّىٰ يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَعْلَمُونَ
আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না।
7كَيْفَ يَكُونُ لِلْمُشْرِكِينَ عَهْدٌ عِندَ اللَّهِ وَعِندَ رَسُولِهِ إِلَّا الَّذِينَ عَاهَدتُّمْ عِندَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۖ فَمَا اسْتَقَامُوا لَكُمْ فَاسْتَقِيمُوا لَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ
মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল-হারামের নিকট। অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক। নিঃসন্দেহের আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীRevelation
5আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 5

সূরা আত-তওবা আয়াত 5 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের…

সূরা আয়াত 5/129 — আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আত-তওবা শুনুন, আত-তওবা অনুবাদ, আত-তওবা mp3, আত-তওবা pdf. আয়াত 3–7. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না