আল-কাহফ · 49/110
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-কাহফ
وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَٰذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا ۚ وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا ۗ وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا ۝٤٩
Wa wudi`al kitaabu fataral mujrimeena mushfiqeena mimmaa feehi wa yaqooloona yaa wailatanaa maa lihaazal kitaabi laa yughaadiru saghee ratanw wa laa kabeeratan illaaa ahsaahaa; wa wajadoo maa `amiloo haadiraa; wa laa yazlimu Rabbuka ahadaa
📖 বাংলা অর্থ
আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা:

  • وُضِعَ الْكِتَابُ – (আমলের) বই/দলিল রাখা হলো। অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তির আমলনামা তার সামনে উপস্থাপন করা হবে।
  • مُشْفِقِينَ – ভীত, সন্ত্রস্ত, আতঙ্কিত।
  • يَا وَيْلَتَنَا – হায় আমাদের দুর্ভাগ্য/ধ্বংস! এটি আরবিতে আফসোস ও অনুতাপ প্রকাশের বাক্য।
  • لَا يُغَادِرُ – ছেড়ে যায় না, বাদ দেয় না।
  • صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً – ছোট বা বড় কোনো (পাপ বা কাজ)।
  • أَحْصَاهَا – তা গণনা করে লিপিবদ্ধ করেছে।
  • حَاضِرًا – উপস্থিত, বিদ্যমান।
  • لَا يَظْلِمُ – অত্যাচার/অবিচার করেন না।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

কিয়ামতের দিন যখন আমলনামা উপস্থাপন করা হবে, তখন প্রতিটি মানুষের সামনে তার সমস্ত কাজের হিসাব রাখা হবে। মুমিনরা তাদের ডান হাতে আমলনামা গ্রহণ করবে আর অপরাধীরা—যারা দুনিয়ায় কুফরি ও পাপাচারে লিপ্ত ছিল—তারা যখন তাদের আমলনামার ভেতরে যা আছে তা দেখবে, তখন ভয় ও আতঙ্কে তাদের মুখ শুকিয়ে যাবে, অন্তর কেঁপে উঠবে। তারা দেখবে যে, তাদের প্রতিটি ছোট-বড় কাজ, প্রতিটি কথা, প্রতিটি গোপন ও প্রকাশ্য কর্ম—সবকিছুই নিখুঁতভাবে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে।

তখন তারা আফসোস করে বলবে, “হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! এ কেমন বই! এ তো কোনো ছোট কাজও বাদ দেয়নি, আবার বড় কাজও নয়—সবকিছুই হিসাব করে রেখেছে!” তারা হতবাক হয়ে যাবে এই ভেবে যে, কীভাবে এত নিখুঁতভাবে সবকিছু সংরক্ষিত হলো! তারা দুনিয়ায় যা কিছু করেছে—ভালো বা মন্দ—সবই তারা সেখানে উপস্থিত পাবে। কোনো কিছুই লুকানো থাকবে না।

এরপর আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করছেন যে, তোমার রব কারো প্রতি কোনো অবিচার করবেন না। তিনি কাউকে অপরাধ ছাড়া শাস্তি দেবেন না, আবার কোনো নেককারের সওয়াব কমানো হবে না, আর কোনো পাপীর শাস্তিও বাড়ানো হবে না। প্রত্যেকে তার কর্মের যথাযথ ফল পাবে। এটি আল্লাহর পূর্ণ ন্যায়বিচারের প্রমাণ।


শিক্ষণীয় ও প্রেরণাদায়ক বার্তা:

এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আমাদের প্রতিটি কাজই আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত হচ্ছে। এমনকি আমরা যে ছোট্ট ভালো কাজ করি, বা যে ছোট্ট খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকি—সবই হিসাবের খাতায় লেখা হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত সান্ত্বনার বিষয় যে, আমাদের কোনো ভালো কাজই নষ্ট হবে না; বরং কিয়ামতের দিন আমরা তা পুরোপুরি পেয়ে যাব। আবার এটি সতর্কবার্তাও যে, আমরা যদি মনে করি ছোট পাপ করলে কিছু হবে না, তবে ভুলে যাব না—আল্লাহর হিসাবের খাতা সবকিছুই ধারণ করে।

আসুন, আমরা প্রতিটি মুহূর্তে সচেতন থাকি যে, আমাদের ওপর আল্লাহর নজর রয়েছে। ছোট-বড় সকল কাজে আমরা আল্লাহকে স্মরণ করি, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নেক কাজ করে, তার জন্য রয়েছে চিরন্তন সাফল্য। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর ন্যায়বিচারের প্রতি ঈমান আনার এবং আমলনামা সুন্দর করার তাওফিক দান করুন। আমিন।



📜 আয়াত 47-51 — সূরা আল-কাহফ

47وَيَوْمَ نُسَيِّرُ الْجِبَالَ وَتَرَى الْأَرْضَ بَارِزَةً وَحَشَرْنَاهُمْ فَلَمْ نُغَادِرْ مِنْهُمْ أَحَدًا
যেদিন আমি পর্বতসমূহকে পরিচালনা করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটি উম্মুক্ত প্রান্তর এবং আমি মানুষকে একত্রিত করব অতঃপর তাদের কাউকে ছাড়ব না।
48وَعُرِضُوا عَلَىٰ رَبِّكَ صَفًّا لَّقَدْ جِئْتُمُونَا كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ ۚ بَلْ زَعَمْتُمْ أَلَّن نَّجْعَلَ لَكُم مَّوْعِدًا
তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ হবে সারিবদ্ধ ভাবে এবং বলা হবেঃ তোমরা আমার কাছে এসে গেছ; যেমন তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম। না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না।
49وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَٰذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا ۚ وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا ۗ وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا
আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।
50وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ ۗ أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ ۚ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا
যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল।
51۞ مَّا أَشْهَدتُّهُمْ خَلْقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَا خَلْقَ أَنفُسِهِمْ وَمَا كُنتُ مُتَّخِذَ الْمُضِلِّينَ عَضُدًا
নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সৃজনকালে আমি তাদেরকে সাক্ষ্য রাখিনি এবং তাদের নিজেদের সৃজনকালেও না। এবং আমি এমনও নই যে, বিভ্রান্ত কারীদেরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করবো।
আল-কাহফকুরআন সূচী
110আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
49আয়াত

অনুবাদ — আল-কাহফ 49

সূরা আল-কাহফ আয়াত 49 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে…

সূরা আয়াত 49/110 — সূরা আল-কাহফ الكهف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-কাহফ শুনুন, সূরা আল-কাহফ অনুবাদ, সূরা আল-কাহফ mp3, সূরা আল-কাহফ pdf. আয়াত 47–51. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না